📘 উলামা তলাবা > 📄 মাদরাসার অবস্থাও তদ্রূপ

📄 মাদরাসার অবস্থাও তদ্রূপ


আমাদের দ্বীনী ইলমের অবস্থাও তদ্রূপ। আপনি কোন শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করুন, স্বাতন্ত্র্য ও বিশিষ্টতা নিজের মধ্যে সৃষ্টি করুন। পৃথিবী আপনাকে শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নেবে। জীবন-জীবিকার সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে। মাদরাসাগুলোর যে সঙ্কট বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে তা দূরীভূত হবে। আমাদের হীনমন্যতা, অলসতা এবং কাজে ফাঁকি দেওয়ার মানসিকতার ফলেই আজ যোগ্যতা সৃষ্টি হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমাদের মাওলানা মিন্নাতুল্লাহ সাহেবের বিশেষ অভিজ্ঞতা থাকবে নিশ্চয়ই। তিনি নাদওয়াতুল উলামা ও দারুল উলুম দেওবন্দ উভয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ রোকন। তিনি দেখে থাকবেন, কী ধরনের আলেম এই প্রতিষ্ঠানদ্বয় থেকে বের হচ্ছে। দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষার্থী, অথচ ইবারত বিশুদ্ধভাবে পড়তে পারে না।

'ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত'—এই প্রথম হাদীসটিই বিশুদ্ধভাবে পাঠ করতে পারে না। তরজমা করে ভুল। এই জাতীয় আলেমই কয়েক বৎসর যাবৎ বের হচ্ছে। আমার ধারণায় গত বিশ বৎসর যাবৎ এই অবক্ষয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যগোচর হচ্ছে। অথচ এই জাতীয় আলেমরাই অভিযোগ করে যে, যুগ এখন আমাদের নেই। আমাদের পিতা-মাতা মাদরাসায় পড়িয়ে আমাদের জীবন বরবাদ করে দিয়েছে। আমি বলছি যে, আজও এরূপ ব্যক্তি আছেন যিনি কোন বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন আর যেখানে আছেন সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আছেন। অতএব যদি কেউ কোন বিষয়ে যোগ্যতা ও পাণ্ডিত্য অর্জন করে নেয় তবে অর্থনৈতিক সঙ্কট সহ তার সব ধরণের পেরেশানী দূর হয়ে যাবে। যদি কারও ক্ষেত্রে এরপরও অর্থনৈতিক সঙ্কট ও পেরেশানীর বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় তবে বুঝতে হবে তার মধ্যে অন্য কোন পারিপার্শ্বিক দুর্বলতা বিদ্যমান। কিছুক্ষণ পূর্বে মাওলানার মজলিসে আমি বলছিলাম যে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আমি দারুল উলুম মাজাহিরুল উলুমে বয়ান করেছি। সেখানে আমি বলেছিলাম যে, কোন যোগ্য ও পণ্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে যদি তোমরা শোন অথবা ইতিহাসে পাঠ কর যে, তিনি জীবনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁর মূল্যায়ন কেউ করেনি, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস কর যে, তাঁর মধ্যে কোন দুর্বলতা ছিল, তাঁর মধ্যে কোন ধরণের পাগলামী ছিল, তাঁর নাক উঁচু ছিল, তাঁর মধ্যে অহংকার ছিল, গালিগালাজ করত, দুর্ব্যবহার করত ইত্যাদি কোন না কোন মন্দ স্বভাব তাঁর মধ্যে ছিল। ফলে মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি। নতুবা আমি এটা মানি না যে, কোন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি—যিনি সু-স্বভাবের অধিকারী, সঙ্গতিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের অধিকারী—ধ্বংস ও বরবাদ হয়ে গেছেন, তাঁর কেউ মূল্যায়ন করেনি।

📘 উলামা তলাবা > 📄 প্রকৃতপক্ষে পরিশ্রমের অভাব

📄 প্রকৃতপক্ষে পরিশ্রমের অভাব


আমি আরও একটা কথা বলতে চাই। কথাটা আমার মত ব্যক্তির মুখ থেকে শুনলে আপনারা অবাক হবেন বৈ কি। আপনারা জানেন, আমাদের নাদওয়াতুল উলামার ভিত্তিই স্থাপিত হয়েছে পাঠ্যসূচি সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে। এর প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আলী সাহেব (রহ.) প্রাচীন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিক্ষাগ্রহণ করেই বিশাল ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। প্রাচীন পাঠ্যসূচিও যে পণ্ডিত ও যোগ্য আলেম তৈরি করতে পারে তিনি ছিলেন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনিই ছিলেন পাঠ্যসূচি সংস্কারের প্রবক্তা ও উদ্যোক্তা। আমরা পাঠ্যসূচি সংস্কারের পক্ষপাতি। মাওলানা মিন্নাতুল্লাহ সাহেবও এর সমর্থক। কিন্তু আমি আপনাদেরকে বলতে চাই—আসল বিষয় পাঠ্যসূচি নয়। বরং আসল বিষয় হচ্ছে মেহনত ও সাধনা এবং শিক্ষকবৃন্দের শিক্ষাদান। প্রাচীন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিক্ষাগ্রহণ করেও ঐসব ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছেন নতুন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিক্ষাগ্রহণ করে যাদের ন্যায় ব্যক্তিত্ব এখন তৈরি হচ্ছে না। তাহলে বিষয়টা কী? সমস্যা কোথায়? অথচ এটা যথোচিত সত্য যে, প্রাচীন পাঠ্যসূচির তুলনায় নতুন পাঠ্যসূচি অনেক ক্ষেত্রেই শ্রেষ্ঠ।

'মাকামাতে হারীরী' ও 'নাফহাতুল ইয়ামান' অপেক্ষা গদ্য সাহিত্যের আর কোন উত্তম কিতাব ছিল না, যার দ্বারা ভাষা ও সাহিত্যের বিশুদ্ধ ও উন্নত রুচি সৃষ্টি হতে পারত, মনের ভাব প্রকাশের যথোপযুক্ত যোগ্যতা সৃষ্টি হতে পারত তখন তো এইরূপ বড় বড় ব্যক্তি তৈরি হয়েছেন যাঁরা অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। আল্লামা যাবিদী সৃষ্টি হয়েছেন, মাওলানা গোলাম আলী বুলগেরামী সৃষ্টি হয়েছেন, শায়খ মুহসিন বিন ইয়াহইয়া সৃষ্টি হয়েছেন, নবাব সিদ্দীক হাসান খান সৃষ্টি হয়েছেন, মাওলানা সদরুদ্দীন আযুরদাহ সৃষ্টি হয়েছেন।

আর আজ গদ্য সাহিত্যের চমৎকার সব কিতাব পড়ানো হচ্ছে কিন্তু সেই রকম ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। পাঠ্যসূচিই যদি এক্ষেত্রে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করত তাহলে ঐরূপ ব্যক্তি সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য ছিল। আমাদেরকেই দেখুন। মাওলানা মাসউদ আলম নদভী সাহেব আমাদের সঙ্গী ছিলেন, বন্ধু ছিলেন। তিনি আরবী সাহিত্যে অত্যন্ত পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন। কিন্তু তিনি পড়েছিলেন কী? এই মাকামাতে হারীরী ইত্যাদি গ্রন্থই পড়েছিলেন। আমিও ছাত্র জীবনে মাকামাতে হারীরী পড়েছি। অন্যান্য কিতাবও পড়েছি। আসলে এক্ষেত্রে শিক্ষকবৃন্দের মেহনতের ভূমিকা ছিল যথেষ্ট। সঙ্গে ছিল ছাত্রদের মেহনত ও অক্লান্ত পরিশ্রম। পাঠ্যগ্রন্থ শুধু সহায়ক ছিল মাত্র। আমি এখনও পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের পক্ষে। তবে শুধু পাঠ্যসূচি পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষক উভয়ের পরিশ্রম অত্যাবশ্যক।

📘 উলামা তলাবা > 📄 আসল কথা

📄 আসল কথা


প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! আসল ব্যাপার হল আপনারা মেহনত ও পরিশ্রম ত্যাগ করেছেন। আপনাদের মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা নেই, প্রতিযোগিতার স্পৃহা নেই। আপনারা কোন কিছুতে যোগ্যতা অর্জন এবং নিজের মধ্যে শিক্ষকতার শক্তি সৃষ্টি করণকে গর্বের বিষয় বলে মনে করেন না। অথচ আমাদের পূর্বসুরীগণ মুদাররেসী ও শিক্ষকতার মোকাবেলায় বাদশাহী গ্রহণ করতেও প্রস্তুত ছিলেন না। শিক্ষকতাকে তাঁরা এরূপ সম্মানজনক পেশা বলে গণ্য করতেন যে, মন্ত্রীত্বকেও পায়ে ঠেলে দিতে কুণ্ঠিত হতেন না। কেউ কেউ এরূপ ছিলেন যে, তিনি মন্ত্রী অথচ শিক্ষকতাও করছেন। লাক্ষ্ণৌতে মন্ত্রী আসাফদৌল্লার যুগে, সাআদত আলী খানের যুগে দিনে তাঁরা মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, রাতে শিক্ষকতা করতেন। এ রকম বহু দৃষ্টান্ত আপনারা পাবেন। আল্লামা তাফাজ্জল হুসাইন নামে ইলমে রিয়াজীর (গণিতশাস্ত্র) একজন পণ্ডিত আলেম ছিলেন। তিনি মন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। কিন্তু শিক্ষাদান কার্য এরূপভাবে করতেন, মনে হত তিনি শুধুই শিক্ষক। এ রকম অনেক দৃষ্টান্ত আছে। অথচ আমাদের ও আপনাদের দৃষ্টিতে শিক্ষক হওয়া গর্বের বিষয় থাকেনি। বরং আমরা শিক্ষক হতে লজ্জাবোধ করি। যা হোক প্রথম কথা হল, আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করুন, যোগ্যতা সৃষ্টি করুন, কোন এক শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করুন।

প্রিয় ছাত্রবৃন্দ। আজ মাদরাসাসমূহে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, যাকে ক্রাইসিস বা সঙ্কট বলা চলে তা হল মুদাররিস সমস্যা। আজ মুদাররিস বা শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এত বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বসে আছি, কয়েকটি বিষয়ের দুই-তিনজন শিক্ষক আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু আমরা শিক্ষক পাচ্ছি না। দারুল উলূম দেওবন্দ শায়খুল হাদীস পাচ্ছে না। এটা এখন আর গোপন বিষয় নয় যে, দারুল উলুম দেওবন্দে শায়খুল হাদীস সমস্যার যথোপযুক্ত সমাধান হয়নি। হযরত মাওলানা মিন্নাতুল্লাহ সাহেব দারুল উলূম দেওবন্দের একজন শক্তিশালী রোকন। শায়খুল হাদীস সমস্যার সমাধানকল্পে গঠিত বিশেষ কমিটির তিনি একজন সদস্য। সমস্যাটির যে সমাধান করা হয়েছে তিনি তাতে সন্তুষ্ট নন। আমিও সন্তুষ্ট নই। কেউই সন্তুষ্ট নয়। অর্থাৎ দারুল উলূমের মান অনুযায়ী সমস্যাটির সমাধান হয়নি। কোন শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। এইজন্য আমি বলছি এই কাজটি আপনারা করুন। আপনারা আদৌ এটা ভাববেন না যে, আপনারা অখ্যাত এক কোণে পড়ে আছেন। দেওবন্দে পড়ছেন না বা নাদওয়াতুল উলামায় পড়ছেন না—এই সঙ্কোচবোধ যেন আপনাদের না থাকে। এখানে থেকেই আপনারা যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করুন। দেওবন্দ আপনার মুখাপেক্ষী হবে। নাদওয়াতুল উলামা আপনাকে তালাশ করবে, আপনাকে পেতে চাইবে। আমি আপনাদেরকে লিখে দিতে পারি, আপনারা কোন বিষয়ে যোগ্যতা ও পাণ্ডিত্য অর্জন করলে দেওবন্দে আপনাদের জন্য স্থান সংরক্ষিত, নাদওয়াতুল উলামায় আপনাদের জন্য জায়গা সংরক্ষিত।

📘 উলামা তলাবা > 📄 দ্বীনি যোগ্যতাও অর্জন করুন

📄 দ্বীনি যোগ্যতাও অর্জন করুন


আরেকটি কথা হল, জ্ঞান-গরিমায় যোগ্যতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের মধ্যে দ্বীনী যোগ্যতাও সৃষ্টি করুন। আপনার মধ্যে উলামায়ে রব্বানীর কিছু গুণাবলী সৃষ্টি হোক। ঐ সকল বুযুর্গের চারিত্রিক গুণাবলীর ঝলক আপনার মধ্যে সৃষ্টি হোক। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আলী মুঙ্গেরী (রহ.) ও তাঁর সমকালীন সঙ্গী বুযুর্গগণের মধ্যে যে চারিত্রিক গুণাবলী ছিল। আপনার মধ্যে সৃষ্টি হোক আত্মমর্যাদাবোধ, সৃষ্টি হোক আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক। ইবাদতে কিছুটা রঙ ধরুক। সাধারণের তুলনায় আপনার সার্বিক মান কিছুটা উন্নত হোক। অতএব বিষয় দুইটি।

এক. জ্ঞানগত ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জন।

দুই. আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক। অর্থাৎ উলামায়ে রব্বানীর যে বৈশিষ্ট্য তা আপনার মাঝেও সৃষ্টি হোক। তাঁদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তাঁদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হত। আখেরাতের কথা নতুন করে স্মরণ হত এবং অন্তর বিগলিত হত, হৃদয়ে এক প্রকার উত্তাপ ও দাহ সৃষ্টি হত। আল্লাহর প্রেম জাগরিত হত। এই জাতীয় বৈশিষ্ট্য আপনার মধ্যেও কিছুটা থাকা উচিত।

অতঃপর কর্মজীবনে দুইটি কাজ আপনাদেরকে করতে হবে। প্রথম করণীয় সম্পর্কে আমি যা বলব তা এইজন্য নয় যে, এখানে আমীরে শরীয়ত এবং শরয়ী আইন-কানুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত আছেন। আমি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই কথাটি বলছি। যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয় তার দায়িত্ব হয় বিশ্বস্ততার সাথে পরামর্শ দান। আপনারা যখন আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আমার প্রতি আপনারা আস্থা রেখেছেন তখন যা বলব তা আন্তরিকতার সাথেই বলা উচিত। তাই আমি বলছি, আপনারা কমপক্ষে বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশে শরয়ী বিধি-বিধান ব্যবস্থার প্রসার ঘটান। প্রদেশের সর্বত্র এর জাল বিছিয়ে দিন। কোন গ্রাম, কোন পাড়া, মহল্লা যেন এই ব্যবস্থার আওতাবহির্ভূত না থাকে। এটা আপনাদের এই প্রদেশের জন্য বিরাট নেয়ামত।

বিহারবাসীদের কোন বিষয়ে আমার যদি ঈর্ষা হয় তাহলে তা এই বিষয়ের উপরই। এখানে ঈর্ষাযোগ্য অনেক বৈশিষ্ট্যই যে আছে তা অনস্বীকার্য। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঈর্ষা হয় এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিরাট নেয়ামত দান করেছেন। এখানে শরয়ী আইন-কানুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে। লোকেরা এর মূল্য বুঝতে পারছে না। আবার কিছু লোক এই ব্যবস্থাকে দুর্বল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে। আমি আজ ট্রেনে বলছিলাম, আমি বুঝতে পারি না আমাদের এই অবহেলা কেন? আমাদের বড়দেরকে কিয়ামতের ময়দানে শরয়ী শাসন ব্যবস্থা ব্যতীত জীবন যাপনের বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের কোন শাসনব্যবস্থা ছিল না। এতদসম্পর্কে যেসব হুঁশিয়ারী হাদীসে উচ্চারিত হয়েছে তাতে ভীত কম্পিত হতে হয়। তো আপনাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আপনারা মাওলানা না হলেও বলতাম যে, আপনাদের প্রথম দায়িত্ব হল, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ সমাপনান্তে এই ইমারতে শরঈয়্যাহর কাজকে দৃঢ় করা, একে বিস্তৃত করা, প্রদেশের সর্বত্র এর শাখা গঠন করা। উড়িষ্যার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার খুব বেশি জানা নেই। তবে সেখানকার ছাত্রও যদি এখানে থাকে তাহলে বিহার ও উড়িষ্যা উভয় প্রদেশের ছাত্রদেরকে আমি বলব, উভয় প্রদেশকে এই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করুন এবং উভয় প্রদেশকে এরূপভাবে এই ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করুন, যাতে প্রদেশ দুটির সর্বত্র সম্পূর্ণ শরয়ী বিধানাবলী অনুযায়ী জীবন যাপিত হয়। এটা আপনাদের প্রথম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের উপর অন্য কোন কর্তব্যকে আমি প্রাধান্য দিচ্ছি না। আপনারা যদি এই দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে পারেন তাহলে আপনাদের প্রতি এই মাদরাসার ও জামেয়া রাহমানিয়ার অবদানের ঋণ আপনাদের দ্বারা কিছুটা হলেও পরিশোধ হবে। সেই সঙ্গে আপনারা জামেয়া রাহমানিয়ার কৃতজ্ঞ ও কৃতি সন্তানরূপে প্রমাণিত হবেন। মাদরাসাসমূহের সন্তানদের মধ্য থেকে আপনারা এক বিশেষ স্থানের অধিকারী হয়ে যাবেন।

দ্বিতীয় দায়িত্ব হল মক্তব প্রতিষ্ঠা। আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। প্রতিটি গ্রামে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন বড় বড় মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কল্যাণ ও প্রয়োজনীয়তা এত বেশি দেখছি না। আমি এটাকে সমর্থনও করি না। বরং বড় বেশি প্রয়োজন প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় মক্তব প্রতিষ্ঠাকরণ। যাতে মুসলমানের সন্তানরা দ্বীনের প্রাথমিক বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারে। তারা যেন হালাল- হারাম, কুফর ও ঈমান, শিরক ও তাওহীদের মাঝে পার্থক্য করতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কমিউনিজমের প্রসার ঘটছে। আমরা বসে আছি অথচ সমগ্র ভারত দ্রুতগতিতে বদলে যাচ্ছে। সব কিছুকে জাতীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পালা এসেছে। মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালা এসেছে। ভবিষ্যতে মাদরাসার পালা আসতে পারে। অতএব মক্তবের জাল বিস্তার করুন। মসজিদকে মুসলমানদের জীবনের কেন্দ্রে পরিণত করুন। পরিবর্তনের হাওয়া যেখানে সর্বশেষে এসে পৌঁছবে তা হল মসজিদ। অতএব মসজিদকেই জীবনের কেন্দ্রে পরিণত করুন। কারণ সেখানে পরিবর্তনের বাতাস বিলম্বে পৌঁছবে। হয়তোবা মসজিদ পর্যন্ত এই দূষিত বাতাস পৌঁছতে পৌঁছতে কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অতএব মসজিদকে কেন্দ্র বানান এবং অধিক হারে মক্তব প্রতিষ্ঠা করুন। মক্তব পরিচালনা করুন। এই চিন্তা যেন আপনাকে কখনও পেয়ে না বসে যে, আপনি মাদরাসায় পড়েছেন, উঁচু স্তরের জ্ঞান অর্জন করেছেন আর এখন মক্তবে শিশুদেরকে পড়াচ্ছেন, সাধারণ গ্রামবাসীদের সাথে আপনাকে মেলামেশা করতে হচ্ছে, আপনার অর্জিত ইলম বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসবের চিন্তা করবেন না। উদ্দেশ্য আল্লাহকে রাজী-খুশি করা এবং ইসলামকে রক্ষা করা। এই দুটি ক্ষেত্রের কথা বললাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00