📄 ভয়
দীন গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সময় জাগতিক সকল প্রতিবন্ধকতার চাইতেও বড় বাধা হয় পরিবার। অন্তরের সাহসকে তাড়িয়ে দিয়ে বারবার প্রবেশ করে ভয়। একদিকে পরিবার, অন্যদিকে প্রত্যাবর্তন; কী করবে এবার, তাই তো?
শুনে রাখো, আজ যদি পিতামাতার সিদ্ধান্তকে আল্লাহর চাইতে বেশি প্রাধান্য দাও, তবে দুনিয়া হয়তো যেমন-তেমন করে চলে যাবে, ওপারে তোমার জন্য সুখের কোনো অংশ থাকবে না। আর যদি আল্লাহর ইচ্ছাকে পিতামাতার চাইতে বেশি প্রাধান্য দাও, তবে কয়েক দিন, কয়েক মাস বা কয়েক বছর হয়তো তোমাকে একটু সইতে হবে, কিন্তু তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে ইন-শা-আল্লাহ। আর ওপারে তো অসীমের সুখ আছেই।
তুমি পৃথিবীর ৫০-৬০ বছরের সুখ অসীমের দামে বিক্রি করবে, না কি অসীমের সুখগুলো ৫০ বছরের সুখের আশায় ছেড়ে দেবে, তা তোমার ব্যাপার।
তবে জেনে রাখো, এমন একটা দিন পৃথিবীর বুকে আসবে, যেদিন তোমার এই পিতামাতাও তোমাকে সন্তান বলে স্বীকার করবে না। আর তুমিও তাদের পিতামাতা হিসাবে স্বীকার করতে চাইবে না।
জীবনের অর্ধেকটা তারা পেরিয়ে গেছেন। আর কিছু বছর পর বয়সের ভারে, আর দীনের প্রভাবে সব শাসন বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং তাদের ভয়ে আল্লাহর থেকে অন্তত দূরে থেকো না। এভাবে নিজের আখিরাত ধ্বংস করে দিয়ো না।
📄 পরিবর্তন
প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে পেছনের পাপের অভ্যাস পরিবর্তন করা অপরিহার্য। তোমাকে জীবনের সকল অপবিত্রতা মুছে ফেলতে হবে। কিন্তু এর মানে তোমার নিজস্ব ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নগুলো পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে, তা নয়। তুমি সবকিছু পরিবর্তনের নিয়ত করে নাও। পরিবর্তন হলো একটার পরিবর্তে আরেকটা গ্রহণ।
তোমার পূর্বের অশ্লীল ইচ্ছাগুলো পবিত্র ইচ্ছা দিয়ে পরিবর্তন করো, তোমার অপবিত্র আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো পবিত্র কামনা বাসনা দিয়ে পরিবর্তন করো, তোমার অবৈধ উপভোগের স্বপ্নগুলোকে বৈধ পন্থার স্বপ্ন দিয়ে সজ্জিত করো। অনুভূতিগুলোও থাকুক, কিন্তু তা প্রকাশ ও প্রয়োগের মাধ্যমটা বৈধ হোক।
এভাবে তোমার ইচ্ছাগুলো পূর্ণ হয়ে যাবে, স্বপ্ন পূরণের স্বাদও নেওয়া যাবে, অনুভূতিগুলোও আর জমে থাকবে না। একদিকে বৈধতার সীমায় থেকে তোমারও সুখ পাওয়া হলো, অন্যদিকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিও পাওয়া হলো। সবদিক থেকেই লাভ। ইসলাম এমনই। বৈধতার সীমায় মানবীয় আবেগ-অনুভূতি চরিতার্থ করাই ইসলাম।
📄 আত্মা
মানুষের জীবন সর্বদা একই অবস্থায় থাকে না। জীবনের সব মুহূর্ত সুখের হয় না। কিছু সময় তাকে অসীম দুশ্চিন্তায় ডুবে থাকতে হয়। কিছু সময় একাকী নিঃসঙ্গতায় সময় কাটাতে হয়। তাই সে সর্বদা একটা আস্থার খোঁজ করে, যার ওপর ভরসা করে সে জীবনের সকল চড়াই-উতরাই পেরোতে পারবে।
আর দীন মানুষকে সেই আস্থাটা দেয়। সেই আস্থা হলেন সাত আসমানের অধিপতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। যেই আস্থার চাইতে যোগ্য আকাশ-জমিনে অন্য কেউ নেই। যার ইশারায় মুহূর্তেই পৃথিবীর সব নিয়ম বদলে যেতে সক্ষম, যার নিয়ন্ত্রণে তোমার অন্তর, সেই মহান রব্বুল আলামিন যদি কারও আস্থা হয়ে যান, তাহলে আর কার প্রয়োজন হতে পারে? আর কীসের চিন্তা থাকতে পারে?
📄 পূর্ণতা
দীনের ক্ষেত্রে তোমার বিশ্বাসের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকু সময়ে একটু কষ্ট সইতেই হবে। এটা রবের পক্ষ হতে নির্ধারিত। কিন্তু তারপর তোমাকে দেওয়া হবে সুখের সর্বোচ্চ স্তর। দেওয়া হবে ইমানের পূর্ণতা। এটাই সেই পূর্ণতা, যাকে তুমি সারা পৃথিবীতে খুঁজে বেড়িয়েছ। এটা সেই পূর্ণতা, যা তুমি অবৈধ প্রেমের মাঝে সঙ্গীর সংস্পর্শে খুঁজেছ। এটা সেই পূর্ণতা, যা পৃথিবীর প্রকৃতির গহিনে তুমি হন্যে হয়ে বেড়িয়েছ দিনের পর দিন। এটাই সেই পূর্ণতা, যার খোঁজে সম্পদ আর সফলতার পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ নিজেকেই নিঃশেষ করে দেয়।
কিন্তু পৃথিবীর এত মূল্যবান জিনিসটা অর্জন করা যে এত সহজ, তা কেউ বুঝতে চায় না। চোখের সামনে স্পষ্ট পূর্ণতা দেখেও তারা অপূর্ণতাকেই বেছে নেয়।