📄 পঞ্চমত: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতকে সম্প্রসারণ করা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার পূরণের অন্যতম একটি দিক হলো ইসলাম প্রসারের কাজ করা এবং প্রত্যেক জায়গায় তাঁর বাণী প্রচার করা। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً “তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছিয়ে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।”¹
নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:
لَأَنْ يَهْدِيَ اللّٰهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ “তোমার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক একজন মানুষকে হিদায়াত করানোটা তোমার জন্য লাল উটের মালিক হওয়া থেকে অনেক বেশি উত্তম।”¹
আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও সংবাদ দিয়েছেন এ বলে:
فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ “আমি কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে নিয়ে অন্যান্য উম্মতের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাবো।”² আর উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেওয়ার কাজ করা এবং আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে দলে দলে লোকজনের প্রবেশ, আর আল্লাহ তা'আলা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, তাঁর দিকে দা'ওয়াত দেওয়ার কাজটি হলো রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুতরাং তিনি বলেন:
﴿قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللّٰهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي﴾ [يوسف: ١٠٨] “বলুন, ‘এটা আমার পথ, আল্লাহ্র প্রতি মানুষকে আমি ডাকি জ্ঞান-বুঝে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও।’ [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলে দিয়েছেন যে, দাওয়াতের কাজে যেসব কথা বলা হয়, সেগুলো হলো সর্বোত্তম কথা। তিনি বলেন: ﴿وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللّٰهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴾ [فصلت: ٣٣] “আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং সৎকাজ করে। আর বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা ফুসসিলাت, আয়াত: ৩৩]
সুতরাং এ উম্মতের জন্য আবশ্যক হলো– তারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে আঁকড়ে ধরবে, যা পালন করার জন্য আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর তা হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা, আর বিশেষ করে এ যুগে, যে সময়ে ইসলামের শত্রুরা উম্মতের উপর উস্কানিপূর্ণ করে চলেছে তাদেরকে ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে; আর আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহে কখনও তাদের এ লক্ষ্য অর্জিত হবে না, যতক্ষণ এ উম্মত তাদের 'আক্বিদা-বিশ্বাসকে মজবুতভাবে ধারণ করবে এবং তাদের নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াত ও নির্দেশনার অনুসরণ করে মানুষকে তাদের রবের দিকে ডাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّٰهِ ﴾ [ال عمران: ١١٠] “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহ্র উপর ঈমান আনবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]
টিকাঃ
১ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৬৮
১ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৪৭ ও ৪২০১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৭৬
২ আহমাদ ও সুনানের সংকলকবৃন্দ।
📄 সপ্তমত: যখনই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা হবে তখনই তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করা
আল্লাহ তা’আলা মুমিনগণকে তাঁর নবীর প্রতি সালাত পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا [الأحزاب: ٥٦] “নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর জন্য দো‘আ-ইস্তেগফার করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর ওপর সালাত পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا
“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার সালাত পাঠ করবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার ওপর দশবার সালাত পেশ করবেন (প্রশংসা করবেন)।”¹¹
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: رَغِمَ أَنْفُ ذِكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ “ঐ ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক, যার নিকট আমার আলোচনা হয় অথচ সে আমার প্রতি সালাত পাঠ করে না।”¹²
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةٌ “কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি সালাত পাঠ করবে।”¹³
সুতরাং নির্দয় আচরণ বা দুর্ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত হলো, কোনো মানুষ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা শুনা, অতঃপর তাঁর ওপর দুরূদ পাঠ করতে কৃপণতা করা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তার ‘জালাউল আফহাম ফিস সালাত ওস সালাম আ’লা খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (صلى الله عليه وسلم) নামক গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ করার অনেক উপকারিতা আলোচনা করেছেন। সুতরাং আরও বেশি জানার জন্য তা অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
টিকাঃ
১১ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৭৫
১২ তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৪৬
১৩ তিরমিযী, হাদীস নং ৪৮৪; আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।