📘 তুমিও পারবে 📄 মনে রেখো

📄 মনে রেখো


* মনে রেখো, যারা আযানের ধ্বনি শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে, তাকবীরে উলার সাথে সালাত আদায়ের জন্য যারা সর্বাগ্রে মসজিদ পানে ছোটে, প্রথম কাতারে জায়গা পাবার জন্য যাদের মন ব্যাকুল থাকে, জিকিরের মজলিশগুলো যাদের উপস্থিতিতে সরব থাকে, হৃদয় যাদের উদার, সুন্নাতের প্রতি যারা যত্নবান, আল্লাহর জিকিরে জিহ্বা যাদের সতেজ, রিযিক যাদের হালাল, মুসলিম ভাইয়ের দুঃখে কাঁদে যাদের মন, ঝগড়া-বিবাদ থেকে যোজন যোজন দূরে যাদের অবস্থান, বিপদে ধৈর্য ধারণ যাদের সহজাত স্বভাব, সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ যারা করেন, উপযুক্ত খাতে সম্পদ ব্যয় যারা করেন- তারাই হলেন প্রকৃত আল্লাহওয়ালা।
* মনে রেখো, দুঃখের পরই আসে সুখ। অসচ্ছলতার পরেই আসে সচ্ছলতা। অবস্থা সর্বদা এক রকম থাকে না। কালের বিবর্তন চিরন্তন।
* মনে রেখো, পৃথিবীতে তুমি একাই বিপদগ্রস্ত নও। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত নয় কেউই। সংকট মানুষের পিছু ছাড়ে না।
* মনে রেখো, তোমার মাঝে যে নেয়ামতের ভান্ডার ও কল্যাণের খাজানা রয়েছে, তা আল্লাহ-রই দান।
* মনে রেখো, তোমার জীবন অপ্রসন্ন ও বিষাদময় হোক-এটাই কামনা করে তোমার শত্রুপক্ষ। তাই নিজের দুশ্চিন্তা-পেরেশানী ও দুঃখ-কষ্ট প্রকাশ করে তাদেরকে খুশি করো না।
* মনে রেখো, যে ব্যক্তি দুনিয়া পাওয়ার আশায় কোনো কাজ করে, আল্লাহ তাকে ওই কাজের বিনিময় দুনিয়াতেই পুরোপুরি দিয়ে দেন। পক্ষান্তরে যে আখেরাতের জন্য ভালো কাজ করে, সে তার ফল দুনিয়া আখেরাত উভয় স্থানেই লাভ করে।
* মনে রেখো, আনন্দের মুহূর্তগুলো ধার করা। পেরেশানী কাফ্ফারা। গোস্বা অকল্যাণকর। বেকারত্ব ক্ষতিকর। ইবাদত উপকারী ব্যবসা।
* মনে রেখো, কলম তোমার সাথী। বই তোমার বন্ধু। ঘর তোমার রাজত্ব। তোমার রিযিক তোমার ধনভান্ডার। অতএব, যা চলে গেছে তার নিয়ে আক্ষেপ করো না।
* মনে রেখো, কিছু বিষয়ের শুরুটা কষ্টের হয়ে থাকে; কিন্তু তার ফলাফল মিষ্টি হয়ে ধরা দেয়। যেমন, মেঘ। শুরুতে তর্জন-গর্জন করলেও শেষটায় বর্ষণ করে রহমতের বারিধারা।
* মনে রেখো, দুটি নেয়ামত অপ্রকাশ্য। ১. শরীরের সুস্থতা। ২. স্বদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা।
দুটি নেয়ামত প্রকাশ্য। ১. মানুষের চর্চিত স্তুতি-প্রশংসা। ২. সৎ ও নেককার সন্তান-সন্তুতি।
* মনে রেখো, যে তোমার দোষচর্চা করছে, সে তার অর্জিত নেকগুলো তোমাকে উপঢৌকন স্বরূপ দিয়ে দিচ্ছে। তোমার পাপরাজি মিটিয়ে দিচ্ছে। তোমাকে লোক সমাজে প্রসিদ্ধ করে তুলছে। এটাও এক প্রকারের নেয়ামত।
* মনে রেখো, তোমার মন সেই তরল বস্তুর ন্যায়, যা পাত্রসমূহকে নিজের রঙ দান করে। অতএব, তোমার মন যদি সন্তুষ্ট ও প্রশান্ত হয়, তা হলে সে সুখ, কল্যাণ ও সৌন্দর্য দেখবে। আর যদি সে সংকীর্ণ হয় এবং অশুভ লক্ষণ গ্রহণে অভ্যস্ত হয়, তা হলে সে অশান্তি, অকল্যাণ ও মন্দেরই মুখোমুখী হবে。
* মনে রেখো, সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন অন্যদের মন নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতেন না; নফসের ওয়াসওয়াসা ও অপ্রয়োজনীয় সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়কে অন্তরে স্থান দিতেন না। বরং মূলনীতির উপর জোর দিতেন এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি অধিক মনোযোগী থাকতেন। আর এ জন্যই তাঁরা সকলের চেয়ে সুখী ছিলেন。
* মনে রেখো, উদারতা হচ্ছে, অপচয় ও কৃপণতার মাঝামাঝি। সাহস হচ্ছে কাপুরুষতা ও বেপরোয়াভাবের মাঝামাঝি। মুচকি হাসি হচ্ছে ভ্রূকুটি ও অট্টহাসির মাঝামাঝি। ধৈর্য হচ্ছে কঠোরতা ও খুঁতখুঁতে স্বভাবের মাঝামাঝি。
* মনে রেখো, কেউ যদি আল্লাহ -র জন্য কোনোকিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে এরচেয়ে উত্তম জিনিস দান করেন। কারণ, আল্লাহ পবিত্র, পবিত্র জিনিসকেই তিনি কবুল করে থাকেন।

📘 তুমিও পারবে 📄 হৃদয়ে প্রশান্তি পেতে

📄 হৃদয়ে প্রশান্তি পেতে


* মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করো। তাদের কল্যাণে ব্যাপৃত থাকো। অসুস্থের শুশ্রুষা করো। অভাবগ্রস্তকে দান করো। এতিমের প্রতি অনুগ্রহ করো। হৃদয়ে প্রশান্তি পাবে।
* তাকে ক্ষমা করো, যে তোমার উপর অবিচার করে। তার সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ো, যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তাকে দান করো, যে তোমাকে বঞ্চিত করে। তার প্রতি সহনশীল হও, যে তোমার সাথে মন্দ আচরণ করে। এতে তুমি লাভ করবে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা।

📘 তুমিও পারবে 📄 ইবাদতে একনিষ্ঠ হও

📄 ইবাদতে একনিষ্ঠ হও


* ইবাদতের ব্যাপারে নিজের উপর অধিক বাড়াবাড়ি করো না। সুন্নতের অনুসরণ করো। আল্লাহ-র আদেশ মেনে চলো। বাড়াবাড়ি পরিহার করো। সর্বক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো।
* খালেস একত্ববাদ অবলম্বন করো। এতে হৃদয় হয় প্রশস্ত। একত্ববাদে তুমি যতটা খাঁটি হবে, ইবাদতে ততটা একনিষ্ঠ হবে; সে অনুযায়ী তোমার সৌভাগ্যের দুয়ার উন্মোচিত হবে।
* রাতের শেষ প্রহরে এমন বার্তা পাঠাও, অশ্রু হবে যার কালি, কপোল হবে যার কাগজ, কবুলিয়্যত হবে যার ডাক, রবের আরশ হবে যার গন্তব্য। তারপর অপেক্ষায় থাকো প্রতিউত্তরের।
* সেজদায় লুটিয়ে পড়ে মনের গোপন কথাগুলো খুলে বলো তাঁর কাছে। তাঁর কাছে যে, গোপন নেই কিছুই। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুই জানেন তিনি। তবে সেসব কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ, ভালোবাসার গোপন ভেদ ফাঁস করতে নেই। আর এ ভেদ তো তোমার আর প্রভুর মাঝে। স্রষ্টা আর সৃষ্টির মাঝে। তাছাড়া মানুষের মাঝে কল্যাণকামী ও হিংসুক সব ধরনের লোকই থাকে।
* শেষ রাতে উঠো। হাত প্রসারিত করো। একাগ্রচিত্তে বলো- 'দয়াময় প্রভু! সামান্য পুঁজি নিয়ে তোমার দরবারে হাজির হয়েছি। তুমি পুরোপুরি দান করো।
* ইবাদতই সৌভাগ্য। যোগ্যতাই সাফল্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখে, সর্বদা করতে থাকে দোআ-ইস্তেগফার, আল্লাহর কাছে তুলে ধরে মুখাপেক্ষিতা তার- সেই তো নেককার।

📘 তুমিও পারবে 📄 তওবার অশ্রুতে পরিচ্ছন্ন হও

📄 তওবার অশ্রুতে পরিচ্ছন্ন হও


* তোমার প্রভুর অনুগ্রহ ও ক্ষমার ব্যাপ্তি সুবিশাল। তিনি তওবা কবুল করেন। ক্ষমা করেন তার বান্দাদের। বান্দার পাপগুলোকে পরিবর্তন করে দেন পূণ্য দ্বারা।
* খাঁটি তওবা দূর্ভাগ্য পীড়ার নিরাময়ী পথ্য। বিপদগ্রস্ত মোমিন বান্দার জন্য উচিত, তার বিপদের কারণ বাইরে তালাশ না করে নিজের ভেতরে খোঁজ করা। কারণ, মোমিন বান্দার সৌভাগ্যের লক্ষণ হচ্ছে, সে তার নিজের নফস ও গুনাহসমূহের হিসাব নেবে এবং সেগুলোকে সংশোধন করতে সচেষ্ট থাকবে। বিপদে পড়া মাত্রই কারণ খোঁজার পেছনে অযথা সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ তওবা ও আত্মসংশোধনে ব্রত হবে।
* তওবার অশ্রুতে দিল পরিচ্ছন্ন হয়। আর এ হচ্ছে অনুশোচনার আগুন, যা অন্তরে প্রজ্বলিত হয়। তা ছাড়া এ হচ্ছে লজ্জার অনুভূতি, যা চোখ থেকে প্রতিক্রিয়ার বন্যা প্রবাহিত করে। এ হচ্ছে আল্লাহ -র পথে প্রথম পদক্ষেপ এবং পরকালীন জীবনে সফলতা অর্জনকারীদের মূলধন। আল্লাহ -র দিকে যাত্রাকারীদের প্রথম ধাপ। আল্লাহ -র দিকে ধাবমানদের অবিচলতার চাবি।

তওবাকারী কাঁদে; কাকুতি-মিনতি করে এবং আল্লাহ -র কাছে মাগফেরাতের দোআ করে। যখন লোকজন সুস্তিতে জীবন যাপন করতে থাকে, তখন তওবাকারীর দিল আল্লাহ -র ভয়ে অস্থির থাকে। যখন আল্লাহ-র সৃষ্টি আয়েশ করতে থাকে, তখন তওবাকারী আরাম-আয়েশ থেকে বঞ্চিত থাকে। ভগ্ন হৃদয়ে পেরেশান হয়ে সে নিজের রবের সামনে দাঁড়ায় এবং অনুশোচনার ভারে মাথা নত করে। নিজের গুনাহের কথা স্মরণ করে ভয়ে কেঁপে ওঠে। তার মাঝে তৈরী হয় পেরেশানী ও অস্থিরতার ভাব। তার অন্তরে জ্বলতে থাকে এক প্রকারের আগুন। চোখ থেকে বইতে থাকে অশ্রুর বন্যা। তার অন্তর অপেক্ষা করতে থাকে আগামী কালের সাফল্যের। কেননা, গুনাহের ভার থেকে সে নিজেকে মুক্ত করে নেয়, যাতে পুলসিরাত পার হতে পারে সহজে।

* আল্লাহ-র নিকট বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করো। এতে রিযিক, সন্তানাদি, উপকারী এলেম ও সহজতা অর্জন হয় এবং পাপ হ্রাস পায়।
* সৎ কাজ, বিপদে ধৈর্য ধারণ, তওবা, মুসলমানদের দোআ, আল্লাহ -র রহমত ও রাসুল -র সুপারিশ গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়। অতএব, এগুলোর প্রতি যত্নবান হও।
* আল্লাহ-র কাছে দয়া ও ক্ষমা চাও। যদি এ দুটি পেয়ে যাও, তবে মনে করবে পেয়ে গেছো সবই। বেঁচে গেছো সর্বপ্রকার অকল্যাণ থেকে।
* তওবা করার দ্বারা খুলে যায় মনের বন্ধ তালা। উন্মোচিত হয় বক্ষ। পেরেশানী হয় বিদূরিত। তওবা রিযিকের জানালা ও তাওফীকের দরজা।
* إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ - 'তোমার প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল।' [সূরা নাজম: ৩২] তিনি গুনাহগারদের ক্ষমা করেন। ভুলত্রুটি মাফ করেন। ত্রুটি-বিচ্যুতি মিটিয়ে দেন। মন্দকে ঢেকে রাখেন এবং তাওবাকারীদের তাওবা কবুল করেন।
* আমাদের আদি পিতা আদম গুনাহ থেকে তাওবা করেছেন। আর আল্লাহ তাঁকে নির্বাচন করেছেন, হেদায়েত দিয়েছেন এবং তাঁর ঔরস থেকে নবী-রাসুল, শহীদান, উলামায়ে কেরাম ও বুযুর্গানে দীন সৃষ্টি করেছেন। অতএব, দেখা যাচ্ছে গুনাহের পূর্বের তুলনায় পরেই উন্নত হয়েছেন।
* নূহ ফরিয়াদ করেছেন। তুফান তখন চরম আকার ধারণ করেছে। 'হে দয়াময়! হে অনুগ্রহকারী!' বলে তিনি আহ্বান করেছেন। চোখের পলকেই আল্লাহ -র সাহায্য নেমে এসেছে এবং তিনি কামিয়াব হয়েছেন। পক্ষান্তরে যারা কুফরি করেছে, তারা ধ্বংস হয়েছে।
* ইউনুস সমুদ্রে তিন স্তরের অন্ধকারে ছিলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি দয়াময়ের দরবারে দয়ার আবেদন করেছিলেন। আবেদনে ছিল ভুলের স্বীকারোক্তি ও ওজর প্রকাশ। সর্বোপরি তাঁর যোগযোগের মাধ্যমও উন্নত ছিল। ফলে সাহায্যও এসেছিল বিজলীর ন্যায় অতি দ্রুত。
* দাউদ ভুল করে অনুতপ্ত হয়েছেন। আল্লাহ -র দরবারে কান্নাকাটি করেছেন। ফলে সেই ভুল তাঁর জন্য এক মহামূল্যবান নেয়ামতে পরিণত হয়েছে। কারণ, তিনি তাঁর প্রভুকে যথাযথভাবে চিনতে পেরেছিলেন। তাঁর কাছে নিজের অপারগতা ও অক্ষমতা প্রকাশ করেছিলেন। আর এটাই দাসত্বের মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহ -র সামনে দীনতা, হীনতা, অপারগতা ও অক্ষমতা প্রকাশ করা দাসত্বের মূল স্তম্ভ।
* 'মুমিনের বিষয়টি কতই না উত্তম যে, আল্লাহ তার জন্য যে ফায়সালাই করেন, তা-ই তার জন্য কল্যাণকর হয়ে থাকে'-রাসুল -র এই বাণীটির ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া -কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মুমিন বান্দা যদি কোনো গুনাহ করে ফেলে, তা হলেও কি তা তার জন্য কল্যাণকর হবে? তিনি জওয়াব দিয়েছিলেন, হাঁ; তবে শর্ত হচ্ছে গুনাহের পর লজ্জিত হতে হবে। তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে গুনাহ মুমিনের জন্য অপছন্দনীয় বিষয় হলেও অভ্যন্তরীণভাবে গুনাহও কল্যাণকর হতে পারে, যদি তার শর্ত পূরণ হয়ে থাকে।
* সব সময় তওবা-ইস্তিগফার করতে থাকো। কারণ, দিন-রাত সব সময়ই আল্লাহ-র রহমতের বাতাস বইতে থাকে। হতে পারে তা থেকে এক ঝাপটা তুমিও পেয়ে যাবে আর তা-ই কেয়ামতের দিন তোমার মুক্তির কারণ হয়ে যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px