📄 التضعيف الضمني
التضعيف الضمني হাদীসকে কোনো ইমাম অপ্রমাণিত বলল আর ঐ হাদীসের সনদে সকলেই ভালো একজন ছাড়া এবং নিশ্চিতভাবে তাতে অন্য কোনো সমস্যা নেই এই রাবী ছাড়া তাহলে বুঝতে হবে ঐ রাবী ঐ ইমামের নিকট দুর্বল। এজন্যই তিনি হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
অত্যন্ত জরুরত থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ইমাম কোনো হাদীস দিয়ে দলিল না দেন এবং দলিল না দেওয়ার একমাত্র কারণ হলো ঐ হাদীসের সনদে একজন রাবীর উপস্থিতি তাহলে বুঝতে হবে ঐ রাবী ঐ ইমামের নিকট দুর্বল। এই জন্য তিনি এই রাবীর হাদীস দিয়ে দলিল দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এটাও التضعيف الضمني এর একটি সূরত।
📄 রাবীর উপর বিদআতের প্রভাব
এবার অন্য একটা বিষয় নিয়ে কথা বলি। অনেক রাবী আছে যারা কোনো বিদআতের সাথে যুক্ত ছিল। তাদের ব্যাপারে ইমামগণ সতর্ক করেছেন, যেন তাদের থেকে রেওয়ায়াত কম করা হয়। কারণ তাদের রেওয়ায়াত কম হলে তাদের আলোচনাও কম হবে। আর তাদের আলোচনা কম হলে তাদের বিদআতটিও প্রচার প্রসারে বাধাপ্রাপ্ত হবে।
তারা বিদআতের সাথে যুক্ত রাবীদের ব্যাপারে বলেছেন مرجئ، رمي بالإرجاء، قدري، رمي بالقدر، ناصبي، رمي بالنصب، شيعي، رمي بالتشيع، رافضي ، رمي بالرفض، جهمي ইত্যাদি।
তোমরা জেনে এসেছ, রাবীদের বিষয়ে মূল জানার বিষয় হলো, সে সত্যবাদী না মিথ্যাবাদী, সে ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী না দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী। এখন প্রশ্ন হলো, কোনো রাবীর বিদআতের সাথে যুক্ত হওয়ার দ্বারা তার সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী হওয়া এবং ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া বা দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না? এর জবাব হলো, কখনো প্রভাব ফেলবে, কখনো ফেলবে না।
এখানে প্রথমে দেখতে হবে তার ব্যাপারে বিদআতের সাথে যুক্ত থাকার যে কথা বলা হয়েছে তা আসলেই প্রমাণিত কি না? কারণ কয়েকজন রাবী এমন পাওয়া গেছে, যাদের ব্যাপারে কোনো বিদআতের সাথে যুক্ত থাকার দাবি করা হয়েছে। অথচ যথাযথ অনুসন্ধানের পর প্রমাণিত হয়েছে, তিনি ঐ বিদআত থেকে পাক সাফ ছিলেন। যেমন ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ব্যাপারে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, তিনি কুরআন মাখলুক হওয়ার পক্ষে। কিন্তু অন্যরা মজবুত দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি কুরআন মাখলুক হওয়ার পক্ষে ছিলেন না। তিনি আহলুস সুন্নাহর অন্যদের মতই কুরআন গায়রে মাখলুক হওয়ার আকিদা পোষণ করতেন।
দ্বিতীয়ত দেখতে হবে, যেই বিদআতের সাথে তার যুক্ত থাকা প্রমাণিত হয়েছে তা কেমন বিদআত? যদি তা এমন হয় যার সাথে জড়িত ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় তাহলে তাকে অমুসলিম হিসেবে দ্বীনী বিষয়ে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য করা হবে। আর যদি এমন বিদআতের সাথে যুক্ত না হয় তাহলে তৃতীয়ত যা দেখতে হবে তা হলো, বিদআতের সাথে তার যুক্ত থাকার পরিমাণটা কেমন? সে যদি এ পরিমাণ যুক্ত থাকে যে, তার বিদআত প্রমাণে ও সমর্থনে সে মিথ্যা বলতে কুণ্ঠাবোধ করে না তাহলে তাকে মিথ্যাবাদীর কাতারে শামিল করা হবে। আর যদি তার তাকওয়া ও দ্বীনদারীতা এত মজবুত হয় যে সে কখনো মিথ্যা বলবে না। কিন্তু বিদআতের সাথে যুক্ত থাকার কারণে তার হাদীস মুখস্থ রাখার মেহনত যদি বাধা প্রাপ্ত হয়, অথবা রেওয়ায়াত বিল মা'নার ক্ষেত্রে তার মনে হাদীসের এমন অর্থই আসে, যা তার বিদআতকে সমর্থন করে, তখন তাকে মিথ্যাবাদী না ধরা হলেও দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।
📄 মাজহুল রাবীর হুকুম
আমরা জানি, রাবীর রেওয়ায়াত কবুল হওয়ার জন্য রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হতে হয়। এজন্য যে রাবীকে ইমামগণ مجهুল (যার সত্যবাদিতা ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া কোনোটাই জানা নেই) বলেছেন, তার রেওয়ায়াতের স্বাভাবিক হুকুম হলো তা অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু যে রাবীর জীবনীই পাওয়া যায় না বা জীবনী পাওয়া গেলেও তার ব্যাপারে ইমামগণের সুস্পষ্ট تجهيل ও পাওয়া যায় না আবার কোনো জরাহ বা তা'দীলও পাওয়া যায় না তার ক্ষেত্রে কী করণীয়?
তার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো, তার ব্যাপারে কোনো التوثيق الضمني বা التضعيف الضمني আছে কি না, তার থেকে কয়জন রেওয়ায়াত করেছে, কারা কারা রেওয়ায়াত করেছে, তাদের মাঝে উস্তাদ নির্বাচনের ব্যাপারে বাছবিচার করার গুণ ছিল কি না, তিনি কোন যমানার ছিলেন- এসব কিছু বিবেচনা করে তার রেওয়ায়াতের হুকুম দেওয়া হবে।
এমনকি যেই রাবীর ব্যাপারে শুধু এক বা একাধিক ইমামের تجهيل বর্ণিত হয়েছে, কিন্ত কোনো ইমাম থেকে তা'দীল বর্ণিত হয়নি, তার রেওয়াতের ক্ষেত্রেও এমনটাই করা হবে। অর্থাৎ যদি তার ছাত্রদের সংখ্যা বেশি হয়, বা ছাত্রদের মধ্যে উস্তাদ নির্বাচনের ব্যাপারে বাছবিচার করার গুণ থাকে, বা রাবী যদি তাবেয়ীদের সময়কার হয়, যখন রাবীদের মধ্যে সমস্যা কম ছিল তাহলে তার রেওয়ায়াত তুলনামূলক ভালো হবে, ঐ مجهুল এর তুলনায় যার মধ্যে এই গুণগুলো পাওয়া যায় না।
আর যেই রাবীর ব্যাপারে কোনো ইমাম থেকে تجهيل বর্ণিত হয়েছে, সাথে অন্য ইমাম থেকে تعديل ও বর্ণিত হয়েছে তার ক্ষেত্রে تعديل প্রাধান্য পাবে। তবে যদি বোঝা যায়, যিনি تعديل করেছেন তার কাছে রাবীর বিষয়ে ততটুকু ইলমই আছে যা جهالة-এর হুকুমদাতা ইমামের কাছে আছে (যেমন ইবনে হিব্বান রহ. এর কিছু توثيق), তখন দেখতে হবে ততটুকু ইলমের কারণে রাবীকে সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলা যায় কি না? যদি বলা যায় তাহলে تعديل এর উপর আমল করা হবে। আর যদি না বলা যায় তাহলে تجهيل এর উপর আমল করা হবে।
আর যেই রাবীর ব্যাপারে কোনো ইমাম থেকে تجهيل বর্ণিত হয়েছে, সাথে অন্য ইমাম থেকে জরাহ বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাপারে দেখতে হবে, যিনি জরাহ করেছেন তার কাছে রাবীর ব্যাপারে অতিরিক্ত কোনো ইলম আছে কি না? যদি থাকে তাহলে জরাহের উপর আমল করা হবে। আর যদি অতিরিক্ত কোনো ইলম না থাকে বরং বোঝা যায়, জরাহ করেছেন এই জন্যই যে সে মাজহুল তাহলে تجهيل এর উপর আমল করা হবে।
📄 মুবহাম রাবীর হুকুম
এর কাছাকাছি আরেকটি বিষয় হলো, অনেক সময় সনদে حدثنا فلانا حدثنا من سمع ، حدثنا بعض الناس, حدثنا رجل, ইত্যাদি শব্দে রাবী অস্পষ্ট থাকে। একে পরিভাষায় مبهم বলে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো, মুবহাম রাবীটি কে তা বের করার চেষ্টা করা। হাদীসের সকল সনদ একত্র করলে অনেক সময় মুবহাম রাবীটি চিহ্নিত হয়ে যায়। পূর্ববর্তী ইমামগণ শুরুহাত, তাখরীজ, আতরাফের কিতাবে ও রিজালের কিতাবের শেষের দিকে বিভিন্ন সনদের মুবহাম রাবীর পরিচয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পরিচয় পাওয়ার পর তার জীবনী দেখে তার সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু পরিচয় পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার হুকুম ঐ রাবীর হুকুমের ন্যায়, যার জীবনী পাওয়া যায়নি বা জীবনী পাওয়া গেলেও তার ব্যাপারে ইমামগণের সুস্পষ্ট تجهيل ও পাওয়া যায়নি আবার জরাহ বা তা'দীলও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তার তবাকা ও ছাত্রের উস্তাদ নির্বাচনের বাছবিচারের গুণ দেখে যদি মনে হয় তার অবস্থা ভালো, তাহলে তার রেওয়ায়াতকে কবুল করা হবে।