📘 উলামা তলাবা > 📄 ঐতিহাসিক ফেতনা

📄 ঐতিহাসিক ফেতনা


সুধী! ইতিহাস চর্চাকারী হিসাবে এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যকে অতি নিকট থেকে দেখার সুবাদে এবং অনুসন্ধান ও অভিজ্ঞতার আলোকে আমি আপনাদের সামনে আরজ করছি যে, মুসলমানদের ইতিহাসে মুসলমানদের জন্য দুটি মহা ফেতনা ও বিপদের সৃষ্টি হয়েছিল। তন্মধ্যে একটি খ্রিস্টানদের ক্রুসেড। যার লক্ষ্য শুধু বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করা ছিল না বরং হারামাইন শরীফাইন দখল করাও তাদের লক্ষ্য ছিল। যদি আল্লাহ তাআলা সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবীকে দাঁড়িয়ে করিয়ে না দিতেন, তাহলে আল্লাহ না করুন আজ ইসলামী বিশ্বের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকত না। গায়েবী ফায়সালায় তাঁর ন্যায় একজন মর্দে মুজাহিদ সৃষ্টি হলেন এরপর তিনি মুসলমানদের ইতস্তত-বিক্ষিপ্ত শক্তিগুলোকে সুসংহত ও সুসংঘবদ্ধ করলেন এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তাদেরকে এমনভাবে পরাস্ত করলেন যে, দ্বিতীয়বার ইসলামী বিশ্বের বিরুদ্ধে আক্রমণের সাহস আর কখনও তাদের হয়নি। তবে উল্লেখ্য যে, ক্রুসেডারদের এই আক্রমণের পিছনে তাদের কোন দাওয়াত, কোন আন্দোলন কিংবা কোন দর্শন নিয়ামক হিসাবে কাজ করেনি। তাদের আক্রমণ ছিল শুধু আক্রমণের উদ্দেশ্যেই। ধ্বংস সাধনের উদ্দেশ্যেই।

দ্বিতীয় ফেতনাটি ছিল তাতারী ফেতনা। তাতারীরা ছিল হিংস্র জাতি। তারা মুসলিম বিশ্বের উপর আক্রমণ করে তাণ্ডব চালিয়েছিল। গণহত্যার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বকে তছনছ করে দিয়েছিল। যদিও তাদের লক্ষ্যস্থল ছিল শুধু ইরাক, ইরান ও তুর্কিস্তান। এই দেশ তিনটিতেই তারা ব্যাপক গণহত্যা ও লুটতরাজ চালিয়ে দেশ তিনটিকে তছনছ করে দিয়েছিল, তবু তাদের সম্পর্কে মানুষের অন্তরে এত প্রচণ্ড ভীতি জন্মেছিল যে, তৎকালে এই কথাটি প্রবাদে পরিণত হয়েছিল যে, তোমাদেরকে কেউ যদি বলে যে, তাতারীরা পরাস্ত হয়েছে তবে তা বিশ্বাস করো না। তদ্রূপ কোথায় ইরাক, ইরান আর কোথায় ইংল্যাণ্ডের সাগর পাড়। ঐতিহাসিকগণ লেখেন যে, তাতারীদের ভয়ে ইংল্যাণ্ডের সাগর পাড়ের জেলেরা বহু দিন পর্যন্ত মাছ শিকার করতে বের হয়নি। তাতারীদের সেই নৃশংসতার যুগে এই শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল যে, মুসলমানরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু তাতারীদের এই আক্রমণ ছিল সেনা আক্রমণ, তাদের আক্রমণ অস্ত্রকেন্দ্রিক ছিল। তাদের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল শুধু হত্যা। এই আক্রমণের সঙ্গে তাদের কোন আদর্শ বিস্তার লক্ষ্য ছিল না। তাদের আক্রমণের পিছনে কোন আদর্শিক লক্ষ্য কিংবা কোন আদর্শিক আন্দোলন বা দর্শন নিয়ামক হিসাবে কাজ করেনি। তাতারীরা নিজেদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিস্তারের লক্ষ্যে তাদের আক্রমণ পরিচালনা করেনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00