📘 উলূমুল হাদীস কী,কেন কিভাবে 📄 ضابط এর বিভিন্ন ধরণ

📄 ضابط এর বিভিন্ন ধরণ


ভালো স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলে গণ্য হতে হলে উস্তাদ যেভাবে রেওয়ায়াত করেছেন, ছাত্রকে ঐভাবেই রেওয়ায়াত করতে হতো। কিন্তু ছাত্র যদি এমন হতো, উস্তাদের কথা মুখস্থ রাখতে পারত না, কিন্তু হুবহু লিখে রাখতে পারত, তাহলে মুহাদ্দিসীনে কেরাম কী করতেন? এই ক্ষেত্রে তারা লক্ষ্য করতেন, উস্তাদ থেকে লিখিত খাতাটিকে ছাত্র যথাযথ হেফাযত করছে কি না? তার খাতায় অন্য কোনো ব্যক্তি ভিন্ন কিছু ঢুকিয়ে দিয়েছে কি না? যদি যাচাই-বাছাইয়ের পর মনে হতো, সে তার খাতাটিকে যথাযথ হেফাজত করেছে, উস্তাদ থেকে যেভাবে লিখেছিল খাতাটি সেভাবেই বহাল আছে, তখন তার লেখা থেকে সে যা রেওয়ায়াত করত তা মুহাদ্দিসীনে কেরাম গ্রহণ করতেন। কিন্তু সে মুখস্থ যা রেওয়ায়াত করত, তা মুহাদ্দিসীনে কেরাম গ্রহণ করতেন না। এই দিকে তাকিয়ে মুহাদ্দিসীনে কেরাম ضابط কে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। এক. ضابط كتاب দুই. ضابط صدر وحفظ

আমরাও কিন্তু এমনটা করি। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যার মুখস্থ শক্তি ভালো নয়, কিন্তু হুজুররা দরসে যা বলেন তা ভালো নোট করতে পারে। সে হুজুরদের কথা মুখস্থ বললে আমরা গ্রহণ করি না। বিপরীতে পরীক্ষার আগে তার নোট খাতাই হয় আমাদের সম্বল। তার খাতা নিয়ে একটা হুড়াহুড়ি পড়ে যায়।

আরেকটা বিষয়, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, মুখতাসারুল মাআনী বা শরহে তাহযীব কিতাবে আগ্রহ না থাকায় দরস মনোযোগ দিয়ে শুনে না, ফলে এই কিতাবের উস্তাদের তাকরীর সে মুখস্থ করে না, কিন্তু শরহে বেকায়া কিতাব খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে, উস্তাদ যা বলেন তা মুখস্থ করেন। এই ক্ষেত্রে আমরা শরহে বেকায়ার উস্তাদের তাকরীর তার থেকে শুনলেও মুখতাসারুল মাআনীর উস্তাদের তাকরীর তার থেকে নেই না। কিছু ছাত্র আছে যে একজন নির্দিষ্ট উস্তাদের দরসের কথা অন্য দরসের তুলনায় খুব মনে রাখতে পারে। কারণ, ঐ উস্তাদের সাথে তার ভক্তি শ্রদ্ধা ও মুহাব্বত বেশি। ফলে ঐ উস্তাদ কী বলেছেন তা আমরা এই ছাত্র থেকেই বেশি শুনি। কিছু তালিবে ইলম এমন আছে, যারা আগের মাদরাসায় মনোযোগ দিয়ে পড়া লেখা করেছে, কিন্তু এই মাদরাসায় এসে সঙ্গ দোষের কারণে পড়া লেখা ছেড়ে দিয়েছে। এদের থেকে আগের মাদরাসার উস্তাদগণ দরসে কী বলেছেন তা গ্রহণ করলেও এই মাদরাসার উস্তাদগণ দরসে কী বলেন তা গ্রহণ করি না। কখনো এমন হয়, মাদরাসায় বড় কোনো আলেম মেহমান হলেন এবং ফজরের পর মসজিদে সকল ছাত্রের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করলেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে মাদরাসার সবচেয়ে মেধাবী ছেলেটি ঐ রাতে অত্যাধিক পড়াশোনার কারণে ঘুমাতে না পারায় এই বয়ানে ঝিমিয়েছে। ফলে অন্যান্য সময় তার বর্ণনাকে গুরুত্ব দিলেও এই বয়ানের ব্যাপারে সে যা বর্ণনা করবে তাকে আমরা গুরুত্ব দেই না।

আমরা এমনটা করি, কারণ এমনটা করাই স্বাভাবিক নিয়ম ও বিবেকের দাবি। হাদীসের রাবীদের মধ্যেও এমন ছিল। মুহাদ্দিসীনে কেরাম তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কেউ ছিল, আহকাম সংক্রান্ত হাদীস ভালো মনে রাখতে পারত কিন্তু তাফসীর সংক্রান্ত হাদীস ভালো মনে রাখতে পারত না। কারো সনদ ভালো মনে থাকত কিন্তু মতন তুলনামূলক কম মনে থাকত। কেউ ছিল এর বিপরীত। আবার অনেকে এক অঞ্চলের শায়খদের হাদীস ভালো মনে রাখতে পারত কিন্তু আরেক অঞ্চলের শায়খদের হাদীস মনে রাখতে পারত না। কারো এক উস্তাদের হাদীস তো খুব মুখস্থ থাকত কিন্তু আরেক উস্তাদের হাদীস ভুলে যেত। শরহে ইলালুত তিরমিযীর মধ্যে ইবনে রজব হাম্বলী রহ. এমন রাবীদের নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px