📘 উলামা তলাবা > 📄 যুগকে সঙ্গে নিয়ে চলা এবং যুগের দাবি পূরণ

📄 যুগকে সঙ্গে নিয়ে চলা এবং যুগের দাবি পূরণ


আমার আলোচনাকে বিস্তারিত করণের উদ্দেশ্য, আপনারা যেন যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন যে, উলামায়ে ইসলামের মেধা ও চিন্তা, ইসলামের খেদমতে তাঁদের আবেগ ও উদ্দীপনা কখনও কোন স্থানে এসে স্থবিরতার শিকার হয়ে পড়েনি কিংবা প্রাচীন প্রথা ও রীতি-নীতির কাঙ্গাল হয়ে থাকেনি। তাঁরা চলমান জ্ঞান-বিজ্ঞানকে সঙ্গে নিয়ে চলেছেন। তাঁদের হাত যুগের জীবনস্পন্দন জ্ঞাপক ধমনী হতে কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। তাঁদের দৃষ্টি সর্বদা যুগের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ইসলামের খেদমতের জন্য যে যুগে যা কিছু প্রয়োজন, যে পদ্ধতি ও যে প্রক্রিয়া অবলম্বনের প্রয়োজন অকৃত্রিম আন্তরিকতার সাথে তাঁরা তাই গ্রহণ করেছেন, তাই অবলম্বন করেছেন। তাঁরা ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার, ইসলাম ও দ্বীনের খেদমতে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার অঙ্গীকারে আবদ্ধ ছিলেন। নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান কি নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠীর কি নির্দিষ্ট কোন উৎসের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও কর্মপদ্ধতি অপ্রয়োজনেও তারা আঁকড়ে ধরে রাখবেন— এরূপ কোন কসম তারা করেননি। মিসর ও ভারতে যখন তাহযীব-তামাদ্দুন, ইতিহাস ও সাহিত্যের পথে ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হল, পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য লেখকেরা ইসলামের সোনালী যুগ ও তৎকালীন মহান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর নিক্ষেপ শুরু করল এবং বিকৃত বীভৎস ও কুৎসিত রূপে ইসলামকে উপস্থাপন করতে শুরু করল তখন উলামা মহল থেকেই তীক্ষ্ণ কলমের অধিকারী শক্তিশালী লেখক ও সাহিত্যিক একদল সৈনিক এগিয়ে এলেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁরা এরূপ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেন, যা ধর্মীয় বিচারে নয় শুধু, সাহিত্য বিচারেও অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁরা তাঁদের উচ্চ সাহিত্যমান সম্পন্ন লেখনী দ্বারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হাজার হাজার দ্বিধান্বিত ও বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে দ্বিধা ও সংশয়মুক্ত করেছেন। তাদের চিন্তা ও ধ্যান-ধারণাগত মালিন্য দূর করে তাদের মন ও মস্তিষ্কে প্রশান্তির বীজ বপন করেছেন। ফলে তাদের ভ্রান্তি ও দ্বিধাই শুধু অপসৃত হয়নি, ইসলামের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ ও আকর্ষণও সৃষ্টি হয়েছে। মাওলানা শিবলীর আল-ফারুক, আল জিযইয়াহ ফিল ইসলাম এই ধারার রচনাবলীর উৎকৃষ্ট ও সফল দৃষ্টান্ত।

📘 উলামা তলাবা > 📄 পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন

📄 পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন


আপনাদের বর্তমান পাঠ্যসূচিই স্বয়ং এই সত্যের মহাসাক্ষী যে, আলেমগণ কোন প্রয়োজনকে স্বীকার করে নিতে এবং তৎমাফিক কল্যাণকর ও অপরিহার্য কোন বিষয়কে গ্রহণ করে নিতে কখনও দ্বিধা করেননি। এ কারনেই মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে প্রত্যেক যুগেই নিয়মিত ধারায় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন বিয়োজনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু চলতি শত বৎসরেই পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে সর্বাধিক স্বল্প পরিমাণে। অথচ রাজনৈতিক চিন্তা ও ধ্যান-ধারণাগত ব্যাপক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই যুগই ছিল পাঠ্যসূচী পরিবর্তনের সর্বাধিক দাবিদার, সর্বাধিক উপযুক্ত।

📘 উলামা তলাবা > 📄 দ্বীনের প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজন বিভিন্নমুখী যোগ্যতার

📄 দ্বীনের প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজন বিভিন্নমুখী যোগ্যতার


বন্ধুগণ! আধুনিক বিপ্লবের এই যুগে দ্বীনের প্রতিনিধিত্ব ও ইসলামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্যই শুধু নয়; বরং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চতার চিত্র রূপায়নের জন্যও প্রয়োজন অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনের এবং বিভিন্নমুখী যোগ্যতার অধিকারী হওয়ার। আপনারা ইসলামের সৈনিক। জীবনের বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য আপনারা নিজেকে প্রস্তুত করছেন। কোন সেনা প্রশিক্ষণ শিবির এবং সেখানে প্রশিক্ষণ রত সৈনিকদের জন্য সর্বাধিক অসঙ্গত ও মারাত্মক বিতর্ক হল নতুন ও পুরাতন অস্ত্র বিতর্ক, নতুন ও পুরাতন রণকৌশল বিতর্ক। সৈনিকের জন্য কোন অস্ত্রই পুরাতন নয়, কোন অস্ত্রই নতুন নয়। তার দেখা উচিত কোন অস্ত্র যুদ্ধের জন্য সর্বাধিক কার্যকর, কোন রণকৌশল অপেক্ষাকৃত অধিক ফলপ্রসূ। সৈনিকের জন্য মুঢ়তা ও হঠকারিতার অবকাশ নেই। না বিশেষ কোন অস্ত্রের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ও জিদ থাকা উচিত, না বিশেষ কোন রণকৌশলের প্রতি। প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সকল অস্ত্রে ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ হওয়া তার জন্য অপরিহার্য। আরবী কবি অনেক পূর্বেই বলেছেন—

‘কুল্লু ইমরায়িন ইয়াসআ ইলা ইয়াউমিল হিয়া-জি বিমা আসতাআদ্দা’

প্রত্যেক ব্যক্তিই যুদ্ধক্ষেত্রে গমন করে তার প্রস্তুতি ঋদ্ধতা নিয়ে।

📘 উলামা তলাবা > 📄 নবাগত সকল মতবাদ ও তন্ত্র মন্ত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা অপরিহার্য

📄 নবাগত সকল মতবাদ ও তন্ত্র মন্ত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা অপরিহার্য


প্রিয় বন্ধুগণ! আপনাদের উচিত, নবাগত সকল ফেতনা সম্পর্কে অবগত থাকা। তবে কোন বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞান ও অভিজ্ঞান অজ্ঞানতা অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর। বর্তমানে মাদরাসাগুলোতে কোন কোন ফেতনা ও মতবাদ এবং চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তবে তা ফ্যাশন হিসাবে, নামকাওয়াস্তে। ফলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসহ গবেষণামূলক অধ্যয়ন তো দূরের ব্যাপার, এসব বিষয়ের সাধারণ তথ্যাদিও শিক্ষার্থীদের ভাণ্ডারে নিতান্ত স্বল্পই সঞ্চিত হয়। এসব বিষয়ের স্বরূপ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণাও তাদের অর্জিত হয় না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক উস্তাদের দিক-নির্দেশনায় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়ন করা উচিত এবং তুলনামূলক অধ্যয়ন করত ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য সপ্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করা উচিত। কার্যটি দুরূহ, কিন্তু অপরিহার্য। কার্যটি যদি মাদরাসার তত্ত্বাবধানে সুসংহত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় না হয় তবে কার্যটি হবে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পদ্ধতিতে, যা হবে অকার্যকর ও নিষ্ফল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00