📄 পৃষ্ঠপোষক শক্তি
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসরাঈল ও আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা। এত দিন আধুনিক শিক্ষিতদের মাঝে ইসলামের প্রতি বিরূপ ধারণা ও তাদের হীনমন্যতা ছিল সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু সেই সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে আমেরিকা ও ইসরাঈল নামক রাষ্ট্র দুটির শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকতা। এটা সূর্যের আলোর ন্যায় স্পষ্ট। আমি আরব দেশের বিভিন্ন সমাবেশে, বিশেষত রাবেতায়ে আলমে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ সভাসমূহে স্পষ্ট করে বলেছি যে, বর্তমান যুগে ইসলামী বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় সঙ্কট হল আমেরিকা ও ইসরাঈলের ইসলাম-বিরোধী ঐক্য। ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসের দিক থেকে উভয় দেশের মধ্যে বিরোধ ও বিভেদ অত্যন্ত প্রকট। কারণ এক দেশ তো হযরত ঈসা (আ.) কে আল্লাহর পুত্র বলে বিশ্বাস করে আর অপর দেশ তাঁর জন্ম ও জাতকেই অবৈধ বলে প্রচার করে। কিন্তু উভয় দেশ ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনায় ঐক্যবদ্ধ। কারণ ইসলাম পৃথিবীর নতুন প্রজন্মকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করছে। আমেরিকা ও ইউরোপেও ইসলামের প্রতি মানুষ ঝুঁকে পড়ছে এবং ইসলাম গ্রহণ করে নিচ্ছে। দিন দিন ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অতএব যে প্রকারেই হোক ইসলামকে খতম করতে হবে।
ইহুদীদের বিশ্বাস— বর্তমানে পাশ্চাত্য শক্তির জন্য একমাত্র হুমকি মুসলমানদের নব উত্থান, ইসলাম ও মুসলমানদের নব জাগরণ। তাদের পত্র-পত্রিকাগুলো আমি সরাসরি পাঠ করেছি। ঐ সকল পত্র-পত্রিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পৃথিবীকে চারিত্রিক দিক থেকে চরম অধঃপতনে নিপতিত করতে হবে, চারিত্রিকভাবে দেউলিয়া করে দিতে হবে। নভেল, উপন্যাস, সিনেমা, নাটক, টেলিভিশন ও গান-বাদ্যের মাধ্যমে মানবীয় গুণাবলীকে, মানুষের চরিত্র ও ক্যারেক্টরকে এবং আল্লাহ প্রদত্ত মানব-মেধা ও মানব স্বভাবকে— যা কল্যাণ ও অকল্যাণের পার্থক্য করতে সক্ষম তাকে ধ্বংস করে দিতে হবে। পুরো পৃথিবীকে দাবার কোটে পরিণত করতে হবে। যা থাকবে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। যে গুটি যেখানে ইচ্ছা সেখানেই যেন আমরা সেই গুটিকে চালতে পারি। আর এ ব্যাপারে আমেরিকা ও ইসরাঈলের পরিকল্পিত ঐক্য এখন আর গোপন কোন বিষয় নয় বরং দিবালোকের ন্যায় প্রকাশ্য বিষয়।
তো আমি বলছিলাম— ইসলামী বিশ্বের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কট ও সমস্যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথা। রাজনৈতিক নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের রয়েছে এমন সব প্রভাব বিস্তারকারী ক্ষমতা, এমন সব উৎপাদনকারী শক্তি যা অন্য কিছুতে নেই। এই কারণে বিভিন্ন ধর্মও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। ইসলাম শুধু রাজনীতিকে গুরুত্বই দেয়নি বরং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের রূপরেখা কী হবে তার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছে। মুসলমানদেরকে বলা হয়েছে, তারা যেন মানবগোষ্ঠীর পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং আল্লাহ নির্দেশিত ও রাসূল প্রদর্শিত পথে মানবগোষ্ঠীকে পরিচালিত করে। 'রাজনৈতিক নেতৃত্ব' দুটি শব্দ মাত্র নয়, এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। যে কথা বারবার বলা হয় তার গুরুত্ব কমে যায়। শব্দ দুটি সেরূপ নয়। শব্দ দুটি সব সময়ই তাৎপর্য ও গুরুত্ববহ। তো আমি বলছিলাম যে, বর্তমান যুগে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রক্ষমতা যাদের হাতে, সেই সঙ্গে সমাজের চিন্তা ও মনন সৃষ্টির নেতৃত্ব যাদের হাতে, সমাজের চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতি, তাদের বিশ্বাস ও মনন গড়ার উপকরণ যাদের হাতে সেই সকল ব্যক্তিদের— আমি বলছি মুসলমানদের কথা— সেই সকল মুসলমানদের নব্বই, পঁচানব্বই শতাংশ ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করে না, তারা বিশ্বাস করে না যে, ইসলামই একমাত্র সত্য দ্বীন, বিশুদ্ধ দ্বীন। জীবনের নিরাপত্তা দান করতে, ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে, সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে একমাত্র অবলম্বন ইসলামী অনুশাসনের প্রতিষ্ঠা —এ কথায় তারা বিশ্বাস করে না। হতে পারে এটা তাদের স্বোপার্জিত জ্ঞান। কিন্তু আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলছি যে, আপনি যদি গভীরে প্রবেশ করেন, তবে আপনি জানবেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বদা এই প্রচেষ্টায় লিপ্ত যে, কি করে নবশিক্ষিত মুসলমানদের হাতে ঐ সকল সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকা ও পুস্তিকা তুলে দেওয়া যায়, যার কারণে তারা ইসলাম সম্পর্কে হতাশ হতে বাধ্য হয়; বিশেষত ইসলামের চিরন্তনতা সম্পর্কে তারা সন্দিহান হয়ে যায় এবং তাদের অন্তরে একথা বদ্ধমূল হয়ে যায় যে, বর্তমান যুগে ইসলাম মানবতাকে পথ প্রদর্শন করতে অক্ষম। কোন রাষ্ট্র, কোন সমাজ শুধু ইসলামী শিক্ষার উপর ভিত্তিশীল হয়ে টিকে থাকতে পারে না।