📄 সনদ মুত্তাসিল কি না তা কীভাবে জানা যাবে
নিচেরজন উপরেরজন থেকে শুনেছে কি না এটা কীভাবে জানা যাবে? কয়েকভাবে জানা যাবে,
১. নিচেরজন উপরেরজন থেকে রেওয়ায়াত করার সময় বলেছে سمعت، سمعنا، حدثني، حدثنا، أخبرني، أخبرনা، أنبأني، أنبأنا ، قال لي، قال لنا، ذكر لي، ذكر لنا বাক্য বলেছে যা থেকে বোঝা যায়, সে তার উপরেরজন থেকে সরাসরি শুনেছে।
২. এ জাতীয় কোনো শব্দ বলেনি। আবার 'শুনেনি' এমন কোনো শব্দ যেমন أخبرت، حدثت عنه، نبئت عنه ،بلغني عنه ইত্যাদি বলেনি। বরং এমন শব্দ বলেছে যা সরাসরি শুনেছে এমনটাও বুঝায় না, আবার শুনেনি এমনটাও বুঝায় না। অর্থাৎ روی ،قال، عن ইত্যাদি বলেছে।
দ্বিতীয় সূরতটিকে পরিভাষায় الحديث المعنعن বলা হয়। معنعن এর ক্ষেত্রে তিনটা জিনিস একত্রে পাওয়া গেলে ধরা হবে, নিচের ব্যক্তি উপরের ব্যক্তি থেকে শুনেছে।
ক. অন্য কোনো সনদ বা ঘটনা দ্বারা জানা গেছে, নিচেরজন উপরেরজনের সাক্ষাৎ লাভ করেছে।
খ. নির্দিষ্ট এই হাদীসটি শুনেনি, এমন কোনো দলিল জানা নেই।
গ. নিচেরজনের মাঝে উস্তাদগণ থেকে যা শুনেনি, তা রেওয়ায়াত করার অভ্যাস নেই।
এই তিন শর্ত পাওয়া গেলে معنعن হাদীস অর্থাৎ নিচের ব্যক্তি উপরের ব্যক্তি থেকে روی ،قال، عن ইত্যাদি শব্দ দিয়ে রেওয়ায়াত করলেও ধরে নেওয়া হবে, নিচেরজন উপরের জন থেকে এই রেওয়ায়াত শুনেছে।
৩. এই معنعن হাদীসের আরেকটি সূরত আছে। তা হলো,
ক. নিচেরজন তার উপরের রাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছে এটা জানা যায় না।
খ. আবার সাক্ষাৎ লাভ করেনি এটাও জানা যায় না।
গ. কিন্তু একে অপরের সমসাময়িক এবং সাক্ষাৎ করার পর নিচেরজনের উপরেরজন থেকে হাদীস শোনারও সম্ভাবনা আছে।
ঘ. নির্দিষ্ট এই হাদীসটি শুনেনি এমন কোনো দলিল নেই।
ঙ. নিচেরজনের মধ্যে সমসাময়িক থেকে যা শুনেনি, তা রেওয়ায়াত করার অভ্যাস নেই।
এই সূরতটি নিয়ে বড়সড় মতভিন্নতা আছে। উলূমুল হাদীসের অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয় এটি। অধিকাংশ ইমামের মত হলো, এক্ষেত্রে নিচেরজন উপরেরজন থেকে এই রেওয়ায়াত শুনেছে বলেই ধরে নেওয়া হবে।
📄 সনদের বিচ্ছিন্নতা যেভাবে জানা যায়
বিচ্ছিন্নতা ইনশাআল্লাহ সহজ হয়ে যাবে। আমি এখন সনদ মুত্তাসিল না হওয়ার বিভিন্ন সূরত বলব।
১. নিচেরজন তার উপরের রাবীর মৃত্যুর পর জন্ম গ্রহণ করেছে।
২. নিচেরজন তার উপরের রাবীর জীবদ্দশায় জন্ম গ্রহণ করেছে। কিন্তু তাদের সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়টি দুজনের কোনো একজন সুস্পষ্ট বলেছেন। অথবা তাদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা থেকে তা প্রমাণিত হয়েছে।
৩. সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু কোনো হাদীস শোনা হয়নি।
৪. হাদীস শোনা হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট এই হাদীসটি শোনা হয়নি। যেমন নিচেরজন স্পষ্টই বলেছে, সে হাদীসটি শোনেনি। অথবা রেওয়ায়াত করার সময় أخبرت، بلغني عنه، حدثت، نبئت ইত্যাদি শব্দ বলেছে। অথবা عن، قال، روی দিয়ে রেওয়ায়াত করেছে এবং অন্য কোনো সনদ থেকে জানা গেছে তাদের মাঝখানে আরেকজন আছে।
৫. হাদীস শোনা হয়েছে। নির্দিষ্ট এই হাদীসটি শোনেনি এমন কোনো দলিলও নেই। কিন্তু রেওয়ায়াত করেছে عن، قال، روی ইত্যাদি বলে এবং নিচেরজনের মাঝে উস্তাদগণ থেকে যা শুনেনি তা উস্তাদ থেকে রেওয়ায়াত করার অভ্যাস আছে। তাই এখানেও সম্ভাবনা থাকে যে, সে তাই রেওয়ায়াত করেছে যা শুনেনি।
📄 مرسل، منقطع، معضل، معلق، مدلس
এই প্রত্যেকটা সূরতকে সহজে ও সংক্ষেপে বুঝানোর জন্য মুহাদ্দিসীনে কেরাম কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।
যেমন এই সবগুলো সূরতকে منقطع বা مرسل বলে। তবে مرسل শব্দটি বেশি ব্যবহার হয় কোনো তাবেয়ী যদি সরাসরি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো রেওয়ায়াত করে।
সনদে লাগাতার দুই বা একাধিক ব্যক্তি অনুল্লেখ থাকলে معضل বলে। তাই তাবে' তাবেয়ী বা তাদের পরবর্তী কোনো রাবী সরাসরি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রেওয়ায়াত করলে তাকে معضل বলে।
লেখক যদি একেবারেই সনদ উল্লেখ না করে অথবা তার থেকে নিয়ে সনদের শুরুর কোনো অংশ উল্লেখ না করে তাহলে তাকে معلق বলে।
সনদে বিচ্ছিন্নতার ৪ নং সূরতের শেষের অংশ এবং ৫ নং সূরতকে পরিভাষায় مدلس বলে, যদি নিচের রাবী তার উপরের রাবী থেকে শুনেছে এমন ভাব প্রকাশ করে। আর যে রাবীর ব্যাপারে জানা যায়, তার মাঝে উস্তাদগণ থেকে যা শুনেনি তা শোনার ভাব প্রকাশ করে রেওয়ায়াত করার অভ্যাস আছে তাকে مدلس বলে।
📄 জন্মসন মৃত্যুসন কীভাবে মুখস্থ রাখা যায়
অবশ্যই। নাযেম সাহেব তো শুরুতেই আমাকে বলেছেন, পড়ার সময় যে ইমামদের নাম আসবে তাদের জন্মসন ও মৃত্যুসন মুখস্থ করে নিবে। তাই আমি শুরু থেকেই মুখস্থ করার প্রতি গুরুত্ব দেই। কিন্তু যা মুখস্থ করতাম তা কিছুদিন পরেই ভুলে যেতাম। তাই এখন প্রত্যেক শতাব্দীর জন্য একটা পেড নির্ধারণ করেছি। একটাতে ১০০ হিজরীর আগ পর্যন্ত যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের নাম লিখে রাখি। আরকেটাতে ১০১ থেকে ২০০ হিজরী মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের নাম নোট করি। আরেকটাতে ২০১ থেকে ৩০০ হিজরীর মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের নাম নোট করি। এভাবে প্রত্যেক শতাব্দীর জন্য আলাদা আলাদা পেড রেখেছি। প্রত্যেকের নামের সাথে তাদের জন্ম ও মৃত্যুসন লিখে রাখি। কয়েকদিন পরপর নোটগুলোতে নজর বুলাই। এতে করে অনেকের জন্ম ও মৃত্যুসন, বিশেষকরে মৃত্যুসন মুখস্থ হয়ে গেছে আলহামদুল্লিাহ। নতুন কোনো নাম আসলে তা নোট করার পাশাপাশি এভাবে মুখস্থ রাখার চেষ্টা করি যে, তার আশপাশে কে কে ইন্তেকাল করেছেন তা স্মরণ করি এবং মনে রাখি, তারা তারা কাছাকাছি সময়ের। অথবা প্রত্যেক শতাব্দীর ঐ সনটিতে কারা কারা ইন্তেকাল করেছেন তা স্মরণ করি। এতে মুখস্থ রাখতে সহজ হয়। পড়ার সময় যখনই কোনো পরিচিত নাম আসে তার মৃত্যুসন স্মরণ করার চেষ্টা করি। মনে না আসলে পেড দেখে তার মৃত্যুসনটা বের করি। এভাবে মুখস্থ তাজা থাকে।