📄 জীবনের প্রয়োজন
আমাদের সমাজের কিছু মানুষ আছে, যারা খুব বেশি সুখীও নয়, আবার খুব বেশি দুঃখও তাদের নেই। চরিত্রের দিক থেকে খুব বেশি ভালোও নয়, আবার খুব বেশি মন্দও নয়। খুব বেশি ধার্মিকও নয়, আবার ধর্মকে অধিক গুরুত্ব দেন, তাও নয়। পার্থিব বিষয়-আশয়কে কেন্দ্র করেই মূলত তাদের সমস্ত জীবন পরিচালিত হয়। পরকাল তাদের কাছে 'যখন হবে তখন দেখা যাবে'-এর মতন সামান্য একটা বিষয়। নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছুকেই তারা গুরুত্ব দেয় না, আর কিছুই বুঝতে চায় না, আর কিছুই শুনতে চায় না, স্বার্থে আঘাত লাগে এমন কিছু বিশ্বাসও করতে চায় না। আমাদের সমাজে এই মানুষগুলোকেই স্বাভাবিক-সুন্দর-'সফল জীবনের অধিকারী বলা হয়ে থাকে। তুমিও নিশ্চয়ই এটাই বিশ্বাস করো। এর জন্যই তোমার সব ব্যস্ততা, চিন্তা, আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন, হতাশা। সবকিছু পার্থিব বৈষয়িক অর্জনকে ঘিরেই আবর্তিত। সুখের জন্যই সব ব্যস্ততা。
আচ্ছা, তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, উদ্যোক্তা— কোনটা? তুমি এর যে-কোনো একটা হয়তো বলবে।
আমি ধরে নিলাম, তুমি ভালোভাবে পড়াশোনা করে একজন সফল ব্যবসায়ী হলে, কিংবা সরকারি মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলে বা সফল উদ্যোক্তা হলে। তারপর? তোমার উদ্দেশ্য তো পূরণ হলো তাই না, এখন আর কী চাও?
এবার হয়তো বলবে, ভালো ক্যারিয়ার দরকার। এখনো সব ঠিকমতো গুছিয়ে নিতে পারলাম না। আচ্ছা নাও, গুছিয়ে নাও। তোমার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া শেষ? এখন তো তোমার একটা উন্নত ক্যারিয়ারও আছে। তারপর?
তুমি এবার হয়তো বলবে, আমার একটা ভালো বাড়ি নেই। একটা ভালো বাড়ি দরকার। ঠিক আছে, বানাও বাড়ি। ধরে নিলাম, তোমার বাড়ির সমস্যাও শেষ। তারপর?
স্ত্রী প্রয়োজন, তাই তো? ঠিক আছে। তোমার উন্নত ক্যারিয়ার দেখিয়ে একটা সুন্দরী নারীকে তুমি বিবাহ করে ফেলেছ। তারপর?
ও হ্যাঁ! তুমি তো এখন বাবা। তোমার সন্তান হয়েছে। তার দায়িত্ব আছে। আচ্ছা, তারপর?
এখন তোমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বলবে তো? ধরে নিলাম, তোমার সন্তানও তোমার মতো শিক্ষা অর্জন করে ভালো ক্যারিয়ার পেয়ে গেল। তারপর? এবার কী বলবে?
সন্তানের বিবাহের বিষয়টা তো এখনও বাকি। আচ্ছা ধরে নাও, তোমার সন্তানের বিবাহের কাজটাও তুমি ঠিকঠাকমতো সম্পন্ন করে ফেলেছ। কিন্তু তারপর কী? তারপর আর কী করতে চাইবে?
কীভাবে ক্যারিয়ার, স্ত্রী, সন্তান, সম্পদকে তুমি নিজের উদ্দেশ্য বানিয়ে রেখেছ— দেখলে? আর এই উপর্যুপরি পৌনঃপুনিক চাহিদার তোড়ে একটার পর একটা উদ্দেশ্য পূরণ করতে গিয়ে কখন যে তুমি জীবন-সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছ, বেলা ডুবে গেছে—টেরই পাওনি!
জীবন হলো পথ, আর তুমি হলে পথিক। জীবন বয়ে চলে, তাকে থামিয়ে রাখা যায় না। তোমাকে হেঁটে যেতেই হবে, থামানো যায় না। সময়ের ধাক্কায় জীবনের চাকার সাথে তোমাকে চলমান থাকতে হয়। তুমি কখনো শৈশবে আটকে থাকতে পারবে না, সময়ই তোমাকে তারুণ্যে পৌঁছে দেবে। আবার তরুণ অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। সময় তোমাকে ঠেলে বার্ধক্যে নিয়ে যাবে। বৃদ্ধ হয়েও।
দীর্ঘক্ষণ পৃথিবীতে বসে থাকার তোমার সুযোগ নেই। বেজে ওঠে বিদায়ঘণ্টা। এবার সময় আর তোমাকে ঠেলবে দেবে না; বরং পরকালের দরজা দিয়ে ধাক্কা মেরে পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চ থেকে বের করে দেবে। আর এরপরেই তোমার মূল গন্তব্য। এরপর আর কোনো তাড়া নেই, শুধুই অপেক্ষা—এক নিঃসীম অপেক্ষা।
আজ তুমি এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। আমি যদি বলি, এরপর কী? আর কোথায় যাবে, আর কী করবে? আর কোন নতুন উদ্দেশ্যের কথা বলবে?
ভেবে দেখো, এরপর জীবন তোমাকে কোথায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। নিজের সব সময় তুমি পেরিয়ে এসেছ। পৃথিবীকে উপভোগের সাধ্য থাকলেও শরীরে শক্তি নেই। সম্পদের দিক থেকে সক্ষম হলেও তোমার কাছে আর সময় নেই। শুয়ে শুয়ে মৃত্যুর ফেরেশতার জন্য প্রতীক্ষা। কিন্তু যখন এই শুয়ে থাকারও সমাপ্তি ঘটবে? মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাকে নিয়ে চলে যাবে, তারপর কী? তখন কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? আর কী করবে সেখানে গিয়ে?
জানি, এরপরের কথাগুলো তুমি ভাবতে চাইবে না। কেননা তুমিও জানো, এরপর তোমাকে যেখানে নিয়ে যাওয়া হবে, তুমি সেখানকার জন্য কিছুই করোনি। সেখানে বাড়ি করোনি, মহল বানাওনি, সাজাওনি। যেখানে সাজিয়েছ, সেখানটা ছেড়ে তোমাকে চলে যেতে হচ্ছে। তুমি জানো, তুমি কখনও তোমার জীবনের উদ্দেশ্যই খুঁজে দেখোনি। লক্ষ্যে পৌঁছোতে যেসব উপকরণ দেওয়া হয়েছিল, তুমি একের পর এক এসব উপকরণকেই ‘লক্ষ্য’ বানিয়েছ। জীবনের আলাদা আলাদা অংশগুলোকেই তুমি ‘গোটা জীবন’ মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়েছ সর্বশক্তিতে বারবার।
অথচ তুমি ভালোভাবে পড়াশোনা না করলেও শেষমেশ যে-কোনো একটা কলেজে পড়ার সুযোগ পেতে। শেষমেশ যে-কোনো একটা কর্ম তোমার জুটেই যেত। একটা স্ত্রী ঠিকই তোমার হতো। সন্তানও জন্ম নিত। তাকেও কোনোভাবে গড়ে তুলতে পারতে। হয়তো এ-রকম জীবনে কষ্ট বেশি থাকত, একটু ভোগান্তি বেশি হতো। তবে তুমি যে বিষয়গুলোর পেছনে সমস্ত জীবন ক্ষয় করে ফেলেছ, তা তোমাকে দেওয়া হতোই।
এসব বলে তোমাকে নিরুৎসাহিত করছি না; বরং আমি বোঝাতে চাইছি, তোমাকে যদি ৭০ বছরের একটা জীবন দেওয়া হয়, তবে তার মধ্যে যে বিষয়গুলো অর্জন করাকে তুমি উদ্দেশ্য বানিয়ে রেখেছ, তা প্রত্যেক মানুষকেই দেওয়া হবে। আর তুমিও তার বাইরে নও। এসব কেবল মানুষের জীবনের বিভিন্ন অংশ মাত্র, তোমাকে বাঁচিয়ে রাখার সামান্য উপকরণ মাত্র; এগুলো কখনোই তোমার ‘প্রকৃত জীবন’ বা ‘জীবনের উদ্দেশ্য’ নয়।
পৃথিবীতে তোমার জন্য যা কিছু রাখা হয়েছে, তা কেউ তোমার থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। আর যা তোমাকে দেওয়া হবে না, তুমি হাজার চেষ্টা করলেও তা অর্জন করতে সক্ষম নও। প্রচেষ্টার মাধ্যমে 'জীবনোপকরণের ধরন' আর 'বাহ্যিক অবস্থার সামান্য কিছুটা উন্নতি' ঘটানো ব্যতীত তুমি আর কিছুই করতে পারবে না।
এ ছাড়া তুমি যদি জীবনের কোনো নির্দিষ্ট অংশ যেমন: পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, সংসার বা দায়িত্বকে তোমার সমস্ত জীবনের মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলো, তবে তোমার প্রচেষ্টার পর একটা সময় হয়তো তা পূরণ হয়ে যাবে। তুমি সারাজীবন যা পেতে চেয়েছিলে, তা অর্জন করে ফেলবে। তোমার উদ্দেশ্য পৃথিবীতেই পূরণ হয়ে যাবে। ফলে কী হবে জানো? তুমি বেঁচে থাকার আর কোনো কারণ খুঁজে পাবে না। জীবনের অন্যান্য অংশগুলোকে গুরুত্ব দিতে ভুলে যাবে।
তোমার উদ্দেশ্য যদি শিক্ষা হয়, তুমি শিক্ষার জন্য পরিবারকে গুরুত্ব দিতে পারবে না। তোমার উদ্দেশ্য যদি ক্যারিয়ার হয়, তুমি নিজেকে গুরুত্ব দিতে পারবে না। তোমার উদ্দেশ্য যদি পরিবার হয়, তুমি অন্য কিছুতে সময় ব্যয় করতে চাইবে না। সবকিছু স্বাভাবিক থেকেও তোমার কাছে এলোমেলো মনে হবে। কেননা তুমি জীবনের নির্দিষ্ট একটা অংশকে তোমার উদ্দেশ্য বানিয়ে রেখেছ, যা কখনোই তোমার উদ্দেশ্য হওয়ার যোগ্য নয়। ফলে তোমার জীবনে নেমে আসবে দুর্দশা-অপ্রাপ্তি-অস্থিরতা। মহাবিশ্বের বিশাল এই সৃষ্টির মাঝে 'এতটা গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি' মানুষের জীবনের 'মূল উদ্দেশ্য' কি কখনো স্রেফ উচ্চশিক্ষা বা কতগুলো সার্টিফিকেট হতে পারে? ক্যারিয়ার, স্ত্রী, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, বাড়ি বা বিলাসবহুল জীবন কি মানুষের 'উদ্দেশ্য' হতে পারে?
সুতরাং একটা বিষয় পরিষ্কার, জাগতিক কোনো বিষয় মানুষের উদ্দেশ্য হতে পারে না। কেননা তা এই ক্ষণস্থায়ী জীবনেই অর্জন করা সম্ভব। অর্জিত হয়ে গেলে মানুষ উদ্দেশ্যহীনতার যন্ত্রণা সইতে থাকে। সুতরাং মানুষের জীবনে এমন কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিত, যা এই জীবনে অর্জন করা সম্ভব নয় এবং যাতে পৌঁছানোর জন্য মানুষকে তার জীবনের প্রতিটি অংশকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এ-রকম উদ্দেশ্য কী আছে? হ্যাঁ, অবশ্যই। যার পথ হলো ইসলাম, যার গন্তব্য পৃথিবীতে নেই, ফলে অর্জন করাও সম্ভব নয়, এবং যেখানে পৌঁছাতে হলে মানুষকে তার জীবনের প্রত্যেক অংশকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে-সেই উদ্দেশ্য হলো জান্নাত।
সুতরাং আজ যারা জীবনের অংশগুলোকে 'উদ্দেশ্য' বানিয়ে রেখে স্বাভাবিক জীবনের পুরো সুখ পেতে চায়, তারা কখনোই সুখী হয় না। তবে অনেকে উদ্দেশ্যহীন জীবন অতিবাহিত করা সত্ত্বেও নিজের উদ্দেশ্যহীনতা মেনে নিতে অস্বীকার করে। তারা নিজের জীবনের সুখের অংশগুলো তুলে ধরে বলে, 'আমি তো ভালোই আছি। আমার কাছে সবকিছুই আছে। আমি কারও ক্ষতি করি না'।
কিন্তু সত্যিই তুমি ভালো নেই। তুমি ভালো থাকতে পারো না। কেননা স্রষ্টার আনুগত্যের পথ ব্যতীত কেউই পূর্ণাঙ্গ সুখী হতে পারবে না। তিনি বলে দিয়েছেন,
وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا.
'আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন।'১৪
যে জীবনে আল্লাহর আনুগত্য থাকে না, সে জীবন অতিবাহিত করে কেউ যতই নিজেকে সুখী আর স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী বলুক না কেন, সে মূলত সুখী নয়। আর তার জীবনও স্বাভাবিক নয়। যাকে স্বয়ং রব্বুল আলামিন সংকুচিত বা দুর্দশাগ্রস্ত জীবন দিতে চেয়েছেন, সে কীভাবে নিজ থেকে সুখী হতে পারে? নিজের অস্তিত্ব, নিজের উদ্দেশ্য, নিজের পরিণতি ও গন্তব্য না জেনে কীভাবে সে পথিক মনে শান্তি পেতে পারে?
মানুষ জন্ম থেকেই নিজের ভেতরে একটা শূন্যতা বা অপূর্ণতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। একটা অপার্থিব চাহিদা সে অনুভব করে প্রতিনিয়ত। এই শূন্যতা জাগতিক কিছুর জন্য নয়; বরং মানুষের 'ভেতরের পবিত্র সত্তা'-র সাথে তার সৃষ্টিকর্তার সংযোগের এক তাড়না থেকে এই শূন্যতার জন্ম।
পৃথিবীতে ঘুমন্ত অবস্থাতে যেভাবে তোমার অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনই এই দেহে প্রবেশের পর থেকে তোমার রুহের প্রয়োজন হয় তার স্রষ্টার ভালোবাসা এবং নৈকট্যের। তাই তো তুমি চোখ বন্ধ করলে সে তার স্রষ্টার ভালোবাসার পরশ পেতে দেহের খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু দুনিয়ায় এসে মানুষের অবাধ্যতা আর অহংকারের কারণে কিংবা পরীক্ষার বিভিন্ন স্তরে স্রষ্টার সাথে সেই সত্তার দূরত্ব বেড়ে যায়। তার ভেতরে তৈরি হয় অসীম এক অপূর্ণতা, যা বস্তুগত কিছু দিয়ে মেটে না-স্রষ্টার সাথে সংযোগের অভাব।
পূর্ণতা হলো সেই অনুভূতি, যা অন্তরে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের শূন্যস্থান পূরণ করে দেয়। ফলে তার অন্তরে সেই বিষয়ের প্রতি আর কোনো অভাব জাগে না। এই পূর্ণতা নানা রকম হতে পারে, যেমন: সঙ্গীর পূর্ণতা, সম্পদের পূর্ণতা, মানুষিক চাহিদার পূর্ণতা, ইচ্ছার পূর্ণতা ইত্যাদি।
তবে মানুষের জন্য সবচাইতে বড় অভাব বা পূর্ণতা হলো—তার স্রষ্টা। দৈহিক চাহিদাগুলো পৃথিবীর উপকরণ দিয়েই পূরণ হয়; কিন্তু মানুষের শরীরের ভেতরে যে সত্তা অবস্থান করে, তা শরীরের কোনো অংশের সাথে যুক্ত থাকে না। ফলে জাগতিক কোনো উপায় বা উপকরণ তার মধ্যে প্রবেশ করানো সম্ভব হয় না। জাগতিক কোনো সুখ দিয়ে তাকে সুখী করা যায় না। তার জন্য দরকার হয় এমন সুখ, যা শরীর ভেদ করে তার ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম। আর বাস্তবতা হলো, এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তাআলার রহমত এবং তাঁর কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু শরীর ভেদ করে মানুষের ভেতরের সত্তা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। তাই মানুষের সবচাইতে বড় এই শূন্যতাকে পূর্ণ করতে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
তোমার দৈহিক সত্তার সমস্ত ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজন পূরণ করা সত্ত্বেও যদি তুমি আত্মার প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হও—তবে তুমি পূর্ণ হতে পারবে না। অর্থাৎ পৃথিবীতে থেকেও মানুষের জন্য নির্ধারিত সুখের পুরোটা লাভ করতে পারবে না।
কিন্তু যদি তোমার অন্তরে শুধু স্রষ্টার পূর্ণতা থাকে, তাহলে বাকি সবদিক থেকে পুরোপুরি শূন্য হলেও তোমার নিজেকে পূর্ণ মনে হবে।
পৃথিবীতে মানুষের অসুখী হওয়ার মূল কারণ হলো, সে নিজেকেই এখনও চেনে না, জানে না। নিজের ভেতরের সত্তা আর বাইরের সত্তার মধ্যকার পার্থক্যটা সে বোঝে না। ফলে বাইরের মতোই ভেতরের শূন্যতা পূরণে সে জাগতিক উপায়, উপকরণ প্রয়োগ করে সুখী হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর কোনোকিছুই তার শরীর ভেদ করে মূল সত্তা পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে সে নিজেকে আবিষ্কার করে অসীম শূন্যতায়। এভাবে যৌবন ক্ষয়ে বার্ধক্য চলে আসে, তবুও তার শূন্যতা পূরণ হয় না।
তারপর বলো, তোমার এই উদ্দেশ্যহীনতা আর কত দিন? অন্তরে এই শূন্যতা নিয়ে আর কত দিন যন্ত্রণা পোহাবে, বলো?
তোমার একটা উদ্দেশ্য প্রয়োজন, তোমার ইসলাম প্রয়োজন, তোমার ভেতরে পূর্ণতা প্রয়োজন, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। আর এজন্যই তোমাকে ফিরতে হবে।
এত দিন অনেক দিকেই তো ছুটলে, অনেক কিছুই তো ভাবা হলো, অনেক কর্ম তো করা হলো, অনেক দিন তো যন্ত্রণা পোহালে, অনেকবার তো ব্যর্থ হলে; এবার একটিবার নিজের রবের পথে চলো, তাঁর কথা ভেবে দেখো, তাঁর ইবাদত করো, তাঁর ভালোবাসা দিয়ে অন্তরকে পূর্ণতা দাও। এবার অন্তত সফল হও। আর কত?
টিকাঃ
১৪. সুরা তহা ২০: ১২৪।