📄 مدار الإسناد، الشذوذ، العلة
তো এতক্ষণের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে রাবীর অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়। তো এই ভুল থাকা অবস্থায় তো হাদীস প্রমাণিত হওয়া অর্থাৎ বাস্তবতার অনুরূপ হতে পারে না যদিও তার সনদের রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয়। তাই মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীস সহীহ বা প্রমাণিত হওয়ার জন্য রাবী সত্যবাদী, ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও সনদ মুত্তাসিল হওয়া সত্ত্বেও আরো দুইটি শর্ত দিয়েছেন।
এক. انتفاء الشذوذ বা تفرد টা অগ্রহণযোগ্য না হওয়া।
দুই. انتفاء العلة বা مخالفة এর কারণে রাবীর ভুল না হওয়া।
এই দুই শর্ত যখন পাওয়া যায় তখন নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত হয়ে যাওয়া কোনো ভুল আলোচিত রেওয়ায়াতে হয়নি তা বলা যায়। আর তখন রেওয়ায়াতটা প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। উভয় সূরতে শায়খকে مدار الإسناد বলা হয়।
📄 ইমামদের তাহকীক থাকা সত্ত্বেও আমরা তাহকীক কেন করব
আমাদের কাজ হবে, পূর্বের হাফেজে হাদীস মুহাদ্দিসীনে কেরাম যে রেওয়ায়াতকে প্রমাণিত বলেছেন, সেগুলোকে প্রমাণিত হিসেবে মেনে নেওয়া। যে রেওয়ায়াতকে অপ্রমাণিত বলেছেন, সেগুলোকে অপ্রমাণিত হিসেবে মেনে নেওয়া। যদিও আমার গবেষণায় ভিন্ন মনে হয়।
আমরা তাহকীক করব তাদের কথাগুলো খুঁজে বের করার জন্য এবং তা দলিলসহ বুঝে ইতমিনান হওয়ার জন্য। যেই রেওয়ায়াতের ব্যাপারে তাদের মতানৈক্য দেখব সেখানে সঠিক কোনটা তা নির্ধারণ করতে বা কোনো এক পক্ষের কথাকে দলিলসহ অনুসরণ করতেও আমরা তাহকীক করব। এছাড়াও যেই রেওয়ায়াতের ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য আমরা খুঁজে পাব না, সেই রেওয়ায়াত প্রমাণিত না কি অপ্রমাণিত তা জানতে আমরা তাদের বাতানো পথ ও নীতি অনুসরণ করে তাহকীক করব।
📄 রাবীদের অনিচ্ছাকৃত ভুল চিহ্নিত করে যে সকল কিতাব রচিত হয়েছে
অগ্রহণযোগ্য تفرد বা مخالفة এর কারণে রাবীদের ভুলগুলো চিহ্নিত করার জন্য মুহাদ্দিসীনে কেরাম অনেক কিতাব লিখেছেন। যেমন:
- الأفراد لأبي داود (٢٧٥)
- الأفراد والغرائب للدارقطني
- غرائب مالك للدارقطني (٣٨٥)
- غرائب شعبة لابن المظفر (٣٧٩)
- المعجم الأوسط للطبراني (٣٦٠)
- حلية الأولياء لأبي نعيم الأصبهاني (٤٣٠)
مخالفة এর কারণে রাবীদের ভুল নিয়ে লিখিত কিতাব:
- العلل لابن المديني (٢٣٤)
- كتاب العلل للفلاس (٢٤٩)
- التمييز للإمام مسلم (٢٦١)
- العلل الكبير للترمذي (٢٧٩)
- علل ابن أبي حاتم (٣٢٧)
- علل الدارقطني (٣٨٥)
- المنتخب من علل الخلال لابن قدامة المقدسي (٦٢٠)