📄 রুটিন মেনে চলো তালিকা তৈরি করো
* সময়কে সুন্দরভাবে ভাগ করে নাও। একটি ছোট্ট নোটবুক সবসময় পকেটে রাখো। তাতে নিজের কাজকর্মের সিডিউল লিখে রাখো। স্মরণীয় কিংবা বিশেষ কিছু তাতে টুকে রাখো।
* অস্থিরতা, জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে বোকা বনে যেতে হয় মূলত শৃঙ্খলা ও নিয়ম কানুন মেনে না চলার কারণে। তাই এর সমাধান হলো তোমার একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন থাকবে। এবং সেটি তুমি পুরোপুরি মেনে চলবে।
* যদি তুমি প্রতিদিনেই ভাল একটি রুটিনকে ফলো করো এবং সেগুলোর বিবরণ তোমার ডায়রীতে লিখে রাখো, তাহলে দেখবে এক সপ্তাহ পর সুন্দর কিছু চিন্তা-চেতনা দ্বারা ভরপুর একটি তালিকার মালিক হয়ে গেছো। যা তোমাকে পুলকিত করবে।
* সারা দিন একই কাজে ব্যয় করবে না। বরং অল্প অল্প করে সকল কাজই সম্পন্ন করো। যাবতীয় কাজ রুটিন মোতাবেক সম্পাদন করার চেষ্টা করো। এতে নিজের ভেতর চাঞ্চল্য ও কর্মস্পৃহা অনুভব করবে।
* দুশ্চিন্তা, বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচতে, মানসিক অস্থিরতা এড়াতে প্রত্যেকেরই উচিত নিজের কাজকর্ম ও সময়ের একটি সুন্দর রুটিন তৈরি করে নেওয়া। এক্ষেত্রে সুবিন্যস্ত, ভারসাম্যপূর্ণ ও বিরতিসহ কাজের রুটিন প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয়।
* এখনই তোমার রুটিনের উপর আমল করা শুরু করে দাও। নিশ্চয় যে ব্যক্তি তার রুটিনের উপর আমল করতে বিলম্ব করেছে, সে তার সৌভাগ্যের সময় থেকে অনেক ঘন্টাকে, অনেক দিনকে এমনকি অনেক মাসকে (অযথা) নষ্ট করেছে।
* তুমি আনন্দদায়ক কাজের একটি তালিকা তৈরি করে রাখতে পারো। তুমি কি কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, কোনো স্থানে বেড়াতে গিয়ে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো কাজ করে আনন্দ পাও? তা হলে সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে রাখো। এক সপ্তাহ পর দেখবে, তোমার সেই তালিকা আনন্দদায়ক কাজ ও পরিকল্পনার সুবিস্তৃত এক মানচিত্র তোমার সামনে তুলে ধরছে।
* আনন্দদায়ক কাজের তালিকা প্রস্তুত করার পর তা পালনে অভ্যস্ত হও এবং এর পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকো। এ কাজ তোমার জন্য উপকারী সাব্যস্ত হবে।
📄 এসো শুনি, কোরআনের বাণী
* وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ 'আল্লাহ সর্বাধিক দয়ালু।' (সূরা ইউসুফ: ৬৪) তিনি রোগ থেকে মুক্তি দেন। গুনাহ মাফ করেন। রক্ষণাবেক্ষণ করেন। দোষত্রুটির উপর পর্দা ফেলেন। ক্ষমা করেন। তিনি অতিশয় সহনশীল ও দয়ালু।
* فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا 'আল্লাহ উত্তম হেফাজতকারী।' (সূরা ইউসুফ: ৬৪) অনুপস্থিতকে হেফাজত করেন। ভিনদেশীকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনেন। পথহারাকে পথ দেখান। বিপদগ্রস্তকে মুক্তি দান করেন। অসুস্থকে সুস্থতা দান করেন। দুঃখ-কষ্ট দূর করেন।
* وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا 'আল্লাহর উপরই ভরসা করো।' (সূরা মায়েদা : ২৩) সবকিছু তাঁর কাছেই সোপর্দ করো। নিজের অবস্থা তাঁর কাছেই ব্যক্ত করো। তাঁর আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানে আশ্বস্ত থাকো।
* فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِي بِالْفَتْحِ 'অচিরেই আল্লাহ বিজয় দান করবেন।' (সূরা মায়েদা: ৫২) বন্ধ তালা খুলে দেবেন। ভারী বোঝা সরিয়ে দেবেন। কষ্টকর দীর্ঘ রাতের সমাপ্তি ঘটাবেন। বক্ষ উন্মুক্ত করবেন। অবস্থা ভালো করে দেবেন।
* لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا 'তুমি জানো না, হয়তো আল্লাহ এর পর কোনো উপায় বের করে দেবেন।' (সূরা তালাক: ১) তখন পেরেশানী দূর হয়ে যাবে। দুশ্চিন্তা মিটে যাবে। উদ্বিগ্নতা কেটে যাবে। অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
* كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ ‘তিনি সর্বদাই কোনো না কোনো কাজে রত আছেন।’ (সূরা আর রাহমান : ২৯) তিনি দুঃখ-কষ্ট দূর করেন। গুনাহ মাফ করেন। রিযিক দান করেন। অসুস্থকে সুস্থ করেন। বিপদগ্রস্তকে মুক্তি দান করেন। বন্দীকে মুক্ত করেন। ভাঙ্গাকে জোড়া লাগান।
* لَا تَحْزَنُ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ‘বিষণ্ণ হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।’ (সূরা তওবা : ৪০) তিনি আমাদেরকে দেখছেন। আমাদের কথা শুনছেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করেন। মুশকিল আসান করেন। ভয়ংকর বিষয় দূর করেন।
* أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ‘আমি কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিইনি’ (সূরা ইনশিরাহ : ১) অতএব, তুমি কেন সংকীর্ণমনা হবেন?
* لَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ ‘আর তাদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট করো না।’ (সূরা নাহল : ১২৭) আমি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেবো। তাদের কষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবো। অতএব, সংকীর্ণমনা হয়ো না।
* ‘আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না।’ কেননা, শরীয়ত ও আকীদা-বিশ্বাসে তোমরা অনেক উঁচু। জীবনাচার ও জীবনপদ্ধতিতে তোমরা অনেক উন্নত। ভিত্তি, মূলনীতি, আখলাক- চরিত্র, চাল-চলন, আচার-আচরণ সবকিছুতেই তোমরা উন্নত।
* لَا تَيْأْسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ ‘আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।' (সূরা ইউসুফ : ৮৭) তাঁর সাহায্য অতি দ্রুতই আসবে। তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ অত্যন্ত ব্যাপক।
* إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ‘নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।’ (সূরা ইনশিরাহ : ৫) দারিদ্রতার সঙ্গে ধনাঢ্যতা। অসুস্থতার পর সুস্থতা। পেরেশানীর পর প্রশান্তি। সংকীর্ণতার পর প্রশস্ততা। বন্দিত্বের পর স্বাধীনতা। ক্ষুধার পর পরিতৃপ্তি।
* سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا 'আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দান করেন।' (সূরা তালাক: ৭) বেড়ি খুলে যাবে। রশি ছিঁড়ে যাবে। দরজা উন্মুক্ত হবে। বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অনুপস্থিত ব্যক্তি ফিরে আসবে। অবস্থা ভালো হয়ে যাবে।
* فَصَبُرٌ جَمِيلٌ 'অতএব, ধৈর্য ধারণই এখন আমার পক্ষে শ্রেয়।' (সূরা ইউসুফ: ১৮) কারণ, অবস্থার পরিবর্তন হবে। আত্মা শান্তি পাবে। বক্ষ উন্মুক্ত হবে। সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। গিঠ খুলে যাবে। সংকট দূর হয়ে যাবে。
* تَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ 'তুমি সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর ভরসা করো, যাঁর মৃত্যু নেই।' (সূরা ফুরকান: ৫৮) তা হলে তোমার অবস্থা ভালো হয়ে যাবে। মন খুশি হবে। সম্পদের হেফাজত হবে। পরিবারের কল্যাণ হবে। পরিণাম ভালো হবে। আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে。
* حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।' (সূরা আলে ইমরান: ১৭৩) তিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন। বালা-মসিবত থেকে রক্ষা করেন। গুনাহ মাফ করেন। অন্তর পরিশুদ্ধ করেন। দোষত্রুটির উপর পর্দা ফেলেন。
* إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا 'নিশ্চয় আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।' (সূরা ফাতহ: ১) তোমাকে হেদায়েত দিয়েছি। নির্বাচন করেছি। হেফাজত করেছি। সম্মানে ভূষিত করেছি। সকল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ করেছি。
* 'আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' অতএব, কোনো শত্রু তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। কোনো অবাধ্য তোমার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। কোনো হিংসুক তোমার উপর বিজয় লাভ করতে পারবে না। কোনো শত্রু তোমার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। করতে পারবে না। কোনো জালিম তোমার উপর জুলুম করতে পারবে না。
* وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا 'তোমার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।' (সূরা নিসা: ১১৩) তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। রিযিক দান করেছেন। শিক্ষাদান করেছেন। বোধশক্তি দিয়েছেন। হেদায়েত দান করেছেন। পথ প্রদর্শন করেছেন। আদব শিক্ষা দিয়েছেন। তোমাকে হেফাজত করেছেন। সাহায্য করেছেন। তোমার খোঁজ-খবর রেখেছেন。
* وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ 'যে কোনো নেয়ামতই আল্লাহর পক্ষ থেকে।' (সূরা নাহল: ৫৩) চেহারা-সুরত, আকার-আকৃতি, রিযিক, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, হেদায়েত, নিরাপত্তা, সুস্থতা, আগুন, পানি, বাতাস, খাদ্য, ঘরবাড়ি, কাপড়-চোপড় সবকিছুই আল্লাহ তাআলা দান করেছেন。
* عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا 'আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করেছি।' (সূরা আ'রাফ: ৮৯) তাঁর দীনের উপর ঈমান এনেছি। তাঁর রাসুলের অনুসরণ করেছি। তাঁর আনুগত্য করেছি। তাঁর কথা শুনেছি। তাঁর দাওয়াত কবুল করেছি। অতএব, তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন। পেরেশানীর কিছু নেই。
* وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ 'সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্য।' (সূরা নূর: ২৬) অর্থাৎ পবিত্র কথা, নেক আমল, অনুপম চরিত্র এবং সচ্চরিত্রা স্ত্রী- নেককার লোকদেরই লাভ হয়। যাতে এ সম্মিলনের ফলে সুখ, সম্পর্ক ও ভালোবাসা পূর্ণতায় পৌঁছতে পারে。
* وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ 'যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪) (তারা মুহসিন, অনুগ্রহকারী) যারা মনের গোস্বা মনেই দাফন করে, শত্রুতা-বিদ্বেষ ইত্যাদি প্রকাশ করে না, বরং প্রতিশোধ গ্রহণের কামনা থেকে জোর করে নিজেকে বিরত রাখে。
* وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ‘আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনকারীরা।' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪) - (ও মুহসিন, অনুগ্রহকারী) যারা দয়া, উদারতা ও ক্ষমার পরিচয় দেয়। সহানুভূতির আচরণ করে। নিজেদের শত্রুর কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে না। অর্থাৎ কেবল নিজেদের রাগ সংবরণই করে না, বরং ক্ষমা ও সহানুভূতির আদর্শ গ্রহণ করে。
* إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ‘বস্তুত আল্লাহ মুহসিন তথা সৎকর্মশীলদেরকেই ভালবাসেন।' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪) যারা শত্রুর সঙ্গেও অনুগ্রহের পরিচয় দেয়। ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা ও দানশীলতার দ্বারা শত্রুদেরকেও সাহায্য করে। শত্রুরা এদের উপর জুলুম করে আর এরা জুলুমের পরিবর্তে তাদের উপর অনুগ্রহ করে।
📄 প্রতি মুহূর্তকে মূল্য দাও, হও সময় সচেতন
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অনেক অনেক মুল্যবান। এক মুহূর্তের সাথে যুক্ত আরেকটি মুহূর্ত। যার প্রতিটি অংশই দামি। জীবনের প্রকৃত আবেদনই হলো- প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো। তাই এই মুহূর্তগুলোকে অনর্থক কাজে বিনষ্ট করা, প্রতিশোধের আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং বেকার বিষয়াদি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া সমীচীন নয়।
(সময়ের মূল্য বোঝাতে জনৈক জ্ঞানী সুন্দর কিছু উপমা দিয়েছেন- যদি এমন কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতো- যা প্রতিদিন তোমার একাউন্টে দিনের সেকেন্ডের হিসাব মতে ৮৬৪০০ টাকা জমা করে। কিন্তু ব্যাংকটির নীতি হলো, দিন শেষে তোমার একাউন্টে যা থেকে যাবে-যা তুমি ব্যবহার করতে পারোনি তা ব্যাংক কেটে নেয়। ব্যাংক তোমাকে অবশিষ্ট মুদ্রাগুলো আরেকদিনের জন্য রেখে দেওয়ার অনুমতি দেয় না এবং তোমাকে আগামী দিনের টাকা আজ তুলে নেওয়ারও অনুমতি দেয় না। তা হলে তুমি কী করবে? অবশ্যই প্রতিদিন সূর্যাস্তের পূর্বেই তোমার একাউন্টে থাকা প্রতিটি পয়সা তুমি তুলে নিতে চাইবে!
তোমার কি জানা আছে- আমাদের প্রত্যেকের কাছে এমন একটি ব্যাংক আছে- সেটা হলো সময়। সে প্রতিনি ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে তোমাকে ৮৬৪০০ সেকেন্ড দেয়। দিন শেষে যে সেকেন্ডগুলো তুমি কোনো গঠনমূলক ফলদায়ক কাজে ব্যবহার করতে পারোনি সেগুলো হারালে।
• একটি বছরের মূল্য জানতে একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করো- যে পরীক্ষায় ফেল করেছে!
• একটি মাসের মূল্য জানতে একজন মাকে জিজ্ঞেস করো- যিনি অষ্টম মাসে সন্তান প্রসব করেছেন!
• একটি সপ্তাহের মূল্য জানতে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদককে জিজ্ঞেস করো!
• একটি দিনের মূল্য জানতে একজন দিনমজুরকে জিজ্ঞেস করো- যে দশটি সন্তান লালন পালন করে!
• একটি ঘন্টার মূল্য জানতে একজন নববধূকে জিজ্ঞেস করো- যে বাসর রাতে স্বামীর অপেক্ষায় থাকে!
• একটি মিনিটের মূল্য জানতে সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করো- যে রেলগাড়ি ফেল করেছে!
• একটি সেকেন্ডের মূল্য জানতে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করো- যে অল্পের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে!
• এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের একভাগের মূল্য জানতে সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করো- যে অলিম্পিক খেলায় রূপার মেডেল পেয়েছে! - [সংগৃহীত- অনুবাদক])
📄 আল্লাহ-র সব ফয়সালাতেই কল্যাণ নিহিত
* বান্দার জন্য আল্লাহ ﷻ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তাতেই তার কল্যাণ। কেননা, তিনি তার ব্যাপারে তার চেয়েও বেশি জানেন এবং তার প্রতি তার মায়ের চেয়েও বেশি দরদী। অতএব, বান্দার উচিত আপন প্রভুর হুকুমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, সবকিছু তাঁরই হাতে সোপর্দ করে দেওয়া এবং নিজের জন্য তাঁকেই যথেষ্ট মনে করা।
* রসূলুল্লাহ ﷺ-র সঙ্গে মানুষ যে আচরণই করেছে, ফলাফলের দিক থেকে থেকে তা কল্যাণকরই হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ফলে তা জিহাদের কারণ হয়েছে; আল্লাহ ﷻ-র সাহায্যলাভ ও আল্লাহ ﷻ-র পথে কুরবানী দেওয়ার মাধ্যম হয়েছে। গাযওয়া ও যুদ্ধগুলো তাঁর জন্য বিজয়ের কারণ হয়েছে। সে সকল যুদ্ধে যেসব ঈমানদারগণ শহীদ হয়েছেন, তাঁরা জান্নাতের হকদার হয়েছেন। যদি কাফেরদের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত না হত, তা হলে মহা কল্যাণ ও মহা সাফল্য লাভ হত না。
রসূলুল্লাহ ﷺ-কে মক্কা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বাহ্যত বিষয়টি অপছন্দনীয় ছিল। কিন্তু পরোক্ষভাবে তাতে কল্যাণ ও বিজয় নিহিত ছিল। কেননা, হিজরতের পরই নবীজী ﷺ ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি রচনা করেছিলেন। আনসারগণ ইসলামের ছায়াতলে এসেছিলেন। ঈমানদার ও কাফেরদের পরিচয় স্পষ্ট হয়েছিল। ঈমান, হিজরত ও জিহাদের কারণেই খাঁটি ঈমানদার ও ঈমানের মিথ্যা দাবিদারদের মাঝে পার্থক্য রচিত হয়েছিল。
উহুদের যুদ্ধে মুসলমানগণ পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। ঘটনাটি তখন বাহ্যত অপছন্দনীয় ছিল। কিন্তু তাতেও কল্যাণ নিহিত ছিল। বদরের বিজয়ের কারণে অনেকের মাঝে আত্মগৌরব ও নিজেদের ব্যক্তিত্বের উপর এক ধরনের ভরসা জন্মে গিয়েছিল। উহুদের যুদ্ধের মাধ্যমে তা সংশোধন হয়েছে। অনেকেই শাহাদাতের মহা নেয়ামত লাভ করেছিলেন。
উহুদের যুদ্ধের মাধ্যমেই মুনাফিকদের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আল্লাহ তাদের ভেতরের অবস্থা প্রকাশ করে দিয়েছিলেন。
এ ঘটনাগুলোর উপর ভিত্তি করে তুমি সেসব ঘটনা ও অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারো, যেসব অবস্থা ও ঘটনাসমূহ বাহ্যত অপছন্দনীয় হলেও রাসুলুল্লাহ -সহ সমগ্র মুসলমানদের জন্য ছিল কল্যাণকর।
* ইবরাহীম -কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য সেই আগুনকে শীতল ও আরামদায়ক বানিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে নমরূদের কবল থেকে এবং স্বজাতির চক্রান্ত থেকে হেফাজত করেছিলেন। তাঁর দীনকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
* ফেরআউন মুসা -র বিরুদ্ধে অনবরত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছিল এবং বিভিন্নভাবে কষ্ট দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে আল্লাহ -র সাহায্য এসেছে। তাঁকে লাঠি দান করেছেন; যা তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এই লাঠির মাধ্যমেই তিনি সাগরে পথ পেয়েছিলেন, যে পথে বনী ইসরাঈল ও তিনি নিজে সাগর পার হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে তাঁর শত্রুদেরকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করেছেন। চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
* ঈসা -এর সঙ্গে বনী ইসরাঈল যুদ্ধ করেছিল। তাঁর মা, তাঁর কর্ম, তাঁর মিশন- সবকিছুর ব্যাপারেই প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল। এমনকি তাঁকে হত্যাও করে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেছেন এবং আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। পক্ষান্তরে তাঁর দুশমনদেরকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
*আমাদের নবী -কে ইহুদী-খ্রিস্টান-মুশরিকসহ অবিশ্বাসীরা সীমাহীন কষ্ট দিয়েছিল। তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। তাঁর বিরোধিতা করেছিল। তাঁর দাওয়াতের কাজে বাধা প্রদান করেছিল। তাঁকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও উপহাস করেছিল। তাঁকে গালি-গালাজ করেছিল। তাঁকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। তাঁর সাথি-সঙ্গীদের হত্যা করেছিল। বিভিন্নভাবে কষ্ট দিয়েছিল। তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছিল。
নবীজী সারা জীবন বহু নির্যাতন সহ্য করেছেন। চতুর্মুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ক্ষুধা-তৃষ্ণার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। আহত হয়েছেন। সামনের দাঁত শহীদ করেছেন। মাথায় আঘাত পেয়েছেন। সংকীর্ণ উপত্যকায় অবরুদ্ধ হয়েছেন। এমনকি সেখানে গাছের পাতা খেতে বাধ্য হয়েছেন。
উহুদের যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছেন। ক্ষুধার প্রচণ্ডতায় পেটে একাধিক পাথর বেঁধেছেন। কঠিন থেকে কঠিনতর বিপদ-আপদের সম্মুখীন হয়েছেন。
জালিমদের আত্মম্ভরিতা, অহংকারীদের অবাধ্যতা, বুদ্দুদের বেয়াদবি, ইহুদীদের চক্রান্ত, মুনাফিকদের ধোঁকাবাজি- সবই তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। পরিশেষে বিজয় তাঁরই হয়েছে। সফলতা তাঁরই পদচুম্বন করেছে। দীনের বিজয় হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেছেন। সমস্ত বাতিল দল-উপদলকে পরাজিত করেছেন। সমস্ত দুশমনদের পরাজিত, লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেছেন。
আল্লাহই বিজয়ী। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না。
* দেখুন, আবু বকর সিদ্দীক কত কষ্ট করেছেন! কত নির্যাতন সহ্য করেছেন! আল্লাহ -র রাস্তায় সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি 'সিদ্দীক' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
* উমর ইবনুল খাত্তাব মেহরাবে রক্তে রঞ্জিত হয়েছেন। অথচ তিনি তাঁর সারা জীবন কাটিয়েছেন দুনিয়াবিমুখতা, দানশীলতা ও মানুষের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
* উসমান -কে কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় শহীদ করে দেওয়া হয়েছে।
* আলী -কে মসজিদে আকস্মিকভাবে শহীদ করা হয়েছে।
* হুসাইন -কে জুলুম করে শহীদ করা হয়েছে।
* হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাঈদ ইবনে জুবাইর -র মতো জ্ঞানী-গুণী, ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিত্বকে হত্যা করেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর -কে হারাম শরীফের ভিতর শহীদ করেছে।
* ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল -কে হক কথা বলার অপরাধে জেলখানায় বন্দি করা হয়েছিল। অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছিল।
* শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া -কে জেলখানায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল। পরিবার-পরিজন, সাথি-সঙ্গী ও কিতাবাদি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
* ইমাম আযম আবু হানীফা -কে খলীফা আবু জা'ফর আল মানসুর বেত্রাঘাত করিয়েছিল।
* আলেমে রব্বানী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব -কে মদীনার গভর্নর চাবুক মারিয়েছিল।
* ইমাম মালেক ইবনে আনাস -কেও মদীনার গভর্নর চাবুক মারিয়েছিল।
* ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে আউন -র মতো এত বড় আলেম ও মুহাদ্দিসকে বেলাল ইবনে আবু বুরদাহ প্রহার করেছিল。
যেসকল ব্যক্তিবর্গ ও মনীষীদেরক বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করে ফেলা হয়েছিল, যদি আমি এখানে তাঁদের সকলের নাম উল্লেখ করতে থাকি, তা হলে সে তালিকা অনেক অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে; এ পুস্তকের কলেবর বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই আমি তা না করে এখানে উদাহরনস্বরূপ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছি। জ্ঞানীদের জন্য এ-ই যথেষ্ট।