📄 পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেললে যা করণীয়
আগ্রহ সবসময় একরকম থাকে না। কখনো কখনো আগ্রহ একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এই মুহূর্তগুলোতে পড়ালেখায় যতটুকু সম্ভব ততটুকু পড়বে। পড়তে ভালো না লাগলে তিলাওয়াত করবে। প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করবে। আসাতিযায়ে কেরামের খেদমতে যাবে। দেখবে, আগ্রহ-উদ্দীপনা আবার ফিরে এসেছে এবং পড়ালেখার প্রতিও আগ্রহ চলে এসেছে। সাবধান! এ সময়টাতে এমন কোনো কাজ করবে না, যা গাফলত টেনে আনে। যেমন, গল্পগুজবে মেতে উঠা।
পড়ালেখার আগ্রহ ধরে রাখার জন্য আমল ও চিন্তার একাগ্রতা খুব জরুরী। মন্দ কাজ যত কম হবে, ভালো কাজের আগ্রহ তত বেশি হবে। এর জন্য আকাবির আসলাফের জীবনী পড়বে। তাদের আত্মজীবনী ও সফরনামা পড়বে। এগুলো খুবই উপকারী। সাথে সাথে বেশ উপভোগ্যও। তাদের খুতুবাত, মালফুযাত ও রসাইল তো আমল, আখলাক ও আফকারের উন্নতির জন্য অনেক কাজের। তুমি আপাতত পড়ালেখার আগ্রহের জন্য নিয়মিত একটু একটু করে এই কয়েকটি কিতাব পড়বে:
- জীবন পথের পাথেয়
- তালিবে ইলমের পথ ও পাথেয়
- আকাবিরে দেওবন্দের ছাত্র জীবন-১,২,৩
- দরদী মালীর কথা শোনো – ১, ২, ৩
- তালিবানে ইলমের রাহে মানযিল
- العلم والعلماء - حکیم الامت اشرف علي التهانوي (১৩৬২)
- اصلاحی مجالس - علامه مفتی محمد تقی عثمانی
- مجالس حکیم الامت - علامه مفتی محمد شفیع (১৩৯৬)
- بصائر حكيم الامت - مولانا عبد الحي عارفي (١٣٠٧)
- مآثر حكيم الامت - مولانا عبد الحي عارفي (١٣٠٢)
- آپ بيتى - شيخ الحديث زكريا الكاندهلوي (١٣٠٢)
- قيمة الزمان عند العلماء - الشيخ العلامة عبد الفتاح أبو غدة (١٤١٧)
- العلماء العزاب الذين آثروا العلم على الزواج - له
- صفحات من صبر العلماء على شدائد العلم والتحصيل - له
- معالم إرشادية لصناعة طالب العلم - للشيخ محمد عوامة
- المشوق إلى القراءة - للشيخ علي العمران
- تعليم المتعلم - للإمام الزرنوجي (نحو ٦١٠)
- تذكرة السامع والمتكلم في أدب العالم والمتعلم - للإمام ابن جماعة (٧٣٣)
- حياة السلف بين القول والعمل - للشيخ أحمد بن ناصر الطيار
- من معين الشمائل - للشيخ صالح الشامي
📄 আগ্রহ বাড়াতে যা করণীয়
ইলম অর্জনের আগ্রহকে বাড়ানোর জন্য এই কাজগুলোও করতে পারো:
১. নিজের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের দূরত্ব নিয়ে চিন্তা করা। নিজের অজানা বিষয় বা দলিলবিহীন জানার বিষয়ের সুবিশাল পরিমাণ এবং দলিলসহ সুস্পষ্ট জানার স্বল্পতা ও ক্ষুদ্রতা নিয়ে ভাবা।
২. উদ্যমী, পরিশ্রমী ও অধিক অধ্যয়নকারী সহপাঠী ও উস্তাদগণের সজাগ সান্নিধ্য লাভ করা।
৩. ইলমী মজলিস ও মুহাযারাতে উপস্থিত হওয়া।
৪. ইলম, আলেম ও তালিবে ইলমের ফজিলত সম্বলিত আয়াত, হাদীস ও আসারগুলো পড়া ও তা নিয়ে চিন্তা করা।
৫. ইলমী বিষয়ে সহপাঠীদের সাথে মুযাকারা করা।
📄 পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার হাকিকত
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাকে সচেতন তালিবে ইলম يسر ولا يغر হিসেবে গ্রহণ করে। অর্থাৎ আনন্দিত হবে। কিন্তু ধোঁকায় পড়বে না। খুশি এই জন্য যে, এতে আসাতিযায়ে কেরামের নেক দৃষ্টি অর্জন হয়। সাথী ভাইদের সমীহ লাভ হয়। ধোঁকায় পড়ে না, কারণ পরীক্ষার ফলাফল আসে শুধু দরসী কিতাব পড়ার উপর। ইলমের বিস্তৃতি, আমলের আধিক্য, আখলাকের সৌন্দর্য, চিন্তার পরিশুদ্ধির উপর নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ইস্তি'দাদের উপরও নয়। বাংলা নোট দেখে কিতাব পড়েও ফলাফল ভালো করা যায়। এমনকি কিতাব অল্প স্বল্প যা পড়ে যদি তার মধ্যেই প্রশ্ন চলে আসে তাহলে তো ভালো ফলাফলের জন্য পুরো কিতাবও পড়ার প্রয়োজন হয় না।
📄 পড়ালেখায় অমনোযোগী ছাত্রদের সাথে ভালো ছাত্রদের কিরূপ আচরণ করা উচিত
ভাই, আমরা আগেপিছে কথা না বলে সরাসরি আসিফ ভাইকে বুঝাই। তার মধ্যে প্রেরণা জাগাই। তাকে উৎসাহ দেই। আসলে অধিকাংশ নতুন ছাত্ররা ভালো পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই মাদরাসা পরিবর্তন করে। তাই প্রায় প্রত্যেক নতুন ছাত্রের ব্যাপারে আমরা বলতে পারি, তার মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ আছে। কিন্তু সমস্যাটা হয় এখানে যে, তারা যখন নতুন আসে তখন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে সময় লাগে। মন বসাতে বিলম্ব হয়। ফলে শুরুতে পড়ালেখা তেমন একটা ভালো হয় না। এর মধ্যে সে এখানের ভালো ছাত্রদের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত এত এত প্রশংসা শুনে যে, প্রায় নিরাশ হয়ে যায়। ভালো ছাত্ররা নিজেদের নিয়ে পড়ে থাকে। আলাদাভাবে এসে কোনো খবর নেয় না। এদিকে আগের মাদরসার তুলনায় নতুন মাদরাসার উস্তাদদের সাথে সম্পর্ক থাকে না। তাদের কাছে যেতে ভয় পায়। ফলে ধীরে ধীরে উস্তাদদের থেকেও একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এর বিপরীতে জামাতের দুষ্ট ছেলেরা মিশুক হওয়ায় নতুনদের সাথে তাদের তাড়াতাড়ি সম্পর্ক হয়ে যায়। তাদেরকেই নতুন ছাত্ররা তখন আশ্রয় মনে করতে থাকে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে পুরাতন পড়ালেখায় মনোযোগী ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে। নিজ থেকে তাদেরকে উস্তাদদের সাথে সম্পর্ক করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভয় দিতে হবে।
তাদের প্রত্যেকের সাথে মিশে সরাসরি বুঝানো উচিত। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যত কী হবে আর ভালো হয়ে চললে ভবিষ্যত কী হবে তা বলা। ভালো আলেম হলে দুনিয়া আখিরাতে কত সম্মান তা উদাহরণ দিয়ে দিয়ে দেখানো। বাবা মায়ের আমাদের নিয়ে কত স্বপ্ন তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এভাবে তাকে বার বার বুঝাতে থাকা। ভালো কথার প্রভাব আছেই। দেখা যাবে, এই কাজটা দায়িত্বশীলতার সাথে করা গেলে অধিকাংশ ছেলেই ভালো হয়ে যাবে। হ্যাঁ যদি দেখা যায়, তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন নেই, তার মন্দ কর্মের প্রভাব অন্যদের উপর পড়ছে তাহলে তাদের বিষয়ে উস্তাদদের অবগতি করা। উস্তাদগণ তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।