📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 তাফসীরের কিতাবে উল্লেখিত রেওয়ায়াত সমূহের প্রকার ও তার হুকুম

📄 তাফসীরের কিতাবে উল্লেখিত রেওয়ায়াত সমূহের প্রকার ও তার হুকুম


তাফসীরের কিতাবে যে সকল বর্ণনা পাওয়া যায় তা কয়েক ধরণের:

১. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত কোনো কথা বা কাজ। এক্ষেত্রে তাহকীক করতে হবে রেওয়ায়াতটা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত কিনা। যদি জাল বা মুনকার পর্যায়ের হয় তাহলে তা কিছুতেই গ্রহণ করা যাবে না।

২. কোনো সাহাবীর বক্তব্য। এক্ষেত্রে প্রথমে করণীয় হলো সাহাবী থেকে প্রমাণিত কি না তা যাচাই করা। যদি প্রমাণিত হয় তাহলে দেখতে হবে, বক্তব্যটা غیر مدرক بالقياس কি না। অর্থাৎ বিষয়টা কি এমন, সাহাবী শরিয়তের অন্যান্য দলিল বা সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর আরবী শব্দ বাক্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করে নিজ থেকে এমনটা বলতে পারেন, নাকি বিষয়টা এমন, সাহাবী নিজ থেকে তা বলতে পারেন না। কারো থেকে শুনেই বলেছেন। যেমন ভবিষ্যৎ বা অতীতের কোনো সংবাদ, বা জ্ঞানের উর্ধ্বের কোনো বিষয়। যদি নিজ থেকে বলার মতো হয়, তাহলে সাহাবাদের বক্তব্যের যে মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এই বক্তব্যও সেই মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে। আর যদি বিষয়টা এমন হয়, সাহাবী তা নিজ থেকে বলতে পারার মতো না- তাহলে এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকে:
ক. সাহাবী বিষয়টি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে বলেছেন।
খ. সাহাবী বিষয়টি পূর্ববর্তী কোনো কিতাব বা আহলে কিতাব থেকে নিয়েছেন।
প্রথম সম্ভাবনা তখনই আমলে নেওয়া হবে, যখন এই বিষয়টা অন্য সূত্রে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও প্রমাণিত হবে। অথবা বিষয়টা আকিদা বা আহকাম সংক্রান্ত হবে। এই ধরনের موقوف (সাহাবার বক্তব্য) কে مرفوع حكمي বলে। এমন সাহাবার বক্তব্য নবীজী থেকে প্রমাণিত বক্তব্যের যে হুকুম সেই হুকুমের মর্যাদা পাবে।

৩. তাবেয়ী, তাবে' তাবেয়ী বা তাদের পরের কারো বক্তব্য। এক্ষেত্রেও প্রথম করণীয় হলো যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার থেকে প্রমাণিত কি না, তা আগে যাচাই করতে হবে। তারপর সাহাবীর বক্তব্যে যা যা করা হয়েছে এখানেও তাই করা হবে। তবে এখানে حكمي مرفوع হওয়ার সূরতে مرسل বা معضل হাদীসের যে হুকুম সেই হুকুম প্রযোজ্য হবে।

৪. পূর্ববর্তী কোনো কিতাবে আছে, বা আহলে কিতাবরা বলে, বা ،روي، قيل، حكي ইত্যাদি শব্দ বলে কোনো ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো, এর মধ্যে যেগুলো কুরআন হাদীসের অনুযায়ী হয় সেগুলো গ্রহণ করা। যেগুলো কুরআন হাদীসের বিপরীত হয়, বা বিবেক বিরুদ্ধ হয়, অথবা দুনিয়ার স্বাভাবিক নেযামের বিপরীত হয়, সেগুলোকে পরিত্যাগ করা। যেগুলোর ব্যাপারে কুরআনে হাদীসে কোনো কিছুই থাকে না, সাথে বিবেক ও দুনিয়ার স্বাভাবিক নেযাম বিরুদ্ধও হয় না সেগুলোকে সত্যায়নও না করা এবং মিথ্যা প্রতিপন্নও না করা।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 ইসরায়েলী বর্ণনার বিভিন্ন রূপ ও তার হুকুম

📄 ইসরায়েলী বর্ণনার বিভিন্ন রূপ ও তার হুকুম


তাফসীরের কিতাবে উল্লেখিত চতুর্থ প্রকারের বর্ণনাকে (অর্থাৎ যা পূর্ববর্তী কিতাব বা আহলে কিতাবদের থেকে প্রাপ্ত) إسرائيليات বলে। সাহাবী, তাবেয়ী ও তাদের পরবর্তীদের যে বক্তব্যগুলো غیر مدرك بالقياس এবং আকায়েদ ও আহকাম সংক্রান্ত না এগুলোকেও হুকুমের দিক থেকে বিভিন্ন রূপ মিল থাকায় إسرائيليات বলে।

ইমামগণ এই হুকুম দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী কোনো আসমানী কিতাবই আপন অবস্থায় বহাল থাকেনি। তাতে অনেক বিকৃতি ও জালিয়াতি ঘটেছে। পূর্ববর্তীদের মৌখিক বর্ণনারও একই অবস্থা। তারা মৌখিক বর্ণনা মনে রাখার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিল এমনটা পাওয়া যায় না। ইসরাঈলিয়াত এর যে অংশটাকে সত্যও বলা যায় না, মিথ্যাও বলা যায় না- এই অংশটা বর্ণনা করার অনুমতি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। তবে এই অনুমতির অর্থ হলো বিষয়টা মুবাহ। আর মুবাহের ক্ষেত্রে নীতি হলো, তাকে মুবাহের পর্যায়েই রাখা। মুস্তাহাব বা ওয়াজিব পর্যায়ে নিয়ে না যাওয়া। আরও খেয়াল রাখতে হবে, বর্ণনার ধরণ যেন এমন না হয়, যার দ্বারা বিষয়টা হাদীসের মত ওহী ও সত্য মনে হতে থাকে।

কিন্তু আমরা অনেকে ইসরাঈলিয়াত বর্ণনা করার মুবাহকে মুবাহ পর্যায়ে রাখি না। এমনভাবে রেওয়ায়াত করি, যেন কুরআনে তা সুস্পষ্ট বলা হয়েছে। অথবা এটা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো হাদীস। অথবা তা বর্ণনা করা মুস্তাহাব বা ওয়াজিব পর্যায়ের। কুরআন হাদীসের সুস্পষ্ট কথা রেখে ইসরাঈলিয়াত বর্ণনায় বেশি গুরুত্ব দিই। ফলে উপকার কম হয়। আমরা অনেক সময় এমন কিছু ইসরাঈলিয়াতও বর্ণনা করে ফেলি, যেগুলো কুরআন হাদীসের বিপরীত, অথবা বিবেক বিরুদ্ধ, বা দুনিয়ার স্বাভাবিক নেযামের বিপরীত।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 সালাফদের ইসরায়েলী বর্ণনার কারণ ও ধরন

📄 সালাফদের ইসরায়েলী বর্ণনার কারণ ও ধরন


সাহাবা তাবেয়ীগণও এমন কিছু ইসরাঈলিয়াত বর্ণনা করেছেন যেগুলো কুরআন হাদীসের বিপরীত, অথবা বিবেক বিরুদ্ধ, বা দুনিয়ার স্বাভাবিক নেযামের বিপরীত। তবে তারা এমন বর্ণনা করেছেন মূলত খণ্ডন করার জন্য বা এগুলো থেকে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। অনেক সময় এমন হয়েছে, সাহাবী বা তাবেয়ী বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন। কিন্তু পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারী সতর্কীকরণের অংশটা বাদ দিয়ে বর্ণনা করেছে। ফলে মনে হতে থাকে, সাহাবী বা তাবেয়ী সন্তুষ্টচিত্তে এই ইসরাঈলী রেওয়ায়াতটি বর্ণনা করেছেন।

📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 তাফসীর সংক্রান্ত রেওয়ায়াতের যাচাই কাজে সহযোগী কিছু কিতাব

📄 তাফসীর সংক্রান্ত রেওয়ায়াতের যাচাই কাজে সহযোগী কিছু কিতাব


তাফসীরের কিতাবে উল্লেখিত রেওয়ায়াত ও কিসসা কাহিনী সমূহের তাহকীক করে পূর্ববর্তী অনেক তাফসীরে ও বর্তমান লেখা কিছু কিতাবে অনেক রেওয়ায়াত যাচাই করা হয়েছে। এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হলো:

- المحرر الوجيز المعروف بتفسير ابن عطية (٥٤١)
- التفسير الكبير للإمام فخر الدين الرازي (٦٠٦)
- البحر المحيط للإمام أبي حيان الأندلسي (٧٤٥)
- التسهيل لعلوم التنزيل للإمام ابن جزي الغرناطي (٧٤٠)
- تفسير ابن كثير (٧٧٤)
- حاشية السيوطي (٩١١) على البيضاوي
- روح المعاني للعلامة الآلوسي (١٢٧٠)
- تفسير المنار للعلامة رشيد رضا (١٣٥٤)
- أضواء البيان للعلامة محمد الأمين الشنقيطي (١٣٩٣)
- الإسعاف بتخريج أحاديث الكشاف للإمام الزيلعي (٧٦٢)
- الكاف الشاف بتخريজ أحاديث الكشاف للإمام ابن حجر (٨٥٢)
- الفتح السماوي بتخريج أحاديث البيضاوي للإمام المناوي (١٠٣١)
- العجاب في بيان الأسباب للإمام ابن حجر (٨٥٢)
- لباب النقول في أسباب النزول للإمام السيوطي (٩١١)
- المحرر في أسباب النزول لخالد بن سليمان المزيني
- الاستيعاب في بيان الأسباب لسليم بن عيد الهلالي
- الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفاسير للشيخ محمد أبي شهبة (١٤٠٣)
- الإسرائيليات وأثرها في كتب التفسير لرمزي نعناعة
- الإسرائيليات في التفسير والحديث للشيخ محمد حسين الذهبي (١٣٩٨)
- موسوعة الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير لأحمد محمد عيسى
- الإسرائيليات في تفسير الطبري لنايف الزهراني

এছাড়া জালালাইনে উল্লেখিত রেওয়ায়াত সমূহের বিস্তারিত তাখরীজ ও তাহকীক করে মাওলানা আবু রাফআন সিরাজ সাহেব একটি বিশাল কিতাব রচনা করেছেন। জাল ভিত্তিহীন হাদীস সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হলো:

- المنار المنيف لابن القيم مع تعليقات الشيخ عبد الفتاح أبي غدة
- المصنوع في الحديث الموضوع لملا علي القاري مع تعليقات الشيخ عبد الفتاح أبي غدة
- الفوائد المجموعة للشوكاني مع تعليقات الشيخ يحيى المعلمي
- تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأخبار الشنيعة الموضوعة لابن عراق

ফন্ট সাইজ
15px
17px