📄 রাসূলের প্রতি প্রথম ইলমী বার্তা
শ্রদ্ধেয় মুরব্বী ভাই ও বন্ধুগণ! আপনাদের সামনে যে আয়াতগুলো পাঠ করেছি তা সূরা ইকরার প্রথম পাঁচটি আয়াত। শিশুর লেখাপড়ায় হাতে খড়িকালে আয়াত পাঁচটিকে আবৃত্তি করানোর নিয়ম প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। এই কিছুক্ষণ পূর্বে এই মাদরাসার ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে একজন শিশুকে উপরিউক্ত আয়াতগুলো পড়িয়ে এসেছি। এরই রেশ ধরে কিছু তত্ত্ব ও তথ্যের প্রতি আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নবুওয়াত প্রাপ্তির প্রাক্কালে মক্কা মুকাররমা, আরব উপদ্বীপ সহ সারা পৃথিবীর অবস্থা দর্শনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে যে অশান্তির ঢেউ উঠেছিল, যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অশান্তি ও অস্থিরতাই হেরা গুহায় একটানা ইবাদতে নিমগ্ন থাকতে তাঁকে বাধ্য করেছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলার হুকুম ও ফায়সালায় হযরত ঈসা (আ.)-এর তিরোধানের পাঁচশত বছর পর প্রথমবার আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ওহী অবতরণের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হল। ঐ সময়ে যদি সমগ্র বিশ্বের মেধাবী প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী জ্ঞানীগুণী ও দার্শনিককে জিজ্ঞেস করা হত যে, বলুন তো, পাঁচশত বৎসর পরে পুনরায় নতুন করে ওহী অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীবাসী বার্তা লাভ করতে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীবাসীর কল্যাণে কী বার্তা অবতীর্ণ হওয়া উচিত? তাঁদের প্রতি কিরূপ প্রত্যাদেশ আগত হওয়া উচিত? আপনাদের সামনে তো সারা বিশ্বের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও নাজুক অবস্থা পরিদৃশ্যমান। সমগ্র মানবজাতি ব্যাধি ও পীড়ায় আক্রান্ত। তারা অজ্ঞ ও মূর্খ। তারা হয়ে গেছে বোধহীন। সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ। হাজার হাজার মেকী উপাস্যের উপাসনা চলছে। সমগ্র মানব জাতি যেন শিরক ও কুফরের শামিয়ানায় আচ্ছাদিত। আবার এই বার্তা ও ওহী অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে এরূপ এক দেশে যে দেশ অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় পূর্ণ, যে দেশের অধিবাসী নিরক্ষর আর যার উপর ওহী নাযিল হতে যাচ্ছে তিনিও নিরক্ষর-উম্মী, তাঁর পুরো সম্প্রদায় উম্মী ও নিরক্ষর, ইয়াহুদীরা তাদের প্রতি নিরক্ষর উপাধিই আরোপ করেছে। বলেছে-
ليس علينا في الاميين سبيل
স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এই নবীকে নিরক্ষর নবী বলে ঘোষণা করেছেন। তো এইরূপ অবস্থায় প্রথম ওহী ও প্রথম বার্তায় কী অবতীর্ণ হওয়া উচিত? আমি নিশ্চিত যে, সর্বোচ্চ মেধার অধিকারী ও তুখোড় প্রতিভাবান ব্যক্তিও তখন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারত না যে, প্রথম ওহীতে, প্রথম আকাশ হতে অবতীর্ণ বার্তায় পাঠ, কলম ও ইলমের বিষয় উল্লেখ করা হবে। কারণ তৎকালে মক্কা মুকাররমায় ব্যাপক অনুসন্ধানের পর হয়তো দুই চারটা কলম পাওয়া যেতে পারত, এর বেশি নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন প্রথম ওহী অবতীর্ণ হল, আর তিনি ঘাবড়ে গিয়ে হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর নিকট আগমন করলেন তখন হযরত খাদীজা তাঁকে নিয়ে গেলেন ওরাকা ইবনে নওফলের নিকট। কারণ তিনি লেখাপড়া জানতেন বলে মক্কায় আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। যেন লেখাপড়া জানাটা ছিল এক মহা কৃতিত্ব। তো এইরূপ নিরক্ষর সমাজে একজন নিরক্ষর নবীর উপর প্রথম যে ওহী নাযিল হল তা ছিল (ইকরা তুমি পাঠ কর)। এটা ছিল এই বিষয়ের ইঙ্গিত বাহক যে, যে যুগের এখন সূচনা হচ্ছে তা লেখাপড়ার যুগ। ইলম ও কলম, জ্ঞান ও লেখনীর যুগ। কিন্তু নিছক লেখাপড়াই যথেষ্ট নয়। লেখাপড়া হতে হবে আল্লাহর নামে। নতুবা তা অনেক সময় বিষতুল্য হয়ে যায়। আল্লাহর নামবিহীন লেখাপড়াই মানুষকে হিংস্রতা ও বর্বরতা শিক্ষা দিয়েছে। শিক্ষা দিয়েছে যুদ্ধের কূট-কৌশল, লাখ লাখ মানুষকে আণবিক বোমা ও বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা ধ্বংস করার কৌশল এবং শহর-জনপদকে তছনছ করার কৌশল। এইজন্য আল্লাহর নামবিহীন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য জ্ঞান নয়। এটা কুরআন মাজীদের অসাধারণত্ব যে, তা প্রথমেই বলেছে "ইকরা" (পাঠ কর)। এখন পাঠের প্রয়োজন। প্রয়োজন দুনিয়ার সর্বত্র জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া। তবে তা হতে হবে বিশুদ্ধ জ্ঞান, তাওহীদের জ্ঞান, ইলাহী জ্ঞান, চরিত্র সম্বন্ধীয় জ্ঞান, নিজেকে চেনার জ্ঞান এবং খোদাভীতির জ্ঞান। যে জ্ঞানের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত তা জ্ঞান হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আজ দুনিয়াতে যে ধ্বংস ও বিপর্যয় নেমে এসেছে, শুধু স্বল্প কিছু মানুষ হত্যা নয় বরং জাতির পর জাতি দেশের পর দেশ ধ্বংস করার জন্য যে আণবিক বোমা তৈরি করা হয়েছে, যে জীবাণু বোমা তৈরি করা হয়েছে তা সবই ঐ জাতীয় জ্ঞানের ফসল, যে জ্ঞানের সাথে আল্লাহর নাম সম্পৃক্ত নেই। এই কারণে আল্লাহ তাআলা ইকরা (পাঠ কর)-র সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন বিসমি রব্বিক তোমার প্রভুর নামে পাঠ করো। তাহলেই জ্ঞান হবে হিতকর, মানুষের জন্য কল্যাণকর।
শ্রদ্ধেয় মুরব্বী ভাই ও বন্ধুগণ! আপনাদের সামনে যে আয়াতগুলো পাঠ করেছি তা সূরা ইকরার প্রথম পাঁচটি আয়াত। শিশুর লেখাপড়ায় হাতে খড়িকালে আয়াত পাঁচটিকে আবৃত্তি করানোর নিয়ম প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। এই কিছুক্ষণ পূর্বে এই মাদরাসার ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে একজন শিশুকে উপরিউক্ত আয়াতগুলো পড়িয়ে এসেছি। এরই রেশ ধরে কিছু তত্ত্ব ও তথ্যের প্রতি আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নবুওয়াত প্রাপ্তির প্রাক্কালে মক্কা মুকাররমা, আরব উপদ্বীপ সহ সারা পৃথিবীর অবস্থা দর্শনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে যে অশান্তির ঢেউ উঠেছিল, যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অশান্তি ও অস্থিরতাই হেরা গুহায় একটানা ইবাদতে নিমগ্ন থাকতে তাঁকে বাধ্য করেছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলার হুকুম ও ফায়সালায় হযরত ঈসা (আ.)-এর তিরোধানের পাঁচশত বছর পর প্রথমবার আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ওহী অবতরণের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হল। ঐ সময়ে যদি সমগ্র বিশ্বের মেধাবী প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী জ্ঞানীগুণী ও দার্শনিককে জিজ্ঞেস করা হত যে, বলুন তো, পাঁচশত বৎসর পরে পুনরায় নতুন করে ওহী অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীবাসী বার্তা লাভ করতে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীবাসীর কল্যাণে কী বার্তা অবতীর্ণ হওয়া উচিত? তাঁদের প্রতি কিরূপ প্রত্যাদেশ আগত হওয়া উচিত? আপনাদের সামনে তো সারা বিশ্বের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও নাজুক অবস্থা পরিদৃশ্যমান। সমগ্র মানবজাতি ব্যাধি ও পীড়ায় আক্রান্ত। তারা অজ্ঞ ও মূর্খ। তারা হয়ে গেছে বোধহীন। সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ। হাজার হাজার মেকী উপাস্যের উপাসনা চলছে। সমগ্র মানব জাতি যেন শিরক ও কুফরের শামিয়ানায় আচ্ছাদিত। আবার এই বার্তা ও ওহী অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে এরূপ এক দেশে যে দেশ অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় পূর্ণ, যে দেশের অধিবাসী নিরক্ষর আর যার উপর ওহী নাযিল হতে যাচ্ছে তিনিও নিরক্ষর-উম্মী, তাঁর পুরো সম্প্রদায় উম্মী ও নিরক্ষর, ইয়াহুদীরা তাদের প্রতি নিরক্ষর উপাধিই আরোপ করেছে। বলেছে-
ليس علينا في الاميين سبيل
স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এই নবীকে নিরক্ষর নবী বলে ঘোষণা করেছেন। তো এইরূপ অবস্থায় প্রথম ওহী ও প্রথম বার্তায় কী অবতীর্ণ হওয়া উচিত? আমি নিশ্চিত যে, সর্বোচ্চ মেধার অধিকারী ও তুখোড় প্রতিভাবান ব্যক্তিও তখন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারত না যে, প্রথম ওহীতে, প্রথম আকাশ হতে অবতীর্ণ বার্তায় পাঠ, কলম ও ইলমের বিষয় উল্লেখ করা হবে। কারণ তৎকালে মক্কা মুকাররমায় ব্যাপক অনুসন্ধানের পর হয়তো দুই চারটা কলম পাওয়া যেতে পারত, এর বেশি নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন প্রথম ওহী অবতীর্ণ হল, আর তিনি ঘাবড়ে গিয়ে হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর নিকট আগমন করলেন তখন হযরত খাদীজা তাঁকে নিয়ে গেলেন ওরাকা ইবনে নওফলের নিকট। কারণ তিনি লেখাপড়া জানতেন বলে মক্কায় আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন। যেন লেখাপড়া জানাটা ছিল এক মহা কৃতিত্ব। তো এইরূপ নিরক্ষর সমাজে একজন নিরক্ষর নবীর উপর প্রথম যে ওহী নাযিল হল তা ছিল (ইকরা তুমি পাঠ কর)। এটা ছিল এই বিষয়ের ইঙ্গিত বাহক যে, যে যুগের এখন সূচনা হচ্ছে তা লেখাপড়ার যুগ। ইলম ও কলম, জ্ঞান ও লেখনীর যুগ। কিন্তু নিছক লেখাপড়াই যথেষ্ট নয়। লেখাপড়া হতে হবে আল্লাহর নামে। নতুবা তা অনেক সময় বিষতুল্য হয়ে যায়। আল্লাহর নামবিহীন লেখাপড়াই মানুষকে হিংস্রতা ও বর্বরতা শিক্ষা দিয়েছে। শিক্ষা দিয়েছে যুদ্ধের কূট-কৌশল, লাখ লাখ মানুষকে আণবিক বোমা ও বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা ধ্বংস করার কৌশল এবং শহর-জনপদকে তছনছ করার কৌশল। এইজন্য আল্লাহর নামবিহীন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য জ্ঞান নয়। এটা কুরআন মাজীদের অসাধারণত্ব যে, তা প্রথমেই বলেছে "ইকরা" (পাঠ কর)। এখন পাঠের প্রয়োজন। প্রয়োজন দুনিয়ার সর্বত্র জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া। তবে তা হতে হবে বিশুদ্ধ জ্ঞান, তাওহীদের জ্ঞান, ইলাহী জ্ঞান, চরিত্র সম্বন্ধীয় জ্ঞান, নিজেকে চেনার জ্ঞান এবং খোদাভীতির জ্ঞান। যে জ্ঞানের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত তা জ্ঞান হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আজ দুনিয়াতে যে ধ্বংস ও বিপর্যয় নেমে এসেছে, শুধু স্বল্প কিছু মানুষ হত্যা নয় বরং জাতির পর জাতি দেশের পর দেশ ধ্বংস করার জন্য যে আণবিক বোমা তৈরি করা হয়েছে, যে জীবাণু বোমা তৈরি করা হয়েছে তা সবই ঐ জাতীয় জ্ঞানের ফসল, যে জ্ঞানের সাথে আল্লাহর নাম সম্পৃক্ত নেই। এই কারণে আল্লাহ তাআলা ইকরা (পাঠ কর)-র সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন বিসমি রব্বিক তোমার প্রভুর নামে পাঠ করো। তাহলেই জ্ঞান হবে হিতকর, মানুষের জন্য কল্যাণকর।
📄 আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের নিকট কী দাবি করেন?
আমি ইতিহাসের একজন ছাত্র হিসাবে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি, যদি দুনিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ও যথার্থ ইতিহাস লিখতে যেয়ে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ও গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তির ব্যবহার করা হয় এবং অনুসন্ধান করা হয় যে, কবে থেকে জ্ঞান তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে, কবে থেকে তা নির্মাণ ও সৃষ্টির পরিবর্তে ধ্বংস ও বিনাশের কারণ হয়েছে, তাহলে একজন ইতিহাস লেখক নিশ্চয়ই একথা লিখবে যে, যখন থেকে জ্ঞানের সম্পর্ক জগতের মালিক ও সৃষ্টিকর্তা ও জগতের প্রতিপালক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তখন থেকেই জ্ঞান হয়ে গেছে সর্বনাশের। যে জ্ঞানের সূচনা হয় আল্লাহর নাম ব্যতীত এবং যা চলতে থাকে আল্লাহর নির্দেশনা ব্যতীত সেই জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়, তা পতিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য জ্ঞান। তা পরিহার করা উচিত। এরূপ জ্ঞান থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাওয়া উচিত।
প্রথমে এই জ্ঞান লাভ করা উচিত যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা কে? আমাদের মালিক ও প্রতিপালক কে? বড় বড় বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, গবেষক ও দার্শনিকদের নিকট যখন এইসব মৌলিক প্রশ্নের বিশুদ্ধ জবাব ও জ্ঞান নাই যে, তাদের সৃষ্টিকর্তা কে, পাপ ও পুণ্যের পার্থক্য কী, তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের নিকট কী দাবি করেন, তিনি কোন বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে বলেন, কোন্ পথে তিনি চলতে বলেন, এই জগত ও মানব সমাজ সম্পর্কে, এই দুনিয়ার পরিণতি সম্পর্কে তিনি কী বলেন তখন ঐসব বুদ্ধিজীবী গবেষক ও বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের জ্ঞান হয়ে যায় বিষতুল্য; যা এক মুহূর্তে লাখ লাখ মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে। কুরআন মাজীদ বলছে, পাঠ কর তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। (সূরা ইকরা)
যে মানুষকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন রক্তের একটি পিণ্ড থেকে সেই মানুষ কী করে নিজের স্বরূপকে ভুলে যায়? কী করে সে উদ্ধত ও অহংকারী হয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হয়? একে অপরের রক্তপাত ঘটায়? কী করে জুলুম ও নির্যাতনের বাজার গরম করে তোলে? আজ মানুষ তার প্রকৃত পরিচয় ও স্বরূপ ভুলে যাচ্ছে। আজ ইউরোপ ও আমেরিকা এই সত্যকে ভুলে যাচ্ছে। ভারতবাসীও এই সত্যকে ভুলে যাচ্ছে। অথচ এখানে সত্য ও বিশুদ্ধ জ্ঞান লাভের যত উপকরণ পূর্বে ছিল এখনও তা বিদ্যমান আছে। সুধী! আপনারা দেখুন, এই উম্মত কত অল্প সময়ে কত বিপুল পরিমাণ বিশালাকারের সব গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছে। ইউরোপের বড় বড় সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর নিকট এক ডজন পরিমাণ গ্রন্থাগারও ছিল না। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে যখন থেকে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার প্রথা চালু হয়েছে তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি শাস্ত্রে মুসলমানরা হাজার নয়, লাখ লাখ গ্রন্থ প্রস্তুত করেছে এবং সারা পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এসব হতে পেরেছে ইলম ও কলমের দৌলতে। প্রথম ওহী এই কথা জানান দিয়ে দিয়েছে যে, এখন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইলম ও কলমের যুগ, এই উম্মতের সাথে ইলম ও কলমের সম্পর্ক থাকবে চির অটুট। হাজারো ঘাত-প্রতিঘাতের সৃষ্টি হবে, যুগের পরিবর্তন ঘটবে হাজার রকমের কিন্তু কলমের সাথে এই উম্মতের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে না কখনো।
ভারতবর্ষকেই দেখুন। এখানে কত বড় বড় লেখক ও গবেষক সৃষ্টি হয়েছেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী, শায়খ শরফুদ্দীন, ইয়াহইয়া মানীরী, হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখ। উর্দু সাহিত্য ও কবিতায় আল্লামা ইকবালের ন্যায় দার্শনিক ও গবেষককে দেখুন, যাঁর কবিতায় দুনিয়া তোলপাড়। সুধী! আজ ইসলাম বিদ্বেষীদের পক্ষ থেকে পূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে মুসলমানদের নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যায়, ইলম ও জ্ঞানের সাথে তাদের যে সম্পর্ক তা বিনষ্ট হয়ে যায়, নিজস্ব ভাষা সম্পর্কে তারা অজ্ঞ থেকে যায়, তাদের মৌলিক চিন্তা-চেতনা ও আকীদা-বিশ্বাস এবং ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মুসলমান যেন চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসগত ভাবে এবং সভ্যতা ও সংস্কৃতিগতভাবে ধর্মচ্যুতির শিকার হয় সেই নীল নকশা পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এইরূপ সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য তীব্র প্রয়োজন অধিক হারে বিভিন্ন স্থানে মক্তব ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করা। মহল্লায় ও মসজিদসমূহে সকাল ও সন্ধ্যাকালীন মক্তব প্রতিষ্ঠা করা। এই উম্মত মুহাম্মাদী উম্মত। এই উম্মতের সাথে ইলম ও কলমের গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। ইলম ও জ্ঞান ব্যতীত মুসলমান মুসলমানরূপে টিকে থাকতে পারে না। কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে যে জ্ঞান আমাদেরকে দান করা হয়েছে, যে তত্ত্ব ও তাৎপর্য আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে তা না জানলে এই দ্বীনের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। কোন কোন ধর্মাবলম্বী ও তাদের নেতারা চায় কুরআন ও হাদীসের জ্ঞানের প্রসার না ঘটুক। কারণ তাতে তারা নিজেদের মৃত্যু দেখতে পায়। এর উদাহরণ আমি হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের দরবারের একটি ঘটনা দ্বারা ব্যক্ত করে থাকি। একবার তাঁর দরবারে মশার দল এসে অভিযোগ করে বলল, আমরা বাতাসের কারণে কোথাও টিকতে পারি না, বাতাস আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আপনি বাতাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বাতাসকে দরবারে উপস্থিত করতে নির্দেশ দিলেন। বাতাসকে দরবারে উপস্থিত করা হলে বাতাসের তোড়ে মশারা সব উড়ে গেল। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, বাদীর উপস্থিতি ব্যতীত তো কোন মামলার রায় দেওয়া যায় না। জ্ঞানের অবস্থাও তদ্রূপ। বিশুদ্ধ জ্ঞানের চর্চা হলে এই দ্বীন টিকে থাকবে আর তার প্রভাবে বাতিল মতাবলম্বীদের অস্তিত্ব উড়ে যাবে। সুধী! অতএব আমাদের সকলের মৌলিক কাজ হল, দ্বীনের ইলম ও জ্ঞানের প্রসারের জন্য, মুসলমানকে মুসলমানরূপে অস্তিত্বশীল রাখার জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের দ্বীন ও আকীদা-বিশ্বাস, ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির হেফাযতের জন্য বহুল পরিমাণে দ্বীনী মক্তব ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের উচিত, আমাদের সন্তানদেরকে ঈমান ও কুফরের পার্থক্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করা, শিরক ও পৌত্তলিকতার অপকারিতা ও ভয়াবহতা তাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেওয়া এবং এটা নিশ্চিত হওয়া যে, আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে ইসলামের উপরই পরিপূর্ণভাবে টিকে থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিজের দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন। আমীন।
আমি ইতিহাসের একজন ছাত্র হিসাবে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি, যদি দুনিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ও যথার্থ ইতিহাস লিখতে যেয়ে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ও গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তির ব্যবহার করা হয় এবং অনুসন্ধান করা হয় যে, কবে থেকে জ্ঞান তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে, কবে থেকে তা নির্মাণ ও সৃষ্টির পরিবর্তে ধ্বংস ও বিনাশের কারণ হয়েছে, তাহলে একজন ইতিহাস লেখক নিশ্চয়ই একথা লিখবে যে, যখন থেকে জ্ঞানের সম্পর্ক জগতের মালিক ও সৃষ্টিকর্তা ও জগতের প্রতিপালক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তখন থেকেই জ্ঞান হয়ে গেছে সর্বনাশের। যে জ্ঞানের সূচনা হয় আল্লাহর নাম ব্যতীত এবং যা চলতে থাকে আল্লাহর নির্দেশনা ব্যতীত সেই জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়, তা পতিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য জ্ঞান। তা পরিহার করা উচিত। এরূপ জ্ঞান থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাওয়া উচিত।
প্রথমে এই জ্ঞান লাভ করা উচিত যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা কে? আমাদের মালিক ও প্রতিপালক কে? বড় বড় বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, গবেষক ও দার্শনিকদের নিকট যখন এইসব মৌলিক প্রশ্নের বিশুদ্ধ জবাব ও জ্ঞান নাই যে, তাদের সৃষ্টিকর্তা কে, পাপ ও পুণ্যের পার্থক্য কী, তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের নিকট কী দাবি করেন, তিনি কোন বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে বলেন, কোন্ পথে তিনি চলতে বলেন, এই জগত ও মানব সমাজ সম্পর্কে, এই দুনিয়ার পরিণতি সম্পর্কে তিনি কী বলেন তখন ঐসব বুদ্ধিজীবী গবেষক ও বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের জ্ঞান হয়ে যায় বিষতুল্য; যা এক মুহূর্তে লাখ লাখ মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে। কুরআন মাজীদ বলছে, পাঠ কর তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। (সূরা ইকরা)
যে মানুষকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন রক্তের একটি পিণ্ড থেকে সেই মানুষ কী করে নিজের স্বরূপকে ভুলে যায়? কী করে সে উদ্ধত ও অহংকারী হয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হয়? একে অপরের রক্তপাত ঘটায়? কী করে জুলুম ও নির্যাতনের বাজার গরম করে তোলে? আজ মানুষ তার প্রকৃত পরিচয় ও স্বরূপ ভুলে যাচ্ছে। আজ ইউরোপ ও আমেরিকা এই সত্যকে ভুলে যাচ্ছে। ভারতবাসীও এই সত্যকে ভুলে যাচ্ছে। অথচ এখানে সত্য ও বিশুদ্ধ জ্ঞান লাভের যত উপকরণ পূর্বে ছিল এখনও তা বিদ্যমান আছে। সুধী! আপনারা দেখুন, এই উম্মত কত অল্প সময়ে কত বিপুল পরিমাণ বিশালাকারের সব গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছে। ইউরোপের বড় বড় সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর নিকট এক ডজন পরিমাণ গ্রন্থাগারও ছিল না। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে যখন থেকে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার প্রথা চালু হয়েছে তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি শাস্ত্রে মুসলমানরা হাজার নয়, লাখ লাখ গ্রন্থ প্রস্তুত করেছে এবং সারা পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এসব হতে পেরেছে ইলম ও কলমের দৌলতে। প্রথম ওহী এই কথা জানান দিয়ে দিয়েছে যে, এখন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইলম ও কলমের যুগ, এই উম্মতের সাথে ইলম ও কলমের সম্পর্ক থাকবে চির অটুট। হাজারো ঘাত-প্রতিঘাতের সৃষ্টি হবে, যুগের পরিবর্তন ঘটবে হাজার রকমের কিন্তু কলমের সাথে এই উম্মতের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে না কখনো।
ভারতবর্ষকেই দেখুন। এখানে কত বড় বড় লেখক ও গবেষক সৃষ্টি হয়েছেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী, শায়খ শরফুদ্দীন, ইয়াহইয়া মানীরী, হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখ। উর্দু সাহিত্য ও কবিতায় আল্লামা ইকবালের ন্যায় দার্শনিক ও গবেষককে দেখুন, যাঁর কবিতায় দুনিয়া তোলপাড়। সুধী! আজ ইসলাম বিদ্বেষীদের পক্ষ থেকে পূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে মুসলমানদের নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যায়, ইলম ও জ্ঞানের সাথে তাদের যে সম্পর্ক তা বিনষ্ট হয়ে যায়, নিজস্ব ভাষা সম্পর্কে তারা অজ্ঞ থেকে যায়, তাদের মৌলিক চিন্তা-চেতনা ও আকীদা-বিশ্বাস এবং ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মুসলমান যেন চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসগত ভাবে এবং সভ্যতা ও সংস্কৃতিগতভাবে ধর্মচ্যুতির শিকার হয় সেই নীল নকশা পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এইরূপ সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য তীব্র প্রয়োজন অধিক হারে বিভিন্ন স্থানে মক্তব ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করা। মহল্লায় ও মসজিদসমূহে সকাল ও সন্ধ্যাকালীন মক্তব প্রতিষ্ঠা করা। এই উম্মত মুহাম্মাদী উম্মত। এই উম্মতের সাথে ইলম ও কলমের গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। ইলম ও জ্ঞান ব্যতীত মুসলমান মুসলমানরূপে টিকে থাকতে পারে না। কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে যে জ্ঞান আমাদেরকে দান করা হয়েছে, যে তত্ত্ব ও তাৎপর্য আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে তা না জানলে এই দ্বীনের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। কোন কোন ধর্মাবলম্বী ও তাদের নেতারা চায় কুরআন ও হাদীসের জ্ঞানের প্রসার না ঘটুক। কারণ তাতে তারা নিজেদের মৃত্যু দেখতে পায়। এর উদাহরণ আমি হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের দরবারের একটি ঘটনা দ্বারা ব্যক্ত করে থাকি। একবার তাঁর দরবারে মশার দল এসে অভিযোগ করে বলল, আমরা বাতাসের কারণে কোথাও টিকতে পারি না, বাতাস আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আপনি বাতাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বাতাসকে দরবারে উপস্থিত করতে নির্দেশ দিলেন। বাতাসকে দরবারে উপস্থিত করা হলে বাতাসের তোড়ে মশারা সব উড়ে গেল। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, বাদীর উপস্থিতি ব্যতীত তো কোন মামলার রায় দেওয়া যায় না। জ্ঞানের অবস্থাও তদ্রূপ। বিশুদ্ধ জ্ঞানের চর্চা হলে এই দ্বীন টিকে থাকবে আর তার প্রভাবে বাতিল মতাবলম্বীদের অস্তিত্ব উড়ে যাবে। সুধী! অতএব আমাদের সকলের মৌলিক কাজ হল, দ্বীনের ইলম ও জ্ঞানের প্রসারের জন্য, মুসলমানকে মুসলমানরূপে অস্তিত্বশীল রাখার জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের দ্বীন ও আকীদা-বিশ্বাস, ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির হেফাযতের জন্য বহুল পরিমাণে দ্বীনী মক্তব ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের উচিত, আমাদের সন্তানদেরকে ঈমান ও কুফরের পার্থক্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করা, শিরক ও পৌত্তলিকতার অপকারিতা ও ভয়াবহতা তাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেওয়া এবং এটা নিশ্চিত হওয়া যে, আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে ইসলামের উপরই পরিপূর্ণভাবে টিকে থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিজের দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন। আমীন।