📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 ইখতিসাস ও তাখাসসুস

📄 ইখতিসাস ও তাখাসসুস


'এক হলো কোনো শাস্ত্রে ইখতেসাস করা তথা বিশেষজ্ঞতা অর্জন করা। আরেক হলো কোনো শাস্ত্রে তাখাসসুস তথা কিছু সময় নিবিড়ভাবে অধ্যয়নের জন্য ফারেগ হওয়া। দুটো এক নয়। তাখাসসুস মূলত ইখতেসাসের জন্য ওসিলা বা মাধ্যম। তাখাসসুস করলেই ইখতেসাস অর্জন হয়ে যাবে বিষয়টা এমন নয়। তাখাসসুসের সময় দুই বছর বা তিন বছর পর্যন্ত ব্যাপ্ত হয়। কিন্তু ইখতেসাসের পথ বড় দীর্ঘ। ইখতেসাস সাধারণত এক বিষয়ে, উর্ধ্বে দুই বিষয়ে হতে পারে। কিন্তু তাখাসসুস একাধিক বিষয়ে হতে পারে। নিজের ইখতেসাসের বিষয় ছাড়া তাখাসসুস করলে ঐ বিষয়েই করা উচিত যা তার ইখতেসাসের জন্য সহায়ক হয়।'

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 উলুমুল হাদীস পড়ার মূল লক্ষ্য

📄 উলুমুল হাদীস পড়ার মূল লক্ষ্য


দ্বীন হলো কুরআন, হাদীস এবং ফাহমুস সালাফ তথা সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে' তাবেয়ীনের কুরআন-হাদীসের বুঝের সমষ্টি। কুরআন আমাদের কাছে এত মজবুত সূত্রে পৌঁছেছে যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই, এই কুরআন সেই কুরআন যা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু হাদীস ও আসারুস সালাফের যে ভাণ্ডার আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা এতটা মজবুত সূত্রে পৌঁছেনি। ফলে যাচাই করতে হয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা আদৌও তাদের থেকে প্রমাণিত কি না? উলূমুল হাদীস শিখতে হয় মূলত এই যাচাই পদ্ধতি শেখার জন্য।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 উলুমুল হাদীসে কেন ইখতিসাস করতে হবে

📄 উলুমুল হাদীসে কেন ইখতিসাস করতে হবে


যাচাইয়ের কাজ তো পূর্বের মুহাদ্দিসীনে কেরাম করেই দিয়েছেন। তবে তারা যাচাই করে যা ফলাফল পেশ করেছেন তা জানতেই উলূমুল হাদীস পড়তে হয়। যাচাইয়ের কাজে তারা অনেক পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, যা না বুঝলে আমরা তাদের যাচাইকার্য থেকে যথাযথ উপকৃত হতে পারব না। এই পরিভাষাগুলো জানতে আমাদের উলূমুল হাদীস পড়তে হবে। তাছাড়া যাচাইয়ের কাজে তাদের মাঝে বিভিন্ন সময় মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে কোন মতটা অধিক শক্তিশালী তা বুঝতে তাদের যাচাই-নীতি জানতে হবে। অনেক রেওয়ায়াতের ব্যাপারে প্রমাণিত কি অপ্রমাণিত এই ব্যাপারে তাদের কোনো মন্তব্য নাও পেতে পারি। তখন তাদের যাচাই নীতির আলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মোটকথা তাদের যাচাই নীতি জানতে হবে। এই যাচাই নীতি জানার জন্যেও আমাকে উলূমুল হাদীস পড়তে হবে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 উলুমুল হাদীসে ইখতিসাস করার বিশটি ফায়দা

📄 উলুমুল হাদীসে ইখতিসাস করার বিশটি ফায়দা


১. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফের কথা বার বার পড়ার কারণে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মুহাব্বত তৈরি হবে।
২. বেশি বেশি দুরূদ পড়ার সৌভাগ্য হবে।
৩. সুন্নাতের প্রতি মুহাব্বত ও বিদআতরে প্রতি ঘৃণা জন্মাবে।
৪. ব্যক্তি-জীবনে সতর্কতা অর্জন হবে। মানুষ চেনা ও যাচাই করার যোগ্যতা তৈরি হবে।
৫. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সালাফ থেকে প্রমাণিত কুরআনের তাফসীর জানতে পারবে।
৬. ফিকহে ইসলামীর প্রতি আস্থা অর্জন হবে। মুজতাহিদ ইমামগণের মূল্য বুঝে আসবে।
৭. শায ও বিচ্ছিন্ন মতামতের উপর কঠোরতা তৈরি হবে। ইজতেহাদী মাসআলায় ভিন্ন মতাবলম্বীদের ব্যাপারে নমনীয়তা জন্ম নিবে।
৮. সালাফ ও প্রতি যুগের আকাবিরের বিরাট একটা অংশের ইলমী, আমলী ও ফিকরী যিন্দেগীর অবগতি লাভের সুযোগ হবে।
৯. ব্যক্তি ও কর্মের যথাযথ মূল্যায়নের রুচি তৈরি হবে।
১০. সালাফ থেকে প্রমাণিত আকীদা বিশ্বাস সম্পর্কে জানা যাবে।
১১. ইতিহাস যাচাইয়ে অভিজ্ঞ হয়ে উঠব।
১২. ইলমুল ইলাল হলো উলূমুল হাদীসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ইলমের পারর্দশিতা অন্যান্য শাস্ত্রের ভুল ও বিকৃতির প্রবেশের দ্বার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে সহযোগিতা করবে।
১৩. ইলমুল লোগাহ, ইলমুন নাহু ওয়াস সরফ, ও ইলমুল বালাগার মূল ভিত্তি হলো হাদীস এবং বিশুদ্ধ আরবদের গদ্য ও পদ্য। এগুলো যাচাই করতেও উলূমুল হাদীস সহযোগিতা করবে।
১৪. তাহকীকুত তুরাস একটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র। পান্ডুলিপির যথার্থতা যাচাই করা হয় ইলমু তাহকীকিত তুরাস ও ইলমু তাহকীকিন নুসূস এর মাধ্যমে। এই শাস্ত্রটির মৌলিক সম্পর্ক উলূমুল হাদীসের সাথে।
১৫. উলূমুল হাদীসের পারদর্শিতা দ্বীনের বিকৃতি সাধনকারীদের খণ্ডন করা ও তাদের বিকৃতি প্রতিহত করার পথ সহজ করে দেয়।
১৬. উলূমুল হাদীসের তালিবে ইলম প্রায় দেখে, কখনো অনেক বড় ব্যক্তিদেরও কোনো মন্তব্য বা কিছু বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল হয় যায়। এই বিষয়টা তার মধ্যে সাবধানতা তৈরি করবে।
১৭. অন্য শাস্ত্রের দক্ষ ব্যক্তি হাদীসের সাথে যথাযথ সম্পর্ক না রাখায় যখন হাদীস বিষয়ে কথা বলে তখন তারও মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। এই শিক্ষা হয়ে যায় যে, যেই শাস্ত্রে পারদর্শিতা নেই, সেই শাস্ত্রে কথা না বলা উচিত।
১৮. ফযলু ইলমিস সালাফ আলা ইলমিল খালাফ তথা উত্তরসূরীদের উপর পূর্বসুরীদের ইলমী শ্রেষ্ঠত্ব ও অবদান—এই বিষয়টি অনুধাবন করা তালিবে ইলমের জন্য অনেক জরুরী।
১৯. শায়খ থেকে রেওয়ায়াত করতে গিয়ে যখন দুই ছাত্রের মাঝে ইখতেলাফ হয়, তখন যে ছাত্র উক্ত শায়খের সোহবত তুলনামূলক বেশি লাভ করেছে তার রেওয়ায়াত সাধারণত প্রাধান্য পায়। এই বিষয়টি তালিবে ইলমের কাছে উস্তাদের সান্নিধ্যের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
২০. হাদীসের তালিবে ইলম যখন দেখে, উলূমুল হাদীসের বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে তখন তার কাছে সামগ্রিক ইলমের বিস্তৃতিও প্রকাশ পেতে থাকে। তার অর্জিত ইলমের নগণ্যতা ফুটে উঠতে থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px