📘 উলামা তলাবা > 📄 প্রতিটি শহরেই অভিজ্ঞ আলেম থাকা প্রয়োজন

📄 প্রতিটি শহরেই অভিজ্ঞ আলেম থাকা প্রয়োজন


প্রতিটি দেশে বরং প্রতিটি শহরেই অভিজ্ঞ আলেম থাকা উচিত, যিনি যথাসময়ে দ্বীনী ব্যাপারে মানুষকে সহায়তা করতে পারেন, দিক-নির্দেশনা দান করতে পারেন। কমপক্ষে সঠিক পথের অনুসারী কোন আলেমের নিকট প্রেরণ করতে পারেন। আমি নিজেও এই কাজ করি। কেউ গুরুত্বপূর্ণ কোন মাসআলা জিজ্ঞেস করতে আসলে আমি বলে দেই যে, আমাদের মাদরাসায় মুফতী সাহেব আছেন তাঁর নিকটে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। কারণ ‘লি কুল্লি ফাননিন রিজালুন’ (প্রত্যেক শাস্ত্রের জন্য আলাদা আলাদা ব্যক্তি থাকে)। আল্লামা ইবনে হাযম সম্পর্কে ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন যে, তিনি সাফা ও মারওয়ার সায়ী করণকালে রমল ও ইজতিবা করতে হবে বলে লিখেছেন। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া অত্যন্ত আদবের সাথে লিখেছেন যে, আসলে আল্লামা ইবনে হাযম যেহেতু হজ্জ পালন করেননি তাই তাওয়াফ ও সায়ীর মাঝে তাঁর বিভ্রম ঘটে গেছে। যাক এটা তো ভিন্ন বিষয়।

কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি যদি পূর্বসূরী আকাবিরগণের তালিকা প্রদান করতে থাকেন আর বলেন যে, আমাদের পূর্বসূরী আকাবিরদের মাঝে এইরূপ আর ঐরূপ ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছেন তবে তার উদাহরণ হবে এইরূপ যে, কোন পিপাসার্ত ব্যক্তি আপনার নিকট পানি প্রার্থনা করল আর আপনি তাকে বলতে থাকলেন, পৃথিবীতে এইরূপ উচ্চমানের আইসক্রিম প্রস্তুত হয়েছে, এইরূপ সুপেয় মজাদার পানীয় আবিষ্কৃত হয়েছে ইত্যাদি। ভাই, এসব পানীয়ের নাম উল্লেখ এবং সেগুলোর গুণমান বর্ণনা করে কী লাভ হবে? তার তো প্রয়োজন পানির। আপনি যখন তাকে পানি দিবেন তখনই তার পিপাসা নিবারিত হবে নতুবা নয়। তা সেই পানি আপনি কাঁচের গ্লাসেই দেন অথবা মাটির কোন পাত্রেই দেন।

📘 উলামা তলাবা > 📄 শূন্যস্থান পূরণের জন্য প্রয়োজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তির

📄 শূন্যস্থান পূরণের জন্য প্রয়োজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তির


জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদ্যার এবং কোন জাতির অবক্ষয় এভাবেই ঘটেছে যে, যখন উপযুক্ত কোন ব্যক্তি বিদায় গ্রহণ করেছে তখন তার শূন্যস্থান পূরণের জন্য কেউ সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে এই আশঙ্কাই সৃষ্টি হয়েছে। কারণ যিনি বিদায় গ্রহণ করছেন তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হচ্ছে না। আপনাদের নিকট কী বলব। বলতেও বুক ফেটে যায়। হিন্দুস্তানে মারাত্মক শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে। কোন মাদরাসায় শায়খুল হাদীসের প্রয়োজন কিন্তু শায়খুল হাদীস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও উসূলে ফিকহ পড়ানোর জন্য যোগ্য উস্তাদের প্রয়োজন কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। কোন আল্লাহর বান্দা হয়তো আল্লাহর নিকট চলে গেছেন, কেউ হয়তো অন্য মাদরাসায় চলে গেছেন। আমাদের জন্য ফলাফল একই। যিনি চলে গেছেন তাঁর শূন্যস্থান পূরণের কেউ নেই। আমার বক্তব্যের সারকথা হল, শূন্যস্থান পূরণ হওয়া উচিত।

আর এর জন্য প্রয়োজন কিছু নিবেদিতপ্রাণ উৎসাহী ব্যক্তির। যদি আপনারা চান, হাদীস শাস্ত্রে কিছু অভিজ্ঞ আলেম তৈরি হোক, ফিকহ শাস্ত্রে কিছু অভিজ্ঞ আলেম তৈরি হোক তাহলে রক্ত পানি করার প্রয়োজন। দুঃখের বিষয়, মাদরাসাসমূহে বর্তমানে এই বিষয়টিরই নিদারুণ অভাব। মাদরাসাগুলোতে সবকিছুই আছে কিন্তু সেই মেহনত, সেই অক্লান্ত পরিশ্রম আর নাই। ইউরোপ যে পার্থিব উন্নতির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে তার পিছনে এই মেহনত ও পরিশ্রমেরই ভূমিকা রয়েছে। তারা তাদের পথে চূড়ান্ত মেহনতে লিপ্ত। আমি বহু ঘটনা শুনেছি যে, তাদের কোন কোন গবেষণাকর্মে গবেষকরা এমনভাবে তাদের গবেষণায় লিপ্ত ছিল যে, রাত দূরীভূত হয়ে কখন ভোর হয়েছে, আবার কখন দিনের শেষে সন্ধ্যা নেমে এসেছে, তাদের খবরও ছিল না।

আমার পরিচিত একজন জার্মানী গিয়েছিলেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন কাজ শুরু কর, তোমার এই প্রতিষ্ঠান কখন খোলে? সে বলল, আমি এখনই বলছি। অতঃপর সে ভিতরে গেল এবং একজনকে জিজ্ঞেস করল, আমার বিভাগটা কখন খোলে? লোকটি বলল, এতটার সময়ে। সে এসে আমার পরিচিত লোকটাকে তখন জানাল যে, এতটার সময়ে খোলে। আমার পরিচিত লোকটা তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনার প্রতিষ্ঠান ও শাখা কখন খোলে তা আপনি নিজে না বলে অন্যকে জিজ্ঞেস করে বললেন কেন? সে উত্তরে বলল, কারণ, খোলার সঠিক সময়টা আমার জানা নাই। এত ভোরে আমি চলে আসি যে, আমার কোন হুঁশ থাকে না এবং ঘড়িও দেখি না। কাজের প্রতি তার একনিষ্ঠতা এরূপই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00