📘 উলামা তলাবা > 📄 বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব

📄 বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব


এই ভারতবর্ষেই খাজা মঈনুদ্দীন আজমিরী অথবা সাইয়েদ আলী হামদানী কাশ্মীরীর ন্যায় দুনিয়া-বিরাগী এক ফকীর, এক সুফী আগমন করেন আর গোটা ভারতবর্ষকে আপন হৃদয়ের উত্তাপে উত্তপ্ত এবং ঈমানী নুরের জ্যোতিতে জ্যোর্তিময় করে তোলেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রহ.)-এর আবির্ভাব ঘটে আর মোঘল রাজশাসনে সৃষ্টি হয় বিপ্লব, আমূল পরিবর্তন। তাঁরই নীরব ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে আকবরের সিংহাসনে আমরা আসীন দেখতে পাই আওরঙ্গজেবের ন্যায় ইসলামী আইন শাস্ত্রে পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ ফকীহ এবং শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ ও কট্টর অনুসারী একজন বাদশাহকে। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ.) এই বিশাল ভূখণ্ডের গতি-প্রকৃতিই বদলে দিলেন। সমগ্র দেশের চিন্তা-জগত ও শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর প্রভাবে বিপুলভাবে প্রভাবান্বিত হল। হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.) জাতির চরম হতাশা ও স্থবিরতার এক মহা সংকটকালে বিশাল এক ইসলামী দূর্গ নির্মাণ করলেন আর নববী ইলমের চর্চায় সঞ্চারিত করলেন নবজীবন। সাম্প্রতিক অতীতে হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) কে দেখুন। ঈমানী ও দ্বীনী কর্মকাণ্ডে এক নতুন রূহ, নতুন প্রাণের সঞ্চার করলেন। মোটকথা— ‘সে জাহানে রা দাগারগু করদ এক মর্দ খোদ আগাহে’ (আত্ম-সচেতন একজন ব্যক্তিই ওলট-পালট করে দিয়েছে সমগ্র জগতকে।)

আমাদের বর্তমান ফুযালায়ে কেরামের মধ্যে সেই প্রাণ অনুপস্থিত, সেইসব গুণ ও বৈশিষ্ট্য হতে তারা নিঃস্ব, সেই সঞ্জীবনী শক্তি হতে বঞ্চিত, যা জাতিকে নতুনভাবে চিন্তা করার প্রেরণা যোগাতে পারত, তাদেরকে আমূল পরিবর্তন গ্রহণ করতে শক্তি দান করতে পারত। যুগ বড় সত্যাগ্রহী, সত্য-সচেতন। সে শ্রদ্ধা করে শুধু সমুন্নতকেই। মেধা ও মস্তিষ্ক শুধু নত হয় উন্নত মেধার সামনেই। শীতল ও শূন্য হৃদয় বশীভূত হয় শুধু উন্নত ও সমৃদ্ধ হৃদয়ের। মাদরাসাগুলোতে বর্তমানে মেধা ও প্রতিভার অবনতি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদয়ের উষ্ণতাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। শীতলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে ওয়াজ ও নসীহত করার মত বাগ্মীর অভাব নাই, কিন্তু কবি জিগারের ভাষায়—

আঁখোঁ মে সুরুরে ইশক নেহি চেহরা পর ইয়াকীন কা নূর নেহি

চোখে নাই প্রেমানন্দের দীপ্তি, চেহারায় নাই ইয়াকীন ও বিশ্বাসের ঔজ্জ্বল্য।

📘 উলামা তলাবা > 📄 মাদরাসার দ্যুতিহীন পরিবেশ

📄 মাদরাসার দ্যুতিহীন পরিবেশ


এককালে মাদরাসা ছিল জীবন ও শক্তির কেন্দ্র। যেখানে একের পর এক জন্ম নিত জীবন জগতের আমূল পরিবর্তন সাধনকারী বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব। আর আজ? আজ সেই মাদরাসাগুলো হতাশা, স্থবিরতা আর হীনমন্যতার শিকার। সংখ্যাগত দিক থেকে মাদরাসা, ছাত্র, পাঠ্য কিতাব, কিতাবের সরবরাহ, শিক্ষক বেতনের পরিমাণ সবই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু জীবন-তন্ত্রী হয়ে পড়েছে বড় দুর্বল, হৃদয়ের আবেগ ও উত্তাপে পড়েছে ভাটা। সচেতন ও দরদী কেউ এই অবস্থা দেখলে তার দম বন্ধ হবার উপক্রম হবে। এই মৃতপ্রায় সাগর দেখলে সে হয়তো বলে উঠবে—

খোদা তুঝে কিসি তুফান সে আশনা কর দে
কে তেরে বহর কি মৌজো মে ইজতিরাব নেহি
তুঝে কিতাব সে মুমকিন নেহি ফারাগ কে তু
কিতাব খোয়াহ হ্যায় মাগার সাহেবে কিতাব নেহি

'খোদা কোন তুফানের সঙ্গে তোমার মিলন ঘটিয়ে দিন। কারণ তোমার সাগর তরঙ্গে কোন উত্তালতা নাই। কিতাব হতে বিচ্ছিন্ন হওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি কিতাব আবৃত্তিকারী, কিন্তু কিতাব তোমাতে আত্মস্থ হয়নি।'

কিন্তু মাদরাসা নামক এই সাগর উত্তাল হোক, এতে ঝড় উঠুক— এই দুআ করতেও এখন শঙ্কা বোধ করি। কেননা বর্তমানে মাদরাসাগুলোতে ঝড় বইছে, পরিলক্ষিত হচ্ছে তুফানের আলামত। মাদরাসাগুলোর রক্ষণ প্রাচীরে সে ঝড় আঘাত হানছে। সে তুফানের উত্তাল তরঙ্গ মাদরাসার ভিত ধ্বসিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সে ঝড় আর তুফান বাইরের। তা বর্হিজগতের অন্তসারশূন্য চিন্তা-চেতনা, মূর্খতাপ্রসূত দাওয়াত ও আহ্বানের প্রতিধ্বনি। মাদরাসার ছাত্ররা যার লাউড স্পীকার রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে।

📘 উলামা তলাবা > 📄 বিশ্ব-নেতৃত্বের যোগ্যতার অধিকারীরা আজ অপরের অন্ধ অনুসারী

📄 বিশ্ব-নেতৃত্বের যোগ্যতার অধিকারীরা আজ অপরের অন্ধ অনুসারী


যে সকল কর্মপরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি, যে সকল চিন্তা-চেতনা ও মতবাদ, যে সকল প্রচার-প্রচারণা আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বস্তা পচা, বাসী ও পুরোনো বলে প্রক্ষিপ্ত হচ্ছে, অচল বলে পরিগণিত হচ্ছে বড় দুঃখজনক ও মর্মপীড়ক সত্য হল বর্তমানে মাদরাসায় সেগুলোরই অনুপ্রবেশ ঘটছে। যাদের হওয়ার কথা ছিল ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যুগ সৃষ্টিকারী নেতা, যুগের দিগদিশারী, সমাজে প্রভাব বিস্তারকারী দাঈ ও আহ্বায়ক আজ তারাই অপর কর্তৃক প্রভাবান্বিত হয়ে দ্বীন ও ধর্মহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসরণ ও অনুকরণে গর্ববোধ করছে।

কার সাকতে থে জো আপনে জামানা কি ইমামত
উও কোহনা দামাগ আপনে জামানা কে হ্যায় প্যায়রো

যে হতে পারত আসীন যুগ-নেতৃত্বের আসনে সেই ঘুণে ধরা মস্তিষ্ক এখন যুগের দাস।

📘 উলামা তলাবা > 📄 কেন এই হীনম্মন্যতা?

📄 কেন এই হীনম্মন্যতা?


প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! কেন আপনারা হীনমন্যতার শিকার হবেন? হীনমন্যতার কারণ আকীদা- বিশ্বাস ও ঈমানের দুর্বলতা ব্যতীত আর কিছু নয়। এর কুপ্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। আপনারা নায়েবে নবী। নববী ইলমের ধারক ও বাহক। আপনারা যদি হীনমন্যতার শিকার হন তাহলে তার অর্থ দাঁড়ায়, আপনারা নবুওয়াতের অত্যুচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ, ইয়াকীন ও বিশ্বাসে আপনারা হীনবল। মনে রাখবেন, আপনারা ঐ সকল মহান ব্যক্তির উত্তরসূরী যাঁদের সম্পর্কে আরেফ রুমী যথার্থই বলেছেন— ‘নাখওয়াতে দারান্দ ওয়া কুবরে চু শাহান, চাকারি খাওয়াহান্দ আজ আহলে জাহান’— বাদশাহ নয় কিন্তু বাদশাহর ন্যায় প্রতিপত্তি ও গর্বের অধিকারী তাঁরা সমগ্র জগতের মালিক আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন চাকুরী। শেখ সাদী (রহ.) যাঁদের সম্পর্কে বলেছেন— ‘শাহানে বে কুলাহ ওয়া খুসরওয়ানে বে কামারান্দ’— মুকুট নেই তবুও সম্রাট, বাহিনী নেই তবুও বাদশাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00