📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 আহলে হাদীসদের খন্ডন কেন করা হয়

📄 আহলে হাদীসদের খন্ডন কেন করা হয়


এমনকি প্রসিদ্ধ সালাফী আলেম সালেহ আল উসাইমিনও বলেছেন, জনসাধারণের মাযহাব হবে সেটা যেটা তাদের উলামায়ে কেরামের মাযহাব। [১] আরেক প্রসিদ্ধ সালাফী আলেম আব্দুর রহমান বিন সা'দী বলেছেন, জনসাধারণের জন্য নিজ দেশের আলেমদের বিপরীতে অন্য দেশের আলেমের অনুসরণ করা উচিত নয়। [২]

: যদি উভয় আমলই সঠিক হয় তাহলে তোমরা মাদরাসার হুজুররা আহলে হাদীসদের উপর এত খ্যাপা কেন?

: কারণ হলো, তারা 'কোন দেশে যখন দুই পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতি ব্যাপক প্রচলিত হয়ে যায় তখন তাকেই আমল হিসেব গ্রহণ করা দরকার' সালাফ ও পূর্ববর্তী আলেমগণের এই স্বীকৃত নীতি থেকে সরে গেছে। আসলে এটাও মূল কারণ নয়। মূল কারণ হলো, তারা উভয় পদ্ধতিকে সঠিক মনে করে এক পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছে এমনটা না। বরং তারা একটা পদ্ধতি গ্রহণ করে আর অন্য পদ্ধতিকে ভুল মনে করে। ফলে তারা অন্য পদ্ধতিতে আমলকারীদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে। যেমন আপনি মনে করেন আমাদের নামায হয়নি। যেহেতু তারা একটা সুন্নাহকে অস্বীকার করছে, ভুল বলছে, তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি।

আর আপনি খ্যাপা শব্দটা ব্যবহার করেছেন। যে মাসআলায় সালাফ থেকে মতানৈক্য চলে আসছে এমন মাসআলায় অপর পক্ষের ব্যাপারে কখনোই আমরা অশালীন শব্দ ব্যবহারকে ঠিক মনে করি না। কিন্তু আহলে হাদীস ভাইদের জুলুম আর অবিচার দেখে আমাদের কিছু ভাইয়ের মুখ থেকে মাঝে মাঝে কিছু কঠিন শব্দ বের হয়ে যায়।

টিকাঃ
[১] ফাতাওয়া আল নুরিদ দারাব: ২/৯৭, লিকাউল বাবিল মাফতূহ: ২০/৩০
[২] লিকাউল বাবিল মাফতূহ: ২০/৩০

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মাযহাব আর হাদীস কি ভিন্ন

📄 মাযহাব আর হাদীস কি ভিন্ন


বলতেই হয়, আপনি মাযহাব জিনিসটা বুঝেননি। মাযহাব হাদীস থেকে আলাদা কিছু না। হাদীস মানারই উত্তম একটা পথ।

: মানে?

: আমাদের পূর্বসূরী উলামায়ে কেরাম হাদীস সামনে রেখে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই নির্ধারণকৃত 'করণীয় আর বর্জনীয়' এর নামই হলো ফিকহ বা মাযহাব। ফিকহ মানে বুঝ। কিসের বুঝ? কুরআন ও হাদীসের বুঝ। মাযহাব মানে পথ। কিসের পথ? কুরআন ও হাদীসের অনুসরণের পথ। তাই ফিকহ বা মাযহাব কুরআন হাদীসের বাইরের কিছু না। কুরআন ও হাদীস সহজ ও সঠিকভাবে অনুসরণের পথ ও পন্থা মাত্র। সুতরাং মাযহাব অনুসরণ করা যেন কুরআন-হাদীসকেই অনুসরণ করা।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা কেন

📄 মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা কেন


ডাক্তাররা আমাদের যে ঔষধ লিখে দেয় আমরা সেই ঔষধ সেবন করি। ডাক্তারদের কথা অনুসরণ করি। নিজেরা চিকিৎসা শাস্ত্রের বই পড়ে নিজেদের চিকিৎসা করি না। কেন? কারণ আমরা জানি, তারা দীর্ঘ একটা সময় অন্য ডাক্তারদের কাছে পড়ালেখা করে ডাক্তার হয়েছে। তাই তাদের চিকিৎসা সঠিক হবে। আমরা নিজে নিজে পড়ে চিকিৎসা করতে গেলে হিতে বিপরীত হবে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 হানাফী মাযহাব কেন মানি

📄 হানাফী মাযহাব কেন মানি


ইমাম আবু হানিফা রহ. তাবেয়ীন ও তাবে' তাবেয়ীনের কাছে দীর্ঘ সময় লাগিয়ে কুরআন হাদীস শিখেছেন। এরপর কুরআন হাদীস সামনে রেখে মানুষের সহজার্থে করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। একেই বলা হয় হানাফী মাযহাব বা ফিকহে হানাফী। সুতরাং হানাফী মাযহাব কুরআন হাদীসের বাইরের কিছু না। কুরআন হাদীস অনুসরণের সহজ একটা পন্থা। তাই হানাফী মাযহাব অনুসরণ করায় কোনো সমস্যা নেই।

: এমন আলেম কি একমাত্র আবু হানিফাই ছিল? আর কেউ ছিল না? তোমরা শুধু তার অনুসরণ করো কেন?

: ইমাম আবু হানিফা রহ. এর পর প্রতি যুগে লক্ষ লক্ষ আলেম এসেছেন। তারা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কুরআন ও হাদীসের গবেষণালব্ধ মতামতগুলো যাচাই বাছাই করেছেন। তারপর সাক্ষ্য দিয়েছেন, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতামতগুলো কুরআন ও হাদীসের সুন্দর ও সঠিক ব্যাখ্যা হয়েছে। তাই আমরা শুধু ইমাম আবু হানিফা রহ. এর অনুসরণ করি বিষয়টা এমন না। বরং আরো হাজারো লক্ষ আলেমদের গবেষণাকেও অনুসরণ করি। এটা হলো প্রথম কথা।

দ্বিতীয় কথা হলো, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আগে ও পরে অনুসরণ করা যায় এমন অনেক আলেম এসেছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলার কি হেকমত! সকলের গবেষণা ও মতামতগুলো হেফাজত হয়নি।

তৃতীয় কথা হলো, যদিও একাধিক অনুসরণীয় ব্যক্তির মতামত হেফাজত হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে বিশেষভাবে আমরা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর গবেষণা ও ব্যাখ্যা অনুসরণ করি। কারণ, সকল ডাক্তার সমান না। পড়ালেখা, বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতায় একজন আরেকজন থেকে এগিয়ে থাকে। ডাক্তারদের মধ্যে যেমন আমরা সবচেয়ে ভালো ও বিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর গবেষণা ও ব্যাখ্যাকেও ঠিক এই কারণেই আমরা অনুসরণ করি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px