📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 রাবীর প্রকারভেদ

📄 রাবীর প্রকারভেদ


রাবী প্রধানত পাঁচ ধরনের। যথা:

১. রাবী সত্যবাদী ও ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
২. রাবী সত্যবাদী, কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
৩. রাবী মিথ্যাবাদী, কিন্তু ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
৪. রাবী মিথ্যাবাদী ও দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
৫. রাবী এমন অপরিচিত যে, তার ব্যাপারে জানা যায় না সে সত্যবাদী না মিথ্যাবাদী, ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী না দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

কোন রাবী কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত তা মুহাদ্দিসীনে কেরাম চিহ্নিত করে দিয়েছেন। তাদের এই চিহ্নিত করণকে পরিভাষায় الجرح والتعديل বলা হয়। ভালো বললে তাকে বলে তা'দীল আর মন্দ বললে তাকে বলে জরাহ।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 কোন রাবী কোন প্রকারের তা জানার আগে যে চারটি জিনিস জানতে হবে ও যে কিতাবগুলো পড়তে হবে

📄 কোন রাবী কোন প্রকারের তা জানার আগে যে চারটি জিনিস জানতে হবে ও যে কিতাবগুলো পড়তে হবে


কোন রাবী কেমন, তা জানতে হলে আমাদের চারটি বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে:

১. অئম্মাতুল জারহি ওয়াত তা'দীল বা রাবীদের ব্যাপারে যে সকল মুহাদ্দিস মতামত দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন তাদের পরিচয়। এ সংক্রান্ত ‘যিকরু মান ইউ’তামাদু ক্বাওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তা’দীল’ কিতাবটি পড়া যেতে পারে।

২. كتب الجرح والتعديل জীবনী সম্বলিত কিতাব, যেখান থেকে জানা যাবে রাবী কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং সে কার কার থেকে হাদীস শুনেছে ও কার থেকে শোনেনি। এজন্য ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ’, ‘বুহুছুন ফী তারিখিস সুন্নাহ’, ‘আল-মাদখাল’ ইত্যাদি কিতাবগুলো সহায়ক।

৩. ألفاظ الجرح والتعديل বা আইম্মাতুল জারহি ওয়াত তা'দীল যে সমস্ত শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করেছেন।

৪. أصول الجرح والتعدিল বা ঐ সকল নিয়ম-নীতি, যা প্রয়োগ করে একজন রাবীকে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী এবং ভালো বা দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলা হয়েছে।

এই বিষয়গুলো জানতে নিম্নলিখিত কিতাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ:
- الرفع والتكميل في الجرح والتعديل للكنوي مع تعليقات الشيخ عبد الفتاح أبي غدة
- دراسات الكاشف للشيخ محمد عوامة
- المدخل إلى علوم الحديث الشريف للشيخ عبد المالك الكملائي
- مقرر التخريج ومنهজ الحكم على الحديث للشيخ الشريف حاتم العوني
- خلاصة التأصيل لعلم الجرح والتعديل له
- الجرح والتعديل للشيخ إبراهيم اللاحم
- قواعد في علوم الحديث للعلامة ظفر أحمد العثماني
- مباحث في الجرح والتعديل للشيخ القاسم علي سعد
- ألفاظ وعبارات الجرح والتعديل للشيخ أحمد معبد عبد الكريم
- ألفاظ الجرح والتعديل ومصطلحات الأئمة للشيخ السيد عزت المرسي

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 জরাহ তা’দীলের ইমামগণের তালিকা

📄 জরাহ তা’দীলের ইমামগণের তালিকা


কয়েকজন প্রসিদ্ধ জরাহ তা'দীলের ইমামের নাম ও তাঁদের মৃত্যুসন দেওয়া হলো:

শা'বী রহ. (১০৩ হি.), ইবনে সীরীন রহ. (১১০ হি.), আবু হানীফা রহ. (১৫০হি.), মা'মার রহ. (১৫৩হি.), আওযাঈ রহ. (১৫৭হি.), শু'বা রহ. (১৬০হি.), সুফিয়ান সাওরী রহ. (১৬১হি.), মালেক রহ. (১৭৯হি.), আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ. (১৮১হি.), ওয়াকি' রহ. (১৯৭ হি.), ইয়াহয়া বিন সাইদ আল কত্তান রহ. (১৯৮ হি.), আব্দুর রহমান বিন মাহদী রহ. (১৯৮ হি.)।

শাফেয়ী রহ. (২০৪ হি.), আবু উবাইদ কাসিম বিন সাল্লাম রহ. (২২৪ হি.), ইবনে সা'দ রহ. (২৩০ হি.), ইবনে মায়ীন রহ. (২৩৩ হি.), আলী ইবনুল মাদীনী রহ. (২৩৪ হি.), ইবনে আবী শাইবা রহ. (২৩৫হি.), আহমাদ বিন হাম্বল রহ. (২৪১ হি.), আমর বিন আলী ফাল্লাস রহ. (২৪৯ হি.)।

বুখারী রহ. (২৫৬হি.), আবু যুরআ রহ. (২৬৪ হি.), আবু দাউদ রহ. (২৭৫ হি.), আবু হাতিম রহ. (২৭৭ হি.), তিরমিযী রহ. (২৭৯ হি.), আবু বকর বাযযার রহ. (২৯২ হি.)।

নাসায়ী রহ. (৩০৩ হি.), ইবনে খুযাইমা রহ. (৩১১ হি.), তহাবী রহ. (৩২১ হি.), ইবনে হিব্বান রহ. (৩৫৪ হি.), তবারনী রহ. (৩৬০ হি.), ইবনে আদী রহ. (৩৬৫ হি.), দারাকুতনী রহ. (৩৮৫হি.)।

হাকিম রহ. (৪০৫ হি.), ইবনে আবদুল বার রহ. (৪৬৩ হি.), খতীবে বাগদাদী রহ. (৪৬৩ হি.)।

আইম্মাতুল জারহি ওয়াত তা'দীলের সংখ্যা আরও অনেক। তবে এঁরা হলেন তুলনামূলক অধিক প্রসিদ্ধ এবং রাবীদের ব্যাপারে তাঁদের মতামতই বেশি পাওয়া যায়।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 জরাহ তা’দীলের কিতাব সমূহের প্রকার ও তার তালিকা

📄 জরাহ তা’দীলের কিতাব সমূহের প্রকার ও তার তালিকা


জরাহ তা'দীলের কিতাবগুলোকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:

১. ইমামগণের নিজস্ব সংকলিত কিতাব বা তাঁদের ছাত্রকর্তৃক সংকলিত বক্তব্য: যেমন- ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ (ইবনে সা’দ), ‘তারীখে ইবনে মায়ীন’, ‘সুয়ালাতে ইবনুল জুনায়েদ’, ‘আল-ইলাল ওয়া মা’রিফাতুর রিজাল’ (আহমাদ বিন হাম্বল), ‘আত-তারীখুল কাবীর’ (বুখারী), ‘আল-জারহু ওয়াত তা’দীল’ (ইবনে আবী হাতিম), ‘কিতাবুত তিক্বাত’ ও ‘কিতাবুল মাজরূহীন’ (ইবনে হিব্বান), ‘আল-কামিল’ (ইবনে আদী)। এছাড়া খতীবে বাগদাদীর ‘তারীখে বাগদাদ’ ও ইবনে আসাকিরের ‘তারীখে দামেশক’ উল্লেখযোগ্য।

২. ইমামগণের বক্তব্য সনদসহ উল্লেখ করা হয়েছে এমন কিতাব।

৩. ইমামগণের বক্তব্য সনদ ছাড়া একত্র করা হয়েছে এমন কিতাব: আব্দুল গনী মাকদিসী রহ. লিখেছেন ‘আল-কামাল ফী আসমায়ির রিজাল’। একে ভিত্তি করে মিযযী রহ. লিখেছেন ‘তাহযীবুল কামাল’। একে কেন্দ্র করে আরও অনেক কিতাব লেখা হয়েছে যেমন- মুগলতাই রহ. এর ‘ইকমাল’, যাহাবী রহ. এর ‘তাযহীব’, ইবনে হাজার রহ. এর ‘তাহযীবুত তাহযীব’। কুতুবে সিত্তার বাইরের রাবীদের জন্য কাসিম বিন কুতলুবুগা রহ. এর ‘আত-তিক্বাত’ উল্লেখযোগ্য।

৪. ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে পরবর্তী কোনো ইমামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: যেমন- যাহাবী রহ. এর ‘আল-কাশিফ’, ‘আল-মুগনী ফিস সুয়াফা’ এবং ইবনে হাজার রহ. এর ‘তাকরীবুত তাহযীব’। ‘তাকরীবুত তাহযীব’ কিতাবে প্রত্যেক রাবীর ব্যাপারে এককথায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এর পর্যালোচনায় ‘তাহরীরু তাকরীবিত তাহযীব’ (শুআইব আরনাউত ও বাশশার আওয়াদ) এবং ‘কাশফুল আওহাম’ (মাহির ইয়াসিন ফাহল) রচিত হয়েছে।

এছাড়া ‘আল-ইসাবাহ’, ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’, ‘মারাতিবুল উসূল’ ইত্যাদি কিতাব থেকেও রাবীদের চূড়ান্ত অবস্থা জানা যায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px