📘 উলামা তলাবা > 📄 দাই’র সামনে কোন বাধাই টিকতে পারে না

📄 দাই’র সামনে কোন বাধাই টিকতে পারে না


সম্মানিত সুধী! একটি কাহিনী তো সেই দজলা নদীর কাহিনী। মুসলিম সেনাবাহিনী মাদায়েন জয়ের উদ্দেশ্যে যখন দজলা নদীর তীরে এসে পৌঁছল, তখন তারা দেখল, মাদায়েনের প্রবেশ পথ দজলা নদীর পুলগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। নদী পার হওয়ার কোন উপায়ই তাদের সামনে নাই। একটি উপায় আছে। সে শুধু সাঁতরে পার হওয়া। কিন্তু আপনারা জানেন, জাযিরাতুল আরবের অধিবাসীরা সারা পৃথিবীতে দুর্দান্ত অশ্বারোহী হিসেবে পরিচিত কিন্তু নদী বা সাগরের মুখোমুখি তারা কখনও হয়নি, তারা সাঁতারে ছিল অজ্ঞ। আরব সাগরের উপকূলে যারা বাস করত তারা প্রয়োজনে নৌকা ব্যবহার করত, তাদেরও অধিকাংশ সাঁতার জানত না। সাগর থেকে অনেক দূরের অধিবাসী ঐ মুসলিম বাহিনী সাঁতার জানবে কি করে? অতএব তাদের সামনে তখন প্রশ্ন দাঁড়ায় নদী পার হওয়া যাবে কি করে? মাদায়েন তো নদীর ওপারেই। মাদায়েন জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। কিন্তু বাধা এই দজলা নদী।

হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযি.) নদী তীরে সেনাবাহিনীকে কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা করতে বলে হযরত সালমান ফারসী (রাযি.) কে জিজ্ঞেস করলেন, এই মুহূর্তে কী করা যায়? হযরত সালমান ফারসী (রাযি.) বললেন— ‘ইন্না হাযাদ্ দ্বীনাল জাদীদ’। এই দ্বীন এখনও নবীন। এই দ্বীনের সূচনা হয়েছে মাত্র। মানুষের মুক্তির জন্য এই দ্বীনকে অনেক দূর অগ্রসর হতে হবে। অতএব এই দ্বীনের অগ্রযাত্রা এখানেই রুদ্ধ হয়ে যাক, তার উদ্ধারতরীর এখানেই সলিল সমাধি ঘটুক এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা মেনে নিতে পারি না যে, আমাদের জীবন থাকতে, শক্তি থাকতে আল্লাহ তাআলা যে কার্যের জন্য প্রেরণ করেছেন তা অপূর্ণ থেকে যাবে। তিনি তাঁর গোলাম ও আজ্ঞাবহকে প্রেরণ করেছেন তাঁরই পরিচালিত রাজত্বে। তাঁর গোলাম ও আজ্ঞাবহের পথ রোধ করে দেবে কিংবা তাঁর নির্দেশিত কার্য সমাধা হওয়ার পূর্বেই তাকে কেউ শেষ করে দেবে— এই সাধ্য কার? হযরত সালমান ফারসী (রাযি.) বললেন, এই দ্বীন এখনও সজীব ও তরতাজা। কতদিন আর হল এই দ্বীনের সূচনার যে, এর প্রতিনিধিত্বকারীরা নিঃশেষ হয়ে যাবে, ডুবে মরবে? হাঁ তবে এতটুকু অনুসন্ধানের প্রয়োজন যে, সেনাবাহিনীর মধ্যে কোন গোনাহ কর্ম তো ব্যাপক রূপ ধারণ করেনি, সেনাবাহিনীর মাঝে গোনাহকর্মের প্রচলন তো ঘটেনি?

হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযি.) এতদশ্রবণে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কিছু উপলব্ধি করতে চাইলেন। কী তীক্ষ্ণ ছিল সেই দৃষ্টি! আর সেনা সদস্যগণ! তাঁরাও ছিলেন আদর্শ এক বাহিনীর সদস্য। তাঁদের অবয়ব ও মুখমণ্ডল থেকে নিষ্পাপতার আলো বিকিরিত হচ্ছিল। হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস তাঁর অন্তর্ভেদী সেই দৃষ্টি দ্বারা তাঁদের নিষ্পাপতা ও অনাবিলতাকে নিমিষেই অনুধাবন করে ফেললেন। বর্তমান পৃথিবীতে অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ করতে কত রকম ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে, তারপরও অপরাধের সন্ধান মিলছে না। তিনি শুধু একটিবার তাকালেন এবং যা বুঝার বুঝে নিলেন। অতঃপর বললেন, 'বিসমিল্লাহ! চল।' ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে সেনা দলের সদস্যগণ নিজ নিজ ঘোড়া নদীতে নামিয়ে দিলেন। ঘোড়ার পিঠে বসে অত্যন্ত শান্ত চিত্তে, অবিচলিত চিত্তে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাঁরা নদী পার হতে লাগলেন। একজনের একটি আহারের বাসন নদীতে পড়ে গেলে অপর একজন তাঁকে তিরস্কার করে বললেন, তোমার বাসনটি পড়ে গেল খেয়াল রাখতে পারলে না? বাসনের মালিক বললেন, যাবে কোথায়, কোথায় যাওয়ার সাধ্য আছে তার? এরপরই একটি ঢেউ বাসনটিকে ভাসিয়ে মালিকের নিকট নিয়ে আসল। তিনি বাসনটিকে উঠিয়ে নিলেন। তাঁদের অবিচলতা ও শান্ত চিত্ততা এত বেশি ছিল যে, ইতিহাসে লেখে যে, ‘কায়ান্নাহুম ইয়ামশুনা ফিল বাররি’ অর্থাৎ যেন তারা স্থলে, শুষ্ক মাটির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। ইরানীরা এই দৃশ্য দেখে চিৎকার করে বলতে থাকল— দিওয়ান আমদান, দিওয়ান আমদান (দৈত্য আসছে; দৈত্য আসছে!)।

দ্বিতীয় ঘটনা হযরত উকবা ইবনে নাফে (রাযি.)-এর। তিনি যখন কায়রাওয়ানের একটি জায়গায় গেলেন জায়গাটা তাঁর পছন্দ হল। তিনি সেখানেই শিবির স্থাপন করতে চাইলেন এবং সেখানে থেকেই তিনি পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা জয় করবেন বলে মনস্থির করলেন। কিন্তু সঙ্গীরা বলল, জায়গাটা উপযুক্ত নয়। জায়গাটা বাঘ, ভাল্লুক ও সিংহসহ নানা রকম হিংস্র ও ক্ষতিকর জীবজন্তুর বিচরণস্থল। সুতরাং আপনি এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্যত্র শিবির স্থাপন করুন। যুক্তিযুক্ত কথা। অন্যত্র গমনে মুশকিলও কিছু নয়। নিরাপদ জায়গারও অভাব নাই। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের মানসিক দৃঢ়তা ও চিন্তা-চেতনার ধারাই ছিল অন্য রূপ। তাঁরা পরিস্থিতির সামনে কখনও নতজানু হননি, মাথা নত করেননি। পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূল করে নিয়েছেন। হযরত উকবাহ ইবনে নাফে (রাযি.) বললেন, আল্লাহর পয়গাম বাহক এই আমরা চলে যাব আর এইসব বাঘ-ভাল্লুক এখানে থাকবে? থাকবে তো তারাই যাদের উপস্থিতি ও থাকাটা প্রয়োজন। এটা সম্পূর্ণ উল্টো ব্যাপার হবে যে, আমরা বলব— 'চল এই জায়গা উপযুক্ত নয় অন্য কোথাও যাই। বরং চলে যাওয়া উচিত বাঘ-ভাল্লুক সহ সকল হিংস্র জানোয়ারের। কারণ তারা কোন কাজে এখানে থাকবে? তারা আল্লাহর কোন পয়গাম নিয়ে এসেছে যে, তারা থাকবে আর আমরা চলে যাব? আমরা যাব না, ওদেরই এই স্থান ত্যাগ করা উচিত।

এই কথা বলে তিনি সেনাবাহিনীর একজনকে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি যাও এবং ঘোষণা করে বল, হে বাঘ! হে সিংহ! হে নেকড়ে! আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও সহচর। আমরা এখানে সেনা ছাউনি তৈরি করতে চাই। আমরা এখানে অবস্থান করে আল্লাহর পয়গামের প্রচার করতে চাই, আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তোমরা যদি তোমাদের জীবন বাঁচাতে ইচ্ছা কর তাহলে এতটুকু সময় তোমাদের দেওয়া হল। এই সময়ের মধ্যে তোমরা চলে যাও। কেউ যেতে না চাইলে তার জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। এটা ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা। রূপকথা বা কল্পকাহিনী নয়। ইরানী ও হিন্দুস্তানীদের ন্যায় আরবরা ইতিহাসে কল্পকাহিনী বা রূপকাহিনী লিখতে অভ্যস্ত নয়; তারা সত্য ইতিহাস লেখে, তাদের ইতিহাসে বাস্তব ঘটনা ব্যতীত অন্য কিছু স্থান পায় না। এইজন্যই বিশাল হাদীসের ভাণ্ডার যথাযথ সংরক্ষিত হতে পেরেছে। যা হোক ঐ ঘোষণার পর লোকেরা বলে যে, তারা স্বচক্ষে দেখল— বাঘ-ভাল্লুককে দৌড়ে পালিয়ে যেতে, বাঘিনীকে দেখল তার বাচ্চাকে বগলদাবা করে ছুটে পালিয়ে যেতে। অনুরূপভাবে সকল প্রাণীকে তারা দেখল, নিজ নিজ বাচ্চাকে নিয়ে ছুটে পালিয়ে যেতে। ফলে অল্প সময়ে পুরো এলাকা হিংস্র জানোয়ার থেকে মুক্ত হয়ে গেল। এই ছিল তাঁদের রীতি। তাঁরা আল্লাহ তাআলার হুকুম অনুযায়ী নিজেকে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলেছেন। অতঃপর তাতে দৃঢ় থেকেছেন। পরিস্থিতি ও পরিবেশের দাস হয়ে যাননি। পরিস্থিতি এইরূপ সুতরাং এইরূপ হয়ে যাও, আবার পরিস্থিতি ও পরিবেশ পাল্টে নতুন রূপ ধারণ করেছে, সুতরাং তুমিও নিজেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নিজেকে পরিবর্তন করে নাও। প্রয়োজনে দল বদল করে অমুক পার্টিতে যোগদান কর। এইরূপ মানসিকতা তাঁদের কখনই ছিল না। তাঁরা দল বদলও করতেন না, দিল (অন্তর) বদলও করতেন না। এক দল, এক দিল—এটাই ছিল তাঁদের চরিত্রের মহান বৈশিষ্ট্য।

📘 উলামা তলাবা > 📄 হিন্দুস্তানে আমাদের কিভাবে থাকা উচিত?

📄 হিন্দুস্তানে আমাদের কিভাবে থাকা উচিত?


আমি বলতে চাচ্ছি যে, যদি হিন্দুস্তানে থাকতে হয় তাহলে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে থাকতে হবে। সকলের প্রিয় হয়ে থাকতে হবে। মারামারি, কাটাকাটি করে কত দিন থাকবেন? এই যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা কত দিন চলবে? কত দিন আর এই অভিযোগ ও অনুযোগ যে, আমাদের প্রতি জুলুম করা হচ্ছে। কিছু কিছু শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। সব সময় চিৎকার করে বলতে থাকে, আম্মু, অমুক আমাকে বিরক্ত করছে, অমুক জ্বালাতন করছে। প্রকৃতপক্ষে এটা একটা মনোগত ব্যাধি বিশেষ। যে শিশু যে বিষয়ে বিরক্ত হয় অন্যরা সেই বিষয় দিয়েই তাকে বিরক্ত করে, জ্বালাতন করে। তো আপনারা কত দিন আর শিশুর মত চিৎকার করতে থাকবেন যে, আমাদের প্রতিবেশী সমাজ আমাদেরকে জ্বালাতন করে, আমাদের প্রতি জুলুম করে? আমাদের সকলের এখন প্রয়োজন চারিত্রিক পরিবর্তন। দিলের মধ্যে ঈমান সৃষ্টি করুন, আমলে সালেহ ও সৎকর্ম সৃষ্টি করুন। চরিত্র ও আচার-আচরণে মাধুর্য সৃষ্টি করুন। আমাদের সুহৃদ নাসের আল-আবূদী যেমনটা বলেছেন এবং অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন যে, যদি আপনার আখলাক ও চরিত্র, আচার-আচরণ সুন্দর হয়, তাহলে আপনার সবকিছুতেই সৌন্দর্য সৃষ্টি হবে, তখন লোকে আপনাকে দেখে বলবে— 'লোকটার দ্বীন নিশ্চয়ই উত্তম দ্বীন।'

তিনি আরও সুন্দর বলেছেন যে, অধিকাংশ লোকই বাহ্যিক দিক দেখে। গভীর তলিয়ে দেখে না। তারা মানুষটাকে দেখে। বই-পুস্তক ও কিতাবাদি ও গ্রন্থাদি পাঠ করার সুযোগ ও অবকাশ কার হয়? এই দেশে যারা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছেন তারা মুসলমানদেরকে দেখে মুসলমান হয়েছেন। তাঁরা খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.) কে দেখেছেন। খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী লেখক ছিলেন না মোটেও। চিশতিয়া তরীকার বুযুর্গগণ বলেন, খাজা মাহবুবে ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া বলেছেন, আমাদের বুযুর্গগণ কখনও কিতাব লেখেননি। যে কিতাব সম্পর্কে বলা হয় যে, খাজা মইনুদ্দীন চিশতী কিতাবটি লিখেছেন তা সঠিক নয়। অদ্রূপ কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী (রহ.) সম্পর্কে যা বলা হয় যে, তিনি অমুক কিতাব লিখেছেন তাও সত্য নয়। তদ্রূপ হযরত ফরীদুদ্দীন গঞ্জে শাকার (রহ.) সম্পর্কে যা বলা হয় যে, তিনি অমুক কিতাব লিখেছেন তাও সঠিক নয়। খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়াও কোন কিতাব বা গ্রন্থ লেখেননি। এই সকল পীর ও বুযুর্গ লেখালেখি বা যাদু বয়ান ইত্যাদি দ্বারা মানুষের হৃদয় জয় করেননি। তাঁরা তাঁদের চরিত্র মাধুর্য দিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। জয় করেছেন ত্যাগ ও কুরবানী দ্বারা, অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাশীলতা দ্বারা। কারও প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণ করার সুযোগ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। ক্রোধ সংবরণ করে ফেলেছেন। হার মেনে নিয়েছেন। গালি শুনেছেন। কেউ তাঁদের কিছু চুরি করেছে, জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে তাঁরা ক্ষমা করে দিয়েছেন। অভাবী, দরিদ্র ও অসহায় কাউকে দেখে কেঁদেছেন, তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। ক্ষুধার্তকে আগে খাইয়ে তারপর কিছু নিজে খেয়েছেন নতুবা অভুক্ত থেকেছেন। এই ছিল তাঁদের স্বভাব ও চরিত্র, যা মানুষের মন জয় করেছে, হৃদয়কে বিগলিত করেছে। এই উন্নত চরিত্রই ইন্দোনেশিয়া ও চীনে ইসলামের বিস্তার ঘটিয়েছে।

সমগ্র ইন্দোনেশিয়া আরব বণিকদের চরিত্র মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে এবং সুফীগণের আত্মিক উৎকর্ষ দেখে মুসলমান হয়েছে। আজ পর্যন্ত কেউ এই দাবি করতে পারেনি যে, ইন্দোনেশিয়ায় কখনও কোন মুসলিম সেনাবাহিনীর আগমন ঘটেছিল। মুসলিম সেনাবাহিনী এত দূরের দেশসমূহে কখনই যায়নি। শক্তি বা তরবারী দ্বারা ইসলামের প্রসার ঘটেনি। দেখুন, ভারত উপমহাদেশের যেসব অঞ্চলে সাড়ে সাতশত বৎসর পর্যন্ত মুসলিম শাসন কায়েম ছিল সেখানে মুসলমানেরা এখনও সংখ্যালঘু। এই যে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং বিহার— এই সকল জায়গায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল তবুও এসব জায়গায় মুসলমানরা সংখ্যালঘিষ্ঠ। খোদ দিল্লীতেই মুসলমানরা সংখ্যালঘু। মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোথায় আছে? আছে কাশ্মীরে। যেখানে আল্লাহর এক বান্দা সাইয়েদ আলী হামদানীর আগমন ঘটেছিল, আর তাঁর হাতে সমগ্র কাশ্মীর মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। তদ্রূপ বাংলা, বিশেষত পূর্ব বাংলা। সমগ্র বাংলা সুফীগণের প্রভাবে ইসলামের ছায়াতলে এসেছে। অতএব চরিত্রের পরিবর্তন ও উৎকর্ষ সাধন প্রয়োজন। আপনি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দাঁড়াবেন। আপনার অভ্যন্তরটাও হবে দাঈ, আপনার চরিত্র মাধুর্যই মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করবে। আপনি মুসলমানদের মধ্যে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করুন। মুসলমানদের মধ্যে আপনার কথা যেন প্রভাব বিস্তারকারী হয়, তারা যেন আপনার কথার মূল্যায়ন করে। তারা যেন সংশোধিত হয়, আল্লাহর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যেন দৃঢ় হয়। তাদের চরিত্র যেন উন্নত হয়ে যায়। অপরের জন্য তারা যেন দৃষ্টান্ত ও আদর্শ হয়ে যায়। অতঃপর তাদের জন্য জরুরী হবে অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করা। তবে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা ও ভাষণ দিয়ে তারা বলবে না যে, আস তোমরা মুসলমান হয়ে যাও। বরং নিজ চরিত্র দ্বারা তাদেরকে আকৃষ্ট করবে, তাদের অন্তরে স্থান করে নিবে। আর নিজের মধ্যে দেশাত্মবোধ থাকতে হবে, দেশপ্রেম জাগরূক করতে হবে। সর্বদা এই চেতনা লালন করতে হবে যে, আমাদের দেশটা যেন ধ্বংস হয়ে না যায়।

📘 উলামা তলাবা > 📄 শিশুসুলভ মানসিকতা

📄 শিশুসুলভ মানসিকতা


মুসলমানদের মানসিক অবস্থা বর্তমানে এইরূপ হয়ে গিয়েছে যে, যদি এ দেশের কোথাও বন্যা হয়, তবে তারা তাতে খুশি হয়, আনন্দবোধ করে, কোথাও আগুন লাগলে তাতেও তারা আনন্দিত হয়। মনে করে যে, এই দেশের উপর যত বিপদ আসে ততই ভাল। মানসিকতা এতটাই নীচ পর্যায়ে চলে গেছে যে, হকি, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলাধুলায় যদি দেশের দল হেরে যায় আর কোন মুসলিম দেশের দল জিতে যায় তবে আনন্দিত হয়, পুলকিত হয়। এটা সম্পূর্ণ শিশুসুলভ মানসিকতা। এই মানসিকতা নিয়ে কাজ চলবে না। দেশের প্রতি সত্যিকারের প্রেম ও ভালবাসা থাকতে হবে।

দেখুন, আমাদের আসলাফে কেরাম ও পূর্বসুরীগণ যদি এই দেশের জন্য কাজ না করে যেতেন, তাঁরা যদি এই দেশটাকে গঠন করে না যেতেন, এই দেশকে সজ্জিত করে না যেতেন তাহলে এই দেশকে আমরা কিছুই দেখাতে পারতাম না। অনেক মহাপুরুষকে আমরা দেখিয়েছি। আপনি দারুল উলুমে যান, সেখানে যাদুঘর আছে। দেখুন, আমাদের পূর্বসূরীগণ এই দেশকে কী দিয়েছেন, তাঁরা এই দেশটাকে কতটুকু সমৃদ্ধ করেছেন। যদি তাদের দেশপ্রেম না থাকত বরং উল্টো দেশের বিপদে আনন্দিত হওয়ার মানসিকতা যদি তাঁদের থাকত, তাঁরা যদি মনে করতেন এ দেশ ধ্বংস হয়ে যাক, লানত হোক এই দেশের উপর, আমাদের প্রতি এই দেশ এই অবিচার করেছে ঐ অবিচার করেছে, তাহলে কিছুই হত না। তাঁরা এই দেশকে নিজের দেশ মনে করেছেন। এই দেশের জনসাধারণকে আল্লাহর মাখলুক বলে মনে করেছেন। মনে করেছেন— ‘আল খালকু আয়ালুল্লাহ’ (সকল মাখলুক আল্লাহর পরিবারভুক্ত)। তাঁরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। আল্লাহর পয়গাম এই দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানোর চেষ্টা করেছেন। ফল এই হয়েছে যে, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের নিকট তাঁরা প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছেন, সকলের চোখের মনিতে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাঁর প্রিয় বানিয়ে নিন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00