📄 মক্তব ও মাদরাসার প্রয়োজনীয়তা
দ্বিতীয় কথা হল, মক্তব-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করুন। কোন গ্রাম, কোন মহল্লা যেন এরূপ না থাকে যেখানে কোন মাদরাসা বা মক্তব নেই, যেখানে দ্বীনী শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। স্ত্রী, কন্যা, জায়াদেরকে দ্বীনী শিক্ষা দিন এবং নারীদেরকে বলে দিন, তারা যেন নিজ সন্তানদেরকে দ্বীনী শিক্ষা দান করে, তাদেরকে পয়গম্বরদের কাহিনী শোনায়। বাচ্চাদের অন্তরে যেন তারা তাওহীদের বীজ বপণ করে, তাদের অন্তরে তাওহীদের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করে। শিরকের প্রতি তাদের অন্তরে যেন তারা ঘৃণার সৃষ্টি করে। বদ চরিত্রের প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি করে, তাদের অন্তরে রাসূলের প্রতি প্রেম ও ভালবাসা সৃষ্টি করে এবং দ্বীনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার শিক্ষা দান করে। তবেই এখানে নতুন প্রজন্মের ঈমান ও ইসলাম হেফাযতে থাকবে, সুরক্ষিত থাকবে। অন্যথায় কী হবে তা কল্পনা করাও কষ্টের ও বেদনার।
📄 নিজের দ্বীনের মূল্যায়ন করুন
সবশেষ কথা হল, আপনারা নিজ দ্বীনের মূল্যায়ন করবেন। দ্বীনকে সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামত বলে গণ্য করবেন। নামাযের পাবন্দী করবেন। কালিমার অর্থ শিখবেন, বুঝবেন। কিছু সূরা মুখস্থ করে নিবেন। সুরাগুলোর অর্থ বুঝে নিবেন এবং সম্ভব হলে তা মুখস্থ করে নিবেন। দ্বীনের জরুরী বিষয়ের জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ আপনাদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। আপনারা মাদরাসাগুলোতে যাবেন। গ্রামে গ্রামে মাদরাসা, মক্তব প্রতিষ্ঠা করবেন। সারকথা, আপনারা অধিকাংশ সময় দ্বীন ও ঈমানের ফিকির করবেন। ইসলামের উপর অটল থাকতে এবং মৃত্যু যেন ঈমানের সাথে হয় সেই চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, সঙ্গে তার জন্য দুআও করবেন। কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে— ‘ওয়া লা তামুতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমুন’ (তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না)। তোমাদের মৃত্যু যেন হয় ইসলামের উপর অটল থাকা অবস্থায়। ইসলামের সম্পদ হস্তগত হওয়াই সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামত, সর্বাপেক্ষা বড় সৌভাগ্য। ইসলামই সর্বাপেক্ষা বড় সম্পদ। ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করা, আল্লাহর রাসূলের শাফাআত লাভ করা, তাঁর হাতে কাওছারের পেয়ালা পান করা এবং জান্নাতের উপযোগী বলে বিবেচিত হওয়াই সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামত, বড় সম্পদ, সর্বাপেক্ষা বড় সফলতা। সুতরাং নিজ ঈমান ও ইসলামের হেফাযত করুন, এতে অবিচল থাকুন।