📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মাজহুল রাবীর হুকুম

📄 মাজহুল রাবীর হুকুম


আমরা জানি, রাবীর রেওয়ায়াত কবুল হওয়ার জন্য রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হতে হয়। এজন্য যে রাবীকে ইমামগণ مجهুল (যার সত্যবাদিতা ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া কোনোটাই জানা নেই) বলেছেন, তার রেওয়ায়াতের স্বাভাবিক হুকুম হলো তা অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু যে রাবীর জীবনীই পাওয়া যায় না বা জীবনী পাওয়া গেলেও তার ব্যাপারে ইমামগণের সুস্পষ্ট تجهيل ও পাওয়া যায় না আবার কোনো জরাহ বা তা'দীলও পাওয়া যায় না তার ক্ষেত্রে কী করণীয়?

তার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো, তার ব্যাপারে কোনো التوثيق الضمني বা التضعيف الضمني আছে কি না, তার থেকে কয়জন রেওয়ায়াত করেছে, কারা কারা রেওয়ায়াত করেছে, তাদের মাঝে উস্তাদ নির্বাচনের ব্যাপারে বাছবিচার করার গুণ ছিল কি না, তিনি কোন যমানার ছিলেন- এসব কিছু বিবেচনা করে তার রেওয়ায়াতের হুকুম দেওয়া হবে।

এমনকি যেই রাবীর ব্যাপারে শুধু এক বা একাধিক ইমামের تجهيل বর্ণিত হয়েছে, কিন্ত কোনো ইমাম থেকে তা'দীল বর্ণিত হয়নি, তার রেওয়াতের ক্ষেত্রেও এমনটাই করা হবে। অর্থাৎ যদি তার ছাত্রদের সংখ্যা বেশি হয়, বা ছাত্রদের মধ্যে উস্তাদ নির্বাচনের ব্যাপারে বাছবিচার করার গুণ থাকে, বা রাবী যদি তাবেয়ীদের সময়কার হয়, যখন রাবীদের মধ্যে সমস্যা কম ছিল তাহলে তার রেওয়ায়াত তুলনামূলক ভালো হবে, ঐ مجهুল এর তুলনায় যার মধ্যে এই গুণগুলো পাওয়া যায় না।

আর যেই রাবীর ব্যাপারে কোনো ইমাম থেকে تجهيل বর্ণিত হয়েছে, সাথে অন্য ইমাম থেকে تعديل ও বর্ণিত হয়েছে তার ক্ষেত্রে تعديل প্রাধান্য পাবে। তবে যদি বোঝা যায়, যিনি تعديل করেছেন তার কাছে রাবীর বিষয়ে ততটুকু ইলমই আছে যা جهالة-এর হুকুমদাতা ইমামের কাছে আছে (যেমন ইবনে হিব্বান রহ. এর কিছু توثيق), তখন দেখতে হবে ততটুকু ইলমের কারণে রাবীকে সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলা যায় কি না? যদি বলা যায় তাহলে تعديل এর উপর আমল করা হবে। আর যদি না বলা যায় তাহলে تجهيل এর উপর আমল করা হবে।

আর যেই রাবীর ব্যাপারে কোনো ইমাম থেকে تجهيل বর্ণিত হয়েছে, সাথে অন্য ইমাম থেকে জরাহ বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাপারে দেখতে হবে, যিনি জরাহ করেছেন তার কাছে রাবীর ব্যাপারে অতিরিক্ত কোনো ইলম আছে কি না? যদি থাকে তাহলে জরাহের উপর আমল করা হবে। আর যদি অতিরিক্ত কোনো ইলম না থাকে বরং বোঝা যায়, জরাহ করেছেন এই জন্যই যে সে মাজহুল তাহলে تجهيل এর উপর আমল করা হবে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মুবহাম রাবীর হুকুম

📄 মুবহাম রাবীর হুকুম


এর কাছাকাছি আরেকটি বিষয় হলো, অনেক সময় সনদে حدثنا فلانا حدثنا من سمع ، حدثنا بعض الناس, حدثنا رجل, ইত্যাদি শব্দে রাবী অস্পষ্ট থাকে। একে পরিভাষায় مبهم বলে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো, মুবহাম রাবীটি কে তা বের করার চেষ্টা করা। হাদীসের সকল সনদ একত্র করলে অনেক সময় মুবহাম রাবীটি চিহ্নিত হয়ে যায়। পূর্ববর্তী ইমামগণ শুরুহাত, তাখরীজ, আতরাফের কিতাবে ও রিজালের কিতাবের শেষের দিকে বিভিন্ন সনদের মুবহাম রাবীর পরিচয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পরিচয় পাওয়ার পর তার জীবনী দেখে তার সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু পরিচয় পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার হুকুম ঐ রাবীর হুকুমের ন্যায়, যার জীবনী পাওয়া যায়নি বা জীবনী পাওয়া গেলেও তার ব্যাপারে ইমামগণের সুস্পষ্ট تجهيل ও পাওয়া যায়নি আবার জরাহ বা তা'দীলও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তার তবাকা ও ছাত্রের উস্তাদ নির্বাচনের বাছবিচারের গুণ দেখে যদি মনে হয় তার অবস্থা ভালো, তাহলে তার রেওয়ায়াতকে কবুল করা হবে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মুবহাম তা’দীলের হুকুম

📄 মুবহাম তা’দীলের হুকুম


আরেকটি পরিভাষা আছে التعديل المبهم বা التعديل على الإبهام নামে। এর মানে হলো রাবী তার শায়খের নাম না নিয়ে বলবে, حدثنا من لا أتهم، حدثنا من أثق به ، الثقة ، رجل من خيار المسلمين, حدثني رضي, حدثني أحد الصالحين ইত্যাদি।

এর হুকুম হলো, যদি মুবহাম শায়খের পরিচয় জানা যায় তাহলে তার জীবনী দেখতে হবে। আর পরিচয় জানা না গেলে ছাত্র যদি আইম্মাতুল জারহী ওয়াত তা'দীলের অন্তর্ভুক্ত হন তাহলে ছাত্র তাকে যে শব্দে তা'দীল করেছে সে শব্দ অনুযায়ী তার অবস্থা গণ্য করা হবে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 মুখতালিত রাবীর হুকুম

📄 মুখতালিত রাবীর হুকুম


কিছু রাবী আছে যাদের ব্যাপারে বর্ণিত আছে, জীবনের শেষ সময়ে বা কোনো দুর্ঘটনায় তাদের স্মৃতিশক্তি একেবারে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। এমন রাবীদেরকে مختلط বলে। এদের ক্ষেত্রে করণীয় হলো,

ক. তার اختلاط প্রমাণিত কি না তা আগে যাচাই করা। অনেক সময় এমন কোনো ঘটনা দিয়ে اختلاط এর দাবি করা হয় যে ঘটনা আদৌ ঘটেনি। বা ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেলেও সে ঘটনা থেকে রাবীর اختلاط হওয়ার ব্যাপারটা সুনিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। এমনকি শেষ জীবনে স্মৃতিশক্তি সামান্য দুর্বল হয়ে যাওয়াতেও কিছু কিছু রাবীকে مختلط বলে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের হুকুম স্বাভাবিক রাবীদের মতই। এমনিভাবে কোনো কোনো রাবীর ব্যাপারে কোনো ইমাম বলেছেন خلط ، كان يخلط ، كان ذا تخليط আর পরবর্তী কেউ এটাকে ধরে নিয়েছে اختلاط। অথচ তার অর্থ হলো وهم، كان ذا وهم، كان يهم।

খ. যদি اختلاط প্রমাণিত হয় তাহলে দেখতে হবে, اختلاط শুরু হয়েছে কখন থেকে এবং اختلاط এর সময়টার পরিব্যাপ্তি কেমন? اختلاط খুব অল্প সময় হলে তার হুকুমও স্বাভাবিক রাবীদের মতই হবে।

গ. যদি اختلاط দীর্ঘ সময়ব্যাপী হয় তাহলে দেখতে হবে, اختلاط অবস্থায় কোনো রেওয়ায়াত করেছে কি না? যদি না করে থাকে তাহলে তার হুকুমও স্বাভাবিক রাবীদের মতই হবে।

ঘ. যদি اختلاط দীর্ঘ সময়ব্যাপী হয় এবং اختلاط অবস্থায় রেওয়ায়াত করে থাকে তাহলে দেখতে হবে, তার থেকে কে শুধু اختلاط এর আগে রেওয়ায়াত করেছে, কে শুধু اختلاط এর পরে রেওয়ায়াত করেছে, কে উভয় অবস্থায় রেওয়ায়াত করেছে আর কে কে এমন, যাদের ব্যাপারে জানা যায় না তার থেকে কখন রেওয়ায়াত করেছে।

যারা শুধু اختلاط এর আগে রেওয়ায়াত করেছে তাদের রেওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য হবে। যারা শুধু اختلاط এর পরে রেওয়ায়াত করেছে তাদের রেওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য হবে না।
যারা উভয় অবস্থায় রেওয়ায়াত করেছে তাদের ব্যাপারে যদি জানা যায় কোন অবস্থায় বেশি শুনেছে তাহলে সেই অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর যদি কোন অবস্থায় বেশি শুনেছে তা জানা না যায়, তাহলে তার রেওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে নির্দিষ্ট কোনো রেওয়ায়াত اختلاط এর আগে শুনার দলিল পাওয়া গেলে ভিন্ন কথা।

যাদের ব্যাপারে জানা যায় না, তারা مختلط থেকে কখন রেওয়ায়াত করেছে, তাদের বিষয়ে লক্ষণীয় হলো, তার থেকে তার ছাত্রদের মধ্যে কার কার রেওয়ায়াতকে ইমামগণ কবুল করেছেন। যাদের বর্ণনা ইমামগণ কবুল করেন তাদের ব্যাপারে বুঝে নিতে হবে যে, তারা তার থেকে اختلاط এর আগেই শুনেছে। ছাত্রদের কারো ব্যাপারে যদি কোনো ইমাম বলে থাকেন, এই مختلط থেকে তার রেওয়ায়াতের মধ্যে ভুল আছে তাহলে বুঝতে হবে সে مختلط থেকে তার اختلاط এর পরে শুনেছে। আর এমন কিছু না পাওয়া গেলে তাদের রেওয়ায়াতকে গ্রহণ করা হবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px