📄 ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা মহাশক্তিশালী, মহামহাশীল, একক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলার। দুরূদ ও সালাম তাঁর (আল্লাহর) নির্বাচিত ও মনোনীত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন, শ্রেষ্ঠতম সাহাবীগণ, বিশেষ করে তাদের মধ্যে মুহাজির ও আনসারগণের ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর, নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের আলোচনা করলে অন্তর প্রশান্ত হয়, ইলমের মজলিস ও পাঠালয় সুসজ্জিত হয়। কেনোই বা হবে না; তারা তো ছিলেন আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা, সর্বোত্তম মানুষ, সর্বোত্তম উম্মত যাদেরকে মানুষের কল্যাণে সৃষ্টি করা হয়েছে, সম্মান ও ফযীলতের অধিকারী, উচ্চ স্তর ও ইসলাম গ্রহণে তারাই ছিলেন অগ্রগামী।
আর তারা তো মুহাজির ও আনসার, যারা ইসলাম গ্রহণে প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা বৃক্ষের নিচে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছেন তাদের প্রতিও আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন।
তারা তো এমন লোক, আল্লাহ তাদেরই অন্তরাত্মাকে তাকওয়ার জন্য বাছাই করেছেন, তাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন, তারাই তো ছিলেন প্রকৃত বিচক্ষণ জ্ঞানী।
তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। তাদের রব তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে সুসংবাদ দিচ্ছেন রহমত ও সন্তুষ্টির এবং এমন জান্নাতসমূহের যাতে রয়েছে তাদের জন্য স্থায়ী নি‘আমত।
তারা তো এমন মানব ছিলেন যারা নিজেদের জন্য তাকওয়া অনিবার্য করেছিলেন। তারা তাকওয়ার জন্য অধিক উপযোগী ও তাকওয়াবান ছিলেন। তাদের অন্তরে আল্লাহ সাকিনা তথা প্রশান্তি নাযিল করেছেন যাতে তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়। তারা তো এমনই লোক ছিলেন যারা ফিরে এসেছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে নি'আমত ও অনুগ্রহসহ। কোনো মন্দ তাদের স্পর্শ করে নি। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [আনফাল: ৬৪] “হে নবী, আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং যেসব মুমিন আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্যও।” [সূরা আন- আনফাল, আয়াত: ৬৪] তাদের মর্যাদা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেছেন, هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ [আনফাল: ৬২] “তিনিই তোমাকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৬২] সেসব শ্রেষ্ঠতম পবিত্রতম, তাকওয়াবান ও নির্বাচিত সেরাগণ নিজেদের জীবন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, ঘর- বাড়ি সব কিছুই ত্যাগ করেছেন। ফলে তারা নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে দেশ থেকে হিজরত করেছেন; এমনকি আল্লাহর জন্য নিজেদের পিতামাতা ও ভাইবোনও কুরবানী করেছেন। তারা ধৈর্যের সাথে আত্মত্যাগ করেছেন, সাওয়াবের প্রত্যাশায় ধন-সম্পদ ব্যয় করেছেন, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে যারা তাদের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করেছেন তাদের মোকাবিলা করেছেন, সব প্রিয় ও অপ্রিয় কাজে সর্বদা তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করেছেন। তারা তো এমনই মুহাজির যাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ এরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণে রত থাকতেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করতেন। এরাই তো সত্যবাদী। তাদেরই তাই আনসারগণ ছিলেন সংবেদনাকারী, অন্যকে অধিকার প্রদানকারী, আরবের উত্তম প্রতিবেশী, যাদের বাড়ি-ঘরকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপদ ও স্থিতিশীল স্থান হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তারা ছিলেন সচ্চরিত্রবান, পুষ্পিত মনোনীত লোক। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ [الحشر: 9] “আর মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা মাদীনাকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদ থেকে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে ভালোবাসে। আর মুহাজিরদেরকে যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর মুহাজিরদেরকে অগ্রাধিকার দেয়।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৯]¹
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত তাদের (সাহাবীগণের) অগাথ ভালোবাসা তাদের অন্তরে লুকিয়ে রাখেন, তাদের প্রতি সম্মান-মর্যাদা পোষণ ও তাদের ভালোবাসার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য তালাশ করেন, আর যারা তাদের অন্তরে সাহাবীগণের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন, وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ [الحشر: 10] “যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু’।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০] বস্তুত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ওপর তাঁর সাহাবীগণের অনেক অধিকার রয়েছে। এখানে এ সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে তাদের জন্য, বর্তমান সময়ে যাদের অন্তরে ব্যাধির উদ্ভব হয়েছে, যারা সুযোগ পেলেই তাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষের তীর নিক্ষেপ করে, এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের কতিপয় লোক তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ফলে তারা আধুনিক মিডিয়া ও যোগাযোগ মাধ্যমে সাহাবীগণের ব্যাপারে কতিপয় দ্বিধা- সংশয় প্রচার করে থাকেন। এ কারণে তাদের এ ফিতনা ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। আল্লাহই একমাত্র সহায়তাকারী।
এ কারণে সহজ-সরল ও সংক্ষিপ্তাকারে সাহাবীগণের মর্যাদা ও মুসলিমদের ওপর তাদের অধিকার সম্পর্কে কিছু লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত করি। এতে আহলে সুন্নাতও ওয়াল জামা‘আতের আকীদাকে দলীল ও তাদের উক্তি সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লেখা-লেখিতে আমি আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি, তাঁর কাছে প্রত্যাশা করছি তিনি যেন এ লেখাটি কবুল করে নেন এবং এর দ্বারা সবাইকে উপকৃত করেন।
টিকাঃ
¹ উপরোক্ত কথাগুলো (দীন সুহূত নুফূসহুম) (থেকে এ পর্যন্তও) আবু নু‘আইম আল-আসবেহানীর ‘আল-ইমামাহ’ পৃষ্ঠা (২০৯-২১০) থেকে কিছুটা পরিবর্তনসহ সংকলিত।
📄 সাহাবী পরিচিতি
الصحابة (সাহাবা) শব্দটি সাহেব (صاحب) এর বহুবচন। আরবী ভাষায় এ বাক্যটি ব্যতীত (فاعل) এর বহুবচন (فعالة) অন্য কোনো শব্দের জন্য ব্যবহৃত হয় না।^2 শর‘ঈ পরিভাষায় সাহাবী বলা হয়, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং ইসলামের ওপর মারা গেছেন।^3 এটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। অতএব, সাহাবী সাব্যস্ত হতে এর চেয়ে আর বেশি শর্তারোপ করার প্রয়োজন নেই। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য, তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ইত্যাদি।
ইবন কাসীর রহ. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলিম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন তিনিই সাহাবী; যদিও তার দীর্ঘ সাহচর্য নেই বা তাঁর থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করেন নি।’ এটি পূর্বসূরী ও উত্তরসূরী সব আলেমদের অভিমত।^4
ইমাম আহমাদ রহ. বলেছেন, ‘যে কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে একবার বা একমাস বা একদিন বা এক ঘন্টা ছিল বা এক মুহূর্ত তাঁকে দেখেছেন তিনি তাঁর সাহাবী। সাহচর্যের সময় অনুপাতে তাদের সাহাবীয়ত্বের মর্যাদা নির্ণয় করা হবে।’^5 ইমাম বুখারী রহ. তার সহীহ বুখারীতে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা যে মুসলিম তাঁকে দেখেছেন তিনি সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।^6
সুহবাত তথা সাথিত্বের শাব্দিক অর্থের সাথে এ অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অনুরূপ। কেননা সুহবাত শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কিছুর সাথে তুলনা করা, তার সাথে লেগে থাকা ও সান্নিধ্যে থাকা। ইবন ফারিস রহ. বলেছেন, সাদ, হা ও বা (صحب) একই মূল ধাতু থেকে নির্গিত, যা কোনো কিছুর সাথে মিল ও নিকটে অবস্থানের অর্থে বুঝায়, এ শব্দ থেকে বলা হয় (الصحاب) বা সাথী।^7
অতএব, এ সাহচর্যর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই এবং সাহাবী হতে দীর্ঘ সান্নিধ্য ইত্যাদি কোনো শর্তারোপও করা যাবে না। এ কথার দলীল হচ্ছে নিম্নোক্ত আয়াত। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ [العنكبوت: 15] “অতএবঃপর তাকে ও নৌকা আরোহীদেরকে আমি রক্ষা করলাম।” [সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ১৫] আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ [النساء: 47] “যেমনভাবে লা’নত করেছি আসহাবুস্ সাবত তথা শনিবার ওয়ালাদেরকে।” [সুরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৭] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «أَتُحِبُّ صَوَاحِبَ يُوسُفَ» “নিশ্চয় তোমরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের এর ঘটনার (নিন্দুক) নারীদের ন্যায় (সাথী) হয়ে পড়েছ।”^8 কুরআন ও হাদীসের উপরোক্ত প্রমাণাদি দ্বারা বুঝা যায় যে, সুহবাত তথা সাথী হওয়া একটি ইসমে জিনস তথা সামষ্টিক অর্থজ্ঞাপক নাম; যা অল্প ও বেশি উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই বলা হয়, সে অমুকের সাথে ছিল এক বছর বা এক মাস বা এক মুহূর্ত।^9 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামান্য সান্নিধ্য; এমনকি ঈমানের সাথে তাঁকে দেখলেই যে সাহাবী হয়ে যায় তার বর্ণনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসেই পাওয়া যায়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، يَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: فِيكُمْ مَنْ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ، فَيُفْتَحُ لَهُمْ، ثُمَّ يَغْزُو قَوْمٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: فِيكُمْ مَنْ رَأَى مَنْ صَحِبَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ، فَيُفْتَحُ لَهُمْ، ثُمَّ يَغْزُو قَوْمٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ رَأَى مَنْ صَحِبَ مَنْ صَحِبَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ فَيُفْتَحُ لَهُمْ»
“(ভবিষ্যতে) মানুষের মাঝে এমন এক সময় আসবে যখন তাদের একদল জিহাদ করতে থাকবে। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন? তারা বলবেন, হ্যাঁ। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের মধ্য থেকে একদল যুদ্ধ করতে থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কোনো ব্যক্তি আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে দেখেছেন? তারা বলবেন, জি হ্যাঁ। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের আরেকটি দল জিহাদ করতে থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন, যিনি সাহাবীগণের সাহচর্য লাভকারী অর্থাৎ তা'বীগণকে দেখেছেন? তখন লোকেরা বলবে, জি হ্যাঁ। তখন তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে।”১০
উপরোক্ত হাদীসে দর্শন লাভকারীকে সাথী বলা হয়েছে। অতএব, কারো দেখা লাভকারী হলো তার সাহাবী। ঈমানের সাথে শুধু দেখা পাওয়াই যে সাহাবী হওয়ার জন্য যথেষ্ট এ অর্থে নিম্নোক্ত হাদীসটিও তার প্রমাণ। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا» قَالُوا: أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَنْتُمْ أَصْحَابِي، وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ».
“আমার বড় ইচ্ছা হয় আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সাহাবী। আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসে নি তারা আমাদের ভাই।”১২ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَنْتُمْ أَصْحَابِي، وَلَكِنْ إِخْوَانِي الَّذِينَ آمَنُوا بِي وَلَمْ يَرَوْنِي».
“তোমরা আমার সাহাবী; কিন্তু আমার ভাই তো তারাই যারা আমাকে দেখে নি অথচ আমার প্রতি ঈমান এনেছে।”১৩
এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব ভাইদেরকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তাদের ও সাহাবীগণের মধ্যে পার্থক্য হলো তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ ও দেখা করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন ও তাঁকে দেখেছেন তিনি তাঁর সাহাবী।১৪
উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেসব সাহাবী কেবল একজনই দেখেছিলেন, তাদের দেখা কেবল চোখের দেখাতে সীমাবদ্ধ ছিল না, (যেমন কাফির ও মুনাফিকরা দেখেছে) বরং আল্লাহ সেসব সৎলোকদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ, আনুগত্য ও ভালোবাসার জন্য দেখার তাওফিক দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করেছেন, তারাও ঈমান আনয়ন, তাঁর ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব গ্রহণ, তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণের মানসে তাঁকে দেখেছেন। সুতরাং তাদের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখার কারণে এ মহামূল্যবান উচ্চমর্যাদা তাদের জন্য অর্জিত হওয়াও যথাযথ।১৫ কেননা বা হবে না; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা, তাঁর সাক্ষাৎ লাভ ও তাঁর সান্নিধ্যে থাকা যে একাকারে কল্যাণ, বরকত ও হিদায়াতের আলো পাওয়া হিসেবে বিবেচিত, এটা হতভাগা অন্ধ ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না।১৬
টিকাঃ
^2 দেখুন, লিসানুল আরব, (৪/২৪০০); আন-নিহায়া ফি গরীবিল হাদীস ওয়াল আসার, (৩/১২); তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, (৩/১৮৬)। সাহাবী শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়; এমনকি তাদের নাম হিসেবেই শব্দটির ব্যবহার। এ কারণেই সাহাবীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে নিসবত করা হয়। দেখুন, আল- কুরশিয়াত, কাফফাতী, পৃষ্ঠা ৫৮৫।
^3 আল-ইসাবা ফি তাময়ীযিল সাহাবাহ, ১/১৬।
^4 ইমতিসাক ‘উলূমিল হাদীস মা‘আল-বাইস আল-হাসীস, ১/৯৪১।
^5 আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়া, পৃষ্ঠা ৫১।
^6 ইমাম বুখারী রহ. ফাযায়লুল সাহাবা অধ্যায়ে এ শব্দ দ্বারা একটি বাব তথা পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। দেখুন ৬/৫। তার শব্দাবলী হচ্ছে, بَابُ فَضَائِلِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ صَحِبَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ رَآهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَهُوَ مِنْ أَصْحَابِهِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদার পরিচ্ছেদ, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা যে মুসলিম তাঁকে দেখেছেন তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত।
^7 মু‘জামু মাকায়ীসুল লুগাহ, ইবন ফারিস, পৃষ্ঠা ৫৬৭।
^8 মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৮।
^9 মিনহাজুন সুন্নাহ, ৮/৩৮৮ ও ৩৮৯।
১০ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১ কি; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৩২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের。
১১ মিনহাজুস সুন্নাহ, ৮/৩৮৬। এ কিতাবের পরবর্তী অংশে দেখুন। সাহাবীর অর্থ বিস্তারিত জানতে এ অংশ সহায়ক হবে।
১২ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৯৪।
১৩ মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২৬৩১।
১৪ মিনহাজুস সুন্নাহ, ৮/৩৮৯।
১৫ মিনহাজুস সুন্নাহ, ৮/৩৮৮।
১৬ উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট হলো যে, বর্তমানে কিছু নিকৃষ্টমানের বিদ্'আতী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবীগণের ব্যাপারে হিংসার বশবর্তী হয়ে যেসব কথা বলে থাকে যে, সাহাবী হতে হলে দীর্ঘ সাহচর্য ও সান্নিধ্যের শর্ত রয়েছে, এটা তাদের সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি, কুরআন ও হাদীসের তথ্যের দাবী মানতে অস্বীকৃতি। এর দ্বারা তারা মুমিনদের পথ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। সৎপূর্বসুরীদেরকে অধিকারে আঘাত করেছে। সহীহ আক্বীদার সরাসরি বিরোধিতা লিঙ্গ হয়েছে।
📄 উম্মতের ওপর সাহাবীগণের অধিকারসমূহ
সাহাবীগণের অধিকারসমূহকে আমরা দশটি ভাগে বিভক্ত করে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।
📄 প্রথম অধিকার: সাহাবীগণকে ভালোবাসা
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে আল্লাহর ওয়াজহে ও আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই ভালোবাসেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, যারা তাদেরকে ভালোবাসবেন, তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবেন, তাদের অধিকার সংরক্ষণ করবেন ও তাদের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হবেন তারাই সফলকামী দলের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর যারা তাদেরকে অপছন্দ করবেন, তাদেরকে গাল-মন্দ করবেন, শত্রুদের দলে তাদেরকে সম্পূর্ণ করবেন ও তাদের মর্যাদার বিপরীত কিছু বলবেন তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
এ কথার দলিল হলো আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴿الحشر: ١٠﴾
“যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০]
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, «آيَةُ الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ، وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الْأَنْصَارِ».
“ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারগণকে ভালোবাসা এবং মুনাফিকীর আলামত হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।”¹⁷
এখানে যেহেতু আনসারগণের ভালোবাসা প্রমাণিত হয়েছে, তাহলে মুহাজিরগণের প্রতি ভালোবাসা আরও অধিক অধিকারপ্রাপ্ত। যেহেতু তারা সর্বাধিক বিবেচনায় তাদের (আনসারদের) চেয়ে উত্তম। এছাড়া তারাও আল্লাহকে সাহায্য করেছেন যেমন আনসারগণ করেছেন; সেহেতু তারাও আনসার হিসেবে গণ্য।¹⁸
কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর ওয়াজহে কাউকে ভালোবাসার যেসব মর্যাদা কথা উল্লেখ আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে ভালোবাসার দ্বারা যে কেউ সেসব মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হবে; যেহেতু তারা হলেন সর্বোত্তম মানুষ।
ইমাম যাহাবী রহ. তার আক্বীদার কিতাবে বলেছেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে ভালোবাসি, তাদের কাউকে ভালোবাসায় আমরা বাড়াবাড়ি করি না, আবার কারও থেকে ভালোবাসা ছিন্নিও করি না (সবাইকে ভালোবাসি)। আমরা তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করি ও তাদের ঘৃণা করি যারা সাহাবীগণের সাথে শত্রুতা-বিদ্বেষপোষণ করবে এবং তাদেরকে খারাপভাবে উল্লেখ করবে। সাহাবীগণকে ভালোবাসা দীন, ঈমান ও ইহসান। আর তাদেরকে অপছন্দ করা কুফুরী, নিফাকী, পাপ ও অবাধ্যতা।’¹⁹
ইমাম মালেক রহ. এর বাণীটি এখানে উল্লেখযোগ্য সবচেয়ে সুন্দর কথা। তিনি বলেছেন, ‘সালাফ তথা সৎপূর্বসূরীরা তাদের সন্তানদেরকে আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ভালোবাসা শিক্ষা দিতেন, যেমনিভাবে তারা তাদের সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।’²⁰
আবু নু‘আইম তার “হিলইয়াহ্”²¹ গ্রন্থে বিশর ইবন হারিস রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘আমার অন্তরে যে আমলটি সবচেয়ে বেশি মজবুত ও কার্যকর মনে হচ্ছে তা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ভালোবাসা’।
আবু নু‘আইম তার “হিলইয়াহ্”²² গ্রন্থে শু‘আইব ইবন হারব রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “আসিম ইবন মুহাম্মাদের কাছে সুফইয়ান আস-সাওরী রহ. এর গুণাবলী বর্ণনা করা হলো। তারা তার পনেরোটি মানাকিব তথা উত্তম গুণ উল্লেখ করলেন। তখন ‘আসিম ইবন মুহাম্মদ তাদেরকে বললেন, তোমরা কি তার গুণাবলী বর্ণনা করা সমাপ্ত করেছ? আমি তার এমন একটি গুণের কথা জানি যা তোমাদের বর্ণিত গুণাবলীর চেয়ে উত্তম। তা হলো, তার অন্তর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন ছিল।' (দোষ-ত্রুটি বর্ণনা থেকে মুক্ত ছিল।)
টিকাঃ
¹⁷ মুস্তাফাকুন ‘আলাইহি, সহীহ বুখারী, কিতাবু মানাকিবুল আনসার, বাব হুব্বুল আনসার মিনাল ঈমান, ৩/৩৫, হাদীস নং ৩৭৮৪; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব আনসার ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ভালোবাসা ঈমানের আলামত আর তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ মুনাফিকীর আলামত, ১/৪৬, হাদীস নং ৭৪। হাদীসটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
¹⁸ আল-জাওয়াবুস সহীহ, ২/২৬৭।
¹⁹ আক্বীদাতুত ত্বহাবীয়া মা‘আ শরহে ইবন আবিল ইয্য, পৃষ্ঠা ৪৬৭।
²⁰ শরহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ, ৭/১১৯০, আসার নং ২০২৮; তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৪৪/৩৮৩; আল-জুজআবু ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ্, ২/৩৮৯।
²¹ হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৩৮৮।
²² হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৩৮৮।