📘 উলামা তলাবা > 📄 যাঁদের নিঃশ্বাসে জীবনের মর্যাদা রয়েছে আজও অক্ষুণ্ন

📄 যাঁদের নিঃশ্বাসে জীবনের মর্যাদা রয়েছে আজও অক্ষুণ্ন


প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! মানব জীবনের অস্তিত্ব টিকে থাকার জন্য যেমন প্রয়োজন হয় খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ সহ যাবতীয় পার্থিব উপায়-উপকরণের, তেমনই জীবনকে উজ্জ্বল ও মাহাত্ম্যপূর্ণ করে তুলতে, মানবতাকে উৎকৃষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে প্রয়োজন হয় বস্তুপূজারী ও সংকীর্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন পৃথিবীর এই সমাজে মাঝে মাঝে পয়গম্বর সুলভ আত্মমর্যাদাবোধ এবং পার্থিব জগতের প্রতি ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যের প্রকাশ ঘটার। প্রয়োজন হয় কোন দিক থেকে এই দৃঢ় উচ্চারণের—

‘আ-তুমিদ্দুনানি বি-মালিন ফামা আতানিয়াল্লাহু খাইরুম মিম্মা আতাকুম’

'তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করছ? আল্লাহ আমাকে যা দান করেছেন তা তোমাদেরকে যা দান করেছেন তা থেকে উৎকৃষ্ট।' (সূরা নামল ৩৬)

যে দিন এই উচ্চারণ আর উচ্চারিত হবে না, এই সাহসী ধ্বনি আর শ্রুত হবে না, সমগ্র পৃথিবী পরিণত হয়ে যাবে নিলামের বাজারে, যে বাজারে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি হতে থাকবে বিবেক-বুদ্ধি নামক অমূল্য রতন, ঈমানের উত্তাপ আর জ্ঞান-সম্পদ, মানুষ বিক্রিত হতে থাকবে স্থূল পদার্থ আর পশুর দামে সেই দিন এই পৃথিবী বসবাসেরই অনুপযোগী হয়ে পড়বে। মানবতা হারাবে তার প্রাণ ও উত্তাপ।

মানবতার মর্যাদা, নবীগণের নেতৃত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব আপনাদেরই। ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এর প্রত্যাশা অবান্তর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার লক্ষ্য কেবলই উদরপূজা। উদরপূজার ঊর্ধ্বে অন্য কোন লক্ষ্যের দাবি যারা নিজেরাও করে না। এর প্রত্যাশা শুধু আপনাদের নিকট থেকেই করা যেতে পারে। কারণ, আপনাদের পূর্বসূরীদের তালিকায় রয়েছেন ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের ন্যায় আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবোধের অধিকারী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মহান ইমাম। আব্বাসী শাসন যাঁদেরকে কোন মূল্যেই খরিদ করে নিতে পারেনি। রয়েছেন ইমাম গাযযালীর ন্যায় অমিত সাহসী ব্যক্তিত্ব। রাজশাসনের অধিকারী খলীফার পদের পর সর্বোচ্চ দ্বীনী সম্মানজনক পদ বাগদাদের নিজামীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ যিনি খলীফার অনুরোধ সত্ত্বেও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছিলেন। রয়েছেন হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানীর ন্যায় দৃঢ়চিত্ত অসম সাহসী ব্যক্তি, যিনি বরণ করে নিয়েছিলেন গোয়ালিয়র কারাগারের বন্দীজীবন, তবুও বাদশাহ জাহাঙ্গীরকে কুর্নিশ করতে সম্মত হননি। আপনাদের আসলাফ ও আকাবিরের মধ্যে রয়েছেন মির্জা মাযহার জানে জানাঁ। দিল্লীর সম্রাট যাঁর নিকট বার্তা প্রেরণ করেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে যে বিশাল রাজত্ব দান করেছেন তার কিছু অংশ আপনি গ্রহণ করুন। উত্তরে তিনি বলে পাঠিয়েছিলেন, আল্লাহ তাআলা সাত মহাদেশকে (তথা সমগ্র পৃথিবীকে) ‘দুনিয়া মাতাউন কালীল’ (দুনিয়ার সামগ্রী স্বল্প ও তুচ্ছ) বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই সাত মহাদেশের মধ্য থেকে একটি মাত্র মহাদেশেরও অংশবিশেষ রাজত্বের অধিকারী আপনি। তা কতটুকুন যে, এই ফকীর তার দিকে লোভের হাত প্রসারিত করবে? নওয়াব আসফ জাহ একবার তাঁকে বিশ হাজার টাকা হাদিয়া স্বরূপ দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। নওয়াব বললেন, আপনি গ্রহণ করুন এবং দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিন। তিনি বললেন, পথে আপনি নিজেই দান করতে করতে যান। প্রাসাদ পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই এই টাকা নিঃশেষ হয়ে যাবে। পথে নিঃশেষ না হলে প্রাসাদে পৌঁছার পর নিঃশেষ হয়ে যাবে।

আপনাদের আসলাফ ও পূর্বসূরীদের মধ্যে রয়েছেন হযরত শাহ গোলাম আলী দেহলভী (রহ.)। টুংক প্রদেশের গভর্নর মীর খাঁ তাঁর খানকা শরীফের খরচাদির জন্য বাৎসরিক কিছু অর্থ বরাদ্দ করতে চাইলে তিনি লিখে পাঠালেন— ‘মা আবরুয়ে ফাকর ও কানায়াত নিমি বারিম, বা মীর খাঁ বিগুয়ে কে রুযি মুকাদ্দার আস্ত’ (দারিদ্র ও অল্পেতুষ্টির গর্ব ত্যাগ করতে আমি নই রাজী মীর খাঁকে বল, এই পৃথিবীতে নির্ধারিত সকলের রুজী।)

আপনাদের পূর্বসূরীদের তালিকায় রয়েছেন আবদুর রহীম রামপুরীর ন্যায় নির্মোহ মুদাররিস ও শিক্ষক। মাসিক দশ টাকা মাসোহারাকে যিনি বেরেলী কলেজের আড়াইশ টাকার উপর এবং আল্লাহর ওয়াস্তে মুফতে শিক্ষাদানকে সম্মানজনক প্রফেসর পদের উপর প্রাধান্য দান করেছিলেন এবং কারণ হিসাবে বলেছিলেন, আল্লাহ যদি এ ব্যাপারে আমাকে কিয়ামতের দিন জবাবদিহী করতে বলেন তাহলে কী জবাব দিব? আপনাদের আসলাফ ও পূর্বসূরীদের মধ্যে রয়েছেন হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.)। যিনি আলীগড়ের জনৈক দ্বীনদার ধনাঢ্য ব্যক্তির নিকট থেকে বেতনরূপে প্রাপ্ত মাসিক দশ টাকা হতে দুই টাকা কমিয়ে দিতে বললেন। কারণ দর্শিয়ে বললেন, আমি আমার মাকে মাসে দু টাকা করে দিতাম। তাঁর ইন্তিকালের পর এই দুই টাকা আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাবে। আমি কিয়ামতের দিন এই অতিরিক্ত অর্থের হিসাব দান থেকে রক্ষা পেতে চাই। নিকট অতীতের পূর্বসূরীদের মধ্যেও আমরা দেখতে পাই ঐসব ত্যাগী মুদাররিসকে যাঁদের স্বল্প বেতনে এবং স্বীয় উস্তাদ ও শায়খের সান্নিধ্যে পরিতুষ্ট থেকে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় উচ্চ বেতনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, সংকট ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়েই নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন। অতএব আমি নিশ্চিত যে, আপনাদেরই অধিকার রয়েছে কবিতার এই পংক্তিটি পাঠ করার—

‘উলাইকা আবাঈ ফাজিইনী বিমিছলিহিম— ইযা জামাআতনা ইয়া জারিরুল মাজামি’

'তাঁরা আমাদের পূর্বসূরী, বিভিন্ন সমাবেশে যখন আমরা সমবেত হই তখন হে জারীর! তাঁদের অনুরূপ কাউকে দেখাও তো তুমি।'

📘 উলামা তলাবা > 📄 এটা সুখ ও আরামপ্রিয়তার পথ নয়

📄 এটা সুখ ও আরামপ্রিয়তার পথ নয়


বন্ধুগণ! আমার এতক্ষণের বক্তব্যে আপনারা আমাকে ভুল বুঝবেন না। আপনারা মনে করবেন না যে, যুগের পরিবর্তন, প্রয়োজন ও চাহিদার ক্রমশ বৃদ্ধিপ্রাপ্তি, সাহস ও সামর্থ্যের ঘাটতি, পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্কট ইত্যাদি সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। আপনারা এই ধারণা পোষণ করবেন না যে, আমি এই যুগে আপনাদের নিকট থেকে হযরত মাওলানা আবদুর রহীম এবং মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.)-এর ত্যাগ ও কুরবানীর ন্যায় ত্যাগ ও কুরবানী দাবি করছি। তবে একথা আমি না বলে পারছি না যে, আপনাদের পথ নিঃসন্দেহে ত্যাগ ও তিতিক্ষার পথ, অল্পে তুষ্টি এবং ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পথ। আরামপ্রিয়তা এবং জাগতিক সমৃদ্ধি লাভের পথ আপনাদের পথ নয় কখনও। এই পথে— ‘কাদ কুনতা ফিনা মারজুয়ান কাবলা হাযা’ (তুমি তো পূর্বে আমাদের আশাস্থল ছিলে)— জাতীয় তিরস্কারমূলক বাক্যবানে জর্জরিত হতেই হবে। এই পথে তো— ‘ওয়া লা তমুদ্দন্নাইআইনাকা ইলা মা মত্তা’না বিহি আযওয়াজাম মিনহুম যাহরাতাল হায়াতিদ দুনিয়া লিনাফতিনাহুম ফিহি ওয়া রিযকু রাব্বিকা খাইরুও ওয়া আবকা’ (তুমি তোমার চোখ দুটিকে প্রসারিত করো না তার দিকে যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে দান করেছি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসাবে, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার নিমিত্তে। তোমার প্রতিপালকের নিকট রক্ষিত জীবনোপকরণ উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী)—র পাঠ গ্রহণ করতেই হবে।

তবে এর প্রতিদান কী তাও শুনে নিন। তা হল— ‘ওয়া জাআলনা মিনহুম আইম্মাতাই ইয়াহদুনা বি-আমরিনা লাম্মা সাবারু ওয়া কানু বি-আয়াতিনা ইয়ুকিনুন’ (তাদের মধ্য হতে আমি নেতা মনোনীত করেছিলাম তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করত, আর তারা ছিল আমার আয়াতসমূহে দৃঢ়বিশ্বাসী)। (সূরা সাজদা ২৪)

মাওলানা রূমী (রহ.) এই স্তরের দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন— ‘মেদাহ রা বিগুযার সুয়ে দিল খেরাম, তা কে বে পারদাহ যে হক আয়েদ সালাম’ (উদরপূজা পরিহার কর, ধাবিত হও হৃদয় পানে সরাসরি যেন সালাম আসে প্রভু হতে তোমার পানে।)

📘 উলামা তলাবা > 📄 যুগ বড় অসহায় ও তৃষ্ণার্ত

📄 যুগ বড় অসহায় ও তৃষ্ণার্ত


যে হীনমন্যতা আপনাদেরকে ক্লিষ্ট করছে তার একটা কারণ, নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনাদের অজ্ঞতা। এ সম্পর্কে আমি পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় কারণ, জগত ও যুগ সম্পর্কে আপনাদের অজ্ঞতা। আপনারা জানেন না, বর্তমান পৃথিবী কতটা সম্বলহীন, অসহায়, কতটা নিঃস্ব, কতটুকু তৃষ্ণার্ত। আপনারা যুগকে দেখেন মোহাবিষ্ট ও লোভাতুর দৃষ্টি দিয়ে। কারণ যুগ সম্পর্কে আপনারা অজ্ঞ। যুগের সঙ্গে আপনারা অপরিচিত। আপনারা যদি গভীর ও নিবিড় দৃষ্টি দিয়ে যুগকে পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে আপনাদের উপলব্ধি জন্মাবে যে, বর্তমান যুগ ও সমাজ কী পরিমাণ দেউলিয়াত্বের শিকার এবং আপনাদের দৃষ্টিতে এটাও ধরা পড়বে যে, যুগ ও সমাজ এই দেউলিয়াত্ব সম্পর্কে গভীর উপলব্ধিও রাখে। বর্তমান পৃথিবীর সকল মুদ্রা অচল সাব্যস্ত হয়েছে। তার সকল তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। তার সকল ঝরনা, সকল জলাধার মরীচিকা প্রমাণিত হয়েছে। সকল দর্শন, সকল মতবাদ ও ইজম ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। সকল স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে, বাস্তবে রূপায়িত হয়নি।

আপনাদের নিকট আছে নবুওয়াতে মুহাম্মাদী কর্তৃক আনীত মহাসত্য। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি ও অর্থনীতির উৎকর্ষের এই যুগে নিজেদের হীনমন্যতার কারণে আপনারা জগতের সামনে নবুওয়াতে মুহাম্মাদীর সেই মহা সত্যকে উপস্থাপন করতে কুণ্ঠিত হন, লজ্জাবোধ করেন। অথচ বর্তমান পৃথিবী ঐ মহাসত্যের প্রতীক্ষায় ব্যাকুলভাবে প্রতীক্ষারত। সমাজ আজ ঐসব ব্যক্তির অপেক্ষায় আছে যাঁরা সমাজকে দেবেন নতুন পথের সন্ধান, নবুওয়াতে মুহাম্মাদীর সঞ্জীবনী বার্তা সমাজের নিকট পৌঁছে দিয়ে যাঁরা সমাজকে দান করবেন নবজীবন।

হামাহ আহওয়ানে সাহরা সারে খোদে নেহাদাহ বার কাফ
বা উম্মিদে আঁ কে রুযে বিশাকারে খা-হি আমিদ

'সকল মরু হরিণী হাতে মাথা রেখে প্রতীক্ষায় আছে কবে তুমি আসবে তাদেরকে শিকার করতে।'

📘 উলামা তলাবা > 📄 ইলমে নববীই আসল সম্পদ

📄 ইলমে নববীই আসল সম্পদ


যেসব বিষয়কে আপনারা সাধারণ মনে করেন, যেসব বিষয়কে আপনারা মূল্য দেন না সেসব বিষয়ে অজ্ঞ থাকার কারণে বড় বড় পণ্ডিত ও বিদ্বানকে আমি মাথা কুটতে দেখেছি, অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখেছি। যখন তাদের সামনে নবীগণের শিক্ষা ও আদর্শ উপস্থাপন করা হয়েছে তখন মনে হয়েছে, যেন তারা আকাশ থেকে পড়ল। মনে হয়েছে, এইসব শিক্ষা ও আদর্শের কথা তাদের কানে কখনই পড়েনি। আপনারা দুনিয়ার বাজারে দুনিয়ার পণ্যই সরবরাহ করতে চান। দুনিয়া যদি 'আমাদেরই পণ্য আমাদেরকে প্রত্যার্পণ করা হয়েছে' বলে তা প্রত্যাখ্যান করে তাহলে তার দোষ কোথায়? আপনাদের নিকট দুনিয়ার প্রত্যাশা হল, আপনারা দুনিয়ার সামনে উপস্থাপন করবেন নববী দিক-নির্দেশনা, নবী-নির্দেশিত পথ। দুনিয়া আজও নবী-প্রদর্শিত পথ ও দিক-নির্দেশনা মেনে নিতে প্রস্তুত যেমন মেনে নিয়েছিল ৬ষ্ঠ শতাব্দীর খ্রিস্টান জগত। এটা ঠিক যে, আপনাদের নিকট ইউনানী দর্শন, জ্যোর্তিশাস্ত্র, প্রকৃতি ও বস্তু-বিজ্ঞানের সীমিত কয়েক পৃষ্ঠার যে ভাণ্ডার রয়েছে তার বিপরীতে ইউরোপের নিকটে আছে পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষজাত জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক বিশাল ভাণ্ডার। আর এটাও বাস্তব যে, ইউনানী দর্শনের যুক্তি-তর্ক ও প্রতিপাদিত বিষয় দিয়ে ইউরোপকে কাবু করা সম্ভব নয়। কারণ ঐসব পুরোনো যুক্তি-তর্কের মধ্যে এখন আর কোন প্রাণ অবশিষ্ট নেই। সেসব এখন শবাধারে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আপনাদের নিকট নববী ইলম, নববী জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মহাসত্যের যে বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে ইউরোপ ও এশিয়া তা থেকে অদ্যাবধি বঞ্চিত রয়েছে। তাদের নিকট আপনাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তা-চেতনাগত জ্ঞানের বিরোধিতায় কিছু না কিছু জবাব থাকলেও নবীগণ কর্তৃক আনীত মুজিযাসমূহের কোন যৌক্তিক জবাব তাদের কাছে নেই। আপনারা প্রকৃত শক্তি ও সম্পদ সাথে নিয়ে অত্যন্ত আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে জীবনের ময়দানে অবতীর্ণ হন। দেখবেন, আপনাদের মুকাবেলা করার কেউ থাকবে না। আপনাদের নিকট বিদ্যমান জ্ঞান ও মহাসত্যের অমিয় প্রস্রবণ, আপনাদের নিকট রয়েছে মানবতার জন্য আহ্বান ও পয়গাম, মহাসত্ত্বার সঙ্গে আপনাদের দাসত্ব সম্পর্ক বিদ্যমান। এসবের পর আপনারা প্রত্যেকে একথা বলতেই পারেন—

আজব কিয়া গার মাহ ও পারভীন মাখাজীর হো জায়েঁ
কে বার ফিতরাকে সাহেবে দৌলতি বাস্তাম সারে খোদে রা

উও দানায়ে সুবুল খতমুর রসুল মওলায়ে কুল
জিস নে গুবারে রাহ কো বখশা ফুরুগে ওয়াদিয়ে সীনা

এতে আশ্চর্যের কী, যদি চাঁদ ও সপ্তর্ষি মণ্ডল আমার শিকার হয়ে যায়। কেননা দৌলতের অধিকারী এক ব্যক্তিত্বের (তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) শিকার ধরার রশিতে নিজের মস্তক বেঁধে দিয়েছি। তিনি আল্লাহর পথের সেই প্রাজ্ঞ পথিক, সর্বশেষ রাসূল, সবার অভিভাবক, যিনি পথের ধুলিকণাকে দান করেছেন সীনা উপত্যকার ঔজ্জ্বল্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00