📄 সাহাবী পরিচিতি
الصحابة (সাহাবা) শব্দটি সাহেব (صاحب) এর বহুবচন। আরবী ভাষায় এ বাক্যটি ব্যতীত (فاعل) এর বহুবচন (فعالة) অন্য কোনো শব্দের জন্য ব্যবহৃত হয় না।^2 শর‘ঈ পরিভাষায় সাহাবী বলা হয়, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং ইসলামের ওপর মারা গেছেন।^3 এটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। অতএব, সাহাবী সাব্যস্ত হতে এর চেয়ে আর বেশি শর্তারোপ করার প্রয়োজন নেই। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য, তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ইত্যাদি।
ইবন কাসীর রহ. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলিম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন তিনিই সাহাবী; যদিও তার দীর্ঘ সাহচর্য নেই বা তাঁর থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করেন নি।’ এটি পূর্বসূরী ও উত্তরসূরী সব আলেমদের অভিমত।^4
ইমাম আহমাদ রহ. বলেছেন, ‘যে কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে একবার বা একমাস বা একদিন বা এক ঘন্টা ছিল বা এক মুহূর্ত তাঁকে দেখেছেন তিনি তাঁর সাহাবী। সাহচর্যের সময় অনুপাতে তাদের সাহাবীয়ত্বের মর্যাদা নির্ণয় করা হবে।’^5 ইমাম বুখারী রহ. তার সহীহ বুখারীতে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা যে মুসলিম তাঁকে দেখেছেন তিনি সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।^6
সুহবাত তথা সাথিত্বের শাব্দিক অর্থের সাথে এ অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অনুরূপ। কেননা সুহবাত শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কিছুর সাথে তুলনা করা, তার সাথে লেগে থাকা ও সান্নিধ্যে থাকা। ইবন ফারিস রহ. বলেছেন, সাদ, হা ও বা (صحب) একই মূল ধাতু থেকে নির্গিত, যা কোনো কিছুর সাথে মিল ও নিকটে অবস্থানের অর্থে বুঝায়, এ শব্দ থেকে বলা হয় (الصحاب) বা সাথী।^7
অতএব, এ সাহচর্যর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই এবং সাহাবী হতে দীর্ঘ সান্নিধ্য ইত্যাদি কোনো শর্তারোপও করা যাবে না। এ কথার দলীল হচ্ছে নিম্নোক্ত আয়াত। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ [العنكبوت: 15] “অতএবঃপর তাকে ও নৌকা আরোহীদেরকে আমি রক্ষা করলাম।” [সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ১৫] আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ [النساء: 47] “যেমনভাবে লা’নত করেছি আসহাবুস্ সাবত তথা শনিবার ওয়ালাদেরকে।” [সুরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৭] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «أَتُحِبُّ صَوَاحِبَ يُوسُفَ» “নিশ্চয় তোমরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের এর ঘটনার (নিন্দুক) নারীদের ন্যায় (সাথী) হয়ে পড়েছ।”^8 কুরআন ও হাদীসের উপরোক্ত প্রমাণাদি দ্বারা বুঝা যায় যে, সুহবাত তথা সাথী হওয়া একটি ইসমে জিনস তথা সামষ্টিক অর্থজ্ঞাপক নাম; যা অল্প ও বেশি উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই বলা হয়, সে অমুকের সাথে ছিল এক বছর বা এক মাস বা এক মুহূর্ত।^9 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামান্য সান্নিধ্য; এমনকি ঈমানের সাথে তাঁকে দেখলেই যে সাহাবী হয়ে যায় তার বর্ণনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসেই পাওয়া যায়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، يَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: فِيكُمْ مَنْ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ، فَيُفْتَحُ لَهُمْ، ثُمَّ يَغْزُو قَوْمٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: فِيكُمْ مَنْ رَأَى مَنْ صَحِبَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ، فَيُفْتَحُ لَهُمْ، ثُمَّ يَغْزُو قَوْمٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ رَأَى مَنْ صَحِبَ مَنْ صَحِبَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ فَيُفْتَحُ لَهُمْ»
“(ভবিষ্যতে) মানুষের মাঝে এমন এক সময় আসবে যখন তাদের একদল জিহাদ করতে থাকবে। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন? তারা বলবেন, হ্যাঁ। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের মধ্য থেকে একদল যুদ্ধ করতে থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কোনো ব্যক্তি আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে দেখেছেন? তারা বলবেন, জি হ্যাঁ। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের আরেকটি দল জিহাদ করতে থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন, যিনি সাহাবীগণের সাহচর্য লাভকারী অর্থাৎ তা'বীগণকে দেখেছেন? তখন লোকেরা বলবে, জি হ্যাঁ। তখন তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে।”১০
উপরোক্ত হাদীসে দর্শন লাভকারীকে সাথী বলা হয়েছে। অতএব, কারো দেখা লাভকারী হলো তার সাহাবী। ঈমানের সাথে শুধু দেখা পাওয়াই যে সাহাবী হওয়ার জন্য যথেষ্ট এ অর্থে নিম্নোক্ত হাদীসটিও তার প্রমাণ। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا» قَالُوا: أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَنْتُمْ أَصْحَابِي، وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ».
“আমার বড় ইচ্ছা হয় আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সাহাবী। আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসে নি তারা আমাদের ভাই।”১২ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَنْتُمْ أَصْحَابِي، وَلَكِنْ إِخْوَانِي الَّذِينَ آمَنُوا بِي وَلَمْ يَرَوْنِي».
“তোমরা আমার সাহাবী; কিন্তু আমার ভাই তো তারাই যারা আমাকে দেখে নি অথচ আমার প্রতি ঈমান এনেছে।”১৩
এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব ভাইদেরকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তাদের ও সাহাবীগণের মধ্যে পার্থক্য হলো তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ ও দেখা করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন ও তাঁকে দেখেছেন তিনি তাঁর সাহাবী।১৪
উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেসব সাহাবী কেবল একজনই দেখেছিলেন, তাদের দেখা কেবল চোখের দেখাতে সীমাবদ্ধ ছিল না, (যেমন কাফির ও মুনাফিকরা দেখেছে) বরং আল্লাহ সেসব সৎলোকদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ, আনুগত্য ও ভালোবাসার জন্য দেখার তাওফিক দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করেছেন, তারাও ঈমান আনয়ন, তাঁর ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব গ্রহণ, তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণের মানসে তাঁকে দেখেছেন। সুতরাং তাদের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখার কারণে এ মহামূল্যবান উচ্চমর্যাদা তাদের জন্য অর্জিত হওয়াও যথাযথ।১৫ কেননা বা হবে না; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা, তাঁর সাক্ষাৎ লাভ ও তাঁর সান্নিধ্যে থাকা যে একাকারে কল্যাণ, বরকত ও হিদায়াতের আলো পাওয়া হিসেবে বিবেচিত, এটা হতভাগা অন্ধ ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না।১৬
টিকাঃ
^2 দেখুন, লিসানুল আরব, (৪/২৪০০); আন-নিহায়া ফি গরীবিল হাদীস ওয়াল আসার, (৩/১২); তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, (৩/১৮৬)। সাহাবী শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়; এমনকি তাদের নাম হিসেবেই শব্দটির ব্যবহার। এ কারণেই সাহাবীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে নিসবত করা হয়। দেখুন, আল- কুরশিয়াত, কাফফাতী, পৃষ্ঠা ৫৮৫।
^3 আল-ইসাবা ফি তাময়ীযিল সাহাবাহ, ১/১৬।
^4 ইমতিসাক ‘উলূমিল হাদীস মা‘আল-বাইস আল-হাসীস, ১/৯৪১।
^5 আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়া, পৃষ্ঠা ৫১।
^6 ইমাম বুখারী রহ. ফাযায়লুল সাহাবা অধ্যায়ে এ শব্দ দ্বারা একটি বাব তথা পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। দেখুন ৬/৫। তার শব্দাবলী হচ্ছে, بَابُ فَضَائِلِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ صَحِبَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ رَآهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَهُوَ مِنْ أَصْحَابِهِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদার পরিচ্ছেদ, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা যে মুসলিম তাঁকে দেখেছেন তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত।
^7 মু‘জামু মাকায়ীসুল লুগাহ, ইবন ফারিস, পৃষ্ঠা ৫৬৭।
^8 মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৮।
^9 মিনহাজুন সুন্নাহ, ৮/৩৮৮ ও ৩৮৯।
১০ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১ কি; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৩২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের。
১১ মিনহাজুস সুন্নাহ, ৮/৩৮৬। এ কিতাবের পরবর্তী অংশে দেখুন। সাহাবীর অর্থ বিস্তারিত জানতে এ অংশ সহায়ক হবে।
১২ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৯৪।
১৩ মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২৬৩১।
১৪ মিনহাজুস সুন্নাহ, ৮/৩৮৯।
১৫ মিনহাজুস সুন্নাহ, ৮/৩৮৮।
১৬ উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট হলো যে, বর্তমানে কিছু নিকৃষ্টমানের বিদ্'আতী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবীগণের ব্যাপারে হিংসার বশবর্তী হয়ে যেসব কথা বলে থাকে যে, সাহাবী হতে হলে দীর্ঘ সাহচর্য ও সান্নিধ্যের শর্ত রয়েছে, এটা তাদের সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি, কুরআন ও হাদীসের তথ্যের দাবী মানতে অস্বীকৃতি। এর দ্বারা তারা মুমিনদের পথ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। সৎপূর্বসুরীদেরকে অধিকারে আঘাত করেছে। সহীহ আক্বীদার সরাসরি বিরোধিতা লিঙ্গ হয়েছে।
📄 উম্মতের ওপর সাহাবীগণের অধিকারসমূহ
সাহাবীগণের অধিকারসমূহকে আমরা দশটি ভাগে বিভক্ত করে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।
📄 প্রথম অধিকার: সাহাবীগণকে ভালোবাসা
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে আল্লাহর ওয়াজহে ও আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই ভালোবাসেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, যারা তাদেরকে ভালোবাসবেন, তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবেন, তাদের অধিকার সংরক্ষণ করবেন ও তাদের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হবেন তারাই সফলকামী দলের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর যারা তাদেরকে অপছন্দ করবেন, তাদেরকে গাল-মন্দ করবেন, শত্রুদের দলে তাদেরকে সম্পূর্ণ করবেন ও তাদের মর্যাদার বিপরীত কিছু বলবেন তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
এ কথার দলিল হলো আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴿الحشر: ١٠﴾
“যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০]
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, «آيَةُ الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ، وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الْأَنْصَارِ».
“ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারগণকে ভালোবাসা এবং মুনাফিকীর আলামত হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।”¹⁷
এখানে যেহেতু আনসারগণের ভালোবাসা প্রমাণিত হয়েছে, তাহলে মুহাজিরগণের প্রতি ভালোবাসা আরও অধিক অধিকারপ্রাপ্ত। যেহেতু তারা সর্বাধিক বিবেচনায় তাদের (আনসারদের) চেয়ে উত্তম। এছাড়া তারাও আল্লাহকে সাহায্য করেছেন যেমন আনসারগণ করেছেন; সেহেতু তারাও আনসার হিসেবে গণ্য।¹⁸
কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর ওয়াজহে কাউকে ভালোবাসার যেসব মর্যাদা কথা উল্লেখ আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে ভালোবাসার দ্বারা যে কেউ সেসব মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হবে; যেহেতু তারা হলেন সর্বোত্তম মানুষ।
ইমাম যাহাবী রহ. তার আক্বীদার কিতাবে বলেছেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে ভালোবাসি, তাদের কাউকে ভালোবাসায় আমরা বাড়াবাড়ি করি না, আবার কারও থেকে ভালোবাসা ছিন্নিও করি না (সবাইকে ভালোবাসি)। আমরা তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করি ও তাদের ঘৃণা করি যারা সাহাবীগণের সাথে শত্রুতা-বিদ্বেষপোষণ করবে এবং তাদেরকে খারাপভাবে উল্লেখ করবে। সাহাবীগণকে ভালোবাসা দীন, ঈমান ও ইহসান। আর তাদেরকে অপছন্দ করা কুফুরী, নিফাকী, পাপ ও অবাধ্যতা।’¹⁹
ইমাম মালেক রহ. এর বাণীটি এখানে উল্লেখযোগ্য সবচেয়ে সুন্দর কথা। তিনি বলেছেন, ‘সালাফ তথা সৎপূর্বসূরীরা তাদের সন্তানদেরকে আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ভালোবাসা শিক্ষা দিতেন, যেমনিভাবে তারা তাদের সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।’²⁰
আবু নু‘আইম তার “হিলইয়াহ্”²¹ গ্রন্থে বিশর ইবন হারিস রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘আমার অন্তরে যে আমলটি সবচেয়ে বেশি মজবুত ও কার্যকর মনে হচ্ছে তা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ভালোবাসা’।
আবু নু‘আইম তার “হিলইয়াহ্”²² গ্রন্থে শু‘আইব ইবন হারব রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “আসিম ইবন মুহাম্মাদের কাছে সুফইয়ান আস-সাওরী রহ. এর গুণাবলী বর্ণনা করা হলো। তারা তার পনেরোটি মানাকিব তথা উত্তম গুণ উল্লেখ করলেন। তখন ‘আসিম ইবন মুহাম্মদ তাদেরকে বললেন, তোমরা কি তার গুণাবলী বর্ণনা করা সমাপ্ত করেছ? আমি তার এমন একটি গুণের কথা জানি যা তোমাদের বর্ণিত গুণাবলীর চেয়ে উত্তম। তা হলো, তার অন্তর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন ছিল।' (দোষ-ত্রুটি বর্ণনা থেকে মুক্ত ছিল।)
টিকাঃ
¹⁷ মুস্তাফাকুন ‘আলাইহি, সহীহ বুখারী, কিতাবু মানাকিবুল আনসার, বাব হুব্বুল আনসার মিনাল ঈমান, ৩/৩৫, হাদীস নং ৩৭৮৪; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব আনসার ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ভালোবাসা ঈমানের আলামত আর তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ মুনাফিকীর আলামত, ১/৪৬, হাদীস নং ৭৪। হাদীসটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
¹⁸ আল-জাওয়াবুস সহীহ, ২/২৬৭।
¹⁹ আক্বীদাতুত ত্বহাবীয়া মা‘আ শরহে ইবন আবিল ইয্য, পৃষ্ঠা ৪৬৭।
²⁰ শরহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ, ৭/১১৯০, আসার নং ২০২৮; তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৪৪/৩৮৩; আল-জুজআবু ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ্, ২/৩৮৯।
²¹ হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৩৮৮।
²² হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৩৮৮।
📄 দ্বিতীয় অধিকার: তাদের মর্যাদা ও ন্যায়পরায়ণতার বিশ্বাস করা, তারা উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ মানুষ, হক ও সঠিকতায় তারা সর্বাধিক নিকটতম এ বিশ্বাস রাখা
উম্মতের মধ্যে সম্মান-মর্যাদা, সততা ও বিশ্বস্ততায় সাহাবীগণের মতো আর কেউ নেই। এ ব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে একাটা ইজমা সংঘটিত হয়েছে। এ মতের সাথে কিছু বিদ্‘আতীদের একমত না হওয়া অসংগত হবে না।
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তার ‘নুনিয়্যাহ’ কিতাবে বলেছেন, ‘যেহেতু আলেমগণ ঐকমত্য যে, সাহাবীগণ (নবীর পরে) মানব জাতির মধ্যে সর্বোত্তম মানব। এটি অকাট্য ভাবে প্রমাণিত, এতে কারো কোনো মতানৈক্য নেই।
সাহাবীগণের মর্যাদার ব্যাপারে অসংখ্য দলীল-প্রমাণ রয়েছে। আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন তাদের মহিমান্বিত প্রশংসা বর্ণনায় ভরপুর। যেহেতু আল্লাহ তাদের সততা, বিশুদ্ধ ঈমান, প্রকৃত ভালোবাসা, পরিপূর্ণ জ্ঞান, পরিপক্ক মতামত, পূর্ণাঙ্গ উপদেশ ও স্পষ্ট আমানত সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন।
তাদের ফযীলতের সেসব আয়াতের মধ্য থেকে নিম্নে কয়েকটি বর্ণনা করা হলো:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١٠٠﴾ [التوبة: 100]
“আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফাল্য”। [আত-তাওবা, আয়াত: ১০০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন, إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوا وَّنَصَرُوا أُولَٰئِكَ bَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ [الأنفال: ٧٢]
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সহায়তা করেছে, তারা একে অপরের বন্ধু।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭২]
এ আয়াত থেকে পরবর্তী আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ তাদের মর্যাদা বর্ণনা করে বলেছেন, وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوا وَّنَصَرُوا أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ ﴿٧٤﴾ [الأنفال: ٧٤]
“আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭৪]
সাহাবীগণের মর্যাদা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন, لَقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُم فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴿١١٧﴾ [التوبة: ١١٧]
“অবশ্যই আল্লাহ নবী, মুহাজিরিন ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে। তাদের মধ্যে এক দলের হৃদয় সত্যচ্যুত হওয়ার উপক্রম হবার পর। তারপর আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।” [আত-তাওবা, আয়াত: ১১৭]
আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে আরও বলেছেন, مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ ۚ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ ۖ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي ٱلْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْئَهُ فَتَآزَرَهُ فَٱسْتَغْلَظَ فَٱسْتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعْجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلْكُفَّارَ ۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ﴾ [الفتح: ٢٩] “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকুককারী, সাজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সাজদার চিহ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজীলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মত, যে তার কচিচারা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাণ্ডের উপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানএর ওয়াদা করেছেন।” [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন,
﴿ يَوْمَ لَا يُخْزِي ٱللَّهُ ٱلنَّبِيَّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ ۖ نُورُهُمْ يَسْعَىٰ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَٰنِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَٱغْفِرْ لَنَآ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴾ [التحريم: ٨] “সেদিন নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবেন, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।” [সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৮]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন,
﴿ وَٱعْلَمُوٓاْ أَنَّ فِيكُمْ رَسُولَ ٱللَّهِ ۚ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِّنَ ٱلْأَمْرِ لَعَنِتُّمْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ ٱلْإِيمَٰنَ وَزَيَّنَهُۥ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ ٱلْكُفْرَ وَٱلْفُسُوقَ وَٱلْعِصْيَانَ ۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلرَّٰشِدُونَ فَضْلًا مِّنَ ٱللَّهِ وَنِعْمَةً ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴾ [الحجرات: ٧-٨] “আর তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন। তিনি যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিতেন, তাহলে তোমরা অবশ্যই কষ্টে পতিত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সত্য পথপ্রাপ্ত। আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণা ও নি'আমত স্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৭-৮]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন,
﴿ لَا يَسْتَوِى مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ ٱلْفَتْحِ وَقَٰتَلَ ۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ ٱلَّذِينَ أَنفَقُواْ مِن بَعْدُ وَقَٰتَلُواْ ۚ وَكُلًّا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴾ [الحديد: ١٠] “তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যেই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১০]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন,
﴿ قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَٰمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰٓ ۗ ءَآللَّهُ خَيْرٌ أَم مَّا يُشْرِكُونَ ﴾ [النمل: ٥٩] “বলুন, সব প্রশংসাই আল্লাহর জন্য। আর শান্তি তাঁর বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আল্লাহই শ্রেষ্ঠ।” [সূরা আন-নামল, আয়াত: ৫৯]
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও সাওরী রহ, এর মতে, ‘তারা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা।’ 25
আল্লাহ তা'আলা সাহাবীগণের সম্পর্কে আরও বলেছেন,
﴿ كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ ۗ ﴾ [آل عمران: ١١٠] “তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মাত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]
এ আয়াত দ্বারা সাহাবীগণের মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ আয়াত হতেও তাদের কথাই নির্দিষ্টভাবে বুঝিয়েছে অথবা সর্বোত্তম উম্মত বলে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব উম্মতকে বুঝানো হয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব উম্মত বুঝালে সাহাবীরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
এ ছাড়াও আল্লাহ তা'আলা তাদের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন,
﴿ وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَٰكُمۡ أُمَّةٗ وَسَطٗا لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيۡكُمۡ شَهِيدٗا ۗ ﴾ [البقرة: ١٤٣] “আর এভাবেই আমরা তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন তোমাদের উপর।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৩] পূর্বোক্ত আয়াতের মতোই উপরিউক্ত আয়াতের দ্বারাও দলীল দেওয়া হয়েছে; বরং কুরআন ও হাদীসের যত আয়াত ও হাদীস এ উম্মতের সম্মান ও মর্যাদা প্রমাণ করে তা সবই অগ্রাধিকারে ভিত্তিতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদার কথা বলেছে। তন্মধ্যে নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ، فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ، وَأَنَا أَمَنَةٌ لِأَصْحَابِي، فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ، وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لِأُمَّتِي، فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ».
“তারকারাজি আসমানের জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী। যখন তারকারাজি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখন আসমানের জন্য প্রতিশ্রুত বিপদ আসন্ন হবে (অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবে)। আর আমি আমার সাহাবীগণের জন্য নিরাপত্তা প্রদানকারী স্বরূপ। যখন আমি বিদায় নেব তখন আমার সাহাবীগণের উপর প্রতিশ্রুত সময় উপস্থিত হবে (অর্থাৎ ফিতনা-ফাসাদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু হয়ে যাবে)। আর আমার সাহাবীগণ সমগ্র উম্মতের জন্য নিরাপত্তা প্রদানকারী স্বরূপ। যখন আমার সাহাবীগণ বিদায় হয়ে যাবে তখন আমার উম্মতের উপর প্রতিশ্রুত সময় উপস্থিত হবে (অর্থাৎ কিয়ামতের আলামত প্রকাশ পাবে। যেমন, শির্ক, বিদ‘আত ছড়িয়ে পড়বে, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে, শয়তানের শিং উদয় হবে, খ্রিস্টানদের রাজত্ব কায়েম হবে, মক্কা ও মদীনার অবমাননা করা হবে ইত্যাদি)।²⁶
আবুল আব্বাস আল-কুরতুবী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যতদিন জমিনে জীবিত থাকবেন ততদিন জমিনে দীন কায়েম থাকবে, হক প্রকাশ্যে থাকবে, শত্রুর উপর বিজয় অর্জিত হবে। আর যখন তাঁর সাহাবীরা মারা যাবেন, তখন পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ শুরু হবে, শত্রুর বিজয় অর্জিত হবে। এভাবেই দীন কমতে থাকবে। দীন কমতে কমতে এক সময় এমন অবস্থা হবে যে, জমিনে আল্লাহ্, আল্লাহ্ বলার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। (আর তখনই কিয়ামত সংঘটিত হবে)। এ কথাই উপরোক্ত হাদীসে এ উম্মতের সাথে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত।²⁷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ، ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ، وَلَا نَصِيفَهُ».
“তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করো না। তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবে তাদের একমুদ বা অর্ধমুদ-এর সমপরিমাণেও পৌঁছাতে পারবে না।”²⁸
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় শাওকানী রহ. খুব সুন্দর একটি মন্তব্য পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘পরবর্তী সাহাবীগণ যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেও পূর্ববর্তী সাহাবীগণের এক মুদ বা অর্ধ মুদ পরিমাণ ব্যয়ের মত সাওয়াবের অধিকারী না হয়, তবে আমাদের পক্ষ থেকে উহুদ পরিমাণ দানও তাদের এক খঞ্জা পরিমাণ বা তার অর্ধেক বায়ের কাছে পৌঁছাতে পারবে বলে আমি মনে করি না।’²⁹
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, «خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ».
“আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম লোক, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী যুগের।”³⁰
সাহাবীগণের সর্বোত্তম হওয়ার এ সাক্ষ্য ও বিবরণ স্বয়ং এমন এক মহান ব্যক্তি দিয়েছেন যিনি মনগড়া কোনো কথা বলেন না। তাহলে এর চেয়ে উত্তম সত্যায়ন আর কী হতে পারে?!
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মর্যাদা বর্ণনায় বলেছেন, (এ ধরণের বর্ণনা ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ৩১ ও হাসান বসরী রহ. ৩২ এর থেকে ও বর্ণিত আছে) ‘যে ব্যক্তি কারো অনুসরণ করতে চায় সে যেন মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে; কেননা জীবিত ব্যক্তি কখনও ফিতনায় নিপতিত হওয়া থেকে নিরাপদ নয়। তারাই (অর্থাৎ সেসব মৃত ব্যক্তি) হচ্ছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ হচ্ছেন এ উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ, অন্তরের দিক থেকে সর্বাধিক পবিত্র, গভীর ইলমের অধিকারী আর সবচেয়ে কম লৌকিকতা প্রদর্শনকারী। আল্লাহ তাদেরকে তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হিসেবে ও তাঁর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচিত করেছেন। অতএব, তাদের সম্মান ও মর্যাদা জানো ও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো, তাদের আখলাক ও দীনের যতটুকু সম্ভব আঁকড়ে ধরো; কেননা তারা সঠিক হিদায়াতের পথে ছিলেন।'৩৩ আবু উমার আদ-দানী রহ. বলেছেন, ‘সাহাবীরা উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম, সর্বাধিক নেককার ও তারা আল্লাহর নির্বাচিত ছিলেন। আল্লাহ তাদেরকে তাঁর অপরিসীম নি'আমত দান করে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া দ্বারা তাদেরকে বিশেষায়িত করেছেন।'৩৪ সাহাবীগণের সুন্দর গুণাবলি ও মর্যাদা সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, তারা ইলম, ন্যায়পরায়ণতা, জিহাদ ও অন্যান্য সব কল্যাণকর কাজে সর্বাধিক অগ্রগামী ছিলেন। ফলে তারা তাদের পূর্ববর্তীদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন আর পরবর্তীদেরকে হারিয়ে দিয়েছেন, অভীষ্ট লক্ষ্য অধিপতি হয়েছিলেন, সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছিলেন। তারাই ছিলেন আমাদের পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছানোর এবং সব ধরণের কল্যাণ ও হিদায়াতের মাধ্যম। তাদের মাধ্যমেই আমরা সৌভাগ্য ও নাজাতও লাভ করেছি। কিয়ামত পর্যন্ত উম্মত তাদের ইলম, ন্যায়পরায়ণতা ও জিহাদের অবশিষ্ট কল্যাণ প্রাপ্ত হবেন। তাদের মাধ্যম ব্যতীত কেউ কোনো কল্যাণকর ইলমপ্রাপ্ত হবে না। তাদের মাধ্যমেই আমরা ইলম পেয়েছি। তাদের জিহাদ ও বিজয় ব্যতীত আমরা পৃথিবীর বুকে নিরাপদ বসবাস করতে পারতাম না। ন্যায়পরায়ণ ও হিদায়াতের ওপর অধিষ্ঠিত কোনো ইমাম বা শাসক তাদের দ্বারা প্রাপ্ত মাধ্যম ব্যতীত শাসন কার্য পরিচালনা করতে পারতো না। তারাই তরবারীর দ্বারা দেশ জয় করেছেন, দৃঢ় ঈমানের দ্বারা মানুষের হৃদয় উন্মুক্ত করেছেন, ন্যায়পরায়ণতার দ্বারা দেশ আবাদ করেছেন এবং ইলম ও হিদায়াতের দ্বারা অন্তর জয় করেছেন। তাদের কৃত আমল ছাড়াও কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের আমলের একটি অংশ তারা প্রাপ্ত হবেন। অতএব, সে মহান আল্লাহর তাসবীহ বর্ণনা করছি যিনি তাঁর দয়া ও রহমতে যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচিত করেন।'৩৫ ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. তাদের হকের ব্যাপারে কতই না সুন্দর কথা বলেছেন! তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিজ্ঞ ও সচেতনতার সাথে তাদের সীরাত (জীবনী পড়েন) দেখেন, আল্লাহ তাদেরকে যে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন তা अवलोकन করেন, তাহলে তিনি নিশ্চিত ভাবে জানতে পারবেন যে, নবী রাসূলদের পরে তারাই সর্বোত্তম সৃষ্টি, তাদের মতো পূর্বে কেউ ছিলেন না এবং পরবর্তীতেও কেউ আসবেন না। এ উম্মতের মধ্যে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম যে উম্মাতকে আল্লাহ সমস্ত উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দান করেছেন।'৩৬
তাদের এ সুমহান মর্যাদা ও সুউচ্চ পবিত্রতম সম্মানের কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত সকল সাহাবীকে ন্যায়পরায়ণ মনে করেন, তারা কেউ মাজরূহ তথা দোষ-ত্রুটি নন। আল্লাহ তাদেরকে অপবাদ থেকে মুক্ত রেখেছেন এবং দোষ-ত্রুটি থেকে রক্ষা করেছেন। তারা সকলেই মুসলিমদের সম্মানিত ইমাম ও নেতা। আর আল্লাহ তাদেরকে নির্বাচন করেছেন ও তাদের পবিত্রতার সংবাদ সকলেরই জানা। তারা সর্বোত্তম যুগের মানুষ, সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের কল্যাণে সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ যাদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য ও সাহায্যের জন্য নির্বাচিত করে যাদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট, এর চেয়ে উত্তম ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য হতে পারে না, এর চেয়ে উত্তম প্রশংসা হতে পারে না, আর এর চেয়ে পরিপূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত করার আর কী পন্থা হতে পারে? ইবন আব্দুল বার রহ. বলেছেন, সমস্ত সাহাবীগণের অবস্থা ও জীবন চরিত নিয়ে গবেষণা করে আহলে হক তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ইজমা তথা ঐকমত্য হয়েছেন যে, তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ।' 37
‘তারা সকলেই সৎকাজ ও তাকওয়ার অধিকারী এবং সর্বাধিক যোগ্য ছিলেন, আর সব ভালো কাজের তারাই ছিলেন অগ্রগামী।’ 38
টিকাঃ
২৩ আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফি আকীদাতিব ফিরকাতিল মারদিয়্যাহ মা’আ শারহিহা লাওয়া’ইমিল আনওয়ার, ২/৩৭৭।
২৪ নুনিয়্যাহ ইবনুল কাইয়্যিম মা’আ শারহিহা তাওদীহুল মাকাসিদ, লি ইবনু উস্সা, ১/৪৮১।
25 তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবন কাসীর, ১০/৪৮৬; ফাতহুল কাদীর, ৪/১৯৫।
²⁶ সহীহ মুসলিম, কিতাব: ফাযায়েলে সাহাবাহ, বাব: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে বাণী: أَصْحَابِي أَمَانٌ لِأُمَّتِي، وَمَنْ سَلَّمَ أَمَانٌ لِأَصْحَابِهِ وَفِقَهُنَّ بَابَ بَيَانِ أَنْ بَقَاءُ إِلَخْ, ৪/১৯৬৬, হাদীস নং ২৫৩১।
²⁷ আল-মুফহিম, ৬/৬৯৫।
²⁸ সহীহ বুখারী, কিতাব: ফাযায়েলে সাহাবাহ, বাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে বাণী: আমি যদি কাউকে খলীল বানাতাম, ৩/১২২, হাদীস নং ৩৬৭১; সহীহ মুসলিম, কিতাব: ফাযায়েলে সাহাবাহ, বাব: সাহাবীদেরকে গাল-মন্দ করা হারাম, ৪/১৯৬৭- ১৯৬৮, হাদীস নং ২৫৩১, হাদীসটি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত।
²⁹ ইরশাদুস সায়িল ইলা দালায়েলিল মাসায়েল মা‘আর রাসাইলুস সালাফিয়া, পৃষ্ঠা ৪১।
³⁰ সহীহ বুখারী, কিতাব: সাহাবীদের মর্যাদা, বাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও তাদের সহচরদের (তাবেয়ী) মর্যাদা, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন বা মুসলিমদের মধ্যে যারা তাঁকে দেখেছেন তারাই তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত, ৩/৬, হাদীস নং ৩৬৫১; সহীহ মুসলিম, কিতাব: সাহাবীদের মর্যাদা, বাব: সাহাবী ও যারা তাদের পরবর্তীতে ও যারা তাদের পরবর্তীতে আসবেন তাদের মর্যাদা, ৪/১৯৬০, হাদীস নং ২৫৩৩। হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত।
৩১ আবু নু'আইম রহ. হিলইয়াতুল আউলিয়াতে ১/৩০৫ বর্ণনা করেছেন।
৩২ ইবন আব্দুল বার জামে'উ বায়ানিল ইলম ও ফাদ্বলিহি ২/৯৯৫ তে বর্ণনা করেছেন।
৩৩ ইবন আব্দুল বার জামে'উ বায়ানিল ইলম ও ফাদ্বলিহি ২/৯৯৫-৯৯৬ তে বর্ণনা করেছেন।
৩৪ আল-আরজুয়াহুল মুনাফিক্বা ‘আলা আসমাইহিল কুররা ওয়ায়া রুওয়াত ওয়ায়া উসুলিল কিরাআত', পৃষ্ঠা ১৮৯, কবিতা নং ৫৭১-৫৭২।
৩৫ ইবনুল কাইয়্যিম, তরীকুল হিজরাতাইন, পৃষ্ঠা ৬৪৮।
৩৬ মাজমূ'উল ফাতাওয়া, (আল-ওয়াসিতিয়্যাহ) ৩/১৫০।
37 আল-ইসতী‘আব, ১/১৯।
38 কালীদাতু আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবন ইদরীস আল-জায়ায়ারী ফীল আদাবি ওয়াস-সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৫৮, পংক্তি নং ১২৪।