📄 মুতাবাআতের শর্ত ও ফায়দা
৪. যদি রাবীর متابعة থাকে তাহলে তো মাসআলা অনেক সহজ। তখন রাবীর শায়খ যে বাস্তবেই রেওয়ায়াতটি করেছেন তা আরো শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত হয়। রাবীর ভুল না হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকি متابعة এর সংখ্যা বেশি হলে রাবীর ভুল না হওয়ার ব্যাপারে ইয়াকিন তৈরি হয়ে যায়।
তবে متابعة এর সনদ متابع পর্যন্ত সহীহ হতে হবে, متابعة কোনো রাবীর وهم থেকে সৃষ্ট না হতে হবে এবং متابع নিজে সত্যবাদী হওয়া প্রমাণিত হতে হবে। যদি মুতাবি' সত্যবাদী হয়, কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয় তাহলেও কি তা শক্তি যোগাবে? হ্যাঁ। কারণ এখানে যেহেতু একজন ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী তার মতই রেওয়ায়াত করেছে, তাই ধরে নেওয়া হবে সে এই রেওয়ায়াতটা যথাযথ মুখস্থ রাখতে পেরেছে। আর মুতাবি' যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তা অপর রেওয়ায়াতকে শক্তিশালী করবে না। কারণ এখানে সম্ভাবনা আছে মিথ্যাবাদী متابع ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী রাবীকে এই রেওয়ায়াত করতে দেখে নিজেও এই রেওয়ায়াত শোনার মিথ্যা দাবী করে বসেছে, যাকে আমরা سرقة الحديث বলি।
📄 মুখালাফাতের বিভিন্ন সুরুত ও হুকুম، تعارض الوصل والإرسال، تعارض الرفع والوقف، مقلوب، المزيد في الأسانيد المدرج، زيادة الثقات، المضطرب
৫. যদি مخالفة হয় তাহলে কী করণীয় তা বলার আগে مخالفة এর কিছু সূরত বলা যাক:
ক. শায়খ থেকে একজন রেওয়ায়াত করল مرسلاً আরেকজন রেওয়ায়াত করল متصلاً। একে تعارض الوصل والإرسال বলে।
খ. একজন রেওয়ায়াত করল موقوفاً আরেকজন রেওয়ায়াত করল مرفوعاً। একে تعارض الرفع والوقف বলে।
গ. একজন রেওয়ায়াত করে শায়খের উপরের কারো নাম বলল مالك بن أنس। আরেকজন ঐ রাবীর নাম বলল أنس بن مالك। অথবা একজন শায়খ থেকে রেওয়ায়াত করল حدثنا معمر عن الزهري, আরেকজন শায়খ থেকে রেওয়ায়াত করল حدثنا الزهري عن معمر। এই সূরতগুলোকে مقلوب বলে।
ঘ. সনদের মাঝখানে আরেকজনকে বাড়িয়ে দেওয়া। যেমন একজন শায়খ থেকে রেওয়ায়াত করল حدثنا معمر عن الزهري। আরেকজন রেওয়ায়াত করল حدثنا ابن عيينة عن الزهري। এই সূরতকে المزيد في الأسانيد বলে।
ঙ. একজন ثقة রাবী শায়খ থেকে একটা রেওয়ায়াত করল। আরেকজন ঐ রেওয়ায়াতটাই করল কিন্তু দ্বিতীয় জনের রেওয়ায়াতে এমন কিছু কথা পাওয়া গেল যেটা প্রথম জনের রেওয়ায়াতে ছিল না। একে زيادة الثقات বলে।
চ. রেওয়ায়াতের কোনো একটা অংশকে শায়খ বা উপরের কোনো রাবীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা। একে مدرج বলে।
এই সকল সূরতে সূরতে ফলাফল তিনটির একটি হবে:
১. যে কোনো একটা ঠিক হবে আরেকটা ভুল হবে: যদি এক রাবীকে আরেক রাবীর উপর প্রাধান্য দেওয়া যায় (সংখ্যা, স্মৃতিশক্তি বা শায়খের সাথে গভীর সম্পর্কের ভিত্তিতে)। ঠিক সূরতটিকে محفوظ، صحيح বলা হয় এবং ভুলটিকে শায বা মুনকার বলা হয়।
২. উভয়টা ঠিক হবে: যদি প্রাধান্য দেওয়া না যায় এবং শায়খের জন্য দুইভাবে রেওয়ায়াত শোনা সম্ভব হয়।
৩. উভয়টা ভুল হবে: যখন প্রাধান্য দেওয়া যায় না এবং দুইভাবে রেওয়ায়াত করা সম্ভবও নয়। একে اضطراب বলে।
📄 مدار الإسناد، الشذوذ، العلة
তো এতক্ষণের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে রাবীর অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়। তো এই ভুল থাকা অবস্থায় তো হাদীস প্রমাণিত হওয়া অর্থাৎ বাস্তবতার অনুরূপ হতে পারে না যদিও তার সনদের রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয়। তাই মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীস সহীহ বা প্রমাণিত হওয়ার জন্য রাবী সত্যবাদী, ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও সনদ মুত্তাসিল হওয়া সত্ত্বেও আরো দুইটি শর্ত দিয়েছেন।
এক. انتفاء الشذوذ বা تفرد টা অগ্রহণযোগ্য না হওয়া।
দুই. انتفاء العلة বা مخالفة এর কারণে রাবীর ভুল না হওয়া।
এই দুই শর্ত যখন পাওয়া যায় তখন নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত হয়ে যাওয়া কোনো ভুল আলোচিত রেওয়ায়াতে হয়নি তা বলা যায়। আর তখন রেওয়ায়াতটা প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। উভয় সূরতে শায়খকে مدار الإسناد বলা হয়।
📄 ইমামদের তাহকীক থাকা সত্ত্বেও আমরা তাহকীক কেন করব
আমাদের কাজ হবে, পূর্বের হাফেজে হাদীস মুহাদ্দিসীনে কেরাম যে রেওয়ায়াতকে প্রমাণিত বলেছেন, সেগুলোকে প্রমাণিত হিসেবে মেনে নেওয়া। যে রেওয়ায়াতকে অপ্রমাণিত বলেছেন, সেগুলোকে অপ্রমাণিত হিসেবে মেনে নেওয়া। যদিও আমার গবেষণায় ভিন্ন মনে হয়।
আমরা তাহকীক করব তাদের কথাগুলো খুঁজে বের করার জন্য এবং তা দলিলসহ বুঝে ইতমিনান হওয়ার জন্য। যেই রেওয়ায়াতের ব্যাপারে তাদের মতানৈক্য দেখব সেখানে সঠিক কোনটা তা নির্ধারণ করতে বা কোনো এক পক্ষের কথাকে দলিলসহ অনুসরণ করতেও আমরা তাহকীক করব। এছাড়াও যেই রেওয়ায়াতের ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য আমরা খুঁজে পাব না, সেই রেওয়ায়াত প্রমাণিত না কি অপ্রমাণিত তা জানতে আমরা তাদের বাতানো পথ ও নীতি অনুসরণ করে তাহকীক করব।