📄 মিল্লাতে ইসলামের দৃঢ় ও সত্যপন্থী আলেমগণের কীর্তি ও কর্ম
সুধী! আমাদের পূর্বসূরী আলেমগণ দ্বীনী শিক্ষার যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তা প্রকৃতপক্ষে স্ব-স্ব যুগে এবং স্ব-স্ব স্থানে ইসলামের দূর্গ ছিল। হাঁ সেগুলোকে দূর্গ হিসাবে আখ্যায়িত করাই সমীচীন।
তীক্ষ্ণদৃষ্টি সম্পন্ন, আল্লাহর তাওফীক প্রাপ্ত সে সকল মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতাগণ (যাঁদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী ও অধিক উজ্জ্বলতর হলেন হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী ও মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মাদ আলী মুঙ্গেরী রহ.) নিজেদের ভবিষ্যত-দৃষ্টি, ঈমানী বিচক্ষণতা, গভীর জ্ঞান ও গভীর পর্যবেক্ষণ, অনুমান ও খোদাপ্রদত্ত পরিণামদর্শিতার যোগ্যতা দ্বারা নিজের দেশ শুধু নয় বরং বিদেশের ও চলমান যুগের এবং ইতিহাসের যথার্থ বাস্তবতা পরখ করে নিয়েছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, শুধু শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন নয়, বরং কৃষ্টি-কালচার, সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কুপ্রভাব থেকে জাতির নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে, তাদেরকে চিন্তাগত ও বিশ্বাসগত ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে, দ্বীন ও ঈমান বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করতে এমনকি দ্বীনের সঙ্গে নিজের সামান্য সম্পৃক্ততাকে লজ্জাকর বলে মনে করা থেকে ও দ্বীনের সম্পৃক্ততাজনিত হীনমন্যতা থেকে রক্ষা করতে এরূপ কেন্দ্রসমূহের প্রয়োজন যেখানে এলে সৃষ্টি হবে দ্বীনের গভীর জ্ঞান, ঈমানী দৃঢ়তা, জ্ঞান ও ঈমানে গর্ববোধ ও শোকরের মেজায, শুধু তাই নয়, বরং যেখানে এলে সৃষ্টি হবে দ্বীন ও ঈমানের প্রচার-প্রসার, দাওয়াত ও তাবলীগের আবেগময় মেজাজ। যে কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হবে দ্বীন ও শরীয়ত মোতাবেক চলার দৃঢ় মানসিকতার, সৃষ্টি হবে দ্বীনী স্বকীয়তা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং দ্বীন ও ঈমান জন্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতাবোধ। যারা দ্বীনের একবিন্দুও ছাড় দিতে কখনও প্রস্তুত হবে না।
কোন রকম অন্ধ গোষ্ঠীপ্রীতি থেকে বলছি না, বরং এটা একটা ঐতিহাসিক সত্য যে, তাঁরা তাঁদের এই দায়িত্ব সফলতার সাথে আঞ্জাম দিয়েছেন এবং তাদেরই কারণে আজ অবধি এই উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধর্মীয় স্বকীয়তা, চিন্তা, বিশ্বাস, সভ্যতা-সংসৃতি ও চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে আকীদা-বিশ্বাস সুরক্ষিত আছে, দ্বীনের ফরজ-ওয়াজিবসমূহ জীবন্ত রয়েছে। মসজিদসমূহ আবাদ রয়েছে এবং তাদের কারণেই ইসলামের কেন্দ্র জাযিরাতুল আরব ও পবিত্র হেজায ভূমির সাথে হজ্জ ও উমরার মাধ্যমে, ভালবাসা ও অনুরাগের মাধ্যমে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে আরবী ভাষা ও দ্বীনী উলুমের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
ঐ সকল দ্বীনী নেতৃবর্গ, আত্ম-সচেতন মুসলমান, আলেম ও দ্বীনী পথপ্রদর্শকগণ নিজেদের ঐ দ্বীনী প্রেরণা, জাতি-সচেতনতা, দ্বীনী বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতাকে ভারত উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং তাঁরা তাঁদের ঐ গুণাবলীকে গোটা মুসলিম বিশ্বে কাজে লাগিয়েছেন। আর সেই পর্যায়ে খেলাফত আন্দোলন, তুরস্ককে সহায়তাদান এবং জাযিরাতুল আরবের পবিত্রতা রক্ষা পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা, আগ্রহ এবং কর্মতৎপরতা থেমে থাকেনি। এ বিষয়ে বিশদ বর্ণনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কারণ এতদসংক্রান্ত ইতিহাসের অনেক কিছুই সংরক্ষিত আছে। এখানে উপস্থিত সুধীগণের অনেকেই সেসব ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী। আর অনেকেই সেসব ইতিহাস একাধিক সূত্রে, একাধিক মুখে শুনে থাকবেন।
📄 হক্কানী উলামায়ে কেরামের কীর্তিগাঁথা
কিন্তু একথা হয়তো অনেকের মাথায় নেই যে, ভারতের আলেম সমাজ ও মাদরাসায় শিক্ষাপ্রাপ্তগণ তাঁদের ইলম ও জ্ঞান, চিন্তা ও বুদ্ধি, লেখনী ও যুক্তি দ্বারা ভারতে তো বটেই ভারতের বাইরেও খ্রিস্টবাদের প্রচারণামূলক আক্রমণকে রুখে দিয়েছেন। খ্রিস্টানদের রচিত মুসলমানদের অন্তরে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টিকারী লিটারেচারসমূহের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন। তাঁদের এই কর্ম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং ইলম ও দ্বীনের কেন্দ্র দেশগুলো—যেখানে শতাব্দী প্রাচীন ও বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী লেখার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে—তাঁদের এই কর্মতৎপরতার সুফল স্বীকার করে নিয়েছে। আমরা ঐ সকল বিরল ও বিস্ময়কর লেখনীর কথা উল্লেখ করছি না যা ভারতের ইসলামী যুগে লিখিত হয়েছিল এবং আরবের জ্ঞানী-গুণীজন ও শাস্ত্রীয় ইমামগণ পর্যন্ত যেগুলোর স্বাতন্ত্র্য ও নজরহীনতার স্বীকৃতি দান করেছেন।
📄 মাওলানা রহমাতুল্লাহ কীরানবীর অবদান
তন্মধ্যে হযরত মাওলানা রহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহ.) [মৃত্যু ১৮৯১ ঈসায়ী ১৩০৮ হিজরী] এর লিখিত অনবদ্য কিতাব 'ইজহারে হক'-এর নাম উল্লেখযোগ্য। এই কিতাবে তিনি গণিতের ফলাফলের ন্যায় (যেমন দুইয়ে দুইয়ে চার হয়, চারে চারে আটই হয়) অকাট্যভাবে বর্তমান বাইবেলের বর্ণনাদিতে স্ব-বিরোধিতা ও পারস্পরিক সাংঘর্ষিকতা প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই কিতাবের জবাব আজ পর্যন্ত খ্রিস্টান জগত ও গীর্জার পাদ্রী পুরোহিতরা দিতে পারেনি। আমি নিজে ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় লেখা দেখেছি যে, যত দিন পর্যন্ত এই কিতাবের প্রকাশনা ও প্রচার কার্য চালু থাকবে, তত দিন খ্রিস্টবাদের প্রচার কার্য সফল হতে পারবে না।
দ্বিতীয় কীর্তি হযরত মাওলানা শিবলী নুমানী (রহ.)-এর। মিসরের প্রসিদ্ধ খ্রিস্টান আলেম, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক 'তারীখুত তামাদ্দুনিল ইসলামী' নামে একটি কিতাব লিখে প্রকাশ করেছিল। লেখক এই কিতাবে ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুনিপুণভাবে তীব্র আক্রমণ করেছিল। কিতাবটি পড়লে ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে পাঠকের মস্তিষ্কে অনিবার্যভাবে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হত। জীবনের এক উত্তম আদর্শ হওয়ার যোগ্যতা ইসলামের মধ্যে অনুপস্থিত বলে ধারণা হত। মাওলানা শিবলী নুমানী মরহুম এই কিতাবের উপযুক্ত ও দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে যেয়ে লিখলেন— الانتقাদ على التاريخ التمدن الاسلامي
আরবের উলামা সমাজ এমনকি আল্লামা সাইয়েদ রশীদ রেজা মরহুম কিতাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এরূপ একটি কিতাব লেখার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। এইসব প্রতিরোধ ও জবাবমূলক লেখনী প্রচেষ্টা ছাড়াও ভারতের আলেম ও গবেষকগণের আরও কিছু লেখনী ও রচনামূলক কীর্তি রয়েছে, আরও কিছু গবেষণামূলক ও তুলনাধর্মী রচনা রয়েছে। আরব দেশসমূহেও যার দৃষ্টান্ত মেলা কঠিন। এখানে আমরা কয়েকটি লেখনী ও কিতাবের নাম উল্লেখ করছি।
মাওলানা শিবলী প্রণীত (الجزية في الاسلام) (ইসলামে কর ব্যবস্থা), মাওলানা সাইয়েদ সুলাইমান নদভীর খুতবাতে মাদ্রাজ ও আরদুল কুরআন (ارض القرآن), মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদীর ইংরেজী ও উর্দু অনুবাদ ও তাফসীর। তাফসীরটিতে তিনি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার আলোকে কুরআনের অসাধারণত্ব এবং অন্যান্য আসমানী গ্রন্থ অপেক্ষা কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর আরও একটি কিতাব আছে 'মুশকিলাতুল কুরআন' (مشكلات القرآن)। মাওলানা আবদুল বারী নদভী প্রণীত 'মাহযাব ও আকীদাত' ইত্যাদি।
আমাদের সামনে এই সত্যটি থাকা উচিত যে, ভারতের আলেম সমাজ কখনও ইসলামী বিশ্বের দেশসমূহের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে রাখেননি। সেখানে উদ্ভুত ফেতনা, সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টিমূলক কর্মকাণ্ড এবং ধর্মহীনতা, আরব জাতীয়তাবাদের ন্যায় ভয়াবহ পরিণাম সৃষ্টিকারী ইসলামবিরোধী প্রচার-প্রচারণা ও দাওয়াতের ব্যাপারে কখনও উদাসীন থাকেননি। এই পর্যায়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার কৃতী সন্তান ও এখানে শিক্ষাপ্রাপ্ত আলেমগণ ঐ সকল বর্হিদেশীয় ফেতনাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ঐ সকল ফেতনা ছিল ইসলামের কেন্দ্রভূমি আরব বিশ্বে সন্দেহ ও সংশয় ও দোদুল্যমানতা সৃষ্টিকারী, খ্রিস্টবাদ, ইয়াহুদীবাদ ও ধর্মহীনতার পথ উন্মুক্তকারী।
📄 ইয়াহুদী পরিকল্পনা
বহু শত বৎসর যাবৎ ইয়াহুদীদের পরিকল্পনা হল গোটা বিশ্বকে দাবার কোট বানানো। যে দাবার কোটটিও থাকবে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। যে গুটিকে যেখানে চালতে চাইবে সেখানেই চালতে তারা সক্ষম হবে এইরূপ কোট। এই লক্ষ্য অর্জন করতে তারা নির্দয় ও নিষ্ঠুর হতে এবং মানবতাকে পদদলন করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। আর খ্রিস্টান জগত ফিলিস্তিনে ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ইয়াহুদীদের সাথে যৌথভাবে ঐ লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা পালন করছে। এখানে একজন আমেরিকান পণ্ডিত হ্যামুয়েল জ্যুয়েমার এর ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি পেশ করছি। খ্রিস্টবাদ প্রচারকদের একটি সম্মেলনে তিনি এই ভাষণ দিয়েছিলেন।
'প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে আমাদের কর্মতৎপরতার লক্ষ্য হবে মুসলমানদের নতুন প্রজন্ম। যারা মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে সক্ষম হবে। যাতে মুসলমানেরা নিজেদের পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত থাকে, আর আমাদের প্রচেষ্টা তাদেরকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ও টুকরো-টুকরো করে দেয়। ইসলামী দেশসমূহকে আমাদের এই নির্দিষ্ট কর্মতৎপরতাকে অন্যান্য সকল কর্মকাণ্ডের উপর প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ এই নতুন প্রজন্মের অন্তরে যদি ইসলাম-প্রীতি ও ইসলামের প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে ইসলাম পুনরায় তার নতুন যৌবন ফিরে পাবে। অতএব এমতাবস্থায় জরুরী হল মুসলমানদের নতুন প্রজন্মকে তাদের বিশ্বাস ও চেতনা বিন্দু থেকে বিচ্যুত ও সম্পর্কচ্ছিন্ন করে বহু দূরে নিয়ে যাওয়া এবং এটা করতে হবে তাদের চেতনা ও বিশ্বাসগত উৎকর্ষ পূর্ণতায় পৌঁছার পূর্বেই।'
সুধী! ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের যৌথ এই প্রচেষ্টার ফল ইতোমধ্যে উন্নত আরব দেশগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। চাক্ষুষ দৃষ্ট হচ্ছে। তাদের এই প্রচেষ্টার প্রাথমিক ফল এই হয়েছে যে, দ্বীনী মর্যাদাবোধ এবং ইসলামের উপর গর্ববোধ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্মের মাঝে দুর্বল ও বিরল হতে চলেছে এবং ক্ষমতাসীন ও শাসকবর্গের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
ধর্মহীনতা, অবিশ্বাস, পাশ্চাত্য সভ্যতা ও পাশ্চাত্য শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদের প্রেরণা ও শাহাদত লাভের আকাঙ্ক্ষা তো অনেক দূরের বিষয়, ঐ সকল বিষয়ের প্রতি আরব দেশগুলোতে তো বর্তমানে সামান্য ঘৃণার ও বীতশ্রদ্ধ মনোভাবও আর অবশিষ্ট নেই। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য শক্তির নিগড় হতে মুক্ত হবার কোন চেষ্টা ও প্রচেষ্টাও আর তাদের মধ্যে বিদ্যমান নেই। আরব দেশসমূহের শাসকবর্গ তথাকথিত স্বাধীনতা ও ধর্মহীনতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
অথচ কুরআন মাজীদের কি অসাধারণ দৃষ্টি যে, তার প্রথম সূরাতেই—যে সূরাটি প্রতিটি নামাযে প্রতি রাকাতে পঠিত হয় তথা সূরা ফাতেহায়—ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান জাতির কথা এক সাথে উল্লেখ করে তাদের থেকে আত্মরক্ষার দুআ করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে— صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ তাদের পথ আমাদেরকে প্রদর্শন কর যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ—ওদের পথ নয়, যারা ক্রোধ আপতিত এবং তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট।