📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 الجرح المعلول التعديل المعلول

📄 الجرح المعلول التعديل المعلول


কিছু জরাহ ও তা'দীল আছে যা গণনাতেই ধরা হয় না। এদেরকে الجرح المعلول والتعديل المعلول বলে। যথা:

ক. জরাহ ও তা'দীলটা যদি তার বক্তা থেকে প্রমাণিত না হয়।
খ. রাবীর এমন কোনো ঘটনা বা বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে রাবীকে জরাহ করা হয়েছে, যেই ঘটনা বা বক্তব্য রাবী থেকে প্রমাণিত না। অথবা রেওয়ায়াতের এমন ভুলের উপর ভিত্তি করে জরাহ করা হয়েছে, যেই ভুলটা রাবী থেকে না, বরং তার শায়খ বা ছাত্র থেকে প্রকাশ পেয়েছে।
গ. রাবীর বাস্তব অবস্থা সামনে রেখে জরাহ ও তা'দীল করা হয়নি। বরং জরাহটা হয়েছে রাবীর সাথে বক্তার ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এবং তা'দীলটা হয়েছে ব্যক্তিগত মুহাব্বত থেকে।
ঘ. এমন দোষ ও গুণ যা রাবীর সত্যবাদিতা ও স্মৃতিশক্তির সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন, রাবীর কিয়াস করার ভালো যোগ্যতা রাখে অথবা রাবী রাজদরবারে আসা যাওয়া করে।

তোমরা শুনে আশ্চর্য হবে, ইমাম আবু হানীফা রহ. এর ব্যাপারে অনেক জরাহ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তার ৯৫% জরাহ হলো معلول বা এমন পর্যায়ের, যা গণনায় ধরা হয় না।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 الجرح المفسر

📄 الجرح المفسر


আমরা পিছনে যেই ألفاظ الجرح বলে এসেছি সেগুলোতে খেয়াল করলে দেখবে, কিছু শব্দ আছে যাতে জরাহের কারণটা শব্দ থেকেই সুস্পষ্ট। অর্থাৎ শব্দের মধ্যেই রাবীর সত্যবাদী হওয়া বা ভালো স্মৃতিশক্তির হওয়াকে সুস্পষ্ট নাকচ করা হয়েছে। যেমন:
دجال، كذاب، وضاع، يضع الحديث، متهم بالكذب، يكذب، يسرق الحديث، يدخل على الشيوخ ، منكر الحديث، يروي المناكير ، يأتي بالمعضلات، يهم ، يخطئ ، مضطرب الحديث، سيء الحفظ ، له أوهام، له مناكير، يعرف وينكر، ليس بالحافظ.
এই ধরনের জরাহগুলোকে الجرح المفسر বলে।

আর কিছু শব্দ আছে যার মধ্যে জরাহের দিকটা স্পষ্ট করা হয়নি। অর্থাৎ সমস্যাটা কি মিথ্যাবাদী হওয়া, না দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া তা শব্দ থেকে বুঝে আসে না। যেমন:
متفق على تركه، تركوه، متروك، مطروح، طرحوه، مردود، ليس بثقة، ذاهب الحديث، هالك، ساقط، واه بمرة، ليس بشيء، لا شيء، ضعيف جدا لا يعتبر به، لا يساوي شيئا، لا يكتب حديثه، لا تحل الرواية عنه ارم به قام بين يدي عدل، سکتوا عنه، ضعفوه، طعنوا فيه، ليس يحمدونه، واه، ضعيف، ليس بحجة، لين، لا يحتج به، ليس بالمرضي يضعف، فيه ضعف، فيه لين، فيه شيء، وقد ضعف، ليس بالقوي، ليس بذاك القوي، ليس بالمتين، ليس بعمدة، تكلم فيه، اختلف فيه، فلان فيه مقال، غيره أوثق منه، فيه نظر

এই ধরনের জরাহকে الجرح المبهم বলে।
কেউ কেউ মনে করেন, الجرح المفسر হলো রাবীকে কেন মিথ্যাবাদী বলা হলো, বা কেন দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলা হলো তা কারণসহ উল্লেখ থাকা। অথচ এটা হলো الجرح المدلل। الجرح মفسর হওয়ার জন্য الجرح المدلل হওয়া জরুরী না। হ্যাঁ, প্রত্যেক الجرح المدلل টি الجرح মفسর।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 الجرح والتعديل المنصوص عليهما أو المتلقى بهما

📄 الجرح والتعديل المنصوص عليهما أو المتلقى بهما


কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের তা'দীল মানসূস আলাইহি অর্থাৎ কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন যাদের ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হওয়া প্রমাণিত তাদের তা'দীল মানসূস আলাইহি। এমনিভাবে কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের তা'দীল উম্মাতের তালাক্বী তথা স্বতঃস্ফূর্ত ও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত। যেমন হাসান বসরী রহ., ইবনে সীরীন রহ., শা'বী রহ., ইবরাহীম নাখায়ী রহ, যুহরী রহ, চার মাযহাবের ইমামগণ, অধিকাংশ আইম্মাতুল জারহি ওয়াত তা'দীল।

এই উভয় প্রকারের কোনো কোনো রাবীর ব্যাপারে কিছু জরাহ বর্ণিত হয়েছে। অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, তাদের ব্যাপারে যে জরাহ বর্ণিত হয়েছে তার সবগুলো الجرح المعلول এর অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ এই নয় যে তারা মা'সূম ছিলেন। ছোটখাটো কিছু ভুল তাদের হয়েছে। কিন্তু সেই কারণে তাদের আদালত নষ্ট হয়ে যায়নি। তাদের আদালত নষ্ট হয়ে গেলে তাদের আদালত منصوص عليه বা متلقى بالقبول হতো না।

এর বিপরীতে জরাহটা যদি متلقى بالقبول বা منصوص عليه হয়, তাহলে এর বিপরীতে তা'দীলটা নিশ্চিত التعديل المعلول হবে। আর না হয় এমন কিছু গুণ হবে, যা রাবীর মিথ্যাবাদী বা দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক হবে না।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 এক ইমামের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য

📄 এক ইমামের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য


অনেক সময় এক রাবীর ব্যাপারে এক ইমাম থেকেই পরস্পর এক ইমামের বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায়। তখন করণীয় হলো:

ক. বক্তব্যগুলোর সনদ তাহকীক করা।
খ. যদি উভয় বক্তব্য প্রমাণিত হয় তাহলে দেখতে হবে, সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব কি না? যেমন, তা'দীলটাও নিম্নস্তরের আবার জরাহটাও নিম্নস্তরের। ফলে নিম্নস্তরের তা'দীলের কারণেই তাকে কিছুটা জরাহ করা হয়েছে। বা এভাবে বলা যায়, তার মধ্যে নিম্নস্তরের জরাহ আছে। এর অর্থই হলো তাকে তা'দীল করার সুযোগ আছে। সামঞ্জস্য করার আরেকটা সূরত হলো, জরাহটাকে বিশেষ কোনো অবস্থার সাথে খাস করে দেওয়া। যেমন, সে ثقة কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট শায়েখ থেকে রেওয়ায়াতের ক্ষেত্রে সে ضعيف।
গ. যদি এটাও সম্ভব না হয় আর জানা যায়, দুই বক্তব্যের মধ্যে একটা আগের, আরেকটা পরের তাহলে পরের বক্তব্যকে গ্রহণ করা হবে।
ঘ. যদি কোনটা আগের আর কোনটা পরের তা জানা না যায়, তাহলে অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য ও রাবীর হাদীসের সাথে তাদের আচরণ অনুযায়ী একটাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px