📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 হাদীস অনুসরণ করতে গিয়ে যেভাবে ভুল হয়

📄 হাদীস অনুসরণ করতে গিয়ে যেভাবে ভুল হয়


কখন একটা হাদীস নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয় আর কখন অপ্রমাণিত হয় তা কি আপনি জানেন?

: ...... রাবী দুর্বল হলে।

: আরো অনেক কারণে হাদীস অপ্রমাণিত হয়। কিন্তু এই হাদীসগুলোর রাবী যে দুর্বল তা জানলেন কীভাবে? আপনি নিজে তো আরবী জানেন না। রাবীদের জীবনী নিয়ে লিখিত সকল কিতাব তো আরবী। তাছাড়া আরবী জানলেই তো হবে না। উসূলুল জারহি ওয়াত তা'দীল ও জানতে হবে। আপনি তো এগুলোর কিছুই জানেন না।

: আমি একটা বইয়ে পেয়েছিলাম। সেখানে মনে হয় কয়েকজন হাদীস বিশারদের রেফারেন্স আছে।

: একটা বইয়ে পেয়ে গেলেন আর বিশ্বাস করে নিলেন?! আপনারা কিছু রেফারেন্স পেলেই মনে করেন সব কথা শেষ। রেফারেন্সগুলো ঠিক কি না, আরো কোনো কথা আছে কি না- এগুলো জানার চেষ্টাই করেন না। আপনি যখন ঐ বইটা পড়েছেন তখনই আপনার উচিত ছিল, ভালো কোনো আলেমের শরণাপন্ন হয়ে বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাই করে নেওয়া। আব্দুল মতিন সাহেবের 'দলিলসহ নামাযের মাসায়েল' বইটাও যদি পড়তেন তাহলে দেখতেন আমীন আস্তে বলা আর শুধু নামাযের শুরুতে হাত উঠানোর ব্যাপারে কত দলিল আছে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 এক বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সুন্নাহ থাকলে করণীয়

📄 এক বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সুন্নাহ থাকলে করণীয়


আমীন আস্তে ও জোরে এবং রফয়ে' য়াদাইন করা ও না করা উভয় আমলই হাদীসে এসেছে। এধরনের আমলকে تعدد وتنوع السنة তথা সুন্নাহর বৈচিত্র্য বলে। এক্ষেত্রে উভয় আমলই সঠিক।

: তাহলে এক্ষেত্রে আমীন আস্তে বলা ও রফয়ে' য়াদাইন না করার আমলকে কেন অগ্রাধিকার দিলে?

: কারণ, এই দেশে এই আমলটাই প্রচলিত। আর যে দেশে যে আমল প্রচলিত সে দেশের লোক ঐ আমলটাই করবে। এমনটাই বলে গেছেন পূর্ববর্তী আলেমগণ।

একবার হুমাইদ আত তবীল ওমর বিন আব্দুল আযীয রহ. কে বললেন, যদি আপনি সবাইকে এক মতের উপর নিয়ে আসতেন! এর জবাবে ওমর বিন আব্দুল আযীয রহ. বললেন, তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে না এটা আমার জন্য আনন্দদায়ক নয়। এরপর তিনি সকল অঞ্চলে লিখিত ফরমান জারি করলেন, প্রত্যেক অঞ্চলের জনগণ তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের ফুকাহায়ে কেরামের অনুসরণ করবে। [১]

ইমাম মালেক মুওয়াত্তা লেখার পর খলীফা মানসুর বলেছিল, আপনি চাইলে আমি সবাইকে এই কিতাবের অনুসরণ করতে বাধ্য করব। তখন মালেক রহ. বলেছিলেন, আপনি এমনটি করবেন না। প্রত্যেক দেশের জনগণ কে তাদের নিজ অঞ্চলের ইলম ও সুন্নাহর উপর থাকতে দিন। [২]

ইমাম ইবনে আব্দুল বার এক ভিন্ন প্রসঙ্গে মুওয়াত্তা মালেকের শরাহ আত তামহীদে (১:১০) এই মূলনীতি উল্লেখ করেছেন যে প্রত্যেক অঞ্চলের জনগণের কর্তব্য হল, তারা ঐ অঞ্চলের পূর্বসূরীদের অনুসরণ করবে। ভালো কাজের যেই পন্থা পূর্ববর্তীগণ অবলম্বন করেছিলেন, তারা তাই অনুসরণ করবে যদিও অন্য কোন মুবাহ পন্থা অধিক পছন্দনীয় মনে হয়।

একবার এক তালিবে ইলম হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবু ইয়া'লা রহ. এর কাছে এসে হাম্বলী মাযহাব পড়তে চাইল। তিনি বললেন, তোমাদের এলাকার সকলে শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী আমল করে। তাই তোমার উচিত শাফেয়ী মাযহাব শিখা। অন্যথায় সম্ভাবনা আছে তোমার দ্বারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। [৩]

টিকাঃ
[১] সুনানে দারেমী: ৬২৫, তারীখে আবু যুরআ', ১/২০২
[২] আল জারুহ ওয়াত তা'দীল: ১/২৯, আসারুল হাদীসিশ শরীফ, পৃ: ৪০-৪৫, মাআ'লিমু ইরশাদিয়্যাহ, পৃ: ৩৬৬-৩৭৩
[৩] মুসাওয়াদা আলে ইবনে তাইমিয়া, পৃ: ৫৪১

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 আহলে হাদীসদের খন্ডন কেন করা হয়

📄 আহলে হাদীসদের খন্ডন কেন করা হয়


এমনকি প্রসিদ্ধ সালাফী আলেম সালেহ আল উসাইমিনও বলেছেন, জনসাধারণের মাযহাব হবে সেটা যেটা তাদের উলামায়ে কেরামের মাযহাব। [১] আরেক প্রসিদ্ধ সালাফী আলেম আব্দুর রহমান বিন সা'দী বলেছেন, জনসাধারণের জন্য নিজ দেশের আলেমদের বিপরীতে অন্য দেশের আলেমের অনুসরণ করা উচিত নয়। [২]

: যদি উভয় আমলই সঠিক হয় তাহলে তোমরা মাদরাসার হুজুররা আহলে হাদীসদের উপর এত খ্যাপা কেন?

: কারণ হলো, তারা 'কোন দেশে যখন দুই পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতি ব্যাপক প্রচলিত হয়ে যায় তখন তাকেই আমল হিসেব গ্রহণ করা দরকার' সালাফ ও পূর্ববর্তী আলেমগণের এই স্বীকৃত নীতি থেকে সরে গেছে। আসলে এটাও মূল কারণ নয়। মূল কারণ হলো, তারা উভয় পদ্ধতিকে সঠিক মনে করে এক পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছে এমনটা না। বরং তারা একটা পদ্ধতি গ্রহণ করে আর অন্য পদ্ধতিকে ভুল মনে করে। ফলে তারা অন্য পদ্ধতিতে আমলকারীদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে। যেমন আপনি মনে করেন আমাদের নামায হয়নি। যেহেতু তারা একটা সুন্নাহকে অস্বীকার করছে, ভুল বলছে, তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি।

আর আপনি খ্যাপা শব্দটা ব্যবহার করেছেন। যে মাসআলায় সালাফ থেকে মতানৈক্য চলে আসছে এমন মাসআলায় অপর পক্ষের ব্যাপারে কখনোই আমরা অশালীন শব্দ ব্যবহারকে ঠিক মনে করি না। কিন্তু আহলে হাদীস ভাইদের জুলুম আর অবিচার দেখে আমাদের কিছু ভাইয়ের মুখ থেকে মাঝে মাঝে কিছু কঠিন শব্দ বের হয়ে যায়।

টিকাঃ
[১] ফাতাওয়া আল নুরিদ দারাব: ২/৯৭, লিকাউল বাবিল মাফতূহ: ২০/৩০
[২] লিকাউল বাবিল মাফতূহ: ২০/৩০

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মাযহাব আর হাদীস কি ভিন্ন

📄 মাযহাব আর হাদীস কি ভিন্ন


বলতেই হয়, আপনি মাযহাব জিনিসটা বুঝেননি। মাযহাব হাদীস থেকে আলাদা কিছু না। হাদীস মানারই উত্তম একটা পথ।

: মানে?

: আমাদের পূর্বসূরী উলামায়ে কেরাম হাদীস সামনে রেখে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই নির্ধারণকৃত 'করণীয় আর বর্জনীয়' এর নামই হলো ফিকহ বা মাযহাব। ফিকহ মানে বুঝ। কিসের বুঝ? কুরআন ও হাদীসের বুঝ। মাযহাব মানে পথ। কিসের পথ? কুরআন ও হাদীসের অনুসরণের পথ। তাই ফিকহ বা মাযহাব কুরআন হাদীসের বাইরের কিছু না। কুরআন ও হাদীস সহজ ও সঠিকভাবে অনুসরণের পথ ও পন্থা মাত্র। সুতরাং মাযহাব অনুসরণ করা যেন কুরআন-হাদীসকেই অনুসরণ করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px