📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 কিছু কিতাব আদ্যোপান্ত পড়া

📄 কিছু কিতাব আদ্যোপান্ত পড়া


হুজুর তো বলেন, 'যে শাস্ত্রে তুমি কিছু হতে চাও সে শাস্ত্রের যে কিতাবগুলো অন্যদের কাছে শুধু মুরাজাআতের তা তোমার কাছে হতে হবে আদ্যোপান্ত পড়ার। পনেরো বিশ বছরের একটা প্রকল্প নিতে হবে যেন, শাস্ত্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কিতাব তোমার আদ্যোপান্ত পড়া বাকি না থাকে।'

এই বয়সেও হুজুর কী পরিমাণ পড়েন তা ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। অথচ, কত কিছু এখনো পড়া হয়নি বলে হুজুর যেই আফসোস করেন তা দেখলে আমাদেরই কষ্ট লাগে। হুজুর বলেন, পড়ার যে আগ্রহ তা পূর্ণ করতে হলে আরো কয়েক জীবন লাগবে। যদি সুযোগ হয় তাহলে জান্নাতে গিয়েও পড়ব। কারণ আমার কাছে পড়ার মজার সাথে অন্য কোনো মজার তুলনা হয় না।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 التوثيق الضمني

📄 التوثيق الضمني


التوثيق الضمني নামে একটা পরিভাষা আছে। এর অর্থ হলো, হাদীসকে প্রমাণিত বলার দ্বারা রাবীর তাওসীক তা'দীল প্রমাণিত হওয়া। একটু বুঝিয়ে বলি। হাদীস প্রমাণিত হওয়ার জন্য যেহেতু তার রাবীদের তা'দীল ও তাওসীক অর্থাৎ সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া জরুরী, তাই কোনো হাদীসকে সহীহ বলা মানে তার রাবীদের সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলা। কারণ রাবীরা সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী না হলে তাদের হাদীস প্রমাণিত হয় না।

তবে এই ফায়দা নিতে হলে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, হাদীস প্রমাণিত বলার ভিত্তি এই সনদটিই হতে হবে। হাদীসের অন্য কোনো সনদের দিকে তাকিয়ে, বা হাদীসের একাধিক সনদ একত্র হওয়ার দিকে তাকিয়ে হাদীসটিকে প্রমাণিত বললে তখন আলোচিত সনদের রাবীদের জন্য التوثيق الضمني প্রমাণিত হবে না।

এমনিভাবে কোনো ইমাম যখন কোনো মাসআলায় একটি হাদীস দিয়ে দলিল দিবেন এবং প্রমাণিত হবে, এই মাসআলায় তার একমাত্র দলিল এই হাদীসটিই তখন ঐ হাদীসের রাবীদের ব্যাপারেও التوثيق الضمني প্রমাণিত হবে।

এমনিভাবে রাবীর ছাত্রটি যদি এমন হয় যে, সে ثقة ছাড়া আর কারো থেকে রেওয়ায়াত করে না তখন রাবী থেকে ঐ ছাত্রের রেওয়ায়াত রাবীর জন্য التوثيق الضمني হিসেবে গণ্য হবে।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 التضعيف الضمني

📄 التضعيف الضمني


التضعيف الضمني হাদীসকে কোনো ইমাম অপ্রমাণিত বলল আর ঐ হাদীসের সনদে সকলেই ভালো একজন ছাড়া এবং নিশ্চিতভাবে তাতে অন্য কোনো সমস্যা নেই এই রাবী ছাড়া তাহলে বুঝতে হবে ঐ রাবী ঐ ইমামের নিকট দুর্বল। এজন্যই তিনি হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।

অত্যন্ত জরুরত থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ইমাম কোনো হাদীস দিয়ে দলিল না দেন এবং দলিল না দেওয়ার একমাত্র কারণ হলো ঐ হাদীসের সনদে একজন রাবীর উপস্থিতি তাহলে বুঝতে হবে ঐ রাবী ঐ ইমামের নিকট দুর্বল। এই জন্য তিনি এই রাবীর হাদীস দিয়ে দলিল দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এটাও التضعيف الضمني এর একটি সূরত।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 রাবীর উপর বিদআতের প্রভাব

📄 রাবীর উপর বিদআতের প্রভাব


এবার অন্য একটা বিষয় নিয়ে কথা বলি। অনেক রাবী আছে যারা কোনো বিদআতের সাথে যুক্ত ছিল। তাদের ব্যাপারে ইমামগণ সতর্ক করেছেন, যেন তাদের থেকে রেওয়ায়াত কম করা হয়। কারণ তাদের রেওয়ায়াত কম হলে তাদের আলোচনাও কম হবে। আর তাদের আলোচনা কম হলে তাদের বিদআতটিও প্রচার প্রসারে বাধাপ্রাপ্ত হবে।

তারা বিদআতের সাথে যুক্ত রাবীদের ব্যাপারে বলেছেন مرجئ، رمي بالإرجاء، قدري، رمي بالقدر، ناصبي، رمي بالنصب، شيعي، رمي بالتشيع، رافضي ، رمي بالرفض، جهمي ইত্যাদি।

তোমরা জেনে এসেছ, রাবীদের বিষয়ে মূল জানার বিষয় হলো, সে সত্যবাদী না মিথ্যাবাদী, সে ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী না দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী। এখন প্রশ্ন হলো, কোনো রাবীর বিদআতের সাথে যুক্ত হওয়ার দ্বারা তার সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী হওয়া এবং ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া বা দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না? এর জবাব হলো, কখনো প্রভাব ফেলবে, কখনো ফেলবে না।

এখানে প্রথমে দেখতে হবে তার ব্যাপারে বিদআতের সাথে যুক্ত থাকার যে কথা বলা হয়েছে তা আসলেই প্রমাণিত কি না? কারণ কয়েকজন রাবী এমন পাওয়া গেছে, যাদের ব্যাপারে কোনো বিদআতের সাথে যুক্ত থাকার দাবি করা হয়েছে। অথচ যথাযথ অনুসন্ধানের পর প্রমাণিত হয়েছে, তিনি ঐ বিদআত থেকে পাক সাফ ছিলেন। যেমন ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ব্যাপারে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, তিনি কুরআন মাখলুক হওয়ার পক্ষে। কিন্তু অন্যরা মজবুত দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি কুরআন মাখলুক হওয়ার পক্ষে ছিলেন না। তিনি আহলুস সুন্নাহর অন্যদের মতই কুরআন গায়রে মাখলুক হওয়ার আকিদা পোষণ করতেন।

দ্বিতীয়ত দেখতে হবে, যেই বিদআতের সাথে তার যুক্ত থাকা প্রমাণিত হয়েছে তা কেমন বিদআত? যদি তা এমন হয় যার সাথে জড়িত ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় তাহলে তাকে অমুসলিম হিসেবে দ্বীনী বিষয়ে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য করা হবে। আর যদি এমন বিদআতের সাথে যুক্ত না হয় তাহলে তৃতীয়ত যা দেখতে হবে তা হলো, বিদআতের সাথে তার যুক্ত থাকার পরিমাণটা কেমন? সে যদি এ পরিমাণ যুক্ত থাকে যে, তার বিদআত প্রমাণে ও সমর্থনে সে মিথ্যা বলতে কুণ্ঠাবোধ করে না তাহলে তাকে মিথ্যাবাদীর কাতারে শামিল করা হবে। আর যদি তার তাকওয়া ও দ্বীনদারীতা এত মজবুত হয় যে সে কখনো মিথ্যা বলবে না। কিন্তু বিদআতের সাথে যুক্ত থাকার কারণে তার হাদীস মুখস্থ রাখার মেহনত যদি বাধা প্রাপ্ত হয়, অথবা রেওয়ায়াত বিল মা'নার ক্ষেত্রে তার মনে হাদীসের এমন অর্থই আসে, যা তার বিদআতকে সমর্থন করে, তখন তাকে মিথ্যাবাদী না ধরা হলেও দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px