📄 শিশুসুলভ মানসিকতা
মুসলমানদের মানসিক অবস্থা বর্তমানে এইরূপ হয়ে গিয়েছে যে, যদি এ দেশের কোথাও বন্যা হয়, তবে তারা তাতে খুশি হয়, আনন্দবোধ করে, কোথাও আগুন লাগলে তাতেও তারা আনন্দিত হয়। মনে করে যে, এই দেশের উপর যত বিপদ আসে ততই ভাল। মানসিকতা এতটাই নীচ পর্যায়ে চলে গেছে যে, হকি, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলাধুলায় যদি দেশের দল হেরে যায় আর কোন মুসলিম দেশের দল জিতে যায় তবে আনন্দিত হয়, পুলকিত হয়। এটা সম্পূর্ণ শিশুসুলভ মানসিকতা। এই মানসিকতা নিয়ে কাজ চলবে না। দেশের প্রতি সত্যিকারের প্রেম ও ভালবাসা থাকতে হবে।
দেখুন, আমাদের আসলাফে কেরাম ও পূর্বসুরীগণ যদি এই দেশের জন্য কাজ না করে যেতেন, তাঁরা যদি এই দেশটাকে গঠন করে না যেতেন, এই দেশকে সজ্জিত করে না যেতেন তাহলে এই দেশকে আমরা কিছুই দেখাতে পারতাম না। অনেক মহাপুরুষকে আমরা দেখিয়েছি। আপনি দারুল উলুমে যান, সেখানে যাদুঘর আছে। দেখুন, আমাদের পূর্বসূরীগণ এই দেশকে কী দিয়েছেন, তাঁরা এই দেশটাকে কতটুকু সমৃদ্ধ করেছেন। যদি তাদের দেশপ্রেম না থাকত বরং উল্টো দেশের বিপদে আনন্দিত হওয়ার মানসিকতা যদি তাঁদের থাকত, তাঁরা যদি মনে করতেন এ দেশ ধ্বংস হয়ে যাক, লানত হোক এই দেশের উপর, আমাদের প্রতি এই দেশ এই অবিচার করেছে ঐ অবিচার করেছে, তাহলে কিছুই হত না। তাঁরা এই দেশকে নিজের দেশ মনে করেছেন। এই দেশের জনসাধারণকে আল্লাহর মাখলুক বলে মনে করেছেন। মনে করেছেন— ‘আল খালকু আয়ালুল্লাহ’ (সকল মাখলুক আল্লাহর পরিবারভুক্ত)। তাঁরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। আল্লাহর পয়গাম এই দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানোর চেষ্টা করেছেন। ফল এই হয়েছে যে, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের নিকট তাঁরা প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছেন, সকলের চোখের মনিতে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাঁর প্রিয় বানিয়ে নিন। আমীন।