📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 যে পথের শেষ নেই

📄 যে পথের শেষ নেই


বর্তমান সময়ের উলূমুল হাদীস বিষয়ের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং শত কিতাবের লেখক শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আওয়াদার কাছ থেকে নাযেম সাহেব বরাবর একটি চিঠি এসেছে। তাতে লেখা হয়েছে,

"...আপনার বরকতময় বিভিন্ন কর্ম-তৎপরতার সংবাদ আমাকে আনন্দ দেয়। সবচেয়ে আনন্দ পেয়েছি এটা জেনে যে, আপনি ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত সকল রেওয়ায়াতের তাহকীকের কাজ শুরু করেছেন। যেখানে আপনি প্রথমে ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে প্রমাণিত রেওয়ায়াতগুলো চিহ্নিত করবেন। তারপর কোন রেওয়ায়াতগুলোতে ইমাম আবু হানিফা রহ. তাফাররুদ করেছেন, কোনগুলোতে তার মুতাবাআত আছে আর কোনগুলোতে তার মুখালাফাত আছে তা নির্ধারণ করবেন।

তবে আপনার কাছে আমার আবদার থাকবে, আপনি আপনার পিছনের কাজগুলোও সমাপ্ত করবেন। বিশেষ করে 'লিসানুল মিযান'-এর যে তাকমীল, তাযয়ীল ও তাকরীব তৈরি করছিলেন সেটা যদি পূর্ণ হয় তাহলে আহলে ইলমের শোকর ও দোয়ায় আপনি হাবুডুবু খেতে থাকবেন।

এবার এই দুর্বল বান্দার আরজিটা শুনুন! আপনি জানেন, আমি এখন জীবনের শেষ সময়গুলো অতিক্রম করছি। বার্ধক্য আমাকে এতটাই পরাস্ত করেছে যে, প্রায় সবকিছুতে পরনির্ভর হয়ে পড়েছি। তাক থেকে ছোট একটি কিতাব নামাতেও অনেক সময় অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। তাই আপনার কাছে যদি কোনো সৎ, সভ্য, মেধাবী, উদ্যমী, চৌকষ ও পরিশ্রমী কোনো তালিবে ইলম থাকে তাহলে মুনাসিব মনে করলে তাকে আমার কাছে পাঠাতে পারেন, যে আমার কাজে সহযোগিতা করবে এবং আমি তার ইলমের পথ নির্দেশনার দায়িত্ব আঞ্জাম দিব...”

নাযেম সাহেব চিঠিটি পড়ে রশীদকে ডাকলেন। এয়ারপোর্টে রশীদকে বিদায় জানাতে এসেছেন রশীদের বাবা, মামা, মোহতামিম সাহেব ও নাযেম সাহেব। রশীদ আজ ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। নাযেম সাহেব তার হাতে একটি কাগজ গুঁজে দিয়ে বললেন, বিমানে উঠার পর পড়বে।

বিমান যখন উড়া শুরু করল, তখন রশীদ নাযেম সাহেবের কাগজটা চোখের সামনে মেলে ধরল। তাতে লেখা ছিল:

“জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছ। এই যাত্রার শুরু আছে, শেষ নেই। তুমি যদি দশ মাইল হাঁটার ইচ্ছা করো তাহলে আট মাইল হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আর যদি আট মাইল হাঁটার ইচ্ছে করো তাহলে ছয় মাইল হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাই ইচ্ছেটা বড় করো। তুমি তোমার মেহনতের সমান বড়। টুকরো টুকরো বর্তমান জোড়া দিয়েই ভবিষ্যৎ নির্মাণ হয়।

কত সৌভাগ্য যে, তুমি শায়খের মত ব্যক্তির সোহবত পেতে যাচ্ছ। সোহবত ছাড়া দুনিয়াবি কোনো বিষয়ে সফল হওয়া গেলেও দ্বীনী কোনো বিষয়ে সোহবত ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা দ্বীনী সকল বিষয়ের সফলতা গচ্ছিত রেখেছেন সোহবতের কোঁড়ে। সর্বশেষে বলবো, নিজেকে রবের কাছে উজাড় করে দিও। মন খুলে তার কাছে চেয়ে নিও। নিজেকে তার একনিষ্ঠ গোলাম বানাতে চেষ্টা করো। অপরাধ হয়ে গেলে তার কাছে ধরা দিও। ক্ষমা চেয়ে নিও। তিনি বড় দয়ালু। তিনিই একমাত্র আশ্রয়দাতা।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px