📄 কোন রাবী কার থেকে শুনেছে আর কার থেকে শুনেনি এটা জানার জন্য কিছু কিতাব
রাবী কার থেকে হাদীস শুনেছে বা শোনেনি তা জানার জন্য রাবীদের জীবনীমূলক কিতাবের পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুসন জানা জরুরি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কিতাবগুলো হলো:
- كتاب المراسيل للإمام ابن أبي حاتم
- جامع التحصيل في أحكام المراسيل للإمام العلائي
- تحفة التحصيل للإمام ولي الدين العراقي
- التابعون الثقات المتكلم في سماعهم للشيخ مبارك الهجري
রাবীদের মৃত্যুসন জানার জন্য যাহাবী রহ. এর ‘তারীখুল ইসলাম’ ও ‘আল-ইবার’ এবং ইবনে কাসীর রহ. এর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ অত্যন্ত উপকারী।
📄 শোনা, না শোনা নিয়ে মতভিন্নতা দেখা দিলে করণীয়
কোনো রাবীর শোনা বা না শোনা নিয়ে মতভিন্নতা হলে যারা শোনেনি বলেছেন তাদের কথা প্রাধান্য পাবে যদি:
১. বয়স অনুযায়ী তাঁদের শোনার সম্ভাবনা না থাকে।
২. শোনার সম্ভাবনা থাকলেও দেখা যায় রাবী সবসময় মাঝখানে অন্য কাউকে উল্লেখ করে বর্ণনা করেন, কখনো সরাসরি শোনার শব্দ ব্যবহার করেন না।
৩. রাবী রেওয়ায়াতের সময় حدثت বা أخبرت জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেন।
পক্ষান্তরে যারা শোনার কথা বলেছেন তাঁদের কথা প্রাধান্য পাবে যদি বয়স অনুযায়ী শোনার সম্ভাবনা থাকে এবং কোনো রেওয়ায়াতে سمعত বা حدثنا এর মতো স্পষ্ট শব্দে সরাসরি শোনার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে যদি প্রমাণ হয় যে কোনো ছাত্র ভুল করে عن বা قال এর জায়গায় سمعت বানিয়ে দিয়েছে, তবে শোনার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
📄 জরাহ তা’দীলের প্রচলিত শব্দ ও তার অর্থসমূহ
মুহাদ্দিসগণ রাবীদের অবস্থা বুঝাতে নির্দিষ্ট পরিভাষা ব্যবহার করেছেন:
* তা'দীলের শব্দ (নির্ভরযোগ্যতা):
- ثقة ، ثبت، حجة ، متقন: রাবী সত্যবাদী ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
- صدوق، لا بأس به: রাবী সত্যবাদী, তবে স্মৃতিশক্তিতে সামান্য বিচ্যুতি থাকতে পারে।
- ضابط ، حافظ: রাবীর স্মৃতিশক্তি অনেক ভালো।
- شيخ، يكتب حديثه: রাবী সত্যবাদী, তবে স্মৃতিশক্তির অবস্থা বোঝার জন্য পরীক্ষা প্রয়োজন।
* জরাহ এর শব্দ (দুর্বলতা):
- دجال، كذاب، وضاع: রাবী মিথ্যাবাদী।
- متروك، ساقط، واه بمرة: রাবী অত্যন্ত দুর্বল, তার হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়।
- منكر الحديث: রাবী অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা একাকী রেওয়ায়াত করেন।
- مجهول: রাবীর সত্যবাদিতা বা স্মৃতিশক্তির অবস্থা কিছুই জানা নেই।
- فيه نظر: ইমাম বুখারী এটি কঠোর জরাহ হিসেবে এবং অন্য ইমামগণ মধ্যম পর্যায়ের দুর্বলতা বা গবেষণার প্রয়োজন বুঝাতে ব্যবহার করেছেন।
যেকোনো শব্দের অর্থ সুনিশ্চিত করার জন্য ইমামগণের ব্যবহার পদ্ধতি, কথার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট রাবীর অন্যান্য রেওয়ায়াত যাচাই করা জরুরি।
📄 রাবীদের জরাহ কি গীবত?
রাবীদের জরাহ যদিও বাহ্যিক সংজ্ঞানুযায়ী গীবত মনে হয়, কিন্তু তাতে গীবতের গুনাহ তো হবেই না, উল্টো সওয়াব হবে। কারণ গীবত নিষিদ্ধ হওয়ার মূল কারণ হলো অপর মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া। কিন্তু জরাহ করা হয় শরীয়তকে বিকৃতি ও জাল হাদীস থেকে রক্ষা করার জন্য। শরীয়ত হেফাজতের এই মহৎ কল্যাণটি অর্জনের জন্য রাবীদের ব্যক্তিগত দোষ উল্লেখ করা জরুরি হয়ে পড়ে। এটা অনেকটা রোগীর জীবন বাঁচাতে যন্ত্রণাদায়ক অপারেশনের মতো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও বৃহত্তর কল্যাণে কারো অগোচরে তাঁর দোষের কথা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ ফাতিমা বিনত কায়স রা. এর বিবাহের প্রস্তাবের সময় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু জাহম ও মুআবিয়া রা. সম্পর্কে সত্য তথ্য দিয়ে সতর্ক করেছিলেন (সহীহ মুসলিম: ১৪৮০)। সুতরাং দ্বীনের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য মুহাদ্দিসগণের এই জরাহ গীবত নয়, বরং একটি পবিত্র দায়িত্ব।