📄 আগ্রহ বাড়াতে যা করণীয়
ইলম অর্জনের আগ্রহকে বাড়ানোর জন্য এই কাজগুলোও করতে পারো:
১. নিজের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের দূরত্ব নিয়ে চিন্তা করা। নিজের অজানা বিষয় বা দলিলবিহীন জানার বিষয়ের সুবিশাল পরিমাণ এবং দলিলসহ সুস্পষ্ট জানার স্বল্পতা ও ক্ষুদ্রতা নিয়ে ভাবা।
২. উদ্যমী, পরিশ্রমী ও অধিক অধ্যয়নকারী সহপাঠী ও উস্তাদগণের সজাগ সান্নিধ্য লাভ করা।
৩. ইলমী মজলিস ও মুহাযারাতে উপস্থিত হওয়া।
৪. ইলম, আলেম ও তালিবে ইলমের ফজিলত সম্বলিত আয়াত, হাদীস ও আসারগুলো পড়া ও তা নিয়ে চিন্তা করা।
৫. ইলমী বিষয়ে সহপাঠীদের সাথে মুযাকারা করা।
📄 পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার হাকিকত
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাকে সচেতন তালিবে ইলম يسر ولا يغر হিসেবে গ্রহণ করে। অর্থাৎ আনন্দিত হবে। কিন্তু ধোঁকায় পড়বে না। খুশি এই জন্য যে, এতে আসাতিযায়ে কেরামের নেক দৃষ্টি অর্জন হয়। সাথী ভাইদের সমীহ লাভ হয়। ধোঁকায় পড়ে না, কারণ পরীক্ষার ফলাফল আসে শুধু দরসী কিতাব পড়ার উপর। ইলমের বিস্তৃতি, আমলের আধিক্য, আখলাকের সৌন্দর্য, চিন্তার পরিশুদ্ধির উপর নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ইস্তি'দাদের উপরও নয়। বাংলা নোট দেখে কিতাব পড়েও ফলাফল ভালো করা যায়। এমনকি কিতাব অল্প স্বল্প যা পড়ে যদি তার মধ্যেই প্রশ্ন চলে আসে তাহলে তো ভালো ফলাফলের জন্য পুরো কিতাবও পড়ার প্রয়োজন হয় না।
📄 পড়ালেখায় অমনোযোগী ছাত্রদের সাথে ভালো ছাত্রদের কিরূপ আচরণ করা উচিত
ভাই, আমরা আগেপিছে কথা না বলে সরাসরি আসিফ ভাইকে বুঝাই। তার মধ্যে প্রেরণা জাগাই। তাকে উৎসাহ দেই। আসলে অধিকাংশ নতুন ছাত্ররা ভালো পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই মাদরাসা পরিবর্তন করে। তাই প্রায় প্রত্যেক নতুন ছাত্রের ব্যাপারে আমরা বলতে পারি, তার মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ আছে। কিন্তু সমস্যাটা হয় এখানে যে, তারা যখন নতুন আসে তখন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে সময় লাগে। মন বসাতে বিলম্ব হয়। ফলে শুরুতে পড়ালেখা তেমন একটা ভালো হয় না। এর মধ্যে সে এখানের ভালো ছাত্রদের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত এত এত প্রশংসা শুনে যে, প্রায় নিরাশ হয়ে যায়। ভালো ছাত্ররা নিজেদের নিয়ে পড়ে থাকে। আলাদাভাবে এসে কোনো খবর নেয় না। এদিকে আগের মাদরসার তুলনায় নতুন মাদরাসার উস্তাদদের সাথে সম্পর্ক থাকে না। তাদের কাছে যেতে ভয় পায়। ফলে ধীরে ধীরে উস্তাদদের থেকেও একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এর বিপরীতে জামাতের দুষ্ট ছেলেরা মিশুক হওয়ায় নতুনদের সাথে তাদের তাড়াতাড়ি সম্পর্ক হয়ে যায়। তাদেরকেই নতুন ছাত্ররা তখন আশ্রয় মনে করতে থাকে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে পুরাতন পড়ালেখায় মনোযোগী ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে। নিজ থেকে তাদেরকে উস্তাদদের সাথে সম্পর্ক করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভয় দিতে হবে।
তাদের প্রত্যেকের সাথে মিশে সরাসরি বুঝানো উচিত। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যত কী হবে আর ভালো হয়ে চললে ভবিষ্যত কী হবে তা বলা। ভালো আলেম হলে দুনিয়া আখিরাতে কত সম্মান তা উদাহরণ দিয়ে দিয়ে দেখানো। বাবা মায়ের আমাদের নিয়ে কত স্বপ্ন তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এভাবে তাকে বার বার বুঝাতে থাকা। ভালো কথার প্রভাব আছেই। দেখা যাবে, এই কাজটা দায়িত্বশীলতার সাথে করা গেলে অধিকাংশ ছেলেই ভালো হয়ে যাবে। হ্যাঁ যদি দেখা যায়, তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন নেই, তার মন্দ কর্মের প্রভাব অন্যদের উপর পড়ছে তাহলে তাদের বিষয়ে উস্তাদদের অবগতি করা। উস্তাদগণ তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।
📄 দুইজন ছাত্রের মধ্যকার কোন সম্পর্ক ভালো আর কোন সম্পর্ক মন্দ
দুইজন ছাত্রের মধ্যকার যে সম্পর্ক তাদের পড়ালেখা ও ভালোকাজ থেকে বিরত রাখে, অলস ও গাফেল বানিয়ে দেয় নিঃসন্দেহে সেই সম্পর্ক বর্জনীয়। আর যে সম্পর্ক একে অপরকে পড়ালেখায় উৎসাহিত করে, ভালোকাজে সহায়তা করে নিঃসন্দেহে এমন সম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নেয়ামত। তবে ভালো সম্পর্কও এমন পর্যায়ের না হওয়া যা সন্দেহ ও কানাঘুষা সৃষ্টি করবে। সম্পর্ক এই পর্যায়ে চলে গেলে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে।
তো এই সন্দেহপূর্ণ ও মন্দ ধরণের সম্পর্কে যারা লিপ্ত তাদেরকে কল্যাণকামী হয়ে সরাসরি বুঝানো উচিত, তারা যেন একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। তাদের আগেপিছে সমালোচনা করলে গীবত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। হ্যাঁ, কারো ব্যাপারে যদি জানা যায়, সে না জানার কারণে কোনো মন্দ ব্যক্তির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হচ্ছে তখন তাকে ঐ মন্দ ব্যক্তির মন্দ দিকগুলো বলা যেতে পারে। তবে অবশ্যই তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে পারবে না।