📄 কে এই পৃথিবী?
পৃথিবী তোমার নয়, তুমিও পৃথিবীর কেউ নও। পৃথিবী আর তোমার এক হওয়া অসম্ভব। এ কথা তুমি যে জানো না, তাও তো নয়। বরং তুমি নিজের অস্তিত্বের থেকেও বেশি বিশ্বাস করো সেই দিনকে, যেদিন পৃথিবীর সাথে তোমার বিচ্ছেদ হবে। তবুও তোমার সাথে পৃথিবীর এই বন্ধন কীসের? তার প্রতি কেন এত মায়া তোমার?
অবৈধ প্রেমাসক্তির মতোই তোমার অন্তর সারাক্ষণ পৃথিবীর মাঝেই ডুবে আছে। মিলন হবে না জানা সত্ত্বেও কিছু মুহূর্তের জন্য হলেও তুমি পৃথিবীকেই চাও।
তবে ক্ষণিকের জন্য পৃথিবীর সাথে তোমার এই 'এক হওয়া' কোনো বন্ধন নয়, এটা কোনো সম্পর্কও নয়; এটা কিছু মুহূর্তের ছুঁয়ে দেখা মাত্র!
* উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁয়ে দেখার মতো পৃথিবীকেও ছোঁয়া যায়। কিন্তু হাতে নেওয়ার সাথে সাথেই মেঘ গলে পড়ে যায়。
* দ্রুতবেগে ছুটে আসা বাতাস ছুঁয়ে দেওয়ার মতো পৃথিবীর সুখকেও ছোঁয়া যায়। কিন্তু বাতাস তো একমুহূর্ত অপেক্ষা করে না। পলক পড়ার আগেই পালিয়ে যায়。
* জ্বলন্ত আগুনের মাঝে আঙুলের ডগা দিয়ে আগুন ছোঁয়ার মতোই পৃথিবীর সৌন্দর্যের প্রতি বিমুগ্ধ মানুষ তাকে নিজের করে পেতে চায়। কিন্তু আগুন দূর থেকেই সুন্দর। বেশি কাছে গেলে সবকিছু জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়।
📄 পৃথিবীর চরিত্র
• বৃষ্টির ফোঁটা আঁজলা ভরে জমা করার মতো পৃথিবীর সম্পদকেও মানুষ দুহাত ভরে পেতে চায়। তবে বৃষ্টির পানিকে যেভাবে আঁজলায় আটকে রাখা যায় না, ধরে রাখা যায় না পৃথিবীকেও।
পৃথিবী একজন কুমারী নারীর চাইতেও অধিক দ্রুত মানুষকে প্রভাবিত করে। এরপর সুখে ভরিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজের মায়ায় জড়িয়ে নিয়ে তাকে ধ্বংস করে দেয়। দুনিয়াকে যতই ভালোবাসা হোক না কেন, সে কাউকে ভালোবাসে না। আক হোক কাল হোক সকলকেই সে বিসর্জন দেয়। এ কারণে শীর্ষ ধনীরা পুরোপুরি দুনিয়া অর্জন করা সত্ত্বেও তার ভালোবাসা পায়নি। ক্ষণিকের সঙ্গ আর ভালোবাসা কি এক?
দুনিয়া মানুষকে এত ধোঁকা দেওয়া সত্ত্বেও মানুষ দুনিয়াকেই পেতে চায়। দুনিয়াকে পাওয়ার উন্মাদনায় মানুষ তার স্রষ্টা, তার রাসুল, তার জন্য প্রেরিত আসমানি বার্তা, এমনকি নিজের সত্তাকে পর্যন্ত ভুলে বসে! ইমাম গাজালি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
'দুনিয়ার চরিত্র ভালো নয়—সে ধরা দিয়ে পালিয়ে যায়; কাছে টানে, আবার দূরে ঠেলে দেয়; আশা জাগিয়ে আবার হতাশায় ফেলে দেয়।
মানুষকে সম্পদ বা ভালোবাসা দেওয়া তার স্বভাব নয়। সে একবার কাউকে হাসালে, পরক্ষণেই তাকে হাসির পাত্র বানায়। একবার কারও জন্য মায়াকান্না কাঁদলে, শতবার তাকে চোখের জলে ভাসায়। সকালে কাউকে প্রাচুর্য দিলে, বিকেলেই তাকে ভিখারি বানায়। রাতে কারও মাথায় রাজকীয় মুকুট পরিয়ে দিলে সকালেই তার মানসম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
দুনিয়া সবসময় স্বার্থপর। কারও জন্ম বা মৃত্যুতে তার কিছু আসে যায় না। এমনকি তার মধ্যে কোনো ভাবান্তরও ঘটে না। কারণ, মৃত্যুর মাধ্যমে যারা তার থেকে দূরে সরে যায়, সে অনায়াসেই তাদের উত্তম বিকল্প পেয়ে যায় এবং এই বিকল্প পেয়েই সে আহ্লাদিত থাকে।
দুনিয়ার বুকে দুঃখ বলতে কিছুই নেই। কারণ, সবাই তাকে ভালোবাসে। তার জন্য সাধনা করে। এ যাবৎ কত জন যে তার জন্য জীবন বিলিয়ে
দিয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কিন্তু এত কিছুর পরও কেউ কখনও দুনিয়ার ভালোবাসা পায়নি।
দুনিয়া বড় কঠিন। বড় নির্দয়। বড় ছলনাময়ী। সে তার রূপ-লাবণ্য দিয়ে সবাইকে নিজের আঁচলতলে টেনে নেয়, কিন্তু সে কারও বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয় না। তাকে ভালোবেসে প্রতিমুহূর্তে হাজারো মানুষ আত্মহত্যা করে, কিন্তু সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপই নেই। এটাই হলো এই স্বার্থপর পৃথিবীর প্রকৃত অবস্থা!'[১৫]
কিন্তু তবুও দুনিয়ার প্রতি মানুষের মায়ার যেন শেষ নেই। আপন স্ত্রীর চাইতেও মানুষ দুনিয়াকে অধিক ভালোবাসে, তাকে কামনা করে, তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। মানুষের মধ্যে সৌন্দর্য, আকাঙ্ক্ষা, বিলাসিতা, সম্পদ, নারী আর সুখের দুর্বলতা রয়েছে। মানুষ যদি চাহিদা মেটাতে এর যে-কোনো একটার কাছে যায়, তবে অন্যটা তার হাতছাড়া হয়ে যাবে। কিন্তু পৃথিবী মানুষের সব সুখকে একত্রে নিজের মাঝে ধারণ করে রেখেছে। ফলে তার আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করা নেশা ছাড়ার চাইতেও অধিক কষ্টসাধ্য।
তবে কী লাভ এই ভালোবাসায়? পৃথিবীর কোনো ভালোবাসা কি স্থায়ী হতে পেরেছে? বৈধ ভালোবাসাই যেখানে সময়ের সাথে মলিন হয়ে যায়, সেখানে অবৈধ আসক্তি কী করে স্থায়ী হতে পারে?
হাজারো ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শেষমেষ পৃথিবীর ভালোবাসা না পেয়েই পৃথিবীকে ছেড়ে যেতে হয়। পৃথিবী যেন জোর করেই আমাদের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। কেননা ওকে তুমি যতই ভালোবাসো না কেন, সে কাউকে ভালোবাসে না। হাসান আল-বসরি রাহিমাহুল্লাহ এজন্যই বলেছেন,
'দুনিয়া নিষ্ঠুর, প্রতারক, প্রবঞ্চক। সে সৌন্দর্যের জাল বিছিয়ে মানুষকে ঘায়েল করে। বড় বড় আশা দেখিয়ে বশে আনে। প্রণয়প্রার্থীদের সামনে গোপন সৌন্দর্য তুলে ধরে তাদের বিভ্রান্ত করে। দুশ্চরিত্রা নববধূর মতো ঘুরে বেড়ায়। অপলক চোখগুলো তাকে অবলোকন করে। তৃষিত মনগুলো তার জন্য লালায়িত থাকে। ইন্দ্রিয় থেকে প্রতিনিয়ত লালসা ঝরতে থাকে। এরপর যখন তাদের মিলন হয়, তখন একান্ত মুহূর্তে সে তাদের সবাইকে গলা টিপে হত্যা করে।[১৬]
আর এটা আজকের ঘটনা নয়। এটা পৃথিবীর নতুন কোনো চরিত্র নয়। কেননা পৃথিবী সবসময়ই তার প্রেমিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করে আসছে। কিন্তু পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে না। আগের জনকে পৃথিবীর গ্রাসে বিলীন হতে দেখে পরের জন সতর্ক হয় না। পৃথিবীর মায়াবী জালে আটকে পড়ে অনেক খোদাপ্রেমিকও। পৃথিবীর ঈষৎ ছোঁয়া পেয়ে প্রতারিত হয়, কর্তব্য কর্ম ভুলে স্বেচ্ছাচারিতায় মেতে ওঠে, পরকাল ও পরিণতির কথা বেমালুম ভুলে যায়। তার মন-মস্তিস্কজুড়ে কেবল পৃথিবী বিরাজ করে। তখন পৃথিবীও তাকে ত্যাগ করে। পদস্খলিত হয়ে হতাশা, অনুতাপ ও অনুশোচনা তাকে চেপে ধরে। এই অনুশোচনা একসময় তার মনস্তাপে পরিণত হয়। সে তখন সবকিছুতেই দিশেহারা বোধ করে। লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। ক্লান্তি ও অবসাদ তার নিত্যসঙ্গী হয়। ফলে সে একসময় নিঃস্ব ও নিঃসম্বল হয়ে পড়ে। দিগ্ভ্রান্তের ন্যায় এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়।
আর আমাদের প্রিয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীর এই মায়াবী জাল থেকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,
'যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসবে, তার আখিরাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে; আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে ভালোবাসবে, তার দুনিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (তবে মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার লাভ-ক্ষতি ক্ষণস্থায়ী; আর আখিরাতের লাভ-ক্ষতি স্থায়ী), তাই তোমরা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ওপর চিরস্থায়ী আখিরাতকে প্রাধান্য দাও।'[১৭]
এ ছাড়া একবার জনৈক জ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করা হয়—
- 'দুনিয়ার দোষ সম্পর্কে সবচেয়ে সচেতন কে?
-যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কথা চিন্তা করে।
-আমাদের কাছে মৃত্যু কেন এত অপ্রিয়?
-কারণ, আমরা দুনিয়াকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দিই।
-মানুষ কখন উদাসীন বলে সাব্যস্ত হয়?
-যখন দুনিয়া পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়।
-আচ্ছা! আমাদের থেকে ইলম ও হিকমত কখন উঠে যাবে?
-যখন তোমরা ইলম ও হিকমতের মাধ্যমে দুনিয়া অর্জনের চেষ্টা করবে।
-আখিরাত অর্জনে অন্তরায় কোন জিনিস?
-দুনিয়ার মায়া-মোহ।
-যুহুদ বা দুনিয়ামুখিতা নিদর্শণ কী?
-আখিরাতের নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা।
-দুনিয়া কার জন্য? আর আখিরাত কার জন্য?
-যে দুনিয়া তালাশ করে, দুনিয়া তার জন্য; আর যে আখিরাত তালাশ করে, আখিরাত তার জন্য।[১৮]
কিন্তু দুনিয়ার এই বাস্তবতাকে জেনেও মানুষ দুনিয়াকেই বেছে নেয়। এর কারণ কী জানো?
আম্মার ইবনু সাঈদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘একবার হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর সহচরদের নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা একটি এলাকার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তখন গভীর বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলেন, এলাকাবাসীদের কেউ বেঁচে নেই। সবাই মারা গেছে এবং তাদের মৃতদেহগুলো এখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ মর্মান্তিক অবস্থা দেখে তিনি অনুসারীদের উদ্দেশ্যে করে বললেন,
প্রিয় সহচরবৃন্দ, এরা আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তোষের কারণে ধ্বংসের শিকার হয়েছে।
এজন্য তাদের কাফন-দাফনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তারা যদি স্বাভাবিক অবস্থার মৃত্যুবরণ করত, তবে তাদের কাফন-দাফনের ব্যবস্থা হতো।
সহচররা তখন বলেন, আল্লাহর নবি, আপনি আমাদের তাদের পুরো ঘটনা খুলে বলুন। তখন ঈসা আলাইহিস সালাম দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। তৎক্ষণাৎ আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাঁকে জানিয়ে দেন যে, আপনি গভীর রাতে এখানে এসে তাদের উচ্চৈঃস্বরে ডাকবেন। তখন তারাই আপনাকে নিজেদের ঘটনা বর্ণনা করে শোনাবে।
মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ইসা আলাইহিস সালাম গভীর রাতে অতি সন্তর্পণে সেখানে এসে উপস্থিত হন। এরপর একটি টিলার ওপর দাঁড়িয়ে তাদের উঁচু আওয়াজে ডেকে বলেন, আমি আল্লাহর নবি ইসা বলছি। তোমরা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ? প্রত্যুত্তরে মৃতদের থেকে একজন বলে ওঠে—
-হে রুহুল্লাহ, আপনি বলুন। আমরা শুনতে পাচ্ছি।
-তোমরা কেমন আছ?
-আমরা রাতে শান্তি থেকে নিরাপদ থাকি। কিন্তু সকাল হলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হই।
-কারণ, আমরা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াকে বেশি ভালোবাসতাম। পাপ কাজের ক্ষেত্রেও মানুষের কথামতো চলতাম।
-দুনিয়ার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা কেমন ছিল?
-মায়ের প্রতি দুগ্ধপোষ্য সন্তানের ভালোবাসার মতো। সন্তান যেমন মাকে পেলে আনন্দিত হয়, আমরাও তেমন দুনিয়ার অর্থসম্পদ পেলে আনন্দিত হতাম। আবার কোনোোকিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে হতাশ ও পেরেশান হয়ে পড়তাম।
-তুমি একাই কেন সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছ? তোমার সাথিসঙ্গীরা কোথায়?
-তাদের মুখে আগুনের লাগাম পরানো হয়েছে। কঠোর হয়ে ফেরেশতারা সেই লাগাম টেনে ধরে রেখেছে।
-সবার এই করুণ অবস্থা হয়ে থাকলে, তুমি কথা বলছ কী করে?
-আমি দুনিয়াকে তাদের মতো ভালোবাসতাম না। তবে তাদের সাথে চলাফেরা করতাম। আমি এখন আরাফ, তথা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করছি। জানি না, আল্লাহ আমাকে এখান থেকে মুক্তি দেবেন, না কি জাহান্নামে ঠেলে দেবেন।'[১৯]
সুতরাং আমার প্রিয় ভাই-বোন! পৃথিবীকে এর বাস্তবতার সাথেই গ্রহণ করো। এটা একটা মোহ, তা তুমিও কিন্তু জানো; এবার অন্তত পুরোপুরি মেনে নাও।
পৃথিবী থেকে তুমি এবং আমি দুজনেই হারিয়ে যাব। যেতেই হবে। এখন হোক কিংবা কিছু মুহূর্ত পরে, কেউ আমাদের এই বিচ্ছেদে বাধা হতে পারবে না। কেউ তোমাকে আটকে রাখতে পারবে না। কিন্তু যেজন্য এখানে এসেছি, সেই উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ করছি, আর যা কিছু নিয়ে যেতে বলা হয়েছে, তার কতটা নিয়ে যেতে পারছি—সেটাই আসল ব্যাপার।
এজন্যই দীনকে তোমার জীবনের মূল উদ্দেশ্য এবং আল্লাহকে তোমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখো। তাঁর সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করেই তোমার জীবন সাজিয়ে গুছিয়ে নাও। আলিমগণ এর একটা একটা সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন।
তারা বলেন, দীন হলো সূর্য, আর তোমার ছায়া হলো পৃথিবী। তুমি যদি দীনকে অবজ্ঞা করে মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সূর্য তোমার পেছনে চলে যাবে; আর সূর্য পেছনে থাকলে ছায়া থাকবে সামনের দিকে।
ছায়া যেহেতু দুনিয়া, তাই তুমি এভাবে কখনোই দুনিয়াকে ধরতে পারবে না। যত দ্রুত ছায়াকে অর্থাৎ দুনিয়াকে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করো না কেন, তা সবসময় তোমার সামনেই এগিয়ে থাকবে।
সামনে থাকা ছায়াকে যেমন ধরা যায় না, দীন ছাড়া দুনিয়াকেও তুমি কখনও ছুঁয়ে দিতে পারবে না।
আর যদি তুমি দীনকে তোমার আদর্শ বা জীবনপন্থা হিসাবে গ্রহণ করে নাও, তা অনুসরণ করো, তাহলে সূর্য তোমার সামনে থাকবে। ফলে তোমার ছায়া হবে পেছনে। তখন ছায়ার মতোই দুনিয়া তোমাকে পাওয়ার জন্য ছুটবে, কিন্তু তুমি খুঁজবে তোমার রবের সন্তুষ্টি।
মূলকথা হলো, যখন তোমার জীবনের মূল উদ্দেশ্য হবে দীন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি, তখন বাকি পৃথিবী তোমাকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করতে থাকবে। তোমার কখনো দুনিয়া প্রয়োজন হলেও তুমি পেছনে থাকা ছায়ার মতোই দুনিয়ার থেকে সহজেই নিজের প্রয়োজন মেটাতে পারবে।
কিন্তু দীনকে নিজের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে মিথ্যা কল্পনার ঘোরে ডুবে থাকার ফলে শুধু আমরা নিজেরাই ধ্বংস হইনি; বরং ধ্বংস হয়েছে এই উম্মতও। মুসলমান আজকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আর মুসলমানকে মুছে ফেলতে পৃথিবীর সকল অপশক্তিরা এক হয়ে গেছে। তাকিয়ে দেখো, সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, কাশ্মির, পূর্ব তুর্কিস্তানের মুসলমানদের কী অবস্থা! তাকিয়ে দেখো, মা- বোনদের যন্ত্রণার চিত্রগুলো; বিস্ফোরণে হাত হারিয়ে ফেলা, টকটকে লাল গালে ক্ষতচিহ্ন আঁকা দু বছরের সোনামণিটার দিকে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা পিতামাতাহীন ছোট্ট ছেলেটার আসমান পানে শূন্যদৃষ্টিটা দেখো। যন্ত্রণা কাকে বলে, তুমি বুঝতে পারবে। কিন্তু কেন হয়েছে এসব, জানো?
এর উত্তর হলো একটি হাদিস। চলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর থেকে শুনে আসি মুসলমানদের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্র হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে কি এরূপ হবে? তিনি বললেন, তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে; কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর হতে তোমাদের আতঙ্ক দূর করে দেবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে ভীরুতা ভরে দেবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! "আল-ওয়াহান” কী? তিনি বললেন, দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।[২০]
আমাদের ভেতরের অন্তরটা আল্লাহর ভালোবাসার জন্য অনবরত কেঁদেই চলেছে। অপূর্ণতার যন্ত্রণা সইতে না-পেরে মৃত্যুর উপক্রম। কিন্তু তারপরেও আমরা তাকে দুনিয়ার ভালোবাসার দিকেই ঠেলে দিচ্ছি!
এভাবে আর থেকো না। তুমি অন্তত এবার একটু নিজেকে শুধরে নাও। পৃথিবীতে বাস করো, তবে পৃথিবীর হয়ে যেয়ো না। পৃথিবীর সুখ গ্রহণ করো, তবে তা যেন তোমার প্রয়োজন হয়; উদ্দেশ্য নয়।
হজরত লুকমান আলাইহিস সালাম তাঁর পুত্রকে দুনিয়ার ব্যাপারে নসিহত করে বলেন, 'প্রিয় বৎস আমার! দুনিয়া একটি গভীর সাগর। কূলকিনারাহীন। এই দুনিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই ডুবে মরেছে। সাগরের উচ্ছ্বসিত ঢেউ তাদের গ্রাস করে ফেলেছে। সুতরাং তুমি এই উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য আল্লাহর ভয়কে নৌকা বানাও। তাঁর প্রতি পরিপূর্ণ ইমানকে বইঠা বানাও এবং তাঁর প্রতি নির্ভরতাকে পাল বানাও। তবেই কেবল আশা করা যায়, তুমি নিরাপদে এই অকূল দরিয়া পার হতে পারবে। আর আমার মনে হয় না—নৌকা, বইঠা ও পাল ছাড়া তুমি এই অকূল দরিয়া পাড়ি দিয়ে ওপারে পৌঁছতে পারবে। তাই অকূল দরিয়া পাড়ি দেওয়ার আগে খুবই সতর্ক থেকো। নৌকা, বইঠা ও পাল ঠিক করে রেখো।’[২১]
তুমি যদি নিজের অন্তরের দুনিয়ার আসক্তি সমাধান করতে চাও, তাহলে এই চিঠি তোমার জন্য বেশ উপকারী হবে ইন-শা-আল্লাহ। ধরে নাও যেন তোমাকেই লেখা হয়েছে।
কুরাইশ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নিজের আত্মিক সমস্যার কথা জানিয়ে তার ভাইকে একটি পত্র লেখেন। সেখানে তিনি বলেন:
‘শ্রদ্ধেয় ভাই, আমি আজ আপনাকে আমার ব্যক্তিগত ও আত্মিক কিছু সমস্যার কথা জানাব। এই সমস্যাগুলো আমি মেনে নিতেও পারছি না, আবার এ থেকে উত্তরণের কোনো পথও পাচ্ছি না। আশা করছি, আপনি এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করবেন।
প্রিয় ভাই! মন সবসময় আরাম ও অবসর কামনা করে। আনন্দ-ফুর্তিতে লিপ্ত হওয়ার জন্য লালায়িত থাকে। ইবাদাত-বন্দেগিতে মোটেই আগ্রহ বোধ করে না; বরং এটাকে নিজের জন্য বড় ধরনের বোঝা মনে করে। আমি আমার মনকে অনেকভাবে বুঝিয়েছি, কিন্তু সে বুঝ মানেনি। আমি তাকে ভয়াবহ শাস্তির ভয় দেখিয়েছি, কিন্তু সে ভীত হয়ে অলসতা ও অবহেলা ঝেড়ে ফেলেনি। সর্বশেষ আমি তাকে মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী মর্মান্তিক কষ্টের কথা বলেছি, কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। কোনো উপায়েই আমি আত্মসংশোধন করতে পারিনি। তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। আপনি আমাকে নসিহত করুন। আত্মোন্নয়নে সাহায্য করুন। কারণ, ভয় হয়, এভাবে চলতে থাকলে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুর ঘাঁটি পাড়ি দিতে হবে।’
এরপর পত্র পেয়ে তার ভাই লিখে পাঠান—
'আমার খুব অবাক লাগে যখন দেখি, কোনো মানুষ দুনিয়ার প্রেমে মজে যায় এবং দুনিয়ায় চিরস্থায়ী হওয়ার অভিলাষ পোষণ করে। কারণ, সে নিজেও জানে, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দিন- রাত্রির পালাবদল আমাদের জীবনকে সংকুচিত করে ফেলছে। এমতাবস্থায় এই বৈরী দুনিয়ার সঙ্গে কীভাবে আমাদের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে? এমন অস্থায়ী জীবন কীভাবে আমাদের প্রিয় হতে পারে? মনে রেখো, এ জীবন দুদিনের, তাই জীবন ও দুনিয়ার মায়ায় জড়িয়ে নিজেকে ধোঁকা দিয়ো না।'
টিকাঃ
১৫. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন: ৩/২১৭।
১৬. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন: ৩/২১৭।
১৭. মাজমাউজ জাওয়ায়িদ: ১০/২৪৯, সনদ: সহিহ।
১৮. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/১১০।
১৯. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন: ৩/২২০।
২০. সুনানু আবি দাউদ: ৪২৯৭।
২১. সুনান বায়হাকি, কিতাবুয যুহদ: ১৩৯।
📄 পৃথিবীর সাথে নবিদের আচরণ
গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু গল্পটা যদি হয় নবি-রাসুলের, তাহলে তো আর কথাই নেই। কেননা নবি-রাসুলগণের গল্পে এমন সব শিক্ষা রয়েছে, পৃথিবীর এমন সব বাস্তবতা রয়েছে, যা অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। চলো এবার গল্পে গল্পে জেনে নেওয়া যাক, পৃথিবীর প্রকৃত চিত্র আর পৃথিবীর মূল বাস্তবতা।
আমাদের গল্পটা আল্লাহ তাআলার একজন সম্মানিত নবি হজরত ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার অনুসারীদের একটা যাত্রার। আমি চাই, তুমি এই গল্পটির একেবারে ভেতরে প্রবেশ করো। বিনোদনের সাথে এর শিক্ষাগুলোকেও একটু উপলব্ধির চেষ্টা করো।
একবার জনৈক ব্যক্তি হজরত ইসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে বললো, 'আমি আপনার সাথে কিছুদিন থাকতে চাই।' ইসা আলাইহিস সালাম বললেন, 'ঠিক আছে।' এরপর থেকে তার দুজন একসঙ্গে অবস্থান করতে লাগলেন। একদিন তারা সফরে বের হলেন। চলতে চলতে তারা একটি নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছলেন। ততক্ষণে ক্ষুধা ও ক্লান্তি তাদের পেয়ে বসেছে। ইসা আলাইহিস সালাম সঙ্গীকে খাবার বের করতে বললেন। তাদের সাথে তিনটি রুটি ছিল। তারা দুজনে দুটি রুটি খেয়ে একটি রুটি রেখে দিলেন। খাওয়ার পরে ইসা আলাইহিস সালাম নদীতে পানি পান করতে গেলেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন, রেখে যাওয়া রুটিটি নেই। ইসা আলাইহিস সালাম তখন সফরসঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ভাই, ওই রুটিটা কোথায়?' সে উত্তর দিলো, 'আমি জানি না।'
ইসা আলাইহিস সালাম কোনো মন্তব্য না-করে গন্তব্য অভিমুখে চলতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে যাওয়ার পর সুন্দর একটি হরিণ দেখতে পেলেন। হরিণের সাথে দুটি বাচ্চাও ছিল। ইসা আলাইহিস সালাম একটি হরিণের বাচ্চাকে
ডেকে জবাই করলেন। এরপরে হরিণের গোস্ত ভুনা করে দুজনে আহার করলেন। আহার শেষে হরিণের বাচ্চার হাড্ডিগুলো একত্রিত করে বললেন, 'হে হরিণশাবক, আল্লাহর হুকুমে তুমি জীবিত হয়ে যাও।' ব্যস, সাথে সাথে বাচ্চাটি জীবিত হয়ে তার মায়ের সাথে চলে গেল।
ঈসা আলাইহিস সালাম তখন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, 'আল্লাহর অলৌকিক ঘটনা তো তুমি নিজ চোখেই দেখলে, এবার বলো, ওই রুটিটি কে খেয়েছে।' কিন্তু এবারও সে পূর্বের মতো একই উত্তর দিলো। বললো, 'আমি জানি না।'
ঈসা আলাইহিস সালাম কথা না-বাড়িয়ে সঙ্গীকে নিয়ে আবারও সামনে চলতে লাগলেন। অনেকক্ষণ চলার পরে তারা একটি পানিভরা উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছলেন। ঈসা আলাইহিস সালাম লোকটির হাত ধরে পানির ওপর দিয়ে উপত্যকা পার হলেন।
এরপর পুনরায় লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'তুমি আল্লাহর মুজিযা দেখলে তো, আমি এই মুজিযার দোহাই দিয়ে বলছি, সত্যি করে বলো, ওই রুটিটি কে নিয়েছে?' লোকটি এবারও আগের উত্তরের পুনরাবৃত্তি করলো। বললো, 'আমি জানি না।'
তারা আবার সামনে চলতে শুরু করলেন। এবার তারা হাঁটতে হাঁটতে একটি জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছলেন। ঈসা আলাইহিস সালাম গহিন জঙ্গলের এক জায়গা থেকে এক মুঠো মাটি তুলে বললেন, 'হে মাটি, তুমি আল্লাহর হুকুমে স্বর্ণ হয়ে যাও।' তার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই হাতের মাটিগুলো স্বর্ণ হয়ে গেল। এবার ঈসা আলাইহিস সালাম স্বর্ণগুলোকে তিন ভাগ করে বললেন, 'এই স্বর্ণগুলোর এক ভাগ তোমার, এক ভাগ আমার, আর অন্য ভাগ যে তৃতীয় রুটিটি নিয়েছিল তার।'
এবার লোকটি আবেগের সুরে বললো, 'তৃতীয় রুটিটি তো আমি নিয়েছিলাম।' প্রত্যুত্তরে ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, 'তাহলে সব স্বর্ণ আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম।' এ কথা বলে তিনি লোকটিকে সেখানে একাকী রেখে অন্যত্র চলে গেলেন।
ঈসা আলাইহিস সালাম সেখান থেকে যেতে না যেতেই দুই জন লোক এসে সেখানে হাজির হলো। তারা এত স্বর্ণ দেখে লোভ সামলাতে পারল না। তাই স্বর্ণের মালিককে বললো, তোমার স্বর্ণ আমাকে দিয়ে দাও, অন্যথায় আমরা তোমাকে খুন করে ফেলব। মালিক তখন কৌশল খাটিয়ে বললো, খুনখারাবির দরকার নেই। এই স্বর্ণ আমরা তিনজনে সমানভাবে ভাগ করে নেব। তার এই প্রস্তাব ডাকাতদের মনে ধরল। তারা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল।
এরপর তারা খাবার কেনার জন্য একজনকে বাজারে পাঠাল। লোকটি বাজারে যেতে যেতে মনে মনে ভাবল, সমস্ত স্বর্ণ সে একাই নেবে। তাই সে ফন্দি করে খাবারে বিষ মিশিয়ে নিয়ে গেল।
ওদিকে অপর দুইজন ভাবল, আমরা একটি অংশ শুধুশুধু অন্য একজনকে কেন দিতে যাব? এর চেয়ে বরং লোকটি বাজার থেকে ফেরামাত্রই আমরা তাকে হত্যা করে ফেলব এবং সমস্ত স্বর্ণ দুভাগে ভাগ করে নিয়ে নেব।
ব্যস, যেই কথা, সেই কাজ। লোকটি খাবার নিয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। এরপর তারা মনের সুখে খাবার খেতে বসল। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেল এবং ধীরে ধীরে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এভাবে তারা তিনজনই মারা পড়ল।
ইসা আলাইহিস সালাম সফর থেকে ফেরার পথে তাদের এই অবস্থা দেখে স্বগতোক্তির মতো করে মন্তব্য করলেন, 'এটাই হলো দুনিয়া, যার লোভে পতিত হয়ে কত মানুষ নিজের জীবন ধ্বংস করে দেয়।'[২২]
দেখলে তো, লোভ মানুষকে কীভাবে ধ্বংস করে?
প্রথমবার সেই ব্যক্তি রুটি খেয়ে ফেলেছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ভুল সংশোধন না করে সে মিথ্যার আশ্রয় নিতে থাকে। ফলে শেষমেষ সেই মিথ্যা তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং তার মৃত্যু ঘটে।
আমরাও একই কাজটি করি। প্রথমবার ভুল করেও তা শোধরাতে চেষ্টা না-করে নতুন করে আরেকটা ভুল করে ফেলি। ফলে পাপ থেকে বিরত না-থেকে আমরা পাপের আরও গভীরে ডুবে যাই। আর স্বর্ণের লোভ কীভাবে তাদের তিন জনকে ধ্বংস করলো, দেখলে তো? দিনশেষে সব সম্পদ ধুলোয় মিশে গেল, আর তারা পড়ে রইল লাশ হয়ে!
এটাই তো পৃথিবীর বাস্তবতা, এটাই তো পৃথিবীর প্রকৃত চিত্র। এর সম্পদ মানুষকে অন্ধ করে দেয়, এই সম্পদ মানুষের নিজেকেই ভুলিয়ে রাখে, এই সম্পদ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তুমি পৃথিবীর যা কিছু আর যত কিছুই অর্জন করো না কেন, দিনশেষে সবটা ফেলে রেখে একদম শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হবে।
একবার পৃথিবীর কোনো এক ক্ষমতাবান রাজা (আলেকজান্ডার) মৃত্যুর পূর্বে তার সৈন্যদের বললেন, 'তোমরা আমাকে উলঙ্গ অবস্থায় দাফন করবে। আর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় আমার হাতদুটো বের করে রাখবে।'
তারা বিস্মিত হয়ে বললো, 'হাত কেন বাইরে রাখব?'
তিনি বললেন, 'যাতে সকলে বুঝতে পারে, এত মহান রাজা পৃথিবী থেকে কিছুই নিয়ে যেতে পারেনি!'
দুই সপ্তাহ আগে আমি আমার দাদাকে দাফন করেছি। তার বয়স আনুমানিক ১০৫ এর মতো হবে। তিনি অনেক পরিশ্রমী ছিলেন। সম্পদও বেশ সঞ্চয় করেছেন। তবে পুরোনো দিনের মানুষ হওয়ায় কাউকে তেমন একটা বিশ্বাস করতেন না। তাই নিজের টাকাগুলোকে কাঠের বাক্সের মধ্যে জমা করে সেই বাক্সগুলো লুকিয়ে রাখতেন। এই বাক্স কোথায় আছে, তিনি ছাড়া আর কেউই জানত না।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটা সময়ে তিনি নিজের স্বাভাবিক স্মরণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এখন আর কেউই জানে না, সেই টাকাভরতি বাক্সগুলো কোথায়। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও বলতে পারতেন না। তাহলে কী লাভ হলো তার এই সম্পদের?!
তুমি যদি বলো, সম্পদ থাকলেও আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানি। তাহলে জেনে রাখো, শয়তানের ষড়যন্ত্র তোমার নিয়ন্ত্রণক্ষমতার থেকেও বেশি শক্তিশালী। আর তুমি যদি বলো, আমার সম্পদের প্রতি অতটা আগ্রহ নেই। তবে এটাও তোমার ভুল ধারণা। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা সম্পদের ব্যাপারে স্বয়ং বলেছেন,
وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا. 'আর তোমরা ধনসম্পদকে অতিশয় ভালোবাসো।' [২৩]
তুমি প্রকাশ করো বা না করো, সম্পদকে তুমি ভালোবাসো। মানুষকে পরীক্ষা করতে মহান আল্লাহ মানুষের অন্তরে পৃথিবীর প্রতি দুর্বলতা দিয়েছেন। তবে যে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে, সম্পদ যাকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, সম্পদকে যে নিজের রব বানিয়ে ফেলবে না-সে-ই প্রকৃত সফলকাম।
মহান আল্লাহ এই আকাশ আর জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই দুনিয়ার বাস্তবতা আর মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে সবচাইতে বেশি জানেন। তাই তো দুনিয়ার জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে তিনি বলেন,
اِعْلَمُوْا أَنَّمَا الْحَيٰوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَّلَهْوٌ وَّزِيْنَةٌ وَّتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِى الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَبٰهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُوْنُ حُطَامًا وَّفِى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيْدٌ وَّمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَرِضْوَانٌ وَّمَا الْحَيٰوةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ.
'তোমরা জেনে রাখো যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়াকৌতুক, শোভাসৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হলো বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়; তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়কুটায় পরিণত হয়। আর আখিরাতে আছে কঠিন আজাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি; দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।'[২৪]
একবার ইবনু সিমাক রাহিমাহুল্লাহ এলেন খলিফা হারুনুর রশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। হারুনুর রশিদের পিপাসা পেল। তিনি পানি আনালেন এবং তা পান করতে থাকলেন।
ইবনু সিমাক বললেন, আমিরুল মুমিনিন, একটু থামুন। একটু ভেবেচিন্তে বলুন তো, এই অবস্থায় যদি আপনি পানি না পান, তা পাওয়ার জন্য আপনি কি কিছু দেবেন?
হারুন বললেন, অর্ধেক সালতানাত।
ইবনু সিমাক বললেন, যদি এই পানি পান করার পর তা বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় (প্রস্রাবের পথ), তাহলে এই সমস্যার সমাধানের জন্য আপনি কী করবেন?
হারুন বললেন, বাকি অর্ধেক সালতানাত দিয়ে দেবো।
এই কথা শুনে ইবনু সিমাক রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
সুতরাং যে সালতানাতের মূল্য এক পেয়ালা পানির সমপরিমাণ, সেটার এমন যোগ্যতা কোথায়, যার প্রতি লোভ করা যায়।
এই কথা শুনে বাদশা হারুন কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে গেলেন।"
টিকাঃ
২২. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৪২।
২৩. সুরা আল-ফজর ৮৯: ২০।
২৪. সুরা আল-হাদিদ ৫৭: ২০।
📄 পৃথিবীকে তার প্রাপ্য গুরুত্বের বেশি দিয়ো না
আমি দুনিয়াকে ঘৃণা করতে বলছি না। তবে দুনিয়া যে-রকম তাকে ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করো। অর্থাৎ ক্ষণিকের দুনিয়াতে ক্ষণিকের পথচারী হয়ে থাকো। নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, চাহিদা, কামনা-বাসনাকে সামান্য সময়ের জন্য যেভাবে প্রয়োজন সেভাবেই সাজাও। এর অতিরিক্ত চাইতে যেয়ো না, এর অতিরিক্ত ভাবতেও যেয়ো না; নতুবা এটা তোমাকে তোমার উদ্দেশ্য থেকে নিজের ভেতরে গ্রাস করে নেবে।
পৃথিবীর এই ব্যস্ততা তার ধ্বংসের দিন পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুধু এতে তোমার আর আমার কোনো অংশ থাকবে না। আমরা হারিয়ে যাচ্ছি রোজ, আমরা চিরতরেই হারিয়ে যাব। নির্দিষ্ট একটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এরপরেই পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু তুমি তো এরপরেও পৃথিবীকেও নিজ গন্তব্য মনে করছ, নাহলে অনবরত এই ছুটে চলা কীসের?
দৈনিক ১৩-১৪ ঘণ্টার হাড়ভাঙা পরিশ্রম শুধু আরেকটু বেশি অর্থ জমানোর আশায়। অথচ আমাদের জন্য তো সামান্য বেঁচে থাকার মতো উপকরণ হলেই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু উচ্চ প্রত্যাশা আমাদের চোখে কাঠের চশমা পরিয়ে রেখেছে। মানবতা আর মনুষ্যত্ব হারিয়ে আমরা কেবল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এক ইলাহের ইবাদত পরিত্যাগ করে ঠুনকো কাগজের আনুগত্য করে যাচ্ছি।
আমার কথা বিশ্বাস না হলে ফজরের সময় যে-কোনো মসজিদে যাও। দেখো ফজরের জামায়াতে মুসল্লিদের অবস্থা কি! দেখো, কয়জন তাদের প্রেমময়ী দুনিয়ার উষ্ণ কোল ছেড়ে আল্লাহর দাসত্বকে বেছে নিয়েছে।
মুখে মুখে সকলেই স্বীকার করে যে, আল্লাহ প্রকৃত রিজিকদাতা, আল্লাহ তাআলাই মানুষের জীবন এবং মৃত্যু নির্ধারণ করেন। কিন্তু দিনের বেলা আল্লাহকে প্রতিপালক হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ফজরের সময় সে নাক ডেকে ঘুমিয়ে থাকে। আজান কানে এলে, কানে বালিশ চেপে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সকাল ৬টা বাজার সাথে সাথেই সে তার সমস্ত সুখ ফেলে বিছানা থেকে জাগ্রত হয়। সিগারেট জ্বালিয়ে হাঁটতে বের হয়। কেউ অফিসের কাজে বেরিয়ে যায়। তার গন্তব্যের বাস যদি রাত ৩টায় ছাড়ে, তবুও সে নিজের সমস্ত ঘুম আর কাজ ছেড়ে ১টা বাজার পূর্বেই বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে যায়। কারও এই আচরণ থেকে কী বোঝা যায়? সে কি আল্লাহকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে না কি দুনিয়াকে?
আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি, যারা সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করে, দিনে বারো ঘণ্টা। দীনের জন্য তার কোনো সময় নেই, সালাতের জন্য তার কোনো সময় নেই। দীনের কথা বললেই সবসময় 'আমি ব্যস্ত, আমি ব্যস্ত আর আমি ব্যস্ত'। কিন্তু কেন এত ব্যস্ততা?
আলহামদুলিল্লাহ, তোমার তো থাকার জন্য ঘর আছে। বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট খাবার আছে। কিন্তু তবুও তুমি নিজের জন্য সম্পদ জমিয়েই সন্তুষ্ট নও কেন?
এখন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি সম্পদ প্রয়োজন, আরও ভালো ঘর বানিয়ে রেখে যেতে হবে। যেন সন্তান তার চাইতে আরেকটু বেশি দুনিয়াকে ভোগ করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তো তোমার থেকে এসব চান না। তবুও যদি তুমি আল্লাহর চাওয়ার বিপরীতে যাও, তখন কী হবে জানো?
তোমার সন্তানের জন্য রেখে যাওয়া সম্পদ, ঘরবাড়ি তোমার পরিবারকে ধ্বংস করে দেবে। আমি এমন পরিবারের কথা জানি, যেখানে বাড়িসংক্রান্ত সমস্যা নিয়েই ২০ বছর ধরে এক ভাই আরেক ভাইয়ের সাথে কোনো কথা বলেনি। মানুষ তো নিজেকেই পৃথিবীতে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে পারে না, সেখানে কীভাবে সে অর্থসম্পদ ধরে রাখার কল্পনা করতে পারে!
এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় হলো, পরস্পরের মাঝে দুনিয়ার বাস্তবতা নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করা। দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা কমানোর জন্য দুনিয়াবিমুখ আলিমদের মজলিসে বসা। প্রজ্ঞার সাথে নিজের চিন্তা-চেতনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলতে চেষ্টা করা। পুরোপুরি দুনিয়া ছেড়ে দিতে কেউ বলছে না। তবে যতটুকু প্রয়োজন তার জন্য প্রচেষ্টা করতে থাকো। অধিক আশা করা থেকে বিরত থাকো।
একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন, আমার কথার ভুল বিশ্লেষণ করে অনেকে ভাবতে পারো, দীন অনুসরণ করতে হলে দুনিয়াকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।
আসলে ব্যাপারটা ঠিক তা নয়, দুনিয়াকে ছেড়ে দিলে তুমি আখিরাতের পাথেয় জমাবে কীভাবে?
দুনিয়াতে থেকেই, দুনিয়ার উপকরণ গ্রহণ করেই তোমাকে আখিরাতের জন্য পাথেয় জমাতে হবে। আরও সহজ ভাষায় বললে, তোমার শরীর থাকবে দুনিয়াতে, কিন্তু তোমার অন্তর থাকবে আল্লাহর কাছে। যেমন:
* তুমি স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে যাচ্ছ, যাও। কিন্তু হাত পা চালিয়ে এগিয়ে যাও; অন্তরে আল্লাহর স্মরণ জীবন্ত রাখো। সেখানে গিয়ে যাতে তুমি কোনো পাপকর্মে লিপ্ত না হও, সেদিকে লক্ষ রাখো, তোমার চোখ সংযত রাখো。
* অফিসে যাচ্ছ, যাও। কিন্তু শরীরকে রিকশা বা গাড়ির ওপর রাখো; অন্তরে আল্লাহর স্মরণ করো। তোমাকে দিয়ে যেন কোনো খেয়ানত না হয়, তার খেয়াল রাখো。
* ব্যবসা করছ, করো। কিন্তু কাউকে যেন ধোঁকা না দাও, খেয়াল রাখো。
এই যে খেয়াল রাখাটা, এই যে অন্তরে অন্তরে আল্লাহকে প্রাধান্য দেওয়াটা— এটাই তোমার আখিরাত, এটাই হলো দীন। ইসলাম কাউকে বলেনি, সবকিছু ছেড়ে জঙ্গলে যাও। এই বৈরাগ্যবাদকে শরিয়ত হারাম করে দিয়েছে।
সুতরাং আমি তোমাকে বাহ্যিক দিক থেকে দুনিয়াবিমুখ করতে চাচ্ছি না। আমি চাই তুমি অন্তরের দিক থেকে দুনিয়াবিমুখ হও। কেননা আসক্তি অন্তর থেকে হয়; শরীর দিয়ে নয়। এই আলোচনা দ্বারা অন্তরের আসক্তি দূর করাই আমার মূল উদ্দেশ্য; বাহ্যিক কাজকর্ম থেকে তোমাকে সরিয়ে দেওয়া নয়।
আর আমাদের প্রিয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই আমাদের দুনিয়াকে ঘৃণা করা শেখাননি; বরং এর প্রকৃত বাস্তবতা বুঝিয়ে তিনি আমাদের দুনিয়ার প্রতি অন্তর পুরোপুরি ঝুঁকে যাওয়া থেকে সতর্ক করেছেন। কীভাবে উত্তম বিষয়গুলো গ্রহণ এবং অনর্থক কর্ম বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তিনি আমাদের তা শিখিয়ে দিয়েছেন। যেমন, একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'অবশ্যই তুমি তোমার পরিবারকে (মোটামুটি) সচ্ছল বানিয়ে যাও, যা তাদের জন্য মানুষের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে উত্তম।'[২৬]
এ ছাড়া আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি,
'দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুই অভিশপ্ত। কিন্তু আল্লাহ তাআলার জিকির এবং তার সাথে সংগতিপূর্ণ অন্যান্য আমল, আলিম ও ইলম অন্বেষণকারী এর ব্যতিক্রম।' [২৭]
সুতরাং দুনিয়াকে কেবল তোমার প্রয়োজন বানাও; প্রিয়জন নয়।
হাসান আল-বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
'হে যুবকেরা! তোমরা অবশ্যই আখিরাত অর্জনে মনোযোগী হও। তোমরা এটাই মনেপ্রাণে কামনা করো। কেননা আমরা দেখেছি, যারা আখিরাত কামনা করেছে, তার অধিকাংশই আখিরাতের সাথে সাথে দুনিয়াও পেয়ে গেছে। তবে এমন কাউকে দেখিনি, যে দুনিয়া কামনা করেছে আর তার সাথে আখিরাতও পেয়েছে।' [২৮]
টিকাঃ
২৫. তারিখে তাবারি: ৮/৩৫৭১।
২৬. সহিহুল বুখারি: ১২৯০; সহিহ মুসলিম: ১৬২৮।
২৭. সুনানুত তিরমিজি: ২৩২২; সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪১১২।
২৮. সুনানুল বায়হাকি, কিতাবুয যুহদ: ১২।