📄 পূর্ণতা
দীনের ক্ষেত্রে তোমার বিশ্বাসের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকু সময়ে একটু কষ্ট সইতেই হবে। এটা রবের পক্ষ হতে নির্ধারিত। কিন্তু তারপর তোমাকে দেওয়া হবে সুখের সর্বোচ্চ স্তর। দেওয়া হবে ইমানের পূর্ণতা। এটাই সেই পূর্ণতা, যাকে তুমি সারা পৃথিবীতে খুঁজে বেড়িয়েছ। এটা সেই পূর্ণতা, যা তুমি অবৈধ প্রেমের মাঝে সঙ্গীর সংস্পর্শে খুঁজেছ। এটা সেই পূর্ণতা, যা পৃথিবীর প্রকৃতির গহিনে তুমি হন্যে হয়ে বেড়িয়েছ দিনের পর দিন। এটাই সেই পূর্ণতা, যার খোঁজে সম্পদ আর সফলতার পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ নিজেকেই নিঃশেষ করে দেয়।
কিন্তু পৃথিবীর এত মূল্যবান জিনিসটা অর্জন করা যে এত সহজ, তা কেউ বুঝতে চায় না। চোখের সামনে স্পষ্ট পূর্ণতা দেখেও তারা অপূর্ণতাকেই বেছে নেয়।
📄 প্রতিদান
তুমি হয়তো বলবে—ফিরে আসো, প্রত্যাবর্তন করো, দীন অনুসরণ করো বলাটা অনেক সহজ, লেখাটা আরও বেশি সহজ। কিন্তু বাস্তবতায় নিজের জীবনের গতিপথ বদলানো অতটা সহজ ব্যাপার নয়।
হ্যাঁ, তা আমি জানি। কিন্তু আমার ভাই/বোন! তুমি কি এটা জানো, একটু কষ্ট সহ্য করে, একটু গালি খেয়ে, একটু মন খারাপ করে নিজেকে বদলানোর এই প্রচেষ্টার প্রতিদান কত বড়? তুমি কি জানো, এই দীনের গুরুত্ব কত বেশি?
এই দীন কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটা আল্লাহর নির্ধারিত পথ। এখানে তুমি যা অনুসরণ করবে, তা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ। তোমার এই কয়েক মাস বা বছরের কষ্ট-যন্ত্রণা হয়তো একটা সময় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তোমাকে দীনদার হিসাবেই তোমার পরিবার এবং সমাজ একদিন গ্রহণ করে নেবে। কিন্তু এখানেই কি শেষ? না, কখনোই নয়; বরং এইটুকু মাস বা বছরের প্রচেষ্টার বদলে, নিজের আদর্শকে একটু পালটে ফেলার বদলে, নিজের অবৈধতাগুলো একটু দূরে সরিয়ে দিয়ে বৈধ সুখ গ্রহণ করার বদলে তোমাকে দেওয়া হবে-অসীম জীবনের জান্নাত, যা অকল্পনীয়।
📄 ইচ্ছার দৃঢ়তা
দীনে ফেরার পূর্বে সবচাইতে জরুরি বিষয় হলো-ইচ্ছার দৃঢ়তা।
যেভাবেই হোক নিজের অন্তরে ইসলামের প্রতি ইচ্ছা বা আগ্রহ জন্ম দাও। তোমার চোখকে ইসলামের সৌন্দর্য দেখাও, তোমার কানকে কুরআনের সুর শোনাও, তোমার অন্তরকে ইবাদতের স্বাদ গ্রহণ করতে দাও, তোমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে (দাসত্ব) সিজদায় নিয়ে যাও-দেখবে ইসলামের প্রতি আগ্রহ জন্মে গেছে।
তোমার জন্য যেভাবে সহজ হয়, যেভাবে তোমার আগ্রহ বাড়ে, সেভাবেই দীনের প্রতি নিজের ইচ্ছাকে দৃঢ় করে তোলো; নতুবা ঠুনকো ইচ্ছা নিয়ে, আবেগের বশবর্তী হয়ে দীনে ফিরলে, সে ফেরা স্থায়িত্ব পাবে না। ইচ্ছার দৃঢ়তার অভাবে কিছুদিন পর আবেগ কমে গিয়ে আবার দীন থেকে দূরে সরে যাবে। এ-রকম ঘটনা চারপাশে অহরহ ঘটছে।
কিছুদিন খুব বেশি ইবাদত, আমল, চরিত্র গঠনের প্রতি আকর্ষণ থাকে। আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আকুতি চেহারায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, মসজিদের সামনের কাতারের এই আবেগী মুসল্লি কিছুদিন পরেই কোথায় যেন হারিয়ে যায়। দুনিয়ার ব্যস্ততায়, শয়তানের ধোঁকায়, নানান ফিতনায় তার আবেগ আর আকাঙ্ক্ষাটুকু কমে গিয়ে আবার পূর্বের জীবনেই সে ফিরে যায়।
আমি বলছি না, ইচ্ছা দৃঢ় না হলে ফিরে এসো না। অবশ্যই এখন, এই মুহূর্তেই ফিরে আসো। কিন্তু আমি বলছি, এই ফিরে আসাকে মৃত্যু পর্যন্ত ধরে রাখতে হলে অন্তরের আগ্রহের দৃঢ়তা আর ভালোবাসার গভীরতা প্রয়োজন। কারণ হলো, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি পরীক্ষা করবেন-কে শুধু তাঁর সন্তুষ্টির আশায় ফিরেছে, আর কে স্বার্থের জন্য এসেছে। এখানে যার ইমানের দৃঢ়তা যত বেশি থাকে, সে-ই কেবল উত্তীর্ণ হতে পারে।
তবে শুধু বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্টই আল্লাহর পরীক্ষা নয়। মহান রব্বুল আলামিন কারও থেকে কিছু কেড়ে নিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কাউকে কিছু দিয়েও তাকে পরীক্ষা করেন। অনেকে বিপদের পরীক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে ঠিকই। তবে দুনিয়ার স্বার্থ আর সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করা হলে, ভেতরের লালসা কাটিয়ে আল্লাহকে বেছে নিতে সে ব্যর্থ হয়।
বুকে সাহস নিয়ে পা বাড়িয়ে দাও। তোমাকে আশ্বস্ত করে পূর্ণ বিশ্বাসের সাথেই বলছি, পূর্ণাঙ্গভাবে দীনের পথে প্রত্যাবর্তনকারী সকল নারী-পুরুষের জীবনে শুধু কল্যাণেরই বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। তুমি চাইলে কোনো প্রত্যাবর্তনকারীর কাছ থেকে তার বর্তমান আর পূর্বের অবস্থার পার্থক্যটা জেনে নিতে পারো। এতেও ইচ্ছায় দৃঢ়তা আনা সম্ভব হবে।