📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 হানাফী মাযহাব কেন মানি

📄 হানাফী মাযহাব কেন মানি


ইমাম আবু হানিফা রহ. তাবেয়ীন ও তাবে' তাবেয়ীনের কাছে দীর্ঘ সময় লাগিয়ে কুরআন হাদীস শিখেছেন। এরপর কুরআন হাদীস সামনে রেখে মানুষের সহজার্থে করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। একেই বলা হয় হানাফী মাযহাব বা ফিকহে হানাফী। সুতরাং হানাফী মাযহাব কুরআন হাদীসের বাইরের কিছু না। কুরআন হাদীস অনুসরণের সহজ একটা পন্থা। তাই হানাফী মাযহাব অনুসরণ করায় কোনো সমস্যা নেই।

: এমন আলেম কি একমাত্র আবু হানিফাই ছিল? আর কেউ ছিল না? তোমরা শুধু তার অনুসরণ করো কেন?

: ইমাম আবু হানিফা রহ. এর পর প্রতি যুগে লক্ষ লক্ষ আলেম এসেছেন। তারা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কুরআন ও হাদীসের গবেষণালব্ধ মতামতগুলো যাচাই বাছাই করেছেন। তারপর সাক্ষ্য দিয়েছেন, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতামতগুলো কুরআন ও হাদীসের সুন্দর ও সঠিক ব্যাখ্যা হয়েছে। তাই আমরা শুধু ইমাম আবু হানিফা রহ. এর অনুসরণ করি বিষয়টা এমন না। বরং আরো হাজারো লক্ষ আলেমদের গবেষণাকেও অনুসরণ করি। এটা হলো প্রথম কথা।

দ্বিতীয় কথা হলো, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আগে ও পরে অনুসরণ করা যায় এমন অনেক আলেম এসেছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলার কি হেকমত! সকলের গবেষণা ও মতামতগুলো হেফাজত হয়নি।

তৃতীয় কথা হলো, যদিও একাধিক অনুসরণীয় ব্যক্তির মতামত হেফাজত হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে বিশেষভাবে আমরা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর গবেষণা ও ব্যাখ্যা অনুসরণ করি। কারণ, সকল ডাক্তার সমান না। পড়ালেখা, বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতায় একজন আরেকজন থেকে এগিয়ে থাকে। ডাক্তারদের মধ্যে যেমন আমরা সবচেয়ে ভালো ও বিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর গবেষণা ও ব্যাখ্যাকেও ঠিক এই কারণেই আমরা অনুসরণ করি।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 হাদীস অনুসরণের জন্য মুজতাহিদ ইমামদের দ্বারস্থ কেন হতে হয়?

📄 হাদীস অনুসরণের জন্য মুজতাহিদ ইমামদের দ্বারস্থ কেন হতে হয়?


শফিক ভাই, হাদীস অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব। মূল উদ্দেশ্য হলো অনুসরণ করা। এখন যারা বড় বড় ইমামগণের বাতানো পথ অনুযায়ী চলছে, তারা হাদীসেরই অনুসরণ করছে। হাদীস অনুসরণ করার দায়িত্ব আদায়ে তাদের কোনো ত্রুটি হবে না। আপনি চাচ্ছেন সরাসরি হাদীস অনুসরণ করতে। তো ভাই, এই আবেগ থাকা মন্দ না। তবে এর জন্য অনেক প্রস্তুতি দরকার। প্রস্তুতি ছাড়া কেউ চিকিৎসা শুরু করলে যেমন জীবননাশের আশংকা থাকে, তেমনি প্রস্তুতি ছাড়া সরাসরি হাদীস অনুসরণ করতে গেলেও ঈমান আমলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

সরাসরি হাদীসের অনুসরণ করতে গেলে অনেক বিষয়ের গভীর ও বিস্তৃত ইলম থাকতে হবে। যেমন:
১. আরবী ভাষার গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে।
২. কোন হাদীসটি প্রমাণিত আর কোনটি অপ্রমাণিত তা যাচাই করার যোগ্যতা তৈরি করতে হবে।
৩. আলোচিত হাদীসটি যে বিষয়ের সে বিষয়ের কুরআনের সকল আয়াত, অন্যান্য হাদীস, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনের আমল একত্র করতে হবে।
৪. উসূলে ফিকহের আলোকে প্রত্যেকটা হাদীসের স্বাভাবিক মর্ম নির্ধারণ করতে হবে।
৫. বাহ্যত বিরোধী হাদীস সামনে আসলে কোনটা মানসূখ আর কোনটা নাসেখ তা নির্ধারণ করতে হবে।
৬. সামঞ্জস্য বিধান সম্ভব হলে সামঞ্জস্য করতে হবে।
৭. সামঞ্জস্য সম্ভব না হলে একটাকে আরেকটার উপর প্রাধান্য দিতে হবে। প্রাধান্য দেওয়ার কারণ অনেক। প্রাধান্যদানকারী কারণ সমূহের মধ্যে কোনটা শক্তিশালী সেটা নির্ধারণ করতে হবে।
৮. কোন হাদীসটা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বা কোনো ব্যক্তি বিশেষের সাথে সম্পৃক্ত, আর কোনটা সমগ্র উম্মাতের জন্য প্রযোজ্য তা নির্ধারণ করতে হবে।
৯. কোনটা সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য, আর কোনটা বিশেষ অবস্থায় প্রযোজ্য তা নির্ধারণ করতে হবে।
১০. কোনো একটা আমলের ব্যাপারে যখন প্রমাণ হবে তা করণীয় তখন দেখতে হবে, তা কোন স্তরের করণীয়? ফরজ, না ওয়াজিব, না সুন্নাত, না মুস্তাহাব তা নির্ধারণ করতে হবে। এমনিভাবে কোনো একটা আমল যখন পরিত্যাজ্য প্রমাণ হবে তখন তা কোন স্তরের পরিত্যাজ্য? হারাম, না মাকরুহে তাহরীমী, না মাকরুহে তানযীহী তা নির্ধারণ করতে হবে।

শব্দ আর বাক্য হিসেবে কথাগুলো কম হলেও এগুলো প্রত্যেকটাই অনেক মেহনতের দাবী রাখে। আমরা যারা সবকিছু ছেড়ে একনাগাড়ে কুরআন হাদীস নিয়ে দশ পনেরো বছর যাবৎ মাদরাসায় পড়াশোনা করি, আমাদের পক্ষেই সবগুলো কাজ আঞ্জাম দেয়ার যথাযথ যোগ্যতা তৈরী সম্ভব হয় না।

: তাহলে তো মনে হচ্ছে নিজে আমল করাটা অনেক কঠিন। উলামায়ে কেরামের অনুসরণ ছাড়া উপায় নেই।

: জ্বী ভাই। তবে আমাদের যুগে এমন যোগ্য উলামায়ে কেরাম নেই বললেই চলে। তাছাড়া কেউ যদি থেকেও থাকে তাহলে তার থেকে পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামকে অনুসরণ করা অধিক নিরাপদ হবে। কারণ পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের মতামত অনেক চর্চা হয়েছে। কিন্তু সমসাময়িক বা নিকট অতীতের উলামায়ে কেরামের মতামত চর্চা ও তার ভুল শুদ্ধ যাচাইয়ের কাজ তেমন একটা হয় না। এজন্য আমাদের দেশের উলামায়ে কেরাম নিজে সরাসরি গবেষণা না করে হানাফী মাযহাবের মতামত অনুযায়ী দ্বীনী বিষয়ের সমাধান দেন।

রশীদ বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো আর মনে মনে বলল, আসলে এক গ্রুপ আহলে কুরআন নাম নিয়ে হাদীসকে অস্বীকার করছে। আরেক গ্রুপ আহলে হাদীস নাম নিয়ে ফিকহকে অস্বীকার করছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px