📘 উদ্দেশ্যহীন আর কতদিন > 📄 নফস বা প্রবৃত্তির প্রতি সতর্কতা

📄 নফস বা প্রবৃত্তির প্রতি সতর্কতা


অবৈধ বিষয়ের প্রতি টান অনুভব করার জন্য মানুষের ভেতরে যে অংশ কাজ করে—তা-ই নফস বা প্রবৃত্তি।

ইবলিসের পর মানুষের সর্বনিকৃষ্ট শত্রু হলো তার প্রবৃত্তি। শত্রুর সাথেও যুদ্ধ করা যায়, কিন্তু আপন সেজে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রিয় অভ্যাসগুলোকে কীভাবে কেউ শত্রু মনে করবে?

'দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা' উক্তিটি নিশ্চয়ই শুনেছ?

তবে একটা বিষধর সাপ মানুষের যেটুকু ক্ষতি করে, তার চাইতেও বেশি ক্ষতি করে তোমার আমার ভেতরে পুষে রাখা এই প্রিয় প্রবৃত্তি। একটা সাপ সর্বোচ্চ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। এর বেশি ক্ষতি করার সাধ্য তার নেই। তুমি হয়তো ভাবছ মৃত্যুর চাইতেও বড় ক্ষতি কী, তাই না?

হ্যাঁ, আছে। প্রবৃত্তি মানুষের ভেতরের পবিত্র সত্তাকে তার ভেতরেই হত্যা করে, অথচ তাকে বুঝতেও দেয় না! প্রবৃত্তি কেবল পৃথিবীর জীবনে তোমার সত্তাকে মেরে ফেলে ক্ষান্ত হয় না; সে নিজের অবৈধ আসক্তি পূরণ করে তোমার আখিরাতও ধ্বংস করে দেয়। তাহলে কে বেশি ক্ষতিকর?

সাপের কামড়ে মরে গেলেও একজন নেককার ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারে। কিন্তু পোষা প্রবৃত্তি মানুষকে কখনোই জান্নাতে যেতে দেবে না।

তবুও আমরা প্রত্যেকেই আজকে প্রবৃত্তি পুষতে চাই। কেননা এর চাইতে আর অন্য কিছু মানুষকে অধিক সুখী করে না। কোনো পোষা প্রাণীর জন্য সময়মতো খাবার দেওয়া, তার দেখভাল করা, না চাইতেও তার প্রয়োজন পূরণ করা, তার জন্য উত্তম বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, বারবার খাঁচা থেকে বের করে করে আদর করার মতোই আমরা প্রবৃত্তির সব প্রয়োজন পূরণ করছি। তাকেও ভালোবেসে যাচ্ছি।

তবে এই ভালোবাসা, এই যত্ন আর দেখভালের কারণে তার সক্ষমতা এবং মানুষের অন্তরে তার প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এরপর তোমার পোষা প্রবৃত্তি তোমাকে আদেশ করতে শুরু করে। আর তুমিও ভালোবেসে তার সব কথা মেনে নাও। কিন্তু এর পর কী হয় জানো?

এরপর যখন সে দেখে, চাইলেই তুমি তার আদেশ পালন করছ, তখন তার ইচ্ছা আর চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। ভালোমন্দের পার্থক্য কী, স্রষ্টা বা রব কী, কুরআন আর রাসুল কী—সে বুঝতে চায় না।
পোষা প্রাণী যেমন দিনরাত খাবার আর নিজের চাহিদা মেটায়। তোমার প্রবৃত্তিও তার ইচ্ছা পূরণ করে, খাবার খায়, আর নিজের চাহিদা মেটায়। কিন্তু মূল বিষয় হলো, সে সবকিছু পূরণ করে তোমার মাধ্যমে। তোমার ভেতরেই যদি সে ইচ্ছামতো যা কিছু করত, তাতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু সে তোমাকে দিয়ে নিজের ইচ্ছা পূরণ করিয়ে নেয়। যেমন: তুমি যখন অবৈধ দৃষ্টিতে উত্তেজিত হও, তখন তোমার কামভাব তাকে খাবার জোগায়। তুমি যখন অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করো, সে সুখ পায়। আর পূর্ণ মিলনে সে পুরোপুরি পরিতৃপ্ত হয়। কিন্তু সেই মিলন অবৈধ হোক বা বৈধ, সেটা তার দেখার বিষয় না; সে কেবল নিজের চাহিদার পূর্ণতা চায়।

পাপের প্রভাবে অন্তর মরে যাবে—এটাই অন্তরের জন্য লিখিত নিয়ম। প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তুমি যে অপকর্ম করো, তা তোমার পবিত্র অন্তরকে মেরে ফেলে। ফলে আর কেউ তোমাকে ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দেয় না।

তোমার পবিত্র অন্তর ধ্বংস হয়ে প্রবৃত্তি এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তোমার মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসা আর যত্নে সে শক্তিশালী হয়ে যায়। এরপর যা ঘটে, তা বলতে গিয়েও গা শিউরে ওঠে।

প্রবৃত্তি নিজেকে তোমার ইলাহ বা প্রভু হিসাবে দাবি করে বসে। সে তোমাকে নিজের ইচ্ছার গোলামি করার আদেশ দেয়। আর বাস্তবতা হলো, মানুষ সত্যিই প্রবৃত্তির অন্যান্য ইচ্ছাগুলো পূরণের মতো এই ইচ্ছাকেও নির্দ্বিধায় মেনে নেয়। তাকে নিজের ইলাহ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। নিজের অভ্যন্তরে একটা কল্পনার উপাসনালয় বানিয়ে তার মধ্যে প্রবৃত্তিকে বসিয়ে রাখে।

এরপর প্রবৃত্তিকে কিছু বলার বা চাওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না। একজন মুমিন মুসলমান যেভাবে মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে কিছু ক্ষেত্রে নিজের হালাল বিষয়গুলোও ছেড়ে দেয়, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সাধ্যের বাইরে গিয়ে সবকিছুই করে। প্রবৃত্তিকে নিজের প্রভু হিসাবে স্বীকার করার পর, প্রবৃত্তির পূজারিও তার আদেশের পূর্বেই পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম ভেঙে, ইসলামের সীমারেখার তোয়াক্কা না করে, ভেতরের ইলাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়!

এভাবে প্রবৃত্তি তোমার পরকাল ধ্বংস করে দেয়, তোমাকে তোমার উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দেয়, তোমার উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, কুরআনের প্রতি তোমার বিতৃষ্ণা তৈরি করে, অন্তরের মৃত্যুর ফলে সেখানে কোনো প্রশান্তি থাকে না, তোমার বিবেক আর জ্ঞান-বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়, তোমার প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যেতে থাকে। যেহেতু নিজের প্রকৃত রব আল্লাহকে তুমি বিশ্বাস করতে চাও না,
তাই তোমার ওপর থেকে তাঁর রহমত উঠিয়ে নেওয়া হয়। তুমি কোনোপ্রকার ইবাদতের স্বাদ অনুভব করতে সক্ষম হও না, ইসলামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো তোমার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়, তোমার বাহ্যিক জীবনে নেমে আসে দুর্দশা আর অসম্মান।

আমাদের মাঝে ভালো আর মন্দ দুটোই রাখা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান প্রতিপালনের বেলায় পিতামাতার উদাসীনতা, প্রবৃত্তির উপাসনাকারীদের সঙ্গে মেলামেশা, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের দুর্বলতা, দুনিয়াকে অধিক সময় দেওয়া এবং দুনিয়াকে অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে আমরা মন্দ বা প্রবৃত্তির দিকে ধাবিত হই।

তাই নিজের প্রবৃত্তির কামনা পূরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থেকো। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই; তোমার অন্তরের রোগই তোমার অন্তরের জন্য ওষুধ। প্রবৃত্তির রোগ থেকে মুক্ত হতে বাইরে থেকে নতুন কোনো প্রতিষেধকের প্রয়োজন হবে না।

জুনাইদ আল-বাগদাদি রাহিমাহুল্লাহকে একবার এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিল, 'মনের রোগই কখন মনের ঔষধ হয়ে যায়?' তিনি বলেছেন, 'মানুষ যখন তার মনের বিরোধিতা করে, তখন।'[১৩৬]

কোনো এক মনীষীকে প্রশ্ন করা হলো, 'প্রবৃত্তি নামক এই শত্রুকে পরাজিত করার অস্ত্র কী?' তিনি বললেন, 'প্রবৃত্তির কামনার বিরোধিতা করাই তাকে পরাজিত করার সবচাইতে শক্তিশালী অস্ত্র।'

কিন্তু মানুষের ভেতরে এই নিকৃষ্ট প্রবৃত্তিকে রাখার কারণ কী? এর উত্তরে আল্লামা ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
'আল্লাহ তাআলা আমাদের কল্যাণকে পূর্ণতার রূপ দেওয়ার জন্য আমাদের মাঝে কামনা এবং স্বাদগ্রহণের স্পৃহা সৃষ্টি করেছেন, যেন আমরা এর মাধ্যমে কল্যাণ অর্জনে সাহায্য গ্রহণ করতে পারি। তাই তিনি আমাদের মাঝে খাওয়ার কামনা সৃষ্টি করেছেন, স্বাদগ্রহণের কামনা সৃষ্টি করেছেন। কেননা, এগুলো সত্তাগতভাবে নিয়ামত। এগুলোর মাধ্যমেই আমাদের শরীর পৃথিবীতে টিকে থাকার শক্তি লাভ করে। তেমনইভাবে বিবাহের কামনা এবং তা থেকে স্বাদ উপভোগও একটি বিশেষ প্রকারের নিয়ামত। তার মাধ্যমে বংশপরম্পরা টিকে থাকে। যখন এই কামনাশক্তি দিয়েই শরিয়তের আদিষ্ট ও অভিপ্রেত নির্দেশ পালনে সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে অবশ্যই তা আমাদের ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণের কারণ হবে এবং আমরা সেই মহামানবদের অন্তর্ভুক্ত হব, যাদের আল্লাহ তাআলা অসাধারণ নিয়ামত দান করেছেন।

আর আমরা যদি এই কামনাকে এমন কাজে ব্যবহার করি যেগুলো আমাদের জন্য আশঙ্কাজনক, যেমন: নোংরা হারাম বস্তু ভক্ষণ করা, হারাম পথে উপার্জন করা, অন্যের প্রতি জুলুম করে উপার্জন করা, অপব্যয় করা, স্বামী-স্ত্রী পরস্পর সীমালঙ্ঘন করা কিংবা দাস-দাসীদের ওপর জুলুম করা ইত্যাদি; তাহলে আমরা সীমালঙ্ঘনকারী এবং আল্লাহ তাআলার নিয়ামতের অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।'[১৩৭]

দীনে ফেরার পর তুমি নিজের প্রতি লক্ষ রেখো। তোমার কর্মের মধ্যে ভালোর পরিমাণ বেশি না কি মন্দের, তা হিসাব করো। ভালোর পরিমাণ বেশি হলে তা করতে পারার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো। আর মন্দের পরিমাণ বেশি হলে এটা অবশ্যই তোমার প্রবৃত্তির প্রভাব।

এক্ষেত্রে তোমার করণীয় হলো, নিজের কামনা-বাসনাগুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। কোনোকিছু করার ইচ্ছা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই তুমি তাকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে দেখো, তা ইসলামে বৈধ না কি নিষিদ্ধ। ইচ্ছাগুলোকে নিখুঁতভাবে যাচাইয়ের পর তা পূরণের জন্য অগ্রসর হও; এর পূর্বে না। নিজের আশা আকাঙ্ক্ষা আর আগ্রহের প্রতি সতর্ক থাকো। শয়তানের তোমার ওপর ক্ষমতা না থাকলেও প্রবৃত্তির কিন্তু তোমাকে চালনা করার ক্ষমতা আছে।

টিকাঃ
[১৩৬] তাবাকাতুশ শাফিয়িয়া আল-কুবরা: ২/২৯।
[১৩৭] আল-ইসতিকামাহ: ১/৩৪১-৩৪২。

📘 উদ্দেশ্যহীন আর কতদিন > 📄 পাপের অভ্যাস ত্যাগ করা

📄 পাপের অভ্যাস ত্যাগ করা


এই প্রজন্মের জন্য পাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য। পূর্বের জাহিলিয়াত ছেড়ে এলে তা আরও বেশি কষ্টকর। তবে পেছনের অভ্যাসগুলো ছাড়তে দেরি করায় অনেক মানুষ পুরোপুরি দীনে ফিরতে পারে না। মাঝপথেই তার যাত্রা আটকে যায়।

একজন মানুষের জন্য দীনে প্রবেশের পথে, আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসার সবচাইতে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তার পাপ। অনেকেই শুরুতে নিজের সমস্ত জীবনকে ইসলাম দিয়ে সাজিয়ে রাখে। ব্যাবসাবাণিজ্য, পরিবার, আদর্শ-সবকিছুতে হালাল পন্থায় চলার প্রচেষ্টা করে। কিন্তু মোবাইলের আসক্তি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু পাপের অভ্যাস ছাড়তে না-পারায় ধীরে ধীরে তা আল্লাহর থেকে দূরে সরিয়ে দিতে থাকে। এরপর সে পুরোপুরি ইসলাম থেকে সরে যায়। সাথে থেকে যায় শুধু তার পাপ।

তবে আমার প্রিয় ভাই/বোন! তুমি যদি প্রত্যাবর্তনের পরেও নিজের পাপের প্রতি ভালোবাসা রাখো বা ক্ষুদ্র কোনো বদভ্যাস না ছাড়ো, তা তোমাকে দীন থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম।

পাপের প্রভাবে দীন অনুসরণের পরেও তোমার অন্তরে শূন্যতা অনুভব হবে, দীনের প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে, পাপ তোমার নেক কর্মের স্পৃহা কেড়ে নেবে। অধিক পাপের প্রভাবে তাওবা করে পুনরায় প্রত্যাবর্তনেরও ইচ্ছাও অবশিষ্ট থাকে না।

পাপের ক্ষতি অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক। এত কষ্ট করে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে, পেছনের জীবনের সব সুখ ছেড়ে দিয়ে, অনুভূতি আর কল্পনা ভেঙে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পর যদি সামান্য দু-একটা পাপের অভ্যাস না ছাড়তে পারো, তবে কী লাভ হবে বলো?

এরপর যদি এই ক্ষুদ্র পাপগুলো তোমাকে তোমার রব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তখন তোমার কাছে আর কী বাকি থাকবে? তুমি তো পেছনেও আর ফিরে যেতে পারবে না, সামনেও এগোতে পারবে না। সুতরাং অবৈধ অভ্যাস ছেড়ে দাও।

📘 উদ্দেশ্যহীন আর কতদিন > 📄 আন্তরিক প্রার্থনা

📄 আন্তরিক প্রার্থনা


দীর্ঘ দিন পরিবার ছেড়ে দূরে থাকার পর বাড়ি ফেরা সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে মমতাময়ী মা যেভাবে স্নেহের পরশে কাছে টেনে নেন, সেই অনুভূতি কেমন হয় বলো তো? এরপর কি সন্তানের অন্তরে আর কোনো অভাব থাকে?

সন্তানের সুখেই যার অন্তর পূর্ণ হয়ে ওঠে, সন্তানের প্রয়োজন পূরণে যে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেয়, নয় মাস নিজের ভেতরে তোমাকে ধারণ করা মায়ের ভালোবাসাও কি বর্ণনা করা যাবে? মায়ের স্পর্শে যে প্রশান্তি, তা কি অন্য কোথাও পাওয়া যাবে?

আচ্ছা মা এবং তার মমতা যদি এমন হয়, তাহলে সেই মায়ের চরিত্রের মানুষ এবং মমতার বিশেষ অনুভূতি যিনি সৃষ্টি করেছেন, তার মমতা কত বেশি!

তোমাকে ধারণ করে মা যদি সবকিছু উজাড় করে দেন, তবে তোমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি তোমার জন্য কী করবেন?

মা তো তোমাকে ধারণ করেন মাত্র। আর মাতৃগর্ভের তিন স্তরের পর্দার অভ্যন্তরে তোমার প্রতিটা অঙ্গ যিনি একটু একটু করে সাজালেন, তার মমতা কত বেশি!

তুমি কি জানো, মায়ের গর্ভে যখন শিশুর লিঙ্গের আকৃতি দেওয়া হয়, তার পূর্বমুহূর্তে মহান রবের আদেশের প্রয়োজন হয়?

তিনি যদি তোমার থেকে কিছু মুহূর্ত নিজের দয়ার দৃষ্টি সরিয়ে রাখতেন, তবে এই বিশেষ অঙ্গ দিয়ে তাঁরই অবাধ্যতা করার সুযোগ পেতে না। তোমার প্রতি তাঁর এই মায়াকে কীভাবে তুমি মিথ্যা প্রমাণ করবে?

তাহলে কেন তুমি তোমার রবের ভালোবাসা বুঝতে চাও না? কেন তাঁর সাথেই তোমার এত এত দূরত্ব? কেন নিজের ভালোবাসার কাছ থেকেই এভাবে পালিয়ে বেড়াও?

মায়ের কাছে ফিরে এসে তার স্নেহের পরশে লেপ্টে থাকার মতোই তোমার রবের কাছেও ফিরে এসে তার রহমতের চাদরে নিজেকে জড়িয়ে ফেলো। ফিরে এসে বলে দাও-

'আমার প্রিয় রব! আমি তোমার পালিয়ে যাওয়া এক দাস। এক নির্বোধ গোলাম। কিন্তু আজ আমি ফিরে এসেছি, দেখো। আমার সকল প্রিয় জিনিসকে পেছনে ফেলে রেখে এসেছি। তোমার থেকে পালিয়ে সারা পৃথিবী ঘুরে এলাম, কিন্তু কোথাও একবিন্দু সুখ খুঁজে পাইনি। কেউ আমাকে সুখী করতে পারেনি।

আমি ইচ্ছা করে তোমার থেকে দূরে সরে থাকতে চাইনি, আমি স্বেচ্ছায় তোমার অবাধ্যতা বেছে নিইনি। পরিবার আর পৃথিবী আমাকে নিজের মায়ার শেকলে বেঁধে ফেলেছিল। জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে তোমার কথা বলেনি, তুমি আমাকে কত ভালোবাসো তা কেউ জানায়নি। পৃথিবী বলেছে, তুমি শুধু শাস্তি দাও। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোমার ব্যাপারে আমার অন্তরে কেবল ভয়ের অনুভূতি ছিল।

সবাই আমাকে শুধু তোমার নিয়ম আর তোমার শাস্তির কথাই বলেছে। কেউ একটিবারও বলেনি, তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো!

তবে আমি শুরু থেকেই নিজের অন্তরে কীসের যেন একটা অভাব, কীসের যেন শূন্যতা বোধ করতাম। সব থেকেও মনে হতো, এখনো সবচাইতে বড় সুখটাই পাওয়া হয়নি। কিন্তু কেউ আমাকে একবারও বলেনি, সেই অপূর্ণ হয়ে থাকা সুখটা আমার রব। সেই পূর্ণতা হলে তুমি, ইয়া আল্লাহ!

তোমার অপূর্ণতা পূর্ণ করতে আমি কত কিনা করেছি! এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে আমার পা পড়েনি। ভালো-মন্দ, হালাল-হারামের কোনো তোয়াক্কা না করেই আমি কেবল সেই অপূর্ণতা পূর্ণ করতে গিয়েছিলাম। মূর্খের মতো জাগতিক অপবিত্রতায় মহাপবিত্র সত্তার পূর্ণতা খুঁজতে গিয়েছিলাম।

সবাই আমাকে ইসলামের কথা বলেছে, জান্নাতের সুখের কথা বলেছে, কেউ সমস্ত ইসলামকেই বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কেউ আমাকে বলেনি যে, তুমিই আমার প্রকৃত সুখ! তোমাকে ভালোবাসলেই বাকি সবকিছু তুমি দিয়ে দাও। সবাই শুধু তোমার আনুগত্যের কথা বলেছে, তোমার পথ অনুসরণ করতে বলেছে; কেউ তোমাকে ভালোবাসতে বলেনি!

তাই তো আমি তোমার কিছু নিয়ম মানলেও পৃথিবীকে নিজের ভালোবাসা বানিয়ে রেখেছিলাম। পৃথিবী আর পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসেও আমার সমস্ত সত্তাই অপূর্ণ।

আমি ক্লান্ত, শ্রান্ত, পরিশ্রান্ত। নিজের প্রতিও আর কোনো ইচ্ছা নেই। সব আশা হারিয়ে ফেলেছি। এই নরকের যন্ত্রণা সইতে পারছি না ইয়া রব!

পাপে পূর্ণ এই পাথর হওয়া অন্তরটা এখন বেশ ভারী মনে হচ্ছে। এর ওজন বইতে গিয়ে আমি যেন মাটিতে মিশে যাচ্ছি! আমার এই সত্তা বাইরের পৃথিবীতে হাঁটাচলা করলেও তুমি তো জানো, ভেতরে ভেতরে আমি মরে গেছি!

ইয়া আল্লাহ! এবার আমাকে ফিরিয়ে নাও। এই যে দেখো, নিজের সবকিছু ছেড়ে এসেছি। না আছে আর কোনো ভালোবাসা, না কোনো আসক্তি, না অবাধ্য হওয়ার কোনো ইচ্ছা। আজ আমি পুরোটাই শূন্য, নিঃস্ব, অসহায়। তোমার ভালোবাসা রাখব বলে ভেতর থেকে সব অপবিত্রতা মুছে ফেলেছি।

কিন্তু এভাবে বেশিক্ষণ তোমাকে ডাকার মতো বিশ্বাসও আমার অবশিষ্ট নেই। আমার সমস্ত সত্তা সদ্যোজাত শিশুর মতোই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এবার নিজেকে তোমার সামনে রেখে দিলাম। তুমি তোমার সৃষ্টির সাথে যা ইচ্ছা করো।

এই অসহায়ের প্রতি একটু করুণা করো, এই দুর্বলকে একটু সাহায্য করো, এই পথহারাকে একটু পথ দেখিয়ে দাও! ইয়া রব্বাল আলামিন!
আমি তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই, তোমাকেই ভালোবাসতে চাই আর পুরোটাই শুধু তোমার হয়ে যেতে চাই। একান্ত তোমার। তোমার অনুগত গোলামেরা যেভাবে তোমাকে ভালোবাসে, আমিও সেভাবেই তোমাকে ভালোবাসতে চাই। তুমি যেভাবে বলবে, সেভাবেই এই হাত-পা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবহার করতে চাই। তোমার রাসুলের আদর্শকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাতে চাই।

ইয়া রব! আমার অন্তর থেকে এই পাপের বোঝাগুলো নামিয়ে দাও! আমার পায়ের দুনিয়ার শেকলটা তুমি ভেঙে দাও! আমাকে দুনিয়া থেকে মুক্ত করো! আমার ভেতরের প্রবৃত্তির প্রাসাদ তুমি ভেঙে দাও! আমাকে আমার থেকে রক্ষা করো, ইয়া আল্লাহ!

ইয়া রব! তুমি যদি আমাকে নিজের কাছে টেনে নাও, আর কে আছে তোমার বান্দাকে তোমার থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে?

আমি নিজেকে তোমার কাছে সমর্পণ করে দিলাম। এরপর আমি নিজেকেও আর বিশ্বাস করব না। তুমি আমার জন্য যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তাতেই সন্তুষ্ট থাকব। আমাকে এই আঁধারে আর ফেলে রেখো না! আমাকে আলোর দিকে নিয়ে যাও!

ইয়া রব! আজ হয় তুমি আমাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নাও, নতুবা মাটির সাথে মিশিয়ে দাও। নিজ থেকে তোমার দিকে ফিরে যাওয়ার শক্তি আমার নেই। যেটুকু বিশ্বাস বাকি আছে, তা দিয়ে তোমার ঘরে আসা-যাওয়া করছি মাত্র। বাইরে বের হলেই আবারও তোমাকে ভুলে যাই, দুনিয়ায় ডুবে যাই।

ইয়া রব! আমাকে সৃষ্টি করার পর থেকে আজ পর্যন্ত যেভাবে নিজের কাছে আগলে রেখেছিলে, এই দুনিয়ার নোংরা পরিবেশেও আগলে রাখো। না হয় যেটুকু পাপ জমিয়েছি, তা থেকে পবিত্র করে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমি তোমার অবাধ্যতায় এই পৃথিবীর বুকে আর একটা নিঃশ্বাসও ফেলতে চাই না!

তুমি ছাড়া আজ আমার কোনো সাহায্যকারী নেই। আমার অন্তরে যদি এক ফোঁটা পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকে, তবে আমাকে বাকিটুকু পবিত্র করার শক্তি দাও।

এই মূর্খের এর চাইতে বেশি বলতে পারার ক্ষমতা নেই। ইয়া আল্লাহ! আমাকে তুমি মাফ করে দাও। আমিন।'

এভাবে আর যা কিছু তোমার ভেতরে জমে আছে, বলে দাও। শব্দ সাজাতে না পারো, অনুশোচনার অশ্রু তো ঝরাও। তোমার রবকে বুঝিয়ে দাও, তাঁকে ছাড়া তুমি ভালো নেই। ভেতরের সব মায়া একত্র করে তাঁর রহমতের চাদর বিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করো। চাওয়ার মতো করে চাও, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেবেন।

উত্তপ্ত রৌদ্রে মা যেভাবে তার সন্তানকে নিজ আঁচলের নিচে লুকিয়ে রাখেন, তোমাকেও এই পৃথিবীর সকল ফিতনা আর যন্ত্রণার উত্তাপ থেকে তিনি আড়াল করে রাখবেন। সবার মাঝে থেকেও তুমি থাকবে না। যন্ত্রণার মাঝে চলাফেরা করেও কোনো যন্ত্রণা তোমাকে ছুঁয়ে দিতে পারবে না।

এই যে 'রব' বলে এত আকুতি কেন, জানো? এর পেছনে একটা কারণ আছে। চলো, আগে তোমাকে শব্দটার সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দিই।

'রব' শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো, প্রতিপালক। আর প্রতিপালক শব্দটি বুঝতে হলে পিতামাতার প্রতিপালন বুঝতে হবে।

একটা সন্তান জন্মের পর থেকে তাকে উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত পিতামাতার সকল প্রচেষ্টা, ত্যাগ, শিক্ষাদান, প্রয়োজনীয়তা পূরণ, কষ্ট সহ্য করা-সব মিলিয়েই সন্তানের প্রতিপালন।

তোমাকে মায়ের গর্ভে প্রেরণ করে সেখানে তোমার শরীরের অস্তিত্ব দান, তোমার রিজিকের ব্যবস্থা করা, পৃথিবীর সবটাই তোমার জন্য সজ্জিত করা, তোমার শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা, পিতামাতার মাধ্যমে তোমার লালনপালন, তোমার চাহিদা পূরণের জন্য স্ত্রী দান, তোমাকে আরও সুখী করতে সন্তানের নিয়ামত দান, মৃত্যু, কবর, আখিরাত-এভাবে জান্নাত পর্যন্ত তোমার সত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয় যথাযথ সময়ে, যথাযথ নিয়মে প্রদান করা এক অসীম দয়াবান সত্তা হলেন প্রতিপালক। আর তিনিই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

তাহলে একবার 'রব' বলে তুমি তোমার সমস্ত নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছ, এবং বুঝিয়ে দিচ্ছ, আল্লাহ তাআলাই তোমার সৃষ্টিকর্তা এবং তোমার প্রতিপালক।

এই 'রব' শব্দটার মাঝে এক গভীর মায়া আর মমতা লুকিয়ে রয়েছে। প্রচণ্ড ভালোবাসা দিয়ে ঠিকমতো একবার ডাকতে পারলে তুমি এর মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলবে।

তুমি যদি ঠিকমতো শব্দ সাজিয়ে প্রার্থনা করতে না পারো, হাত তুলে তাকে ডাকতেও যদি তোমার ইতস্তত বোধ হয়, তবে তোমার জন্য কেবল এই 'রব' বলাই যথেষ্ট।
'মা' বলে ডাকলেই মা যেমন বুঝে যান তোমার কি প্রয়োজন, তোমার রবকে 'রব' বলে ডেকে দেখো, তিনি শুধু প্রয়োজন জেনেই বসে থাকবেন না, সেই প্রয়োজন পূরণও করে দেবেন।

সদ্য 'মা' বলতে শেখা কোনো শিশুর সমস্ত কথাই হয়-মা। আর কিছু উচ্চারণের শক্তি তার নেই। কিছু প্রয়োজন হোক বা না হোক, সে শুধু মা মা বলতে থাকে।

তার ডাকের স্বর শুনে মা বুঝে যান সে খাবার চায়, ঘুমাতে চায়, না কি খেলতে খেলতে এমনিতেই রাগ করে মা মা ডেকে যাচ্ছে। একটা শিশুর সবকিছুই তার মায়ের ওপর নির্ভরশীল। মা তার ডাকে সাড়া না দিলে, তার প্রয়োজন পূরণ না করলে, সে পুরোপুরি অসহায়। এজন্য মাঝে মাঝে আধঘণ্টা ধরে বাবার কোলে কাঁদার পরেও মা তার কান্না শুনে বুঝে ফেলেন, খাবার নয়, তার ঘুম প্রয়োজন।

আমাদের জন্য আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'ইয়া রব' ডাকটাও সেই ছোট্ট শিশুর মতোই। তুমি হয়তো দুআ করতে জানো না, কীভাবে ক্ষমা চাইতে হয় সেটাও এখনো শেখা হয়নি; কিন্তু তাই বলে কি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছেড়ে দেবে?

কক্ষনো নয়। বরং তুমি সেই শব্দ উচ্চারণ করতে না-পারা অবুঝ শিশুর 'মা মা' ডাকের মতোই 'ইয়া রব, ইয়া রব' বলে ডাকতে থাকো। কতক্ষণ?

যতক্ষণ তোমার সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস না হয় যে, তুমি আল্লাহর কাছে পুরোপুরি নির্ভরশীল, তিনি ব্যতীত আর কেউই তোমাকে সাহায্য করতে পারেন না।

আরেকটা বিষয় দেখো, মা কিন্তু শিশুর কান্না বা শব্দের মাধ্যমেই তার ভাষা বোঝেন। শব্দ না করলে স্বাভাবিকভাবে মা-ও সন্তানের প্রয়োজন বোঝেন না। কিন্তু তুমি এমন এক সত্তার সামনে হাত পেতেছ, যিনি শব্দ ছাড়াও অনুভূতির ভাষা বোঝেন। অনুভূতিও না থাকলে, তুমি কী চাইতে পারো বা তোমার কী প্রয়োজন হতে পারে, সেটাও তিনি জানেন। আর তার সমাধান করতেও সক্ষম।

সুতরাং আর কী তোমাকে তোমার এত করুণাময়, এত মহান রব থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে?

📘 উদ্দেশ্যহীন আর কতদিন > 📄 সালাতের প্রতি গুরুত্ব

📄 সালাতের প্রতি গুরুত্ব


তুমি যদি এমন পরিবেশে বাস করো যেখানে প্রকৃত দীনদার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, বা এমন কোথাও থাকো, যেখানে নেককারদের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ নেই। তোমার পূর্ববর্তী চরিত্রের কারণে হয়তো নেককার কেউ তোমার সাথে মিশতে চাচ্ছে না। তারা হয়তো তোমার পরিবর্তনকে এখনো লোকদেখানো মনে করছে। তোমার হয়তো পড়াশোনার চাপ বেশি, এ কারণে দীনের সাথে পরিপূর্ণ সম্পৃক্ত থাকাও তোমার পক্ষে হয়ে ওঠে না।

মূলকথা, জাগতিক জীবনের ব্যস্ততা বা নানান অপারগতার কারণে তুমি যদি দীনের প্রতি পুরোপুরি আসতে না পারো, তোমার জন্য দীন অনুসরণের একমাত্র পথ-সালাত।

সালাতের উপকারিতা বা গুরুত্ব আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি। এখানে কেবল তোমার জীবনে সালাতকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছাকে দৃঢ়তা দিতে চাই।

আমি এমন অনেক যুবকের কথা জানি, আজ যাদের ইমান দেখলে ঈর্ষা হয়। তাদের প্রত্যাবর্তনের শুরুতে কেউ ছিল না, কিচ্ছু ছিল না, দীনের কিছুই তারা জানত না। সালাতের ক্ষেত্রেও কুরআনের হাতে-গোনা কয়েকটা সুরা জানত। কিন্তু এরপর তারা ভাবল, যেহেতু সালাত ব্যতীত দীনের আর কিছুই করতে পারছি না, তাই সালাতকেই আরও সুন্দর করে তুলি। সব নিয়মনীতি যথাযথভাবে আদায় করে আরও সুন্দরভাবে রবের ইবাদত করি।

এভাবে আল্লাহর ইবাদতের অধিক গুরুত্বের কারণে কী হলো জানো?

ধীরে ধীরে তাদের ইমান, আমল এবং দীনের সাথে সম্পৃক্তি বেড়ে গেল এবং একটা সময়ে ইমানের সকল দুর্বলতা কাটিয়ে তারা আল্লাহর নৈকট্যলাভে সক্ষম হলো।

শুধু 'সালাত' দীনের বাকি অংশের সাথে তাদের জুড়ে দিয়েছে। আজ তারা প্রজ্ঞাবান আলিমদের ছায়াতলে উত্তম আদর্শ ধারণ করে বেশ স্বস্তিতে পৃথিবীতে বাস করছে।

তাদের এই সুউচ্চ ইমানের স্তরে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ ছিল-সালাত। শুধু ওঠাবসা আর মাটিতে মাথা রাখা নয়; বরং তারা স্রষ্টার প্রকৃত ইবাদত করতে চেয়েছিল। যে সিজদা আরশে পৌঁছে যায়, তারা সেই সিজদার জন্য অনবরত চেষ্টা করেছিল। আর তাদের রব সন্তুষ্ট হয়ে তাদের নিজের নৈকট্য দান করেছে।

সুতরাং তুমি আজ বা এখন দীনের আর কিছু নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারো বা না পারো, সালাতটুকু গুরুত্বের সাথে আদায় করো। সালাত সুন্দর করো। সালাতের প্রতি মনোযোগী হও। সালাতকে সময় দাও। সালাতের মাধ্যমে বিচার দিবসের পূর্বেই আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে যাও। তখন তিনি কাহহার হলেও আজকে কিন্তু তিনি রহমান। অনুগ্রহ কুড়ানোর এই সুযোগ কিছুতেই নিষ্ফল হতে দিয়ো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00