📘 উলামা তলাবা > 📄 পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন

📄 পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন


আপনাদের বর্তমান পাঠ্যসূচিই স্বয়ং এই সত্যের মহাসাক্ষী যে, আলেমগণ কোন প্রয়োজনকে স্বীকার করে নিতে এবং তৎমাফিক কল্যাণকর ও অপরিহার্য কোন বিষয়কে গ্রহণ করে নিতে কখনও দ্বিধা করেননি। এ কারনেই মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে প্রত্যেক যুগেই নিয়মিত ধারায় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন বিয়োজনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু চলতি শত বৎসরেই পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে সর্বাধিক স্বল্প পরিমাণে। অথচ রাজনৈতিক চিন্তা ও ধ্যান-ধারণাগত ব্যাপক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই যুগই ছিল পাঠ্যসূচী পরিবর্তনের সর্বাধিক দাবিদার, সর্বাধিক উপযুক্ত।

📘 উলামা তলাবা > 📄 দ্বীনের প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজন বিভিন্নমুখী যোগ্যতার

📄 দ্বীনের প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজন বিভিন্নমুখী যোগ্যতার


বন্ধুগণ! আধুনিক বিপ্লবের এই যুগে দ্বীনের প্রতিনিধিত্ব ও ইসলামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্যই শুধু নয়; বরং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চতার চিত্র রূপায়নের জন্যও প্রয়োজন অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনের এবং বিভিন্নমুখী যোগ্যতার অধিকারী হওয়ার। আপনারা ইসলামের সৈনিক। জীবনের বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য আপনারা নিজেকে প্রস্তুত করছেন। কোন সেনা প্রশিক্ষণ শিবির এবং সেখানে প্রশিক্ষণ রত সৈনিকদের জন্য সর্বাধিক অসঙ্গত ও মারাত্মক বিতর্ক হল নতুন ও পুরাতন অস্ত্র বিতর্ক, নতুন ও পুরাতন রণকৌশল বিতর্ক। সৈনিকের জন্য কোন অস্ত্রই পুরাতন নয়, কোন অস্ত্রই নতুন নয়। তার দেখা উচিত কোন অস্ত্র যুদ্ধের জন্য সর্বাধিক কার্যকর, কোন রণকৌশল অপেক্ষাকৃত অধিক ফলপ্রসূ। সৈনিকের জন্য মুঢ়তা ও হঠকারিতার অবকাশ নেই। না বিশেষ কোন অস্ত্রের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ও জিদ থাকা উচিত, না বিশেষ কোন রণকৌশলের প্রতি। প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সকল অস্ত্রে ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ হওয়া তার জন্য অপরিহার্য। আরবী কবি অনেক পূর্বেই বলেছেন—

‘কুল্লু ইমরায়িন ইয়াসআ ইলা ইয়াউমিল হিয়া-জি বিমা আসতাআদ্দা’

প্রত্যেক ব্যক্তিই যুদ্ধক্ষেত্রে গমন করে তার প্রস্তুতি ঋদ্ধতা নিয়ে।

📘 উলামা তলাবা > 📄 নবাগত সকল মতবাদ ও তন্ত্র মন্ত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা অপরিহার্য

📄 নবাগত সকল মতবাদ ও তন্ত্র মন্ত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা অপরিহার্য


প্রিয় বন্ধুগণ! আপনাদের উচিত, নবাগত সকল ফেতনা সম্পর্কে অবগত থাকা। তবে কোন বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞান ও অভিজ্ঞান অজ্ঞানতা অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর। বর্তমানে মাদরাসাগুলোতে কোন কোন ফেতনা ও মতবাদ এবং চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তবে তা ফ্যাশন হিসাবে, নামকাওয়াস্তে। ফলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসহ গবেষণামূলক অধ্যয়ন তো দূরের ব্যাপার, এসব বিষয়ের সাধারণ তথ্যাদিও শিক্ষার্থীদের ভাণ্ডারে নিতান্ত স্বল্পই সঞ্চিত হয়। এসব বিষয়ের স্বরূপ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণাও তাদের অর্জিত হয় না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক উস্তাদের দিক-নির্দেশনায় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়ন করা উচিত এবং তুলনামূলক অধ্যয়ন করত ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য সপ্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করা উচিত। কার্যটি দুরূহ, কিন্তু অপরিহার্য। কার্যটি যদি মাদরাসার তত্ত্বাবধানে সুসংহত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় না হয় তবে কার্যটি হবে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পদ্ধতিতে, যা হবে অকার্যকর ও নিষ্ফল।

📘 উলামা তলাবা > 📄 আধুনিক বিষয়ে অধ্যয়নের সমস্যা ও সমস্যা উত্তরণে করণীয়

📄 আধুনিক বিষয়ে অধ্যয়নের সমস্যা ও সমস্যা উত্তরণে করণীয়


মাদরাসাগুলোতে আধুনিক বিষয় অধ্যয়নের প্রতি আকর্ষণ ও আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এসব অধ্যয়নে অভিনিবিষ্টতা ও গভীরতা নেই। আমি আধুনিক বিষয় অধ্যয়নের জোরালো সমর্থক। কিন্তু আমি নির্দ্বিধায় বলছি, বিষয়টি এত সহজ ও হালকা নয়। এর জন্য প্রয়োজন গ্রন্থ নির্বাচন ও সেগুলোর পর্যায়ক্রম নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা ও কোন উপযুক্ত পরামর্শকের নিয়মিত পরামর্শ লাভ। এরও পূর্বে প্রয়োজন অধ্যয়নকারীর মানসিক প্রস্তুতি, যাতে সে অধ্যয়ন দ্বারা সর্বোচ্চ সঠিক জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং তার জ্ঞান সুবিন্যস্ত ও শৃঙ্খলিত আকারে অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং যথাস্থানে সে তার আহরিত জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করতে পারে। ছাত্রদের মেধা ও মনন যদি নির্ভুল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ও শিক্ষকমণ্ডলীর সংসর্গ প্রভাবিত হয়ে পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়ে যায় তবে পঠিত যে কোন বিষয়কে সে যথাযথ কাজে লাগাতে পারবে, অর্জিত তথ্যাদির কাঁচামাল দ্বারা হিতকর ও কার্যকর সামগ্রী উৎপাদনে সবিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। ফলে তার অর্জিত জ্ঞান হবে অভাবনীয় ও পর্যাপ্ত ফলপ্রসূ। তখন সে সাহিত্য ও ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞান এমনকি দ্বীন-সংশ্লিষ্ট নয় এমন জ্ঞান দ্বারাও দ্বীনের সেবা-যত্নে ও দ্বীন সংরক্ষণে এরূপ অভাবনীয় ভূমিকা ও অবদান রাখতে পারবে, যা অনেক সময় দ্বীনী বিষয় দ্বারাও সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তখন ‘খালিছাম মিম বাইনি ফারছিও ওয়া দামিল লাবানান সাইগাল লিশ শারিবি-ন’ (রক্ত ও উদর-বর্জের মধ্য হতে পানকারীদের জন্য বিশুদ্ধ ও সুপেয় দুগ্ধ নির্গত হওয়ার) তাৎপর্য ও স্বরূপ নিজের সামনে উন্মোচিত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে এর ব্যতিক্রম ঘটলে, দ্বীনের প্রকৃত রূপ হৃদয় ও মস্তিষ্কে বদ্ধমূল না হলে, মেধা ও মনন সুষ্ঠু পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে বক্রতা ও ভ্রান্তি পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে গেলে তার সবকিছুই দোষনীয় ও অসুস্থতার প্রতিকৃতি হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00