📘 উলামা তলাবা > 📄 দ্বীনি যোগ্যতাও অর্জন করুন

📄 দ্বীনি যোগ্যতাও অর্জন করুন


আরেকটি কথা হল, জ্ঞান-গরিমায় যোগ্যতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের মধ্যে দ্বীনী যোগ্যতাও সৃষ্টি করুন। আপনার মধ্যে উলামায়ে রব্বানীর কিছু গুণাবলী সৃষ্টি হোক। ঐ সকল বুযুর্গের চারিত্রিক গুণাবলীর ঝলক আপনার মধ্যে সৃষ্টি হোক। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আলী মুঙ্গেরী (রহ.) ও তাঁর সমকালীন সঙ্গী বুযুর্গগণের মধ্যে যে চারিত্রিক গুণাবলী ছিল। আপনার মধ্যে সৃষ্টি হোক আত্মমর্যাদাবোধ, সৃষ্টি হোক আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক। ইবাদতে কিছুটা রঙ ধরুক। সাধারণের তুলনায় আপনার সার্বিক মান কিছুটা উন্নত হোক। অতএব বিষয় দুইটি।

এক. জ্ঞানগত ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জন।

দুই. আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক। অর্থাৎ উলামায়ে রব্বানীর যে বৈশিষ্ট্য তা আপনার মাঝেও সৃষ্টি হোক। তাঁদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তাঁদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হত। আখেরাতের কথা নতুন করে স্মরণ হত এবং অন্তর বিগলিত হত, হৃদয়ে এক প্রকার উত্তাপ ও দাহ সৃষ্টি হত। আল্লাহর প্রেম জাগরিত হত। এই জাতীয় বৈশিষ্ট্য আপনার মধ্যেও কিছুটা থাকা উচিত।

অতঃপর কর্মজীবনে দুইটি কাজ আপনাদেরকে করতে হবে। প্রথম করণীয় সম্পর্কে আমি যা বলব তা এইজন্য নয় যে, এখানে আমীরে শরীয়ত এবং শরয়ী আইন-কানুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত আছেন। আমি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই কথাটি বলছি। যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয় তার দায়িত্ব হয় বিশ্বস্ততার সাথে পরামর্শ দান। আপনারা যখন আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আমার প্রতি আপনারা আস্থা রেখেছেন তখন যা বলব তা আন্তরিকতার সাথেই বলা উচিত। তাই আমি বলছি, আপনারা কমপক্ষে বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশে শরয়ী বিধি-বিধান ব্যবস্থার প্রসার ঘটান। প্রদেশের সর্বত্র এর জাল বিছিয়ে দিন। কোন গ্রাম, কোন পাড়া, মহল্লা যেন এই ব্যবস্থার আওতাবহির্ভূত না থাকে। এটা আপনাদের এই প্রদেশের জন্য বিরাট নেয়ামত।

বিহারবাসীদের কোন বিষয়ে আমার যদি ঈর্ষা হয় তাহলে তা এই বিষয়ের উপরই। এখানে ঈর্ষাযোগ্য অনেক বৈশিষ্ট্যই যে আছে তা অনস্বীকার্য। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঈর্ষা হয় এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিরাট নেয়ামত দান করেছেন। এখানে শরয়ী আইন-কানুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে। লোকেরা এর মূল্য বুঝতে পারছে না। আবার কিছু লোক এই ব্যবস্থাকে দুর্বল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে। আমি আজ ট্রেনে বলছিলাম, আমি বুঝতে পারি না আমাদের এই অবহেলা কেন? আমাদের বড়দেরকে কিয়ামতের ময়দানে শরয়ী শাসন ব্যবস্থা ব্যতীত জীবন যাপনের বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের কোন শাসনব্যবস্থা ছিল না। এতদসম্পর্কে যেসব হুঁশিয়ারী হাদীসে উচ্চারিত হয়েছে তাতে ভীত কম্পিত হতে হয়। তো আপনাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আপনারা মাওলানা না হলেও বলতাম যে, আপনাদের প্রথম দায়িত্ব হল, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ সমাপনান্তে এই ইমারতে শরঈয়্যাহর কাজকে দৃঢ় করা, একে বিস্তৃত করা, প্রদেশের সর্বত্র এর শাখা গঠন করা। উড়িষ্যার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার খুব বেশি জানা নেই। তবে সেখানকার ছাত্রও যদি এখানে থাকে তাহলে বিহার ও উড়িষ্যা উভয় প্রদেশের ছাত্রদেরকে আমি বলব, উভয় প্রদেশকে এই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করুন এবং উভয় প্রদেশকে এরূপভাবে এই ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করুন, যাতে প্রদেশ দুটির সর্বত্র সম্পূর্ণ শরয়ী বিধানাবলী অনুযায়ী জীবন যাপিত হয়। এটা আপনাদের প্রথম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের উপর অন্য কোন কর্তব্যকে আমি প্রাধান্য দিচ্ছি না। আপনারা যদি এই দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে পারেন তাহলে আপনাদের প্রতি এই মাদরাসার ও জামেয়া রাহমানিয়ার অবদানের ঋণ আপনাদের দ্বারা কিছুটা হলেও পরিশোধ হবে। সেই সঙ্গে আপনারা জামেয়া রাহমানিয়ার কৃতজ্ঞ ও কৃতি সন্তানরূপে প্রমাণিত হবেন। মাদরাসাসমূহের সন্তানদের মধ্য থেকে আপনারা এক বিশেষ স্থানের অধিকারী হয়ে যাবেন।

দ্বিতীয় দায়িত্ব হল মক্তব প্রতিষ্ঠা। আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। প্রতিটি গ্রামে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন বড় বড় মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কল্যাণ ও প্রয়োজনীয়তা এত বেশি দেখছি না। আমি এটাকে সমর্থনও করি না। বরং বড় বেশি প্রয়োজন প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় মক্তব প্রতিষ্ঠাকরণ। যাতে মুসলমানের সন্তানরা দ্বীনের প্রাথমিক বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারে। তারা যেন হালাল- হারাম, কুফর ও ঈমান, শিরক ও তাওহীদের মাঝে পার্থক্য করতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কমিউনিজমের প্রসার ঘটছে। আমরা বসে আছি অথচ সমগ্র ভারত দ্রুতগতিতে বদলে যাচ্ছে। সব কিছুকে জাতীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পালা এসেছে। মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালা এসেছে। ভবিষ্যতে মাদরাসার পালা আসতে পারে। অতএব মক্তবের জাল বিস্তার করুন। মসজিদকে মুসলমানদের জীবনের কেন্দ্রে পরিণত করুন। পরিবর্তনের হাওয়া যেখানে সর্বশেষে এসে পৌঁছবে তা হল মসজিদ। অতএব মসজিদকেই জীবনের কেন্দ্রে পরিণত করুন। কারণ সেখানে পরিবর্তনের বাতাস বিলম্বে পৌঁছবে। হয়তোবা মসজিদ পর্যন্ত এই দূষিত বাতাস পৌঁছতে পৌঁছতে কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অতএব মসজিদকে কেন্দ্র বানান এবং অধিক হারে মক্তব প্রতিষ্ঠা করুন। মক্তব পরিচালনা করুন। এই চিন্তা যেন আপনাকে কখনও পেয়ে না বসে যে, আপনি মাদরাসায় পড়েছেন, উঁচু স্তরের জ্ঞান অর্জন করেছেন আর এখন মক্তবে শিশুদেরকে পড়াচ্ছেন, সাধারণ গ্রামবাসীদের সাথে আপনাকে মেলামেশা করতে হচ্ছে, আপনার অর্জিত ইলম বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসবের চিন্তা করবেন না। উদ্দেশ্য আল্লাহকে রাজী-খুশি করা এবং ইসলামকে রক্ষা করা। এই দুটি ক্ষেত্রের কথা বললাম।

📘 উলামা তলাবা > 📄 আমার আবেদন

📄 আমার আবেদন


ভ্রাতৃবৃন্দ। আর কথা নয়। এতক্ষণ যা বললাম আপনারা যদি তা স্মরণে রাখেন তবেই যথেষ্ট। হতে পারে আমার বক্তব্যে আপনারা কোন আবেগ ও উত্তাপের কিছু পেলেন না, গবেষণামূলক জ্ঞানের কোন কথা পেলেন না কিন্তু যা বললাম তা করার মত দুটি কাজ। কাজ দুটি যদি করতে পারেন তবে ইনশাআল্লাহ আজ থেকে দশ বৎসর পরে বুঝতে পারবেন যে, আপনারা এক মহা দূর্গ তৈরি করে ফেলেছেন। দূর্গটি শুধু নিজের জন্য নয় বরং সকল মাদরাসার জন্য এবং দ্বীনী দাওয়াত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য। পক্ষান্তরে এই কাজ দুটি যদি না হয় তাহলে আমি এই সকল মাদরাসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আশঙ্কা করছি, এই সকল মাদরাসার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও এর ব্যবস্থাপনা অদূর ভবিষ্যতে সরকারী ব্যবস্থাপনার আওতাধীন হয়ে যাওয়ার। আমরা তখন এর মোকাবেলা করতে সক্ষম হব না। কিন্তু আপনারা যদি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য প্রাপ্তির অধিকার ও যোগ্যতা সৃষ্টি করে ফেলতে পারেন, এখানে জীবিত থাকার অধিকার আপনাদেরও আছে প্রমাণ করতে পারেন তবে ইনশাআল্লাহ কোন পরিবর্তনের থাবাই আপনাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না, নিশ্চিহ্ন করতে সফল হবে না।

📘 উলামা তলাবা > 📄 অনুকম্পা লাভের আবেদনের উপর ভিত্তি করে কোন জাতি টিকে থাকতে পারে না

📄 অনুকম্পা লাভের আবেদনের উপর ভিত্তি করে কোন জাতি টিকে থাকতে পারে না


এইরূপ কর্মতৎপরতা যদি না থাকে তাহলে শুধু অতীত ঐতিহ্য ও ইতিহাসের দোহাই দিয়ে, শুধু অনুকম্পা ও দয়া লাভের প্রত্যাশার উপর ভিত্তি করে না কোন দল টিকে থাকতে পারে, না কোন জাতি, না কোন প্রতিষ্ঠান, না কোন সংস্থা টিকে থাকতে পারে। আপনারা যদি কোন আহ্বান ও দাওয়াতের প্রতীক্ষায় থেকে থাকেন তাহলে আমার আহ্বান ও দাওয়াত এটাই। আপনারা কোন পরামর্শ লাভের অপেক্ষায় থাকলে আমার পরামর্শ এটাই। এছাড়া আর আমার কিছু বলার নেই। আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা যেন আপনাদের যোগ্যতাকে চূড়ান্ত স্তরে উপনীত করেন। আপনারা বড় সৌভাগ্যবান। আপনারা একজন বড় ব্যক্তিত্বের আশ্রয়ে আছেন। একটি বড় কেন্দ্রের সাথে আপনারা সম্পৃক্ত। কেন্দ্রটি ইলম ও জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র, সঙ্গে সঙ্গে ইমারতের সাথেও কেন্দ্রটি সম্পৃক্ত। আমি দুআ করি, আপনারা যেন কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধানে পূর্ণ তারবিয়াত লাভ করতে পারেন, উন্নতি করতে পারেন, নিজের যোগ্যতাকে সফলতার চূড়ান্তে উপনীত করতে পারেন এবং নিজের জ্ঞান-গরিমা দ্বারা সমাজ ও জাতির কল্যাণ সাধন করতে পারেন।

ওয়া আখিরু দাওয়ানা আনিল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00