📄 আচারিক সৌন্দর্যে বলিয়ান হও
সাধারণ মানুষ অন্যদের জন্য আয়নাস্বরূপ। যদি মানুষ অন্যদের সাথে উত্তম আচরণের সাথে ওঠাবসা করে, তা হলে অন্যরাও তার সাথে উত্তম আচরণ দেখায়। তার শিরা-উপশিরা কোমলতা অনুভব করে; হৃদয় শান্ত হয়। তার কাছে মনে হয় যে, সে বন্ধুত্বের অনুপম পরিবেশে জীবন অতিবাহিত করছে।
পক্ষান্তরে যখন একজন মানুষ অন্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করে, তখন অন্যরাও তার সাথে খারাপভাবে মেশে এবং রুক্ষ আচরণ করে। যে ব্যক্তি অন্যদের আদব-এহতেরাম করে না, অন্যরাও তার আদব- এহতেরাম করে না।
উত্তম আচরণের ব্যক্তি আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে। সংকট, সমস্যা ও পেরেশানী থেকে দূরে থাকে। তা ছাড়া উত্তম আচরণ হচ্ছে এবাদত। এর উপর নবী ﷺ অনেক বেশি তাগিদ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের বাণী হলো-
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَهِلِينَ
'মার্জনার পথ অবলম্বন করো; নেক কাজের হুকুম করো এবং জাহেলদেরকে এড়িয়ে চলো। [সূরা আ'রাফ : ১৯৯]
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نُفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرُهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
(হে নবী!) আল্লাহর রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য কোমলহৃদয় হয়েছ। অন্যথায় তুমি যদি দুর্ব্যবহারকারী ও পাষাণ- হতে, তা হলে এরা সবাই তোমার আশপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং তুমি তাদের ত্রুটিবিচ্যুতি মাফ করে দাও। তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করো এবং দীনের কাজে তাদেরকেও পরামর্শে রাখো। এরপর যখন তুমি কোন কাজের সংকল্প করো, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা (তাঁর উপর) ভরসা করে। [সূরা আলে ইমরান : ১৫৯]
নবী বলেছেন, তোমাদের মধ্য থেকে তারা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যারা আচার-ব্যবহারে সবচেয়ে ভালো; যারা সমন্বিত হৃদয়ের অধিকারী; যারা অন্যদেরকে চায় এবং অন্যরাও যাদেরকে চায়। আমার কাছে সবচেয়ে অপছন্দের লোক হচ্ছে তারা, যারা এর কাছে ওর কাছে কথাবার্তা লাগায় এবং পরস্পর মহব্বতকারীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং নেককারদের দোষ অনুসন্ধান করে।
📄 ইলম অর্জন করো
* ইলম একাকিত্বের সঙ্গী। অপরিচিতের সাথি। নির্জনতায় সহগামী। সত্যের পথপ্রদর্শক। দুঃসময়ের সাহায্যকারী। মৃত্যু-পরবর্তী ধনভাণ্ডার।
* ইলম অন্তরে আনে প্রশস্ততা। দৃষ্টি করে উদার। উন্মোচন করে নতুন দিগন্ত। ফলে দুশ্চিন্তা-পেরেশানী ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে আত্মা লাভ করে মুক্তি।
* ইলমের আনন্দ স্থায়ী, তার মাহাত্ম চিরন্তণ। ইলমের আলোচনা টিকে থাকে দীর্ঘকাল। পক্ষান্তরে সম্পদের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, তার মাহাত্ম বিলীয়মান। সম্পদের আলোচনা টিকে থাকে স্বল্পকাল।
* সম্পদের স্তূপ থেকে ইলম, মারেফাত ও অভিজ্ঞতার মূল্য বেশি। কারণ, আসবাবের মাঝে রয়েছে জন্তু-জানোয়ারের আনন্দ, পক্ষান্তরে মানুষের আনন্দ তো মারেফাতের মধ্যেই নিহিত।
* সর্বাপেক্ষা নরম গালিচা- শান্তি। সর্বোত্তম পর্দা- নিরাপত্তা। অতুলনীয় সুস্বাদু খাবার- ইলম। সর্বাধিক উপকারী এবং সর্বোত্তম পোশাক- ভালোবাসা।
* উৎকৃষ্ট ইলম তা-ই, যা তোমার মর্যবা বৃদ্ধি করে। উৎকৃষ্ট সম্পদ তা-ই, যা তোমার উপকার করে। উত্তম বন্ধু সে-ই, যে তোমাকে সদুপদেশ দেয়।
* বরকতময় ওই ব্যক্তি, যার ইলম বেশি হলে তাকওয়ায়ও বৃদ্ধি ঘটে। সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তি, যার জীবন দীর্ঘ হলে আমলও ভালো হয়। তাওফীক ওই ব্যক্তিই লাভ করে থাকে, যার সম্পদ বেশি হলে নেকীও বেশি হয়।
* ইলম হচ্ছে দলীল। বাকশিল্প হচ্ছে সৌন্দর্য। আর চুপ থাকা প্রজ্ঞার পরিচায়ক।
* ইলম সুস্বাদু আহার্য, নিরাপত্তা উত্তম বিছানা, সুস্থতা পরিপূর্ণ আচ্ছাদন, মুহাব্বত উপকারী ঔষধ এবং পর্দা উত্তম পোষাক।
* যার মাঝে ইলম ও মারেফাতের উদ্যান রয়েছে, যার অন্তরে ঈমান ও যিকিরের বাগান রয়েছে, সে কখনও পার্থিব আনন্দ-বিনোদন কিংবা সুখ-শোভার জন্য আফসোস করতে পারে না。
سَهْرِي لِتَنْقِيحِ الْعُلُومِ ألَذُّ لِي مِنْ وَصْلِ غانية وطيب عناق
ইলম শিক্ষায় রাত্রি জাগরণ করা আমার কাছে সম্মোহনকারিণী রমনীর আলিঙ্গনের চেয়ে বেশি প্রিয়।
وتمايلي طرباً لحل عويصة * أَشْهَى وَأَحْلَى مِنْ مُدامَةِ سَاقِي
জটিল বিষয় বোধগম্যকালে হৃদয়ের গভীরে যে আনন্দ অনুভূত হয়, তা আমার কাছে সর্বাপেক্ষা চমৎকার পানীয়ের চেয়েও বেশি সুস্বাদু লাগে।
وَصَرِيرُ أقلامي على أوراقها • أحلى من الدوكاء والعشاق
কাগজের উপর কলমের খসখস শব্দ; আমার কাছে প্রেমিক- প্রেমিকার (আলিঙ্গনের শব্দের) চেয়েও অধিক মজাদার।
والد من نقر الفتاة لدفها " نقري لأُلقي الرمل عن أوراقي
কাগজের ধূলি ঝাড়ার শব্দ, নারীর হাতে বাজানো দফের আওয়াজের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক।
يا من يحاول بالأماني رتبتي " كم بين مُسْتَغْلٍ وآخر راقي
হে অমুক! যে আমার সমান মর্যাদা পাওয়ার মিথ্যা আশা করছে, বেশি উঁচু বলে যে শিখরে উঠতে কষ্ট পায়, তার মাঝে আর চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া ব্যক্তির মাঝে কতই না পার্থক্য।
أبيت سهران الدجى وتبيته " نوماً وتبغي بعد ذاك الحاقي
আমি সারা রাত থাকি জেগে, যখন তুমি থাকো ঘুমিয়ে; অথচ তুমি চাও আমাকে ছাড়িয়ে যেতে।
لا يَبْلُغُ الْأَعْدَاءُ مِنْ جَاهِلٍ * مَا يَبْلُغُ الْجَاهِلُ مِنْ نَفْسِهِ
মূর্খ নিজে তার যতটা ক্ষতি করে, শত্রুরাও পারে না তার ততোটা ক্ষতি করতে।
📄 আল্লাহর উপর ভরসা করো, সুখি হবে
* ভরসা করো আল্লাহ -এর উপর। তারই হাতে সোপর্দ করো সকল বিষয়। সন্তুষ্ট থাকো তাঁর হুকুমের প্রতি। তোমার জন্য তিনিই যথেষ্ট- এই আস্থা রাখো তাঁর উপর।
* আল্লাহ তোমার জন্য যা স্থির করে রেখেছেন, খুশি থাকো তা নিয়েই। কারণ, তোমার জানা নেই যে, কল্যাণ কিসে নিহিত। কখনও কখনও কঠিনতা সহজতা থেকেও শ্রেয় হয়।
* অস্থিরচিত্তের ডাকে সাড়া দেন কে? ডুবন্তকে রক্ষা করেন কে? বিপদ-আপদ থেকে আমাদের মুক্তি দান করেন কে? তিনি আল্লাহ। শুধুই আল্লাহ。
وَاِذَا الْعِنَايَةُ لَحَظَتْكَ عُيُوْنُهَا : نَمْ فَالْحَوَادِثُ كُلُّهُنَّ آمَانُ
যখন তোমার উপর আল্লাহ তাআলার সাহায্যের দৃষ্টি পড়ে, তখন তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। কেননা, তখন যা ঘটবে তা সবই নিরাপদ।
📄 রুটিন মেনে চলো তালিকা তৈরি করো
* সময়কে সুন্দরভাবে ভাগ করে নাও। একটি ছোট্ট নোটবুক সবসময় পকেটে রাখো। তাতে নিজের কাজকর্মের সিডিউল লিখে রাখো। স্মরণীয় কিংবা বিশেষ কিছু তাতে টুকে রাখো।
* অস্থিরতা, জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে বোকা বনে যেতে হয় মূলত শৃঙ্খলা ও নিয়ম কানুন মেনে না চলার কারণে। তাই এর সমাধান হলো তোমার একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন থাকবে। এবং সেটি তুমি পুরোপুরি মেনে চলবে।
* যদি তুমি প্রতিদিনেই ভাল একটি রুটিনকে ফলো করো এবং সেগুলোর বিবরণ তোমার ডায়রীতে লিখে রাখো, তাহলে দেখবে এক সপ্তাহ পর সুন্দর কিছু চিন্তা-চেতনা দ্বারা ভরপুর একটি তালিকার মালিক হয়ে গেছো। যা তোমাকে পুলকিত করবে।
* সারা দিন একই কাজে ব্যয় করবে না। বরং অল্প অল্প করে সকল কাজই সম্পন্ন করো। যাবতীয় কাজ রুটিন মোতাবেক সম্পাদন করার চেষ্টা করো। এতে নিজের ভেতর চাঞ্চল্য ও কর্মস্পৃহা অনুভব করবে।
* দুশ্চিন্তা, বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচতে, মানসিক অস্থিরতা এড়াতে প্রত্যেকেরই উচিত নিজের কাজকর্ম ও সময়ের একটি সুন্দর রুটিন তৈরি করে নেওয়া। এক্ষেত্রে সুবিন্যস্ত, ভারসাম্যপূর্ণ ও বিরতিসহ কাজের রুটিন প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয়।
* এখনই তোমার রুটিনের উপর আমল করা শুরু করে দাও। নিশ্চয় যে ব্যক্তি তার রুটিনের উপর আমল করতে বিলম্ব করেছে, সে তার সৌভাগ্যের সময় থেকে অনেক ঘন্টাকে, অনেক দিনকে এমনকি অনেক মাসকে (অযথা) নষ্ট করেছে।
* তুমি আনন্দদায়ক কাজের একটি তালিকা তৈরি করে রাখতে পারো। তুমি কি কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, কোনো স্থানে বেড়াতে গিয়ে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো কাজ করে আনন্দ পাও? তা হলে সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে রাখো। এক সপ্তাহ পর দেখবে, তোমার সেই তালিকা আনন্দদায়ক কাজ ও পরিকল্পনার সুবিস্তৃত এক মানচিত্র তোমার সামনে তুলে ধরছে।
* আনন্দদায়ক কাজের তালিকা প্রস্তুত করার পর তা পালনে অভ্যস্ত হও এবং এর পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকো। এ কাজ তোমার জন্য উপকারী সাব্যস্ত হবে।