📘 তুমিও পারবে 📄 ইলম অর্জন করো

📄 ইলম অর্জন করো


* ইলম একাকিত্বের সঙ্গী। অপরিচিতের সাথি। নির্জনতায় সহগামী। সত্যের পথপ্রদর্শক। দুঃসময়ের সাহায্যকারী। মৃত্যু-পরবর্তী ধনভাণ্ডার।
* ইলম অন্তরে আনে প্রশস্ততা। দৃষ্টি করে উদার। উন্মোচন করে নতুন দিগন্ত। ফলে দুশ্চিন্তা-পেরেশানী ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে আত্মা লাভ করে মুক্তি।
* ইলমের আনন্দ স্থায়ী, তার মাহাত্ম চিরন্তণ। ইলমের আলোচনা টিকে থাকে দীর্ঘকাল। পক্ষান্তরে সম্পদের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, তার মাহাত্ম বিলীয়মান। সম্পদের আলোচনা টিকে থাকে স্বল্পকাল।
* সম্পদের স্তূপ থেকে ইলম, মারেফাত ও অভিজ্ঞতার মূল্য বেশি। কারণ, আসবাবের মাঝে রয়েছে জন্তু-জানোয়ারের আনন্দ, পক্ষান্তরে মানুষের আনন্দ তো মারেফাতের মধ্যেই নিহিত।
* সর্বাপেক্ষা নরম গালিচা- শান্তি। সর্বোত্তম পর্দা- নিরাপত্তা। অতুলনীয় সুস্বাদু খাবার- ইলম। সর্বাধিক উপকারী এবং সর্বোত্তম পোশাক- ভালোবাসা।
* উৎকৃষ্ট ইলম তা-ই, যা তোমার মর্যবা বৃদ্ধি করে। উৎকৃষ্ট সম্পদ তা-ই, যা তোমার উপকার করে। উত্তম বন্ধু সে-ই, যে তোমাকে সদুপদেশ দেয়।
* বরকতময় ওই ব্যক্তি, যার ইলম বেশি হলে তাকওয়ায়ও বৃদ্ধি ঘটে। সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তি, যার জীবন দীর্ঘ হলে আমলও ভালো হয়। তাওফীক ওই ব্যক্তিই লাভ করে থাকে, যার সম্পদ বেশি হলে নেকীও বেশি হয়।
* ইলম হচ্ছে দলীল। বাকশিল্প হচ্ছে সৌন্দর্য। আর চুপ থাকা প্রজ্ঞার পরিচায়ক।
* ইলম সুস্বাদু আহার্য, নিরাপত্তা উত্তম বিছানা, সুস্থতা পরিপূর্ণ আচ্ছাদন, মুহাব্বত উপকারী ঔষধ এবং পর্দা উত্তম পোষাক।
* যার মাঝে ইলম ও মারেফাতের উদ্যান রয়েছে, যার অন্তরে ঈমান ও যিকিরের বাগান রয়েছে, সে কখনও পার্থিব আনন্দ-বিনোদন কিংবা সুখ-শোভার জন্য আফসোস করতে পারে না。

سَهْرِي لِتَنْقِيحِ الْعُلُومِ ألَذُّ لِي مِنْ وَصْلِ غانية وطيب عناق
ইলম শিক্ষায় রাত্রি জাগরণ করা আমার কাছে সম্মোহনকারিণী রমনীর আলিঙ্গনের চেয়ে বেশি প্রিয়।

وتمايلي طرباً لحل عويصة * أَشْهَى وَأَحْلَى مِنْ مُدامَةِ سَاقِي
জটিল বিষয় বোধগম্যকালে হৃদয়ের গভীরে যে আনন্দ অনুভূত হয়, তা আমার কাছে সর্বাপেক্ষা চমৎকার পানীয়ের চেয়েও বেশি সুস্বাদু লাগে।

وَصَرِيرُ أقلامي على أوراقها • أحلى من الدوكاء والعشاق
কাগজের উপর কলমের খসখস শব্দ; আমার কাছে প্রেমিক- প্রেমিকার (আলিঙ্গনের শব্দের) চেয়েও অধিক মজাদার।

والد من نقر الفتاة لدفها " نقري لأُلقي الرمل عن أوراقي
কাগজের ধূলি ঝাড়ার শব্দ, নারীর হাতে বাজানো দফের আওয়াজের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক।

يا من يحاول بالأماني رتبتي " كم بين مُسْتَغْلٍ وآخر راقي
হে অমুক! যে আমার সমান মর্যাদা পাওয়ার মিথ্যা আশা করছে, বেশি উঁচু বলে যে শিখরে উঠতে কষ্ট পায়, তার মাঝে আর চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া ব্যক্তির মাঝে কতই না পার্থক্য।

أبيت سهران الدجى وتبيته " نوماً وتبغي بعد ذاك الحاقي
আমি সারা রাত থাকি জেগে, যখন তুমি থাকো ঘুমিয়ে; অথচ তুমি চাও আমাকে ছাড়িয়ে যেতে।

لا يَبْلُغُ الْأَعْدَاءُ مِنْ جَاهِلٍ * مَا يَبْلُغُ الْجَاهِلُ مِنْ نَفْسِهِ
মূর্খ নিজে তার যতটা ক্ষতি করে, শত্রুরাও পারে না তার ততোটা ক্ষতি করতে।

📘 তুমিও পারবে 📄 আল্লাহর উপর ভরসা করো, সুখি হবে

📄 আল্লাহর উপর ভরসা করো, সুখি হবে


* ভরসা করো আল্লাহ -এর উপর। তারই হাতে সোপর্দ করো সকল বিষয়। সন্তুষ্ট থাকো তাঁর হুকুমের প্রতি। তোমার জন্য তিনিই যথেষ্ট- এই আস্থা রাখো তাঁর উপর।
* আল্লাহ তোমার জন্য যা স্থির করে রেখেছেন, খুশি থাকো তা নিয়েই। কারণ, তোমার জানা নেই যে, কল্যাণ কিসে নিহিত। কখনও কখনও কঠিনতা সহজতা থেকেও শ্রেয় হয়।
* অস্থিরচিত্তের ডাকে সাড়া দেন কে? ডুবন্তকে রক্ষা করেন কে? বিপদ-আপদ থেকে আমাদের মুক্তি দান করেন কে? তিনি আল্লাহ। শুধুই আল্লাহ。

وَاِذَا الْعِنَايَةُ لَحَظَتْكَ عُيُوْنُهَا : نَمْ فَالْحَوَادِثُ كُلُّهُنَّ آمَانُ
যখন তোমার উপর আল্লাহ তাআলার সাহায্যের দৃষ্টি পড়ে, তখন তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। কেননা, তখন যা ঘটবে তা সবই নিরাপদ।

📘 তুমিও পারবে 📄 রুটিন মেনে চলো তালিকা তৈরি করো

📄 রুটিন মেনে চলো তালিকা তৈরি করো


* সময়কে সুন্দরভাবে ভাগ করে নাও। একটি ছোট্ট নোটবুক সবসময় পকেটে রাখো। তাতে নিজের কাজকর্মের সিডিউল লিখে রাখো। স্মরণীয় কিংবা বিশেষ কিছু তাতে টুকে রাখো।
* অস্থিরতা, জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে বোকা বনে যেতে হয় মূলত শৃঙ্খলা ও নিয়ম কানুন মেনে না চলার কারণে। তাই এর সমাধান হলো তোমার একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন থাকবে। এবং সেটি তুমি পুরোপুরি মেনে চলবে।
* যদি তুমি প্রতিদিনেই ভাল একটি রুটিনকে ফলো করো এবং সেগুলোর বিবরণ তোমার ডায়রীতে লিখে রাখো, তাহলে দেখবে এক সপ্তাহ পর সুন্দর কিছু চিন্তা-চেতনা দ্বারা ভরপুর একটি তালিকার মালিক হয়ে গেছো। যা তোমাকে পুলকিত করবে।
* সারা দিন একই কাজে ব্যয় করবে না। বরং অল্প অল্প করে সকল কাজই সম্পন্ন করো। যাবতীয় কাজ রুটিন মোতাবেক সম্পাদন করার চেষ্টা করো। এতে নিজের ভেতর চাঞ্চল্য ও কর্মস্পৃহা অনুভব করবে।
* দুশ্চিন্তা, বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচতে, মানসিক অস্থিরতা এড়াতে প্রত্যেকেরই উচিত নিজের কাজকর্ম ও সময়ের একটি সুন্দর রুটিন তৈরি করে নেওয়া। এক্ষেত্রে সুবিন্যস্ত, ভারসাম্যপূর্ণ ও বিরতিসহ কাজের রুটিন প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয়।
* এখনই তোমার রুটিনের উপর আমল করা শুরু করে দাও। নিশ্চয় যে ব্যক্তি তার রুটিনের উপর আমল করতে বিলম্ব করেছে, সে তার সৌভাগ্যের সময় থেকে অনেক ঘন্টাকে, অনেক দিনকে এমনকি অনেক মাসকে (অযথা) নষ্ট করেছে।
* তুমি আনন্দদায়ক কাজের একটি তালিকা তৈরি করে রাখতে পারো। তুমি কি কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, কোনো স্থানে বেড়াতে গিয়ে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো কাজ করে আনন্দ পাও? তা হলে সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে রাখো। এক সপ্তাহ পর দেখবে, তোমার সেই তালিকা আনন্দদায়ক কাজ ও পরিকল্পনার সুবিস্তৃত এক মানচিত্র তোমার সামনে তুলে ধরছে।
* আনন্দদায়ক কাজের তালিকা প্রস্তুত করার পর তা পালনে অভ্যস্ত হও এবং এর পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকো। এ কাজ তোমার জন্য উপকারী সাব্যস্ত হবে।

📘 তুমিও পারবে 📄 এসো শুনি, কোরআনের বাণী

📄 এসো শুনি, কোরআনের বাণী


* وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ 'আল্লাহ সর্বাধিক দয়ালু।' (সূরা ইউসুফ: ৬৪) তিনি রোগ থেকে মুক্তি দেন। গুনাহ মাফ করেন। রক্ষণাবেক্ষণ করেন। দোষত্রুটির উপর পর্দা ফেলেন। ক্ষমা করেন। তিনি অতিশয় সহনশীল ও দয়ালু।
* فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا 'আল্লাহ উত্তম হেফাজতকারী।' (সূরা ইউসুফ: ৬৪) অনুপস্থিতকে হেফাজত করেন। ভিনদেশীকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনেন। পথহারাকে পথ দেখান। বিপদগ্রস্তকে মুক্তি দান করেন। অসুস্থকে সুস্থতা দান করেন। দুঃখ-কষ্ট দূর করেন।
* وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا 'আল্লাহর উপরই ভরসা করো।' (সূরা মায়েদা : ২৩) সবকিছু তাঁর কাছেই সোপর্দ করো। নিজের অবস্থা তাঁর কাছেই ব্যক্ত করো। তাঁর আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানে আশ্বস্ত থাকো।
* فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِي بِالْفَتْحِ 'অচিরেই আল্লাহ বিজয় দান করবেন।' (সূরা মায়েদা: ৫২) বন্ধ তালা খুলে দেবেন। ভারী বোঝা সরিয়ে দেবেন। কষ্টকর দীর্ঘ রাতের সমাপ্তি ঘটাবেন। বক্ষ উন্মুক্ত করবেন। অবস্থা ভালো করে দেবেন।
* لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا 'তুমি জানো না, হয়তো আল্লাহ এর পর কোনো উপায় বের করে দেবেন।' (সূরা তালাক: ১) তখন পেরেশানী দূর হয়ে যাবে। দুশ্চিন্তা মিটে যাবে। উদ্বিগ্নতা কেটে যাবে। অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
* كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ ‘তিনি সর্বদাই কোনো না কোনো কাজে রত আছেন।’ (সূরা আর রাহমান : ২৯) তিনি দুঃখ-কষ্ট দূর করেন। গুনাহ মাফ করেন। রিযিক দান করেন। অসুস্থকে সুস্থ করেন। বিপদগ্রস্তকে মুক্তি দান করেন। বন্দীকে মুক্ত করেন। ভাঙ্গাকে জোড়া লাগান।
* لَا تَحْزَنُ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ‘বিষণ্ণ হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।’ (সূরা তওবা : ৪০) তিনি আমাদেরকে দেখছেন। আমাদের কথা শুনছেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করেন। মুশকিল আসান করেন। ভয়ংকর বিষয় দূর করেন।
* أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ‘আমি কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিইনি’ (সূরা ইনশিরাহ : ১) অতএব, তুমি কেন সংকীর্ণমনা হবেন?
* لَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ ‘আর তাদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট করো না।’ (সূরা নাহল : ১২৭) আমি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেবো। তাদের কষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবো। অতএব, সংকীর্ণমনা হয়ো না।
* ‘আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না।’ কেননা, শরীয়ত ও আকীদা-বিশ্বাসে তোমরা অনেক উঁচু। জীবনাচার ও জীবনপদ্ধতিতে তোমরা অনেক উন্নত। ভিত্তি, মূলনীতি, আখলাক- চরিত্র, চাল-চলন, আচার-আচরণ সবকিছুতেই তোমরা উন্নত।
* لَا تَيْأْسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ ‘আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।' (সূরা ইউসুফ : ৮৭) তাঁর সাহায্য অতি দ্রুতই আসবে। তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ অত্যন্ত ব্যাপক।
* إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ‘নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।’ (সূরা ইনশিরাহ : ৫) দারিদ্রতার সঙ্গে ধনাঢ্যতা। অসুস্থতার পর সুস্থতা। পেরেশানীর পর প্রশান্তি। সংকীর্ণতার পর প্রশস্ততা। বন্দিত্বের পর স্বাধীনতা। ক্ষুধার পর পরিতৃপ্তি।
* سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا 'আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দান করেন।' (সূরা তালাক: ৭) বেড়ি খুলে যাবে। রশি ছিঁড়ে যাবে। দরজা উন্মুক্ত হবে। বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অনুপস্থিত ব্যক্তি ফিরে আসবে। অবস্থা ভালো হয়ে যাবে।
* فَصَبُرٌ جَمِيلٌ 'অতএব, ধৈর্য ধারণই এখন আমার পক্ষে শ্রেয়।' (সূরা ইউসুফ: ১৮) কারণ, অবস্থার পরিবর্তন হবে। আত্মা শান্তি পাবে। বক্ষ উন্মুক্ত হবে। সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। গিঠ খুলে যাবে। সংকট দূর হয়ে যাবে。
* تَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ 'তুমি সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর ভরসা করো, যাঁর মৃত্যু নেই।' (সূরা ফুরকান: ৫৮) তা হলে তোমার অবস্থা ভালো হয়ে যাবে। মন খুশি হবে। সম্পদের হেফাজত হবে। পরিবারের কল্যাণ হবে। পরিণাম ভালো হবে। আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে。
* حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।' (সূরা আলে ইমরান: ১৭৩) তিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন। বালা-মসিবত থেকে রক্ষা করেন। গুনাহ মাফ করেন। অন্তর পরিশুদ্ধ করেন। দোষত্রুটির উপর পর্দা ফেলেন。
* إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا 'নিশ্চয় আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।' (সূরা ফাতহ: ১) তোমাকে হেদায়েত দিয়েছি। নির্বাচন করেছি। হেফাজত করেছি। সম্মানে ভূষিত করেছি। সকল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ করেছি。
* 'আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' অতএব, কোনো শত্রু তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। কোনো অবাধ্য তোমার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। কোনো হিংসুক তোমার উপর বিজয় লাভ করতে পারবে না। কোনো শত্রু তোমার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। করতে পারবে না। কোনো জালিম তোমার উপর জুলুম করতে পারবে না。
* وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا 'তোমার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।' (সূরা নিসা: ১১৩) তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। রিযিক দান করেছেন। শিক্ষাদান করেছেন। বোধশক্তি দিয়েছেন। হেদায়েত দান করেছেন। পথ প্রদর্শন করেছেন। আদব শিক্ষা দিয়েছেন। তোমাকে হেফাজত করেছেন। সাহায্য করেছেন। তোমার খোঁজ-খবর রেখেছেন。
* وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ 'যে কোনো নেয়ামতই আল্লাহর পক্ষ থেকে।' (সূরা নাহল: ৫৩) চেহারা-সুরত, আকার-আকৃতি, রিযিক, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, হেদায়েত, নিরাপত্তা, সুস্থতা, আগুন, পানি, বাতাস, খাদ্য, ঘরবাড়ি, কাপড়-চোপড় সবকিছুই আল্লাহ তাআলা দান করেছেন。
* عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا 'আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করেছি।' (সূরা আ'রাফ: ৮৯) তাঁর দীনের উপর ঈমান এনেছি। তাঁর রাসুলের অনুসরণ করেছি। তাঁর আনুগত্য করেছি। তাঁর কথা শুনেছি। তাঁর দাওয়াত কবুল করেছি। অতএব, তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন। পেরেশানীর কিছু নেই。
* وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ 'সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্য।' (সূরা নূর: ২৬) অর্থাৎ পবিত্র কথা, নেক আমল, অনুপম চরিত্র এবং সচ্চরিত্রা স্ত্রী- নেককার লোকদেরই লাভ হয়। যাতে এ সম্মিলনের ফলে সুখ, সম্পর্ক ও ভালোবাসা পূর্ণতায় পৌঁছতে পারে。
* وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ 'যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪) (তারা মুহসিন, অনুগ্রহকারী) যারা মনের গোস্বা মনেই দাফন করে, শত্রুতা-বিদ্বেষ ইত্যাদি প্রকাশ করে না, বরং প্রতিশোধ গ্রহণের কামনা থেকে জোর করে নিজেকে বিরত রাখে。
* وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ‘আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনকারীরা।' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪) - (ও মুহসিন, অনুগ্রহকারী) যারা দয়া, উদারতা ও ক্ষমার পরিচয় দেয়। সহানুভূতির আচরণ করে। নিজেদের শত্রুর কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে না। অর্থাৎ কেবল নিজেদের রাগ সংবরণই করে না, বরং ক্ষমা ও সহানুভূতির আদর্শ গ্রহণ করে。
* إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ‘বস্তুত আল্লাহ মুহসিন তথা সৎকর্মশীলদেরকেই ভালবাসেন।' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪) যারা শত্রুর সঙ্গেও অনুগ্রহের পরিচয় দেয়। ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা ও দানশীলতার দ্বারা শত্রুদেরকেও সাহায্য করে। শত্রুরা এদের উপর জুলুম করে আর এরা জুলুমের পরিবর্তে তাদের উপর অনুগ্রহ করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px