📄 শুকর খাওয়া
ইসলামে শূকর খাওয়া হারাম কেন বলতে পারবে?
মুসলমানেরা এর হাস্যকর সব উত্তর দেয়। অনেকে বলে, এতে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, এর মাংসে সমস্যা বা বিজ্ঞানীরা এতে নানান ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে ইত্যাদি।
তাদের উত্তরে আমি বিস্মিত হই। কেননা আল্লাহ তাআলা তো এসব আবিষ্কারের আগেই শূকরের মাংস হারামের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। একজন মুমিনের জন্য তো এর চেয়ে বড় কারণ দরকার নেই। "শূকর হারাম-কারণ আল্লাহ হারাম বলেছেন, তাই। নিশ্চয়ই তিনি যা জানেন, তুমি তা জানো না। এখানে আর কোনো কারণ খোঁজার তো প্রয়োজন নেই। একজন আত্মসমর্পণকারীর আবার কীসের প্রশ্ন?
একইভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন অশ্লীলতা, নারী, জিনা-ব্যভিচারের কাছে যেতে নিষেধ করেন, এর অর্থ এই নয় যে, তিনি তোমাকে উপভোগ করতে দিতে চান না। তিনি তোমাকে যতটা ভালোবাসেন, অন্য কেউ অতটা ভালোবাসতে পারবে না। তিনি তোমার যতটা খেয়াল রাখেন, আর কেউ তা রাখতে পারবে না। সুতরাং তিনি যখন কোনোকিছু হতে দূরে থাকতে বলেন, তা অবশ্যই তোমার কল্যাণের জন্য।
তোমার শূকর থেকে দূরে থাকা, তোমার অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকা, তোমার নিষিদ্ধ কর্মের দিকে না-যাওয়া তার ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য নয়; বরং তুমি সব অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে, কারণ এটা আল্লাহর আদেশ। আর আল্লাহর সকল আদেশ নির্দ্বিধায় মান্য করার ব্যাপারে তুমি অঙ্গীকার করেছ। তুমি স্বেচ্ছায় তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছ। এখন তাঁর ইচ্ছাই তোমার ইচ্ছা, তাঁর সিদ্ধান্তই তোমার সিদ্ধান্ত। তুমি নিজের ইচ্ছার স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা, চোখের স্বাধীনতা, কল্পনার স্বাধীনতা স্বেচ্ছায় তার কাছে সমর্পণ করে তাঁর আনুগত্যকে বেছে নিয়েছ। তিনি কিন্তু এতে তোমাকে বাধ্য করেননি। তুমি নিজেই তাঁর বাধ্য হতে চেয়েছ। তুমি নিজের সমস্ত সত্তাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছ। এটাই প্রকৃত দাসত্ব, যা তুমি স্ব-ইচ্ছায় বেছে নিয়েছ।
আজকে দাস হয়েও অনেকে মনিবের আদেশের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করে। অথচ এই প্রশ্ন, যুক্তিতর্ক আর বিজ্ঞানের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে অনেক মুসলমানের অন্তরে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের স্থান দখল করে রেখেছে।
এ ছাড়া এই যুক্তিতর্কের সমস্যা হলো, তুমি যদি আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয় হতে তার ক্ষতির জন্য দূরে থাকো, তবে এটাকে অনেকে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে তোমাকে বিভ্রান্ত করে ফেলবে। তারা বলবে, তুমি যেহেতু ব্যাকটেরিয়ার কারণে শূকর খাচ্ছ না, তাহলে আমরা এটাকে ল্যাবে নিয়ে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করে দিই? কিন্তু ব্যাকটেরিয়া না থাকলেই কি শূকর হালাল হয়ে যাবে?
টিকাঃ
[৩৭] সংশয়ী, আধা সংশয়ী, অমুসলিমদের সামনে ইসলামের সত্যতা স্পষ্ট করতে অনেক সময় সেই ভাষায় কথা বলার দরকার পড়ে, যে ভাষা সে বোঝে। বিশ্বাসের ভাষা বুঝলে তো আর প্রশ্নই ওঠার কথা ছিল না। প্রশ্ন যেহেতু করেছে, তার মানে বিশ্বাসের ভাষা সে বোঝে না। তার যুক্তির ভাষা, বিজ্ঞানের ভাষা প্রয়োজন। তবে তার উদ্দেশ্য হতে হবে 'বিশ্বাসের ভাষা' পর্যন্ত তাকে পৌঁছানো; যুক্তির ভাষাতেই ঘুরপাক খাওয়া নয়।
📄 পর্দা কেন করি?
তুমি যদি আল্লাহর আদেশ না-জেনে কেবল শরীর ঢাকার উদ্দেশ্যে পর্দা করতে থাকো, তবে তারা তোমাকে পর্দার বিকল্প ব্যবস্থা এনে দেবে। তুমি যদি শুধু ভালো কাজ হিসাবে দানসদকা করতে থাকো, তবে তারা তোমাকে বিকল্প ভালো কাজ এনে দেবে। যদি তুমি শারীরিক উপকার হিসাবে সাওম পালন করো, তবে তারা তোমাকে অন্য উপকারী বিষয় এনে দেবে। তুমি যদি ইবাদতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না করে কেবল সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে আদায় করো, তবে সমাজ তোমাকে আরও বিকল্প গ্রহণযোগ্যতার পথ খুঁজে দেবে। তখন কি তুমি সেগুলোকেও গ্রহণ করে নেবে? যদি তা ইসলামের সীমারেখার বাইরে হয়, তখন কি তোমার জন্য সবকিছু বৈধ হয়ে যাবে?
আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন, যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, যা কিছু করাকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, তা কেবল তাঁর আদেশের কারণেই নিষিদ্ধ মানতে হবে। একজন মুসলমান যা করে, তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; আর যা হতে বিরত থাকে, তাও আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমাদের অনেকের চোখের পর্দা সরতে চায় না। তারা নিজের অঙ্গীকার থেকে পালিয়ে বেড়ায়। তাদের যুক্তি যেন কখনো শেষ হতেই চায় না। অবস্থা এমন যে, আল্লাহ বলেন, লাফ দাও! তারা বলে, কতটুকু দূরে?
এজন্যই আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু চমৎকার করে বলেছেন, 'ইসলাম যদি যুক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হতো, তবে অজুতে পায়ের ওপরে নয়, পায়ের তালুতে মাসাহ করতে হতো।'
📄 তাওয়াফ কেন করি?
আরেকটি উদাহরণ লক্ষ করো। আমরা পবিত্র কাবার চারপাশে সাতবার তাওয়াফ করি কেন বলতে পারবে? এটা কি বিজ্ঞানীদের বিশেষ কোনো পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণের কারণে? কখনোই নয়। এর একমাত্র কারণ হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের সাতবার তাওয়াফ করতে আদেশ করা হয়েছে তাই। অথচ অনেকে এটা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় ডুবে থেকে তাদের হজ ও উমরা পুরোপুরি অনুভব করতে পারে না। তারা কাবার সামনে দাঁড়িয়ে, জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি মুহূর্তেও ভাবতে থাকে, কেন সবাই ঘড়ির বিপরীতে তাওয়াফ করে, ঘড়ির কাঁটার দিকে কেন নয়! কেন সাতবার তাওয়াফ করা হয়, পাঁচবার কেন নয় ইত্যাদি।
📄 তালাকে পর ইদ্দত পালন
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো বোনের স্বামী মারা গেলে বা তাদের বিচ্ছেদ হলে, তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালত করতে হয়। অর্থাৎ এ সময়ে তাকে পরবর্তী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়। এটা নিয়েও অনেক বোনের প্রশ্নের শেষ নেই। তারা বলে, কেন আমার এই সময় অপেক্ষা করতে হবে? কেন আমি সাথে সাথেই বিবাহ করতে পারব না? চার মাস দশ দিন দীর্ঘ সময়, এটা নারীদের প্রতি অবিচার ইত্যাদি।
আমার বোন! মহান আল্লাহ কি কারও ওপর অবিচার করতে পারেন বলে তোমার মনে হয়? তোমাকে আদেশ করা হয়েছে তুমি তা গ্রহণ করে নেবে। কেন? কারণ তুমি মুসলিম। তুমি নিজেই তো এই দীন গ্রহণ করে নিয়েছ। সুতরাং এর বিধিবিধান মানতে তোমার আপত্তি থাকার সুযোগ নেই।
হ্যাঁ, ইদ্দত সম্পর্কে গবেষণা করে কিছু বিজ্ঞানীরা এর অনেক ভালো দিক বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, 'সাধারণভাবে নারী পুরুষের মিলনের মাধ্যমে তাদের শুক্রাণুর আদানপ্রদান ঘটে থাকে। আর চার মাস পরেই মূলত সেই শুক্রাণু থেকে সন্তান ধারণের অবস্থা ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়।' হ্যাঁ, অবশ্যই এটা উত্তম দিক; কিন্তু একজন মুসলিম নারী কি বৈজ্ঞানিকদের গবেষণার কারণে তার ইদ্দত পালন করবে? কখনোই নয়; বরং এটা আল্লাহর সিদ্ধান্ত। সুতরাং আল্লাহর আদেশ হিসাবেই পালন করতে হবে।
অনেক বোন হয়তো বলতে পারে, বিভিন্ন কারণবশত ছয় মাস ধরে আমার স্বামীর সাথে মিলন হয়নি। তাহলে তো এই বিধান আমার ওপর প্রয়োগ হবে না। এই ছলচাতুরী রুখে দিতেই আল্লাহ সকলের জন্য তাঁর সিদ্ধান্ত পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছেন। আরেকটা উদাহরণ দিই。
টিকাঃ
[৩৮] সুরা আল-বাকারা: ২৩৪।