📘 উলামা তলাবা > 📄 দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ান

📄 দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ান


বন্ধুগণ! আমি আপনাদের মেহমান। এত কড়া বক্তব্য প্রদান আপনাদের সামনে আমার জন্য উচিত নয়। কিন্তু আমি অপারগ। আমি তো আপনাদের ঘনিষ্টজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে কথা বলছি। অন্তরে আপনাদের ভালবাসা আছে বলেই এরূপ কথা বলছি। এই বক্তব্যকে আপনাদের জন্য আমার সহমর্মিতা সুলভ বলে মনে করছি। আপনারা নিজেদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করুন। আপনাদের এই দোকানপাট, কল-কারখানা, ব্যাংক-ব্যালেন্স প্রকৃতপক্ষে দুর্বল জিনিস। এগুলোর মাধ্যমেই দুনিয়ার মোহ প্রবেশ করে থাকে। অতএব সর্বপ্রথম এসব সম্পদের যাকাত আদায় করুন, দান-খয়রাত করুন; তারপর অন্য চিন্তা করুন। মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করুন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে ক্ষত-বিদ্ধস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাদের দারিদ্র ক্ষতে ঔষধের প্রলেপ দিন। তাদের জন্য ব্যয় করুন। এই সকল দরিদ্র ব্যক্তির দুআই আপনার জন্য প্রয়োজনীয়। বাদশাহ নুরুদ্দীন জঙ্গীকে কেউ জিজ্ঞেস করেছিল— আপনি অভাবী ও দরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য এত অর্থ ব্যয় করে থাকেন, যুদ্ধকালে এসব ব্যয় কী কাজে আসবে। বাদশাহ বললেন, ভাই! কাজ তো এইসব লোকদের দুআতেই হবে। আমি এদের দুআকেই আশ্রয় মনে করি এবং এদের দুআই কামনা করি। এদের দুআয় শত্রুর কলিজা ঝাঁঝরা হয়ে যাবে। বাস্তবিক তাই হয়েছিল। এদের দুআয় বাদশাহ নুরুদ্দীন জঙ্গী বিজয় লাভ করেছিলেন। দেখুন, আমি সত্যি বলছি, আল্লাহর ফযলে আমি কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে আসিনি, ভবিষ্যতেও এজন্য কখনও আসবো না, আমি আপনাদের নিজেদের কল্যাণের জন্য মুসলমানদের জন্য যা প্রয়োজন সেই পরামর্শটুকু দিলাম মাত্র। আল্লাহর ওয়াস্তে অন্তত নিজেকে চিনুন।

নিজেতে লীন হয়ে জীবনের সন্ধান লাভ কর
তুমি যদি আমার না হও না হলে, নিজের তো হও।

নিজেদের সমস্যার সমাধান করুন। দ্বীনী প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করুন। নিজের সময়কে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করুন। নিজেকে নিজের জীবনের মালিক মনে করবেন না। আল্লাহকে মালিক মনে করুন। সবকিছুতে আল্লাহর দ্বীনুকে প্রাধান্য দিন। আল্লাহর রাস্তায় বের হউন, তাঁর পথে ব্যয় করুন এবং তাঁর পথে কষ্ট স্বীকার করুন। তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনারা ফুলে ফুলে সুশোভিত হবেন, ফুলে ফলে সমৃদ্ধ হবেন। আপনাদের এলাকা নিরাপদ থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি জামেয়া ইসলামিয়া থেকে কোন কমিশন লাভ করব বলে এসব বলছি না। কথাগুলো বলছি এজন্য যে, আমি ইতিহাসের ছাত্র। ইতিহাস অধ্যয়ন করেছি। কুরআন শরীফ অধ্যয়ন করেছি। কুরআন শরীফ ও ইতিহাসের আলোকে কথাগুলো বললাম। আসল হেফাযতকারী আল্লাহ তাআলা। কুরআন শরীফ আমাদেরকে জানান দেয় যে, নেক কর্মের দ্বারাও হেফাযতের কাজ হয়। “যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনিও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদেরকে অবিচল ও দৃঢ় রাখবেন।”

আল্লাহ তাআলাই সর্বোত্তম ইনস্যুরেন্স। প্রচলিত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী কতটুকু কী করতে পারে? আপনার কল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থ-সম্পদ, আপনার জীবন, আপনার সন্তান- সন্ততি এই সবকিছুর বীমা আল্লাহ তাআলার নিকট করিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলার নিকট অর্থ-সম্পদের বীমা করার পদ্ধতি হল তাঁর রাস্তায় অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে আপনার যাবতীয় অর্থ-সম্পদকে মূল্যবান বানিয়ে দেওয়া। তাহলে এই সম্পদে আর কেউ হাত মারতে পারবে না। আপনার জীবনকে মূল্যবান বানিয়ে ফেলুন। জীবনের মূল্য সৃষ্টি হয় আল্লাহর দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। অতঃপর আপনার বিরুদ্ধে যে হাত অগ্রসর হবে তা টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আপনি ভেবে দেখুন, পৃথিবীর কোন বাদশাহর কোন জিনিসে কেউ যদি হাত দেয় তাহলে তার পরিণাম কী হয়। এই যে ষাট সত্তর টাকার পুলিশ সেপাই, তার উপর কেউ আক্রমণ করুক তো দেখি। দেশের সরকার আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। অতঃপর তার রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এই যে ডাকপিয়ন, তার বেতনই বা কত? এরূপ দশ বারোজন ডাকপিয়নকে কর্মচারী হিসাবে রাখার সামর্থ আপনাদের আছে। কিন্তু তার গায়ে হাত দিয়ে দেখুন তো? তার ঝুলিটা কেড়ে নিন তো? তারপর দেখুন কী হয়। সে সরকারী দায়িত্বে কর্তব্যরত। আপনিও মহা সরকারের ডিউটিতে নিজেকে নিয়োজিত করুন। আল্লাহ তাআলার আজ্ঞাবহ হয়ে যান। তাঁর খেদমতে আত্মনিয়োগ করুন, তাঁর দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগ করুন। এককালে সরকারী চিঠি-পত্রের উপর লেখা থাকত On his Majesty's Service (মহামান্য রাজার কার্যে ব্যবহৃত)। ফলে চিঠির গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পেত। আপনার জন্য Majesty বা মহামান্য রাজা কে? আল্লাহ ব্যতীত আর কে এর উপযুক্ত? আপনি সকল বাদশাহর বাদশাহ, রাজাধিরাজ আল্লাহ তাআলার খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করুন। দেখবেন আপনার জান-মাল সব নিরাপদ হয়ে যাবে। মান-মর্যাদা, অর্থ-প্রতিপত্তি অর্জন করতে হলে আল্লাহর দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগ ব্যতীত দ্বিতীয় কোন পথ নেই। মুসলমানদেরকে এই পথের সন্ধান দিয়েছেন তিনি, যিনি মুসলমানদেরকে সর্বাধিক মহব্বত করতেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

📘 উলামা তলাবা > 📄 জ্ঞান ও মালের কুরবানী পুরো জাতির জন্য রক্ষাকবচ

📄 জ্ঞান ও মালের কুরবানী পুরো জাতির জন্য রক্ষাকবচ


দুটো জিনিসের কুরবানীর মধ্যেই পথ সীমাবদ্ধ। জানের কুরবানীর অর্থ এই নয় যে, জীবন দিয়ে দিতে হবে। বরং কমপক্ষে সময় ব্যয় কর। তাবলীগ কর। আল্লাহর রাস্তায় বের হও। তাঁর পথে ঘোরাফেরা কর। জীবনযাত্রার উচ্চমান থেকে কিছুটা নিচে অবতরণ কর। কষ্ট স্বীকার কর, ত্যাগ স্বীকার কর। জাতির সমস্যা সমাধানে হাত বাড়িয়ে দাও। জামেয়া ইসলামিয়ার এত বড় ভবিষ্যত পরিকল্পনা। দশ হাজার অমুক দিয়েছে, পাঁচ হাজার অমুক বোন দিয়েছে। এসব হাজার দশ হাজারের ঘোষণা কেন? ঘোষণা তো হওয়া প্রয়োজন ছিল এক লাখের। দেখুন, আপনারা থাকুন বা না থাকুন, এই জামেয়া থাকবে। এখানে ইসলামের মহা খেদমত হচ্ছে। এটা অদূর ভবিষ্যতে ইসলামের দূর্গে পরিণত হবে। আপনাদের সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

📘 উলামা তলাবা > 📄 যুগের ধ্বনি অনুধাবন করুন

📄 যুগের ধ্বনি অনুধাবন করুন


আমার ভাই ও বন্ধুগণ! নিজের জীবনে পরিবর্তন আনুন। হারাম উপার্জন, হারাম বস্তু ও হারাম কর্ম আল্লাহর ক্রোধ টেনে আনে। অতএব সর্ববিধ হারাম থেকে আত্মরক্ষা করুন। তাওবা করুন। বিদ্রোহী জীবনের ইতি টানুন। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার যিন্দেগী শুরু করুন। পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করুন। দোদুল্যমানতার যিন্দেগী পরিহার করুন। একজন খাঁটি মুসলমানের জীবন অবলম্বন করুন। এই দুনিয়া ধ্বংসশীল ও ক্ষণস্থায়ী। এই দুনিয়ার জন্য হাজার হাজার লোক রয়েছে। আপনি আখেরাতকে স্মরণ করুন। মৃত্যুকে স্মরণ করুন। কবরকে সত্য ও বাস্তব গন্তব্য মনে করুন। নিজের সফরের প্রথম ঘাঁটি এবং আসল ঘাঁটি মনে করে কবরের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করুন। প্রত্যহ অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করুন। মুসলমানদের উপর যে আযাব আপতিত হচ্ছে, যে বিপদ-আপদ নাযিল হচ্ছে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা। ত্যাগ ও কুরবানী স্বীকার করুন। অর্থ-সম্পদকে প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী যত্রতত্র ব্যয় করা থেকে দূরে থাকুন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মোতাবেক জাতি ও দ্বীনের কাজে অর্থ ব্যয় করুন। নামাযের পাবন্দী করুন। কুরআন শরীফ পাঠ করুন। দেখুন, তাতে কী বলা হয়েছে, কী নির্দেশ হয়েছে। কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করুন। দ্বীনের প্রয়োজনীয় ইলম ও জ্ঞান অর্জন করুন। আল্লাহর সঙ্গে অন্তরের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। যথাসম্ভব পবিত্র ও তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করুন। অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করুন। মুসলমান যদি তাকওয়ার যিন্দেগী অবলম্বন করে আসমান থেকে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকবে। ঐ বৃষ্টি নয় যা আমাদেরকে একেক সময় দুর্ভোগে নিপতিত করে। অসময়ের এই বৃষ্টি আমাদের আমলের শাস্তি। এর প্রতিটি ফোটা আমাদের আমলের শাস্তিরূপে অবতীর্ণ হয়।

বন্ধুগণ! আপনাদেরকে আমি বাস্তবানুগ এই কথা কয়টি বললাম। আমি আপনাদেরকে কিসসা-কাহিনী শুনাইনি। চাইলে অনেক কিসসাই শুনাতে পারতাম। আশআর ও কবিতা আবৃত্তি করে আপনাদেরকে আনন্দ দান করতে পারতাম। কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই এসব এড়িয়ে গেছি। স্মরণ রাখুন, ভারতে যদি সম্মানের সাথে আপনাদের জীবন যাপন করতে হয়, ঈমানের জীবন যাপন করতে হয়, ভবিষ্যত প্রজন্মকে যদি মুসলমান রূপে বহাল রাখতে হয়, স্বাধীনভাবে যদি আল্লাহর নাম নিতে হয় এবং ইসলামের কাজ করতে হয় তাহলে আপনাদেরকে ত্যাগ ও কুরবানী করতে হবে। শরীয়ত বিরোধী ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে এবং দ্বীনের জন্য খরচ হবে মাত্র চার পয়সা? মনে রাখবেন— এভাবে কেউ সম্মান লাভ করতে পারে না। এইভাবে চললে আল্লাহর রহমত থেকে আপনারা বঞ্চিত হবেন। যারা এই দেশে সম্মান লাভ করেছে তারা তাদের সাহসী ভূমিকা, উচ্চ সংকল্প ও দৃঢ় মানসিকতা দ্বারাই তা লাভ করেছে। পলকা তুলোর ন্যায় এই জাতি— যারা কোন কষ্ট বরদাশত করতে রাজি নয়, পরিশ্রম করতে রাজি নয়, কোন কড়া কথা শুনলে যারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে— কিভাবে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করতে পারে? চটকদার কথায় সম্মান পাওয়া যায় না। শুধু এই জাতীয় দ্বীনী মজলিস অনুষ্ঠিত করে এবং কিছু ইয়াতীমখানা প্রতিষ্ঠা করে মর্যাদা ও সম্মান লাভ করা যায় না। জাতির প্রয়োজন অনুধাবন করুন। যুগ আপনাদের নিকট কী আশা করে, কী দাবি করে, ভারতের পরিস্থিতি কী, ভারতের পরিস্থিতি কোন বিষয়ের ইঙ্গিত করে, কোন দিকে ইঙ্গিত করে এসব উপলব্ধি করুন। যুগের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝতে চেষ্টা করুন। যেখানে ত্যাগ ও কুরবানীর প্রয়োজন সেখানে ত্যাগ ও কুরবানী স্বীকার করুন। যেখানে সময় ব্যয় করার প্রয়োজন সেখানে সময় ব্যয় করুন। যেখানে দৃঢ় হওয়ার প্রয়োজন সেখানে দৃঢ়তা অবলম্বন করুন। দৃঢ়তার জায়গায় শিথিল ও নরম হলে আর নম্রতা ও শৈথিল্যের জায়গায় দৃঢ় হলে কাজ হবে না। জাতির নেতৃত্বে যারা আছেন তাদের কথা শুনুন এবং আনুগত্য করুন, তাদেরকে সহায়তা দান করুন। এরপর দেখবেন, ভারতে আপনাদের অবস্থান সুদৃঢ় হয়ে গেছে, আপনারা নিরাপদ হয়ে গেছেন।

📘 উলামা তলাবা > 📄 সম্মানের সাথে জীবন ধারণের পথ কোনটি?

📄 সম্মানের সাথে জীবন ধারণের পথ কোনটি?


ভাটকলের অধিবাসীবৃন্দ, আপনাদের পূর্বসূরী বুযুর্গগণ এখানকার অধিবাসীদের জন্য ইসলামের বার্তা নিয়ে আগমন করেছিলেন। তাদের সংখ্যা ছিল বত্রিশ দাঁতের মাঝে একটি জিহ্বাতুল্য। তাদের কোন উপায়-উপকরণ ছিল না, তাঁদের সঙ্গদানকারী কেউ ছিল না, তাঁদের কোন বন্ধু ছিল না। কিন্তু তাঁদের কথার ওজন ছিল, গুরুত্ব ছিল। অথচ আপনারা সংখ্যায় অনেক কিন্তু আপনাদের কোন ওজন নেই, মর্যাদা নেই। এখানে সংখ্যায় আপনারা প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। কিন্তু সেই তুলনায় কয়টি দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে? এখানে আপনাদের তাহযীব ও তামাদ্দুনের দুর্গ তৈরি হওয়া উচিত ছিল। আলোর এক সুউচ্চ মিনারা বিদ্যমান থাকা উচিত ছিল। যার আলোর ছটা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারত। যে আলোর মিনারা আলোচিত মিনারায় পরিণত হত যে, এখানে একটি আলোর মিনারা আছে। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে অনেক কিছুই দিয়েছেন। কালিকটে আমি আপনাদেরকে দেখেছি। আপনাদের সম্পর্কে আমি অনবগত নই। মাদ্রাজে আমি আপনাদেরকে দেখেছি। এমনকি কলম্বোতেও আপনাদের কথা শুনেছি। এত অর্থ-সম্পদ, কল-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকারী হয়েও আপনারা জাতির সমস্যা সমাধান করতে পারেননি। কোন বিবেকবান ব্যক্তি কি এটা মেনে নিতে পারে যে, এত অর্থ-সম্পদের অধিকারী সম্প্রদায়, অথচ তাদের একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠান অর্ধনির্মিত, অপূর্ণাঙ্গ হয়ে পড়ে আছে? এর কারণ কী? রহস্য কোথায়? এটা তো এক দিনের ব্যাপার। আপনাদের নাম এখানে প্রবাদে পরিণত হওয়া উচিত ছিল। নিজের মাতৃভাষায় এখানে লিটারেচার প্রকাশিত হওয়া উচিত ছিল। জামেয়া ইসলামিয়া এমন একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া উচিত ছিল, যা সমগ্র দাক্ষিণাত্যে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানরূপে স্বীকৃতি লাভ করত। এখান থেকে সমগ্র দাক্ষিণাত্যে দ্বীনের খোরাক ও পুষ্টি সরবরাহ হত। তা না হোক, জামেয়া ইসলামিয়াকে এরূপ সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলুন, যাতে নিদেনপক্ষে এই এলাকার জন্য তা যথেষ্ট হয়। জামেয়াকে জাতির জন্য একটি সুদৃঢ় দূর্গরূপে তৈরি করুন। আমার মনে হয় আমার কথাগুলো আপনারা বুঝতে পেরেছেন। আমাদের মস্তিষ্ক, আমাদের জ্ঞান ও বুদ্ধি আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারে, প্রতারিত করতে পারে।

কিন্তু আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে প্রতারিত করতে পারেন না, ভুল পথের নির্দেশনা দিতে পারেন না। তিনি তো আমাদেরকে টিকে থাকার এবং মর্যাদাসহ জীবন ধারণের পথ বাতলে দেন। যদি সেই পথ ধরে চলতে থাকেন তবে আপনাদের জীবনে বসন্ত আসবে, আপনারা ফুলে ফলে সমৃদ্ধ হবেন। অতঃপর আপনাদের দিকে চোখ উঠিয়ে কোন শত্রু তাকানোর সাহস পাবে না। কেউ তার চেষ্টা করলে তার চোখ তুলে নেওয়া হবে, যে আঙ্গুল আপনাদের দিকে উত্থিত হবে, তা কর্তন করে নেওয়া হবে এবং আপনারা থাকবেন আল্লাহ তাআলার কুদরতী হেফাযতে। হাঁ, যদি মনগড়া জীবন যাপন করতে থাকেন, প্রবৃত্তির দাস হয়ে জীবন যাপন করতে থাকেন, শুধু নিজেকে এবং নিজের সন্তানদেরকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, জাতির স্বার্থ, দ্বীনের স্বার্থ দেখার ইচ্ছা আপনাদের মধ্যে জাগ্রত না হয়, দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকেন তাহলে মনে রাখবেন, আল্লাহ তাআলার নিকট এক কানা-কড়ির মূল্যও আপনাদের থাকবে না। ভয়াবহ স্রোত এসে আপনাদের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। টেরও পাবেন না, সব কোথায় চলে গেল। অর্থ-সম্পদ আপনাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। আপনাদেরকে রক্ষা যদি কোন কিছু করতে পারে তা হল আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধতা, ত্যাগ ও কুরবানী। আমি তো আমার কথা শেষ করে চলে যাব কিন্তু কথাগুলো আপনাদের মন-মস্তিষ্কে গাঁথা থাকবে। আপনাদের অন্তরে আমানতরূপে তা বহাল থাকবে। আল্লাহ না করুন, কখনও যদি ঐরূপ মন্দ সময় এসে উপস্থিত হয় তখন আপনাদের মন-মস্তিষ্ক ডেকে বলবে, কোন একজন বক্তা কথাগুলো বলেছিল কি? আমি আন্তরিকতার সাথে দোয়া করি, আল্লাহ আপনাদেরকে হেফাযত করুন। আপনাদেরকে মর্যাদার সঙ্গে রাখুন। আপনাদেরকে উন্নতি দান করুন। সকল বিপদ ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন। আমি শুধু এতটুকু বলব, রক্ষা পাওয়ার পথ একমাত্র রাসূলপ্রদর্শিত পথ। ত্যাগ ও কুরবানী করুন। আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করুন। ত্যাগ ও কুরবানীর মাধ্যমে, সময় ব্যয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করুন। আল্লাহর দ্বীনের মদদ করুন, আল্লাহও আপনাদের মদদ করবেন, আপনাদেরকে রক্ষা করবেন।

ওয়া আখিরু দাওয়ানা আনিল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00