📘 উলামা তলাবা > 📄 শহীদের রক্ত বৃথা যায় না

📄 শহীদের রক্ত বৃথা যায় না


প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! মনে রেখ, শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। তা সহস্র বাগানে ফুল ফোটায়। শহীদের রক্তের বিনিময়ে যেরূপ বাগান সৃষ্টি হয় তদ্রূপ মাদরাসাও সৃষ্টি হয়। খানকাও সৃষ্টি হয়। মসজিদও অস্তিত্ব লাভ করে। আর ঐ রক্তে রঞ্জিত ভূমি আল্লাহর রাস্তায় মর্যাদাশীল বলে গণ্য হয়। কারণ তাতে গড়িয়ে পড়েছে মুজাহিদ ও শহীদদের রক্ত। তো আপনাদের এই ভূমির জন্য রয়েছে সেই গর্ব। আল্লাহর রাস্তায় বিশুদ্ধ জিহাদ এখানে সংঘটিত হয়েছে। আসতে পথে কিছুক্ষণ পূর্বে আমি সফর সঙ্গীদের শুনাচ্ছিলাম যে, আমাদের রায়বেরেলীর আবদুল মজীদ খান নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর নামও ঐ সৈনিকের তালিকায় ছিল যাদেরকে রাতে প্রেরণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আকুড়াখটক আক্রমণের জন্য রাতের সময়টাকে নির্বাচন করা হয়েছিল। আকুড়াখটক থেকে সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)-এর সেনাছাউনি ছিল আট-দশ ক্রোশ দূরে। সিদ্ধান্ত ছিল রাতে আক্রমণ করে সেনাবাহিনী পুনরায় সেনা ছাউনিতে ফিরে যাবে। ঐ সময় আবদুল মজীদ খান সাহেব ছিলেন অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে তিনি দুর্বলও হয়ে পড়েছিলেন।

সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)-এর নিকট সৈন্যদের নামের তালিকা পেশ করা হলে তিনি বললেন, আবদুল মজীদ তো অসুস্থ ও দুর্বল। এটা জিহাদের সূচনা মাত্র, শেষ নয়। অতএব সে জিহাদে অংশগ্রহণের আরও অনেক সুযোগ পাবে। এই বলে তিনি তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিয়ে দিলেন। অন্য কেউ হলে হয়তো এতে খুশিই হত। কারণ জিহাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা কারও নেই। জিহাদে নানাবিধ ভয়াবহ অবস্থা সামনে আসতে পারে। জীবনও চলে যেতে পারে। সুতরাং এটা তো খুশির বিষয় যে, আমীর নিজেই তার নাম বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু না, আবদুল মজীদ খান সাহেব যখন তাঁর নাম বাদ দেওয়ার সংবাদ শুনলেন তখন দৌড়ে সাইয়েদ আহমদ সাহেবের নিকট আসলেন এবং অভিমানের স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, তার নাম বাদ কেন বাদ দেওয়া হল?

সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.) বললেন, ভাই! আমি শুনেছি, তুমি জ্বরে আক্রান্ত, তোমার শরীর অত্যন্ত দুর্বল। এই জিহাদ হবে কঠিন জিহাদ। এর জন্য প্রয়োজন সুস্থ, সবল ও ধকল-সহনশীল শরীরের। তোমার শরীরের প্রতি লক্ষ্য করেই তোমার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি।

আবদুল মজীদ সাহেব বললেন, হযরত! আজ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বুনিয়াদ রচিত হচ্ছে, এটা প্রথম সুযোগ। আমি কি এই বুনিয়াদ রচনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকব? আল্লাহর ওয়াস্তে আমার নাম তালিকাভুক্ত করে নিন। এরপর তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করে নেওয়া হল। আল্লাহ তাঁকে কবুল করে নিলেন। ঐ জিহাদে তিনি শহীদ হলেন।

আকুড়াখটকের আরও অনেক জায়গায় সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.) জিহাদ করেছেন। সে সকল জায়গার নামও আমার জানা আছে। আমি এই রাস্তায় এই প্রথমবার এসেছি। এর পূর্বে প্রায় চৌত্রিশ পঁয়ত্রিশ বৎসর হল আমি পেশোয়ারের রাস্তায় এসেছিলাম। তখন দারুল উলুম হক্কানিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমি এসেছিলাম এবং ঘোরাফেরা করে চলে গিয়েছিলাম। আমি কি জানতাম যে, এই দারুল উলুম হক্কানিয়া প্রতিষ্ঠিত হবে আর আমার জীবন আমার সঙ্গে প্রতারণা করবে না, আমি জীবিত থাকব আর স্বচক্ষে এই দারুল উলুম দেখব, যা শুধু সাইয়েদ আহমদ শহীদ ও শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহ.)-এর স্মৃতিধারকই নয়; বরং তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে সম্পৃক্ত?

এই সম্পর্ক ইনশাআল্লাহ রঙ ধরিয়ে দেবে। শহীদদ্বয়ের রক্ত রাঙিয়েছে। এই সম্পর্কও রাঙাবে। প্রতিষ্ঠানটির নাম হক্কানিয়াত। এখানে হক্কানিয়াত প্রতিষ্ঠিত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এখান থেকে শিক্ষা সমাপণ করে যারা বের হবে তারা সত্যের মশালধারী হবে। আল্লাহ তাআলা শায়খুল উলামা, শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আবদুল হক সাহেব মুদ্দাফিলুহুল আলী-র হায়াতে বরকত দান করুন। এই মাদ্রাসার সফলতা দেখে তাঁর চোখ শীতল হোক, তিনি আনন্দিত হোন। আল্লাহ তাঁর রচিত বাগানকে সবুজ-শ্যামল রাখুন, ফুলে ফলে সুশোভিত করুন। এখানে এরূপ একটি মাদরাসার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য ছিল যেখানে قال الله এবং قال الرسول -এর আওয়াজ ধ্বনিত হবে। কারণ قال الله এবং قال الرسুল ই তাদেরকে এত দূর থেকে এখানে টেনে এনেছিল। এখানে قال الله এবং قال الرسول -এর আওয়াজ যত দিন ধ্বনিত হতে থাকবে তত দিন আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকবে। কবি হাফিজ-এর এই কবিতা দিয়ে আমি শেষ করছি।

از صد نخنے پیرم کی نکته مرا یا دست عالم نه شد ویران تا میکده آبادست

আমার মুর্শিদের শত কথার মধ্য থেকে একটি কথাই আমার স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে আছে। জগত বিরাণভূমিতে পরিণত হবে না, যত দিন মারেফাতের এই শরাবখানা থাকবে প্রাণবন্ত।

قال الله আর قال الرسول -এর কেন্দ্র টিকে থাকলে তো জগত বিরাণভূমিতে পরিণত হবে না। হাদীসে বলা হয়েছে, যত দিন আল্লাহ আল্লাহ উচ্চারণকারী একজন ব্যক্তিও পৃথিবীতে থাকবে তত দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আপনাদের প্রতি মোবারকবাদ, এই ভূখণ্ডটির প্রতিও মোবারকবাদ।

تازه خواهی داشتن گرداغہائے سیفه را گا ہے গاہے بازخواں این قصہ পারینہ را

হৃদয়ের উত্তাপকে যদি জীবন্ত রাখতে চাও পুরোনো এই কাহিনী কখনও কখনও নতুন করে পাঠ করো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00