📘 উদ্দেশ্যহীন আর কতদিন > 📄 পাপের প্রতি উৎসাহ

📄 পাপের প্রতি উৎসাহ


প্রত্যাবর্তন বা তাওবার পথে অগ্রসরের ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টির প্রয়োজন হয়, তা হলো, অনুশোচনা বা নিজের পাপের প্রতি অনুতাপ।

কিন্তু আমাদের অনেকের অন্তরে অনুশোচনার বদলে আজকে পাপ সম্পর্কে গর্ববোধ জাগ্রত হয়েছে। যে কারণে আমরা একসাথে বসে নিজেদের অতীতের নিকৃষ্টতা আর অপকর্মের ফিরিস্তি রোমন্থনের প্রতিযোগিতা শুরু করে দিই। কে কত বেশি অশ্লীলতায় জড়িয়েছে, কে কত জন নারীর সাথে অপকর্ম করতে পেরেছে, কে কতজনকে ধোঁকায় ফেলতে পেরেছে—তা নিয়েই চলে আলোচনা। নিজের সমস্ত পাপের ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলার ক্ষতি সম্পর্কে তারা উদাসীন। সদ্য দীনে ফিরে আসা অনেক ভাইদের মধ্যেও এরূপ চিত্র লক্ষ করা যায়। পূর্বেকার জাহেলিয়াত স্মরণ করে তারা গর্বিত হয়, পূর্বেকার অপকর্মগুলো সকলের সামনে প্রকাশ করে তৃপ্তি পায়।

কিন্তু আমার প্রিয় ভাইয়েরা! এটা সম্পূর্ণভাবে হারাম। এটা তাওবার দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে মানুষকে আটকে রাখে।

এটা কখনোই দীন নয়। আমাদের তো নিজের কৃত অপরাধের ব্যাপারে লজ্জা থাকা উচিত। কেননা লজ্জা ইমানের অঙ্গ; যার লজ্জা নেই, তার ইমানও নেই।

এ ছাড়া নিজের সাথে সাথে তোমাকে সমাজে পাপের প্রচার-প্রসার রোধেও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যেন অজ্ঞতাবশত কাউকে পাপের প্রতি উৎসাহিত না করি, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। কারণ এর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিরাট প্রতিদান।

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

'যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে, তার জন্য সেই পথের অনুসারীদের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। আর যে লোক বিভ্রান্তির দিকে ডাকে, তার ওপর সে রাস্তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য হালকা হবে না।'[১০৩]

অর্থাৎ তুমি যদি কাউকে দীনের পথে দাওয়াত দাও, আল্লাহর আনুগত্যের দিকে আহ্বান করো, তবে সে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে যে সওয়াব লাভ করবে, তোমাকেও তার প্রতিদান দেওয়া হবে। তুমি যদি কাউকে সালাতের প্রতি উৎসাহ দাও, সালাতের গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দাও, তবে সে যত বার সালাত আদায় করবে, তোমাকেও এর প্রতিদান দেওয়া হবে।

কিন্তু এর বিপরীত দিকটাও সত্য। অর্থাৎ তুমি যদি কাউকে হারামের প্রতি উৎসাহ দাও, পাপ করতে আদেশ করো বা তোমার কারণে কেউ যদি আল্লাহর অবাধ্য হয়, তবে তার পাপের একটা অংশ তোমাকেও দেওয়া হবে। তার কৃত অপরাধের শাস্তি তোমাকেও ভোগ করতে হবে।

তাই আমার ভাই/বোন! তোমাকে নিজের কর্মের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তোমার কোনো কথা, কাজ, চলাফেরা, আচার-আচরণ, আদর্শ, তোমার ফেসবুক পোস্ট, তোমার দেওয়া রিঅ্যাক্ট, কমেন্ট, তোমার লেখা বা ছবির মাধ্যমে কেউ যেন কোনো নেগেটিভ মেসেজ না পায়। মানুষ মূলত অন্যের কর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়। কাছের বন্ধু, ভাই বা বোনের মাধ্যমে সে আরও দ্রুত প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাই এমন কিছু প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকো, যা তোমার রব অপছন্দ করেন।

আল্লাহ তোমার ঢেকে রাখাই বেশি পছন্দ করেন—এটা তোমার পাপ হোক কিংবা পুণ্য।

যদি তুমি লজ্জিত না হও, অন্তত এমন আচরণ করো, যেন তুমি লজ্জিত। নিজের পাপ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সতর্ক থেকো; নতুবা অন্য কারও পাপের দায়ে জান্নাতের দরজা হতেই তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

উত্তম কর্মের ক্ষেত্রেও কাউকে বলার দরকার নেই। জীবনে অন্তত কিছু কর্ম অন্তত তোমার রবের জন্যই বিশেষভাবে তোলা থাকুক; নতুবা অনেক বেশি আমল সত্ত্বেও একনিষ্ঠতা বা ইখলাসের অভাবে তা মাটিতে রূপান্তরিত করে দেওয়া হবে। সুতরাং নিজের কর্মগুলোকেও লুকিয়ে রাখো এবং পারলে নিজেও লুকিয়ে থাকো। কেননা এই কঠিন ফিতনার মুহূর্তে ইমান রক্ষা করার এটাই সর্বোত্তম পন্থা।

টিকাঃ
[১০৩] সহিহ মুসলিম: ৬৬৯৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00