📘 উলামা তলাবা > 📄 যুগ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে

📄 যুগ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে


আপনাদের সামনে কোন রাখ-ঢাকের কথা নয় এবং এর জন্য কোন গবেষণা ও মেধা খরচের প্রয়োজন পড়ে না। কথাটি হল যুগ অত্যন্ত সংবেদনশীল, যুগ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, বরং বলা যায় পরিবর্তন হয়ে গেছে। তবে যতটুকু পরিবর্তন হয়েছে ততটুকুতে যুগ স্থির নাই বরং অবিরাম পরিবর্তন হয়েই চলেছে। অতএব মাদরাসার ছাত্রদের উল্লেখিত শ্রেণীদ্বয় থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে, ধৈর্য ও স্থৈর্যের সাথে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত, তাদের করণীয় কী, তাদের ভবিষ্যত কোন পর্যায়ে, তারা কিরূপ খেদমত আঞ্জাম দিতে পারবে?

📘 উলামা তলাবা > 📄 দ্বীন কোন মিউজিয়াম বা যাদুঘর নয়

📄 দ্বীন কোন মিউজিয়াম বা যাদুঘর নয়


প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! আপনারা বড় বড় গ্রন্থাদি অধ্যয়ন করার যোগ্যতা রাখেন। হয়তো সেগুলো অধ্যয়ন করে থাকবেন অথবা ভবিষ্যতে অধ্যয়ন করবেন। এই বিষয়ে বড় বড় উন্নত মানের গ্রন্থাদি রয়েছে, লেখকগণ শাস্ত্র আকারে গবেষণামূলক এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যে, কোন মতাদর্শ শুধু তার অতীত ইতিহাস, শুধু শক্তি, শুধু জিদ ও অস্বীকৃতি নিয়ে টিকে থাকতে পারে না। যত উপযুক্ত মতাদর্শই হোক, তাকে শুধু ইতিহাসের মর্যাদা দিয়ে, পবিত্র উত্তরাধিকার রূপে কিংবা প্রাচীন নিদর্শনরূপে টিকিয়ে রাখা যায় না। বড় বড় শহরে আপনারা প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণ কেন্দ্র দেখে থাকবেন, জীবজন্তুর যাদুঘর যেমন আছে, তেমনি জড় পদার্থের যাদুঘরও আছে। আপনাদের প্রদেশের রাজধানী পাটনাতেও এরূপ যাদুঘর থেকে থাকবে। এইসব প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে শুধু সংরক্ষণই নয়, বরং এগুলোকে হৃদয় দিয়ে আগলে রাখা হয় আর এর জন্য বিশাল ও বিস্তীর্ণ জায়গা-জমি বরাদ্দ করা হয়, সরকারের অর্থ বাজেটের এক বিরাট অংশ এর পিছনে ব্যয় করা হয়। এইসবই যথাস্থানে যথার্থ। কিন্তু এর মূল্য কতটুকু? দর্শনযোগ্য, জীবনসংশ্লিষ্টতাবর্জিত বিনোদনের একটি লাভ-লোকসানহীন মাধ্যম ব্যতীত এগুলো আর কিছু নয়। জীবনের জন্য অপরিহার্য কোন অনুষঙ্গরূপে এগুলোকে সংরক্ষণ করা হয় তা নয়। এসব যাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ কোন সেবা, পরিষেবা আঞ্জাম দিচ্ছে এজন্য এগুলোকে সংরক্ষণ করা হয় তাও নয়। বরং শুধু এজন্য যে, মানুষের ব্যস্ত জীবনে কখনও কখনও বিনোদনের প্রয়োজন পড়ে, আর এগুলো বিনোদনের একটি মাধ্যম। তাছাড়া এসব প্রাচীন নিদর্শনাবলী নিয়ে গর্ব করার সুযোগ পাওয়া যায়। কারণ তা প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক। কোন জাতির, কোন দেশের অতীত সভ্যতার এগুলো একটি বড় নিদর্শন। শুধু এসব কারণেই এগুলোকে সংরক্ষণ করা হয়। যদি এসব নিদর্শনাবলীর মধ্যে বুদ্ধি ও চেতনা বিদ্যমান থাকত অথবা এসব নিদর্শনাবলী যে সকল অতীত মানুষগুলোর সাথে সম্পৃক্ত তারা যদি জীবিত থাকত তাহলে নিশ্চয়ই তারা এই সংরক্ষণ কর্মকে সাধুবাদ জানাত না।

📘 উলামা তলাবা > 📄 এই পজিশনকে কোন জীবন্ত জাতি, কোন বার্তাবাহক জাতি গ্রহণ করে নিতে পারে না

📄 এই পজিশনকে কোন জীবন্ত জাতি, কোন বার্তাবাহক জাতি গ্রহণ করে নিতে পারে না


কোন জীবন্ত জাতি— যারা কোন মতাদর্শের ধারক, যাদের একটি অবস্থান ও মর্যাদা আছে, যারা কোন সত্যকে দৃঢ়ভাবে লালন করে থাকে এবং কোন অসত্যকে প্রত্যাখ্যান করে থাকে, যাদের একটি সুনির্দিষ্ট পথ আছে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা আলো ও চক্ষু দান করেছেন, যারা কিছু বিষয়কে ভ্রান্ত এবং কিছু বিষয়কে সঠিক বলে মনে করে— এই পজিশনকে গ্রহণ করে নিতে পারে না। তারা তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার সীমাবদ্ধতাকে এবং যেমন করে প্রাচীন ফারাও সম্রাটদের লাশকে মমি করে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তেমনি তাদেরকে ক্ষতিকর নয় মনে করে কোন জায়গায় নিরাপদে থাকতে দেওয়ার সুযোগ দানকে মেনে নিতে পারে না।

ইংরেজ জাতির কাছে মিউজিয়ামের যত অধিক গুরুত্ব রয়েছে তত গুরুত্ব অন্য জাতির কাছে নাই। এই কারণে পৃথিবীর অন্য কোথাও এত সংখ্যক মিউজিয়াম নেই যত সংখ্যক আছে লন্ডন শহরে। তো যারা দ্বীনী মাদরাসাগুলোর পক্ষে এই বলে ওকালতি ও সুপারিশ করে যে, এই মাদরাসাগুলোকে প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন স্বরূপ মিউজিয়ামরূপে টিকিয়ে রাখা দরকার তাদের এই কথাকে অন্ততপক্ষে আমি গ্রহণ করে নিতে প্রস্তুত নই। আমি মনে করি, হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.) এবং হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আলী সাহেব মুঙ্গেরী যে মতাদর্শের ওকালতি করেছিলেন এবং যে জন্য নাদওয়াতুল উলামা এবং দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল, যে মতাদর্শের সাথে আমাদের সকলেই সম্পৃক্ত তার ভিত্তি কখনই এর উপর ছিল না। এটা দয়া কিংবা অনুকম্পা ভিক্ষা নয়। কোনরূপ করুণা প্রার্থনা নয়। এরূপ নয় যে, শহরে জনবসতি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হওয়ার কারণে স্থান সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করা সত্ত্বেও, গৃহ নির্মাণের জন্য স্থানাভাব প্রকট হওয়া সত্ত্বেও কিছু স্থান তো কবরস্থানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। অদ্রূপ মাদরাসার জন্যও কিছু জায়গা না হয় ছেড়ে দেওয়া হল, তাতে আপনাদের ও শহরবাসীদের কিইবা আসে-যায়। মাদরাসা সম্পর্কে এইরূপ ধারণা পোষণ এবং মাদরাসাকে এইরূপ পর্যায়ে অবনমনকে অন্ততপক্ষে আমরা গ্রহণ করে নিতে পারি না।

মোটকথা, একদল তো ধারণা পোষণ করে যে, এই মাদরাসাগুলো তাদের প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে ফেলেছে, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার যোগ্যতা তাদের অবশিষ্ট নেই। এখন শুধু প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক হিসাবে এগুলোকে টিকিয়ে রাখা যায়।

আমি আপনাদেরকে বলছিলাম যে, প্রথমত আমি মাদরাসার এই পজিশনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নই। দ্বিতীয়ত পৃথিবীতে কোন কিছু যদি এই পজিশনে চলে আসে, কোন কিছু যদি নিজের জন্য এই পজিশনকে গ্রহণ করে নেয়, তবে তার অস্তিত্ব রক্ষার সুযোগ বেশি একটা থাকে না। কবরস্থানকে বর্তমানে কিছু লোক যদি টিকিয়ে রাখেও, তবে ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখবে না। আপনারা দেখুন, দিল্লীতে খাজা বাকী বিল্লাহর কবরস্থান কত বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে ছিল। যারা তাঁর কবরস্থান দেখেছেন তাঁদের অনেকেই এখনও জীবিত আছেন। আমি যখন প্রথম দিল্লী যাই তখন তাঁর কবরস্থানটিকে দেখেছিলাম বিস্তীর্ণ এক ময়দানরূপে। হাজার হাজার কবর সেখানে ছিল। কিন্তু এখন সেসব কবরের কোন চিহ্ন নেই। এখন শুধু খাজা বাকী বিল্লাহর মাজার এবং তৎসংলগ্ন সামান্য কিছু জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। অবশিষ্ট সব জায়গায়ই আবাদ হয়ে গেছে। এর কারণ হল, শহরের প্রয়োজন। শহরের বিভিন্ন প্রয়োজন দিন দিন বৃদ্ধি পায়। শহরের প্রয়োজনকে জীবন জগতের অতি বাস্তবতা বলে মনে করা হয়। আর কবরস্থানজাতীয় বিষয়গুলোকে নিছক বিবেচনাযোগ্য বিষয় বলে মনে করা হয়, যা বাস্তবতার মোকাবেলা করতে পারে না। অতএব প্রথমত মাদরাসাগুলোর বর্ণিত পজিশন যথাযথ নয়। দ্বিতীয়ত ইতিহাস প্রমাণ করে যে, এইসব বিষয়গুলোকে চলমান ও বাস্তবমুখী জীবন— যে জীবন কোন কিছুকে গ্রহণ করে নিতে এবং নিজের অংশ থেকে তাকে কোন অংশ দিতে প্রস্তুত নয়— খুব বেশি দিন বরদাশত করে না, বেশি দিন টিকে থাকতে দেয় না।

📘 উলামা তলাবা > 📄 শুধু প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপর ভর করে কোন প্রতিষ্ঠান জীবিত থাকতে পারে না

📄 শুধু প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপর ভর করে কোন প্রতিষ্ঠান জীবিত থাকতে পারে না


পৃথিবীতে কোন প্রতিষ্ঠানই শুধু এই কারণে অস্তিত্বশীল থাকতে পারে না যে, তা আজ থেকে শত বা দ্বিশত বর্ষ পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আর তা এই এই কল্যাণকর কাজ করেছে। শুধু ইতিহাসের উপর ভর করে, শুধু ইতিহাস চর্বণ করে কোন প্রতিষ্ঠান, কোন দর্শন, কোন মতাদর্শ না টিকে থেকেছে, না টিকে থাকবে। আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং তার প্রতি মানুষের সুদৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির শুধু অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন আর বলেন যে, প্রতিষ্ঠানটি অতীতে এই এই কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করেছে, তাহলে মানুষ তাতে আদৌ কর্ণপাত করবে না। আজ যদি কেউ নীরবও থাকে তবে ভবিষ্যতে কোনদিন তার ভিতর থেকে জোরালো ও শক্তিশালী দাবি উত্থাপিত হবে যে, প্রতিষ্ঠানটিকে বিলুপ্ত করে দেওয়া উচিত।

মহাজগতের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় আল্লাহ তাআলার যে চিরন্তন রীতি অব্যাহতভাবে কার্যকর রয়েছে তা আমরা কুরআন কারীম ও ইতিহাস অধ্যয়ন করে জানতে পারি। সে রীতি হল— অধিকতর কল্যাণকর বস্তুর বিদ্যমানতা ও অব্যাহত অস্তিত্বের রীতি। অর্থাৎ যা অধিকতর কল্যাণময় তাই অব্যাহতভাবে অস্তিত্বশীল থাকে। অবশ্য বর্তমান পৃথিবী যে নিয়ম ও রীতির কথা বলে তা হল যোগ্যতর বস্তুর অস্তিত্বশীলতার রীতি। অর্থাৎ যে বস্তু অধিকতর যোগ্য তাই অব্যাহতভাবে অস্তিত্বশীল থাকে। এই রীতিকে বলা হয় Survival of the fittest। কিন্তু বস্তুতপক্ষে কুরআন কারীম দ্বারা যা জানা যায় তা হল 'কল্যাণকর বস্তুর অব্যাহত অস্তিত্বশীলতা' রীতি। স্পষ্ট ভাষায় কুরআন কারীমে রীতিটির কথা ব্যক্ত হয়েছে। আপনারা আয়াতটি বহুবার পড়ে থাকবেন এবং তার তাফসীরও দেখে থাকবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ كَذَالِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ

'যা ফেনা ও জঞ্জাল তা ভেসে চলে যায়, আর যা মানুষের উপকার করে তা জমিতে থেকে যায়।' (সূরা রাদ ১৭)

যে বস্তুতে কোন কল্যাণ সাধনের যোগ্যতা নেই, যার মধ্যে কোন পয়গাম ও বার্তা নেই, যা কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে না, মানুষের অস্তিত্ব, উৎকর্ষ লাভ, মানুষের উন্নতি যার উপর নির্ভরশীল নয় কুরআন মাজীদ তাকে زَبَد (ফেনা ও জঞ্জাল) বলে আখ্যায়িত করেছে। শব্দটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গভীর তাৎপর্যবহ। زَبَد বলা হয় ফেনাকে। অর্থাৎ সাগরের ঐ ফেনা যার মধ্যে অস্তিত্বের কোন উপাদান নাই, স্থিরতা ও দৃঢ়তার কোন যোগ্যতা নাই। তা সাগরের উত্তালতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র, উত্তালতার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ যা সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে স্থায়িত্ব থাকে না। ফুলে ফেঁপে ওঠা এক বস্তু, যার মধ্যে শুধু বাতাস পূর্ণ থাকে অথবা বলা যায়, ফেনা হল নিচের জঞ্জাল ও আবর্জনা যা বৃষ্টির পানির উপর ভেসে ওঠে। অতঃপর ভেসে যায় কিংবা কোন জায়গায় যেয়ে কোন কিছুতে আটকে যায়। তার মধ্যে মানুষের কল্যাণ সাধনের কোন উপাদান বিদ্যমান থাকে না। তার অস্তিত্ব স্থায়ী হয় না। কারণ তার মধ্যে অস্তিত্বের স্থায়িত্বের কোন যোগ্যতা নাই। আল্লাহ তাআলার প্রতিপালন নীতি তার অস্তিত্বের স্থায়িত্বকে অনুমোদন দেয় না। কারণ এই জগতের ঠিক ততটুকু ব্যাপ্তি ও উদারতা নেই যতটুকু থাকলে যাবাদ বা ফেনার অস্তিত্ব বহাল থাকার সুযোগ হতে পারত। যদি সাগরের ফেনা বা পতিত বৃষ্টির সঞ্চিত পানির উপরিভাগের জঞ্জালের অস্তিত্বও বহাল থাকত, তাহলে কল্যাণকর অনেক কিছুর অস্তিত্ব বহাল থাকা মুশকিল হয়ে যেত। কল্যাণকর বস্তুর অস্তিত্ব বহাল থাকার সুযোগ হতো না।

তো আমাদের মাদরাসাগুলো যদি নিজেদের অস্তিত্বকে বহাল রাখতে চায়, জীবন জগতে নিজের জন্য স্থান সৃষ্টি করে নিতে চায়, জীবনের অধিকার প্রমাণ করতে চায় তাহলে তার নিজের মধ্যে মানুষের কল্যাণ সাধনের উপযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রমাণ করতে হবে যে, জীবন জগতের জন্য মাদরাসা নামক প্রতিষ্ঠানও অপরিহার্য, মাদরাসা ব্যতীত মনুষ্য জীবন অকার্যকর, অচল। কারণ যুগ যে ভাষাকে বোঝে এবং প্রত্যেক যুগেই যে ভাষা বুঝে এসেছে সে ভাষার জন্য ভাষ্যকারের দরকার নেই। আপনি যদি আরবীতে বলেন, তাও যুগ বুঝে নেবে, ইংরেজীতে বললেও বুঝে নেবে, নীরব ভাষাতে বললেও বুঝে নেবে। একজন বোবাও যদি তা বলে এবং প্রকাশ করে যুগ তাও বুঝে নেবে। যুগ যে ভাষাকে বোঝে তা হল কল্যাণের ভাষা, উপকারীর উপকারিতার ভাষা, জীবন-অধিকারের ভাষা। ইকবাল যেমনটা বলেছেন, জীবন হল অধিকারের নাম। উপযোগিতার নাম। জীবন কারও অনুকম্পা নয়, জীবন অর্জনের বিষয়। তা অর্জন করে নিতে হয়। আপনি জীবন-অধিকার, জীবন-উপযোগিতা সৃষ্টি করুন। সমগ্র জগত তা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে। দুই দুইটি বৃহৎ যুদ্ধের পরও জার্মানী তার অস্তিত্ব হারায়নি, কারণ সে তার উপযোগিতার প্রমাণ দিয়েছে। ফলে কেউ তাকে চিরদিনের জন্য নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেনি। অনেক জাতিই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু অনেক জাতিই বার বার পরাজিত হয়েও টিকে আছে। মুসলমানরা তাতারীদের বর্বর হামলার শিকার হয়েছিল। তাতারীরা মুসলমানদের মধ্যে যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল, বোধ করি পৃথিবীর অন্য কোন জাতিই ঐরূপ গণহত্যার শিকার কখনও হয়নি। কিন্তু যেহেতু মুসলিম জাতির মধ্যে যা মানুষের কল্যাণ সাধন করে (مَا يَنْفَعُ النَّاسَ)—এর উপাদান মওজুদ ছিল, তারা একটি আদর্শের ধারক ছিল, তাদের মধ্যে ছিল জীবন জগতের জন্য প্রাণবন্ত পয়গাম ও বার্তা; তাই তারা পুনরায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছিল। তাদের সামনে তাতারীরা অবশেষে অবনত হতে বাধ্য হয়েছিল। প্রথমে মুসলমানরা তাতারীদের তরবারীর নিচে শির দিয়েছে, তাদের কাছে পরাস্ত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে মুসলমানদের কল্যাণ-সাধন-গুণের সামনে, তাদের আদর্শ ও পয়গামের সামনে তাতারীদের তরবারীকে, তাদের মন-মস্তিষ্ক ও হৃদয়কে অবনত হতে হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00