📘 উলামা তলাবা > 📄 ইউরোপে শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক

📄 ইউরোপে শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক


অনেকেই মনে করে যে, ইউরোপ প্রভৃতি দেশে শিক্ষকের মর্যাদা দান করা হয় না। ছাত্রদের অন্তরে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ নেই। আপনারা ভারতের কলেজ-ভার্সিটিগুলো দেখে এই ভুল ধারণার শিকার হবেন না। ভারতের অবস্থা তো এই যে, না তারা পাশ্চাত্যের অনুসারী, না প্রাচ্যের। এরা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন পথের পথিক। জংলী গাছ। আমি ইউরোপে গিয়েছি, সেখানে কলেজ-ইউনিভার্সিটি দেখেছি। অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি। আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছি। কারণ সেখানে এখনও টিউটোরিয়াল সিস্টেম চালু আছে। কোন একজন শিক্ষক নির্বাচন করে তাঁর অধীনে লেখাপড়া ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সিস্টেম। যে প্রফেসরের তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে ছাত্রটি লেখাপড়া করে ও গবেষণা কাজ করে তাঁর সঙ্গে ঐ ছাত্রের আমাদের পীর-মুরীদের সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতার ন্যায় সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়। ছাত্র ঐ প্রফেসরের পরামর্শে গ্রন্থাদি অধ্যয়ন করে এবং নোট করে, অতঃপর প্রফেসরকে ঐ NOTES দেখায়। প্রফেসর NOTES দেখে ছাত্রের যোগ্যতা ও গুণগত উৎকর্ষ সম্পর্কে নিশ্চিত হলে তাকে পরবর্তী কাজের জন্য নির্দেশ দেন। মোটকথা, প্রফেসরের সাথে ছাত্রের সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা ঠিক তেমনই যে রকম পূর্ব যুগে আমাদের মাদরাসাগুলোতে ছিল।

আমাদের যুগ পর্যন্ত আমরা দেখেছি, ছাত্ররা কোন একজন উস্তাদকে বিশেষ উস্তাদ হিসাবে গ্রহণ করত। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করত। তাঁর খেদমত করত। প্রয়োজনে তাঁর চা বানিয়ে দিত, বাজার করে দিত। তাঁর আরাম-আয়েশের প্রতি খেয়াল রাখত। লেখাপড়ার ব্যাপারে ঐ বিশেষ উস্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কিতাবাদি অধ্যয়ন, নোট তৈরি, তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি কাজগুলো করত। আমরা এইভাবেই লেখাপড়া করেছি। ইউরোপে যেয়ে দেখলাম, সেখানকার কলেজ-ভার্সিটিতে এই নিয়ম চালু আছে। ভর্তির সময়ই বলতে হয়, কোন শিক্ষককে সে বিশেষ শিক্ষক হিসাবে গ্রহণ করবে, কে তার টিউটর হবেন। এছাড়া ছাত্রকে ভর্তি করতেই তারা প্রস্তুত হয় না। এদিক দিয়ে আমাদের দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশ মিল রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00